প্রজাপতির পাখায় যখন ট্রান্সমিটার বসে

প্রজাপতিরা পাখিদের মতো পরিযায়ী হতে পারে; উড়ে উড়ে, পাহাড়-পর্বত নদীনালা পার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পারে৷ বিজ্ঞানীরা প্রজাপতির পিঠে ট্রান্সমিটার বেঁধে তাদের যাত্রাপথের হদিশ পেতে চান৷

মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর অর্নিথোলজি-র পক্ষিবিজ্ঞানী মার্টিন ভিকেলস্কি-র জীবনের স্বপ্ন হলো, তিনি জন্তুজানোয়ারদের আচার-আচরণের রহস্য ভেদ করবেন৷ জীব জীবনধারণ করে কীভাবে, তা জানতে চান মার্টিন ভিকেলস্কি: সেজন্য তিনি বিশ্বের সর্বত্র যেতে ও সব কিছু করতে প্রস্তুত৷

বিজ্ঞান পরিবেশ | 05.06.2012

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল নিয়ে তিনি পরিযায়ী পাখি ও অন্যান্য জীবজন্তুর মাইগ্রেশান বা অভিপ্রয়াণের পথ নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ এ কাজে সহায়তা করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি৷ ট্রান্সমিটার যে সব তথ্য পাঠাচ্ছে, বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে তা নিয়ে কাজ করা চলবে –প্রণালীটি আবিষ্কার করেছেন ভিকেলস্কি স্বয়ং৷ তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের এভাবে একসঙ্গে কাজ করা, তাদের এই বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণ প্রণালীর ফলে আমরা এই প্রথমবার গোটা জীবজগতের ‘জীবনধারা' বুঝতে সমর্থ হবো৷''

তিতলি

তিতলি বা প্রজাপতি প্রাণিজগতের অন্যতম সুন্দর পতঙ্গ হিসেবে পরিচিত৷ এই প্রজাপতিটিকে নির্বাচন করার পেছনে অবশ্য অন্য কারণ রয়েছে৷ এরা খাদ্যের জন্য পিপড়ার উপর নির্ভরশীল৷ পিপড়া মথে খাবার লুকিয়ে রাখে, যা খেয়ে বেঁচে থাকে এই প্রজাপতিরা৷

কচ্ছপ

২০১৫ সালের সেরা সরীসৃপ নির্বাচিত হয়েছে এই ইউরোপীয় কচ্ছপটি৷ জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গ রাজ্যে এই হলুদ ছোপ ছোপ কচ্ছপের দেখা পাওয়া যায়৷ এরা কেবল স্থির পানিতে থাকতে পারে৷

ম্যাপেল গাছ

এই গাছটি ম্যাপেল প্রজাতির৷ এ ধরনের গাছ শহরের বাইরে বা জঙ্গলে বেশি দেখা যায়৷ এই গাছের কাঠ খুব ভালো৷ তাই বলা হয় এটি কখনো প্রতারণা করে না৷ আর এজন্যই ২০১৫ সালের সেরা গাছ হিসেবে উঠে এসেছে এর নাম৷

প্রবাল

যদিও প্রবাল বা শৈলশিরা সমুদ্রের সাথে সম্পর্কিত৷ কিন্তু ‘মাশরুম ২০১৫’তে এদের নামই উঠে এসেছে৷ এখানে যে মাশরুমটিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা অনেকটা মৃত গাছ থেকে জন্ম নেয়া ছত্রাকের মত৷

বাজপাখি

রাজাওয়ালি প্রজাতির এই বাজ ২০১৫ সালের পাখি নির্বাচিত হয়েছে৷ এটি বিরল প্রজাতির এবং এ ধরনের পাখি শিকার ৭০ এর দশকে নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো তা চলছে৷

কাঁচামরিচ

২০১৫/১৬ বছরের সেরা সবজি নির্বাচিত হয়েছে কাঁচামরিচ৷ এটা বিভিন্ন রঙ ও বিভিন্ন ধরনের হয়৷ স্বাদের দিক থেকেও ভিন্নতা রয়েছে৷

পেঁয়াজ

পেঁয়াজ কাটতে হয়ত কেউ ভালোবাসেন না৷ কিন্তু পেঁয়াজের রোগ সারানোর ক্ষমতা আছে৷ তাই আরোগ্য উদ্ভিদের তালিকায় সেরা হয়েছে পেঁয়াজ৷ পেঁয়াজ যে-কোনো ধরনের ফ্লু প্রতিরোধে সাহায্য করে৷

ঔষধি উদ্ভিদ

হাইপেরিকাম পারফরেটুম এমন একটা উদ্ভিদ, যা মানুষের ভয় ও উত্তেজনা হ্রাস করে৷ এছাড়া হতাশা কমাতেও এর জুরি নেই৷ এছাড়া ক্যান্সার ও আলৎসহাইমার প্রতিরোধে ওষুধ হিসেবে এই উদ্ভিদটি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে৷ এ কারণে ‘ওষধি উদ্ভিদ ২০১৫’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এটি৷

ছোট্ট শামুক, দুর্দান্ত পারফর্মেন্স

এ ধরনের শামুক এখন প্রায় বিরল৷ এরা সাধারণত গুহা, খনিতে লুকিয়ে থাকে৷ তাই একে ‘অ্যানিমেল কেভ ২০১৫’ এর খেতাব দেয়া হয়েছে৷

লম্বা দৈর্ঘ্যের গোলাকার ফুল

এই ফুলের প্রধান দুটি রঙ বেগুনি ও নীল৷ কখনো কখনো গোলাপী রঙেরও হয়ে থাকে৷ তাই সাকসিসা নামের এই ফুলটিকে ২০১৫ সালের সেরা ফুলের খেতাব দেয়া হয়েছে৷ ইউরোপের জলাবনে এদের দেখতে পাওয়া যায়৷ চা হিসেবে এই ফুলের দারুণ কদর রয়েছে৷ এটি রক্ত বিশুদ্ধকরণ এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে৷

মার্টিন ভিকেলস্কি যা করতে চাইছেন, তা এর আগে কখনো করা হয়নি: প্রজাপতিরা কীভাবে আল্পস পর্বতমালা পার হয়ে দক্ষিণে যায়, কোন পথে, তিনি সেটা চার্ট করতে চান৷ এজন্য তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার তৈরি করতে হবে৷ কিন্তু বেতার সংকেত প্রেরণের যাবতীয় সাজসরঞ্জাম কি আধ গ্রাম ওজনের একটা ট্রান্সমিটারের মধ্যে ঢোকানো সম্ভব? চিন্তা তো থেকেই যায়: ‘‘তোমরা খুদে ট্রান্সমিটারটার ব্যাটারি বদলাতে পেরেছ? দারুণ দেখাচ্ছে! ...এবার দেখা যাক, প্রজাপতির গায়ে ওটা বসানো যায় কিনা৷''

ভিকেলস্কি বলেন, ‘‘প্রযুক্তি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের অবশ্যই নানা দিক রয়েছে৷ ট্রান্সমিটারটার জন্য আমাদের সেরা প্রযুক্তি দরকার, যেমন আক্সিলারেশান সেন্সর, ব্যাটারি আর সৌরশক্তি৷ কিন্তু সব কিছু অতি ছোট আকারের হবে, যাতে ট্রান্সমিটারটা প্রজাপতিদের ওপর বসানোর মতো হয়৷ এখন প্রশ্ন হলো: প্রজাপতির শরীরের ঠিক কোন জায়গায় ট্রান্সমিটারটা বসানো যায়?''

সেই পরীক্ষা করা হবে একটি বিশেষ স্থানে: লেক কনস্টানৎস-এর মাইনাউ দ্বীপে৷ দ্বীপটি তার গাছপালা আর পশুপাখির জন্য বিখ্যাত৷ প্রজাপতিদের গায়ে ট্রান্সমিটার বসানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই৷

‘পেন্টেড লেডি' প্রজাতির প্রজাপতিগুলো যা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়েও ছোট৷ মার্টিন ভিকেলস্কি কি অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাইছেন?

প্রথমে অতি সন্তর্পণে এক ধরনের আঠা দিয়ে অতি খুদে ট্রান্সমিটারটা প্রজাপতির পেটে এঁটে দিতে হবে৷ এই ট্রান্সমিটারের ফলে প্রজাপতিটা যে কোনো মুহূর্তে ঠিক কোথায় আছে, অ্যান্টেনার সিগনাল থেকে তা জানা যাবে৷

প্রথমবার ওড়ার চেষ্টা...

ট্রান্সমিটারটা কি বড় বেশি ভারি, নাকি গুটি থেকে বেরনো প্রজাপতিটা ঠিকমতো উড়তে পারেনি?

ট্রান্সমিটারের ওজনের কারণেই প্রজাপতিটা মাটিতে পড়ে গেছে, বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

23:13 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 19.07.2018

অন্বেষণ – পর্ব ২৭৩

22:43 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 20.06.2018

অন্বেষণ – পর্ব ২৬৭