প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সময় কেন পরীক্ষা দিতে হবে?

আমি বাংলাদেশের একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র৷ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমি৷ একজন ছাত্র হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নানান সময় নানান কথা মাথায় ঘুরেছে আমার৷ জেগেছে বহু প্রশ্ন৷

স্কুলগুলোর লেখাপড়ার মান নিয়ে যখনই ভাবি, তখনই মাথায় আসে কোচিংয়ের কথা৷ আমার মনে হয়, স্কুলে পড়ার পর আবার কোচিংয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে কেন? তার মানে, স্কুলে পড়ানোর পরেও অভাব রয়ে যাচ্ছে৷ এ অভাবটা যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ আমি চাই, এমন একদিন আসবে যখন কাউকে কোচিংয়ে দৌড়াতে হবে না৷ স্কুলগুলোতে প্রতি পাঠের পর কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা থাকলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত৷ সিলেবাস শেষ করার তাড়া থাকে কিংবা কখনো শিক্ষকরা বাধ্য করেন কোচিং করতে৷ এ সংস্কৃতি দূর করতে হলে স্কুলে পড়ালেখার মান আরো বাড়াতে হবে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বর্তমানে ইট-পাথরের এ শহরের স্কুলগুলো অনেক যান্ত্রিক৷ আগের দিনের স্কুলের মতো নেই খোলা মাঠ৷ শুধু তাই নয়, এখন কোনটি ভালো স্কুল তা শুধু পরীক্ষার ফলের ওপরেই যেন ঠিক করি আমরা৷ স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে পাখির খোপের মতো৷ পড়ালেখার পরিবেশের পাশাপাশি স্কুলগুলোতে চাই সহশিক্ষা কার্যক্রম৷ পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকা উচিত স্কুলগুলোতে৷

সমাজ

নবম: জাপান (৫.৬)

সাহিত্য, বিজ্ঞান ও গণিত চর্চার ক্ষেত্রে ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে জাপানের বেশ নামডাক আছে৷ সেখানকার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ছয় বছর৷ তারপর তিন বছর জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে আরও তিনবছর হাইস্কুলে যায়৷ এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়৷

সমাজ

নবম: বার্বাডোজ (৫.৬)

সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে সেদেশে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ৷ বার্বাডোজের বেশিরভাগ স্কুলই সরকারি৷

সমাজ

নবম: নিউজিল্যান্ড (৫.৬)

তিন ধরনের মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে সেখানে৷ এর মধ্যে সরকারি স্কুলগুলোতে পড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী৷ আর সরকারিকৃত (বেসরকারিভাবে পরিচালিত) স্কুলে পড়ে ১২ শতাংশ৷ বাকি তিন শতাংশ যায় বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

অষ্টম: এস্তোনিয়া (৫.৭)

২০১৫ সালে জিডিপির প্রায় চার শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছিল দেশটি৷

সমাজ

ষষ্ঠ: আয়ারল্যান্ড (৫.৮)

দেশটির মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হলেও অর্থ দিয়ে থাকে সরকার৷ এছাড়া আছে সরকারি কারিগরী বিদ্যালয়৷

সমাজ

ষষ্ঠ: কাতার (৫.৮)

‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করছে দেশটি৷ সরকারি স্কুলগুলোতে কাতারের নাগরিকদের সন্তানরা বিনামূল্যে পড়ালেখা করতে পারে৷ আর বিদেশিরা তাঁদের সন্তানদের পাঠান বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

পঞ্চম: নেদারল্যান্ডস (৫.৯)

২০১৩ সালে ইউনিসেফ-এর এক প্রতিবেদন বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিশুরা সবচেয়ে বেশি সুখি জীবন কাটায়৷ মাধ্যমিক পর্যায়ের আগে স্কুলে শিশুদের কোনো বাড়ির কাজ দেয়া হয় না৷ তাছাড়া লেখাপড়া করতে শিশুদের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করা হয় না৷

সমাজ

চতুর্থ: সিঙ্গাপুর (৬.১)

বিজ্ঞান, রিডিং ও গণিত বিষয়ে বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের মান যাচাইয়ের পদ্ধতি হচ্ছে ‘পিসা’৷ এই তালিকায় সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা সবসময় ভালো করে থাকে৷ তবে সে দেশে শিক্ষার্থীদের বেশ চাপে রাখা হয়৷

সমাজ

দ্বিতীয়: বেলজিয়াম (৬.২)

মাধ্যমিক পর্যায়ে চার ধরনের স্কুল আছে – সাধারণ স্কুল, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক স্কুল, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও আর্ট স্কুল৷ ছবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি দেখা যাচ্ছে৷

সমাজ

দ্বিতীয়: সুইজারল্যান্ড (৬.২)

প্রাথমিক পর্যায়ের পর শিশুদের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্কুলে পাঠানো হয়৷ অঞ্চলভেদে জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইটালীয় ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়৷

সমাজ

প্রথম: ফিনল্যান্ড (৬.৭)

বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থার এই দেশে শিক্ষার্থীদের খুব বেশি হোমওয়ার্ক করতে হয় না৷ ১৬ বছর বয়সে গিয়ে মাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়৷ আরও জানতে উপরের (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

শিক্ষার উদ্দেশ্য তো শুধু বইয়ের পড়া গেলানো নয়! অন্যান্য গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্যও কার্যক্রম দরকার৷

শিক্ষকদের পড়ানোর পদ্ধতিতেও চাই পরিবর্তন৷ অনেক পরীক্ষায় শিক্ষকরা গাইড থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেন৷ এ কারণে শিক্ষার্থীরাও হয়ে যাচ্ছে গাইডনির্ভর৷ তাই শিক্ষকদের উচিত মৌলিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ করা৷ পাঠদানের বিষয়টিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা উচিত৷ বিভিন্ন স্কুলে প্রজেক্টরের সাহায্যে পাঠদান করা হলেও আমার স্কুলে এখনো তা চালু হয়নি৷ পাশাপাশি পাঠের বিষয়বস্তু ব্যবহারিকভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা উচিত৷ কিন্তু স্কুলগুলোতে ব্যবহারিক পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপ্রতুলতা রয়েছে৷

পাশাপাশি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এক প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছেন৷ আমরা যতটুকু না শিক্ষার্থী, তার চেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী৷ শিক্ষকদের উচিত, শিক্ষার্থীদের মন থেকে এ পরীক্ষাভীতি দূর করা৷ বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণইতে সমাপনী পরীক্ষার কারণে ছোট্ট শিশুগুলোর কাঁধে থাকে পাহাড়সম চাপ৷ যে চাপ সামলাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয় তারা৷ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে স্কুলে হরেক রকমের পরীক্ষা দেয়৷ বাসার স্যারের কাছে পরীক্ষা দেয়৷ কোচিংয়ে পরীক্ষা দেয়৷ একটুখানিও অবসর মেলে না এ ছোট্ট শিশুদের৷

আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখন দেখেছিলাম প্রশ্ন ফাঁসের হিড়িক৷ অষ্টম শ্রেণির জেএসসি আর এবারের এসএসসিতেও দেখলাম৷ এ প্রশ্নফাঁস আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ডকে ভেঙে দিচ্ছে৷ প্রশ্নফাঁস বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপও দেখিনি৷ বিষয়টা সাংবাদিকদের প্রশ্ন আর তার জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর তদন্তের আশ্বাসেই আটকে আছে৷

Md. Azmal Bashir Shihab

আজমল তানজীম সাকির, শিক্ষার্থী

এছাড়া শিশুদের যখন শিক্ষার হাতেখড়ি হয়, তখন পরীক্ষার প্রয়োজন আমি দেখি না৷ প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সময় কেন পরীক্ষা দিতে হবে? এটা কি তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সময়? এ সময়টা শিশুরা মাত্র পড়াশোনা শুরু করে৷ সংখ্যা গণনা কিংবা বর্ণ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের পড়ালেখা৷ এত ছোট্ট বয়সে এ জ্ঞান নিয়ে তারা কী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে? কী যোগ্যতা প্রমাণ করবে?  

বেশ কয়েক বছর ধরে বছরের প্রথম দিনই বই হাতে পাওয়ার আনন্দ পায় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা৷ কিন্তু এবারের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো৷ কিছু কবিতার শব্দবিন্যাস ঠিক ছিল না৷ পাঠ্যবই বছরের প্রথম দিন হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বইয়ে যেন ভুল না থাকে সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে৷

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবই তিনটি৷ কিন্তু কিন্ডারগার্টেনগুলোতে দেখছি এগুলোর সাথে আরো অনেক বই পড়ানো হয়৷ এত অল্প বয়সেই বইয়ের ভারে শিশু কুঁজো হয়ে গেলে তার মনে পড়ালেখা নিয়ে ভয় জন্মাবে৷ আমি মনে করি, পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কিছু পড়ানো ঠিক হবে না৷ এ সময়টাতে তাদের পড়ালেখা হতে হবে মজার ছলে৷  

প্রতিটি স্কুলে একটি পাঠাগার থাকা উচিত৷ প্রমথ চৌধুরী তার ‘বই পড়া' প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা৷ স্বেচ্ছায় জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠাগারের চেয়ে সেরা জায়গা আর নেই৷ অথচ অনেক স্কুলে পাঠাগার দেখা যায় না৷ পাঠাগারের সংস্কৃতি চালু হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি৷

এই লেখাটি লিখেছেন ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র আজমল তানজীম সাকির (১৩)

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

বেশির ভাগ দেশের শ্রেণিকক্ষে যা থাকে...

বিশ্বের প্রায় সব দেশের শ্রেণিকক্ষেই চক আর ব্ল্যাক বোর্ড থাকে৷ শিক্ষক বা শিক্ষিকা সেই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিক্ষার্থীদের বোঝান৷ শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসে বসে শোনে৷ তবে অনেক দেশই এই সাবেকি ব্ল্যাকবোর্ড এবং চক ছেড়ে দিয়েছে৷ আবার এমন দেশও আছে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের মাথার ওপরে কোনো ছাদ নেই৷ মাটিতে বসেই লেখাপড়া করতে হয় তাদের৷

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল বই...

দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলে এসে গেছে কম্পিউটার৷ ইন্টারনেট সংযোগও দেয়া হয়েছে প্রতিটি ক্লাসরুমে৷ অর্থাৎ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো বই-খাতা থাকবে না৷ বইয়ের পরিবর্তে ‘ই-বুক’ দেয়া হবে তাদের৷ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার৷ সবাইকে ডিজিটাল শিক্ষাদান পদ্ধতির আওতায় নিতে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে ‘ট্যাবলেট পিসি’ দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে৷

ঘানার শিশুদের অবস্থা

অনেক দেশের স্কুলে আবার কম্পিউটার তো দূরের কথা, ক্লাসরুমই নেই৷ আফ্রিকার দেশ ঘানার এই স্কুলটি দেখুন৷ ভবনই নেই! তাই গাছের ছায়াতেই নেয়া হচ্ছে ক্লাস৷ শিক্ষিকা পড়াচ্ছেন আর ছোটমনিরা বেঞ্চে বসে মন দিয়ে শুনছে তাঁর কথা৷

জার্মানির অত্যাধুনিক ক্লাসরুম

জার্মানিতে কিন্তু ছোট ছোট বাচ্চারাও ক্লাসে পেন্সিল ব্যবহার করে না৷ নোট লেখার বইও নয়৷ টাচ প্যাড, স্মার্টবোর্ড, নেটবুক – এই সমস্ত আধুনিক জিনিসপত্র এ বয়সেই এসে গেছে তাদের হাতে৷

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল

শিল্পোন্নত দেশগুলোতে শিশুদের শিক্ষা যেন বাড়তি চাপ৷ ছবির এই চার বছর বয়সি শিশুগুলোর মতো সব শিশুকেই বলতে গেলে মায়ের কোল থেকে নেমে ঢুকে পড়তে হয় স্কুলে৷ চাপ যে তখন থেকেই শুরু!

কেনিয়ার স্কুল এবং ক্লাসরুম

কেনিয়ায় শিক্ষাজীবনের প্রথম আট বছর শিক্ষার্থীদের কোনো বেতন দিতে হয় না৷ তারপরও লেখাপড়া করা সবার জন্য খুব সহজসাধ্য নয়৷ দরিদ্র পরিবারের বাবা-মায়েরা বই-খাতা, পেন্সিল, পোশাক, জুতো ইত্যাদির খরচ জোগাতে পারেন না বলে অনেক শিশুকেই লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়৷

ব্রিটেনের স্কুলে ‘ইউনিফর্ম’ বাধ্যতামূলক

ইংল্যান্ডের প্রায় সব স্কুলেই শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পোশাক পরতে হয়৷ সবাই এক রকম পোশাক পরলে শিক্ষার্থীদের চিনতে সুবিধা হয় এবং তাদের পড়াশোনাতেও মন বসে – এমন কিছু যুক্তিতেই শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট পোশাক পরার নিয়ম মানছে স্কুলগুলো৷ তবে ব্রিটেনে একটা সুবিধা আছে৷ দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ হিসেবে অনুদান দেয়া হয়৷ ফলে দরিদ্ররা চাইলেই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে পারেন৷

পাকিস্তিনে অবহেলিত শিক্ষাখাত

পাকিস্তানে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে৷ ফলে শিক্ষার হার আরো কমছে, কমছে স্কুলও৷ ওপরের ছবিতে একটি পার্কে লেখাপড়া করতে দেখা যাচ্ছে শিশুদের৷ পাকিস্তানে এমন দৃশ্য অপরিচিত নয়৷

দক্ষিণ সুদানে মেয়েরা বিপদে...

দক্ষিণ সুদানেও প্রায় একই অবস্থা৷ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রীতিমতো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হচ্ছে৷ সে দেশের মাত্র ১৬ ভাগ নারী এখন কোনো রকমে পড়তে এবং লিখতে পারে৷ যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল রক্ষা পেয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলোতে চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ নেই৷ বই-পত্রও নেই কিছু স্কুলে৷

উন্নতিশীল ব্রাজিলেরও করুণ অবস্থা

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে ব্রাজিলে৷ কিন্তু তাতে দরিদ্রদের ভাগ্যের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না৷ গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে তাই খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয় শিশুদের৷

উন্নতিশীল ব্রাজিলেরও করুণ অবস্থা

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে ব্রাজিলে৷ কিন্তু তাতে দরিদ্রদের ভাগ্যের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না৷ গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে তাই খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয় শিশুদের৷

এবং বাংলাদেশ...

২০১৩ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময় অসংখ্য স্কুলের ক্ষতি সাধন করা হয় বাংলাদেশ৷ এ বছর দীর্ঘদিন হরতাল, অবরোধ চলায় স্কুলগুলোও অনেক দিন বন্ধ ছিল৷ এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নিতে শুরু করে কিছু স্কুল৷ হরতাল-অবরোধের কারণে সপ্তাহের ৫-৬ দিন গৃহবন্দী, তারপর ছুটির দিনে স্কুলবন্দী৷ বাংলাদেশের শিশুদের অসহায়ত্ব ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন৷