প্রতি মিনিটে গড়ে ২৪ জন গৃহহীন হয়েছে

সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে৷ তাতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে গৃহহীন ও শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৫৩ লক্ষ, যা একটি নতুন রেকর্ড৷

‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস' নামে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন বলছে, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে গৃহহীনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষ৷

জার্মানি ইউরোপ | 20.06.2016

২০১৫ সালে বিশ্বের প্রতি ১১৩ জন মানুষের মধ্যে একজন হয় শরণার্থী না হয় বিভিন্ন কারণে নিজ দেশেই ঘরছাড়া অবস্থায় ছিলেন৷

গৃহহীনদের মধ্যে শরণার্থীর সংখ্যা দুই কোটি ১৩ লক্ষ৷ আর নিজে দেশে ঘরছাড়া হয়েছেন চার কোটি আট লক্ষ মানুষ৷

ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং তাঁর টুইটে জানিয়েছেন, গত বছর প্রতি মিনিটে ২৪ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছেন৷ ২০০৫ সালে সংখ্যাটি ছিল ছয় জন৷

বিশ্ব | 26.05.2016

সবচেয়ে বেশি শরণার্থী

শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক ফিলিস্তিনের৷ সংখ্যাটি ৫০ লক্ষের বেশি৷ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টির কারণে যে ফিলিস্তিনিরা পালিয়েছেন তাঁরা সহ তাঁদের বংশধররা আছেন এই তালিকায়৷ ফিলিস্তিনিদের পর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী হয়েছেন সিরিয়ার নাগরিকরা৷ তাঁদের সংখ্যা ৪৯ লক্ষ৷ তালিকায় এরপর আছেন আফগান (২৭ লক্ষ) ও সোমালীয়রা (১১ লক্ষ)৷

শরণার্থীদের অর্ধেকই শিশু!

জাতিসংঘ বলছে, গত বছর যতজন শরণার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশই শিশু৷ এদের অনেককে বাবা-মা থেকে আলাদা করা হয়েছে, কেউ আবার একাই দেশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে৷ ২০১৫ সালে প্রায় ৯৮ হাজার চারশ সঙ্গিহীন শিশু আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছে৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

কোনো এক উপায়ের সন্ধানে

শিশু, পরিবারসহ শত শত শরণার্থী ইডোমিনি শরণার্থী শিবির থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন সোমবার সকালে৷ উদ্দেশ্য গ্রিস-ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের কোন অরক্ষিত অংশ থেকে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশ করা৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

সাহসিকতার পরিচয়

ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশের আশায় এক উত্তাল নদী এভাবে পাড়ি দিয়েছেন শরণার্থীরা৷ কাঁটাতারের বেড়া নেই সীমান্তের এমন অংশ খুঁজে পেতে তাদের প্রানান্ত চেষ্টা৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

ভয়, আতঙ্ক

উত্তাল নদী পাড় হতে গিয়ে ভয় পাওয়া এক অল্প বয়সি শরণার্থীকে সাহায্যে এগিয়ে আসেন অন্য শরণার্থীরা৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

পুলিশের বাধা

দলভেদে শরণার্থী শিবির ছাড়া শরণার্থীদের এভাবেই ম্যাসিডোনিয়ায় ঢুকতে বাধা দিয়েছে গ্রিসের পুলিশ৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

স্থানীয়দের সহায়তা

গ্রিক সীমান্তের গ্রাম চামিলোর, যেটি কিনা সীমান্ত থেকে মাত্র এক দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দূরে, বাসিন্দারা এভাবেই পানি দিয়ে সহায়তা করেছেন লম্বা পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা শরণার্থীদের৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

চরম দুর্দশা

ক্লান্ত এবং দুর্বল শরণার্থীরা নদী পাড় হতে গিয়ে চরম দুর্দশায় পতিত হন৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

সতর্ক বার্তা

শরণার্থীদের মিছিল দেখার পর সম্ভবত পুলিশকে ফোন করেন ডানের এই স্থানীয় বাসিন্দা৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

সেনাবাহিনীর হুমকি

ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তে শরণার্থীদের প্রথমাংশ প্রবেশের কিছু পরেই সেখানে হাজির হন সেদেশের সেনাবাহিনী৷

অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটছেন শরণার্থীরা

মার খাওয়া এবং পোড়া

এক আফগান শরণার্থী দাবি করেছেন, ম্যাসিডোনিয়ার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পিটিয়েছে এবং গাল পুড়ে দিয়েছে৷

আশ্রয়ের আবেদন সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে

গত বছর জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন পড়েছে সবচেয়ে বেশি৷ চার লক্ষ ৪১ হাজার নয়শটি৷ তালিকায় এরপর আছে যুক্তরাষ্ট্র (এক লক্ষ ৭২ হাজার)৷ সুইডেন আর রাশিয়াতেও দেড় লক্ষের বেশি আবেদন পড়েছে৷

সবচেয়ে বেশি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক

গত বছর তুরস্ক প্রায় ২৫ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে৷ এদের প্রায় সবাই সিরীয় নাগরিক৷ এরপর আছে পাকিস্তান (১৬ লক্ষ) ও লেবানন (১১ লক্ষ)৷

সিরিয়া থেকে যেভাবে জার্মানিতে এসেছে একটি পরিবার

আলেপ্পোয় সুখি সংসার

২০১৬ সালে তোলা কোটা পরিবারের ছবি৷ খলিল, তাঁর স্ত্রী হামিদা, সন্তান মান্নান, ডোলোভান, আয়াজ এবং নের্ভানা৷ তখন সিরিয়ায় কোনো গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল না ধ্বংসলীলা৷

সিরিয়া থেকে যেভাবে জার্মানিতে এসেছে একটি পরিবার

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় খলিল কোটো সেদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার প্রধান ছিলেন৷ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর চাকুরি হারান এই ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ একসময় খাদ্য এবং পানির অভাব প্রকট হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের এপ্রিলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তারা তুরস্ক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে খলিলের মা বাস করতেন৷

সিরিয়া থেকে যেভাবে জার্মানিতে এসেছে একটি পরিবার

ধাপে ধাপে আগানো

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

সিরিয়া থেকে যেভাবে জার্মানিতে এসেছে একটি পরিবার

জার্মানিতে স্বাগতম

অবশেষে জার্মানিতে কোটো পরিবার৷ জার্মানির উত্তরের শহর ব্রেমেনে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ সেখানকার এক নারী খলিলকে এই জিন্সের প্যান্টটি দিয়েছেন, জার্মানিতে পাওয়া তাঁর প্রথম পোশাক এটি৷

সিরিয়া থেকে যেভাবে জার্মানিতে এসেছে একটি পরিবার

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

খলিলের সন্তানরা এখন জার্মান স্কুলে যাচ্ছেন৷ আর খলিল এবং তাঁর স্ত্রী হামিদা শিখছেন জার্মান৷ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার জার্মানিতে একটি চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন৷ সিরিয়ায় ফেলে আসা অতীত মাঝে মাঝে মনে করে আনন্দ খোঁজেন তারা৷ আয়াজের সিরিয়ার স্কুলের আইডি কার্ড এটি৷

জেডএইচ/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

আমাদের অনুসরণ করুন