প্রমাকে আরো স্বনির্ভর করে তুলেছে জার্মানি

আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রশিক্ষণ জার্মানিতে দেওয়া হচ্ছে, তারই আওতায় ৩রা জানুয়ারি এ দেশে এসেছেন প্রমা পারমিতা৷ কাজ করছেন ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'-এর সঙ্গে৷ ১২টা সপ্তাহ এখানে কাটিয়ে ৩০শে মার্চ বাংলাদেশে ফেরার কথা তাঁর৷

জার্মানির নর্থ রাইন ভেস্টফেলিয়া রাজ্যে যেসব উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে, তাদের ‘আম্ব্রেলা সংগঠন' বা মাতৃসংস্থা হলো এই ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ তাই প্রমার কাছে আমাদের প্রথম প্রশ্ন, এই মুহূর্তে ঠিক কী ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আপনি?

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা | 19.11.2012

প্রমা পারমিতা: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানারকম কাজ করছে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ এর মধ্যে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷ আমি এ মুহূর্তে সেটাই করছি৷ বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সব বিপন্ন দেশ রয়েছে, সেই দেশগুলি সম্পর্কে, তাদের অবস্থা এবং সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রথমে পড়াশোনা করি আমি৷ তারপর তার থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের জন্য কিছু ‘পোস্ট' তৈরি করি৷ পরে সেগুলোকেই ওরা ওদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় দেয়, যাতে মানুষ জানতে পারে অন্যান্য দেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কী কী করছে৷

ডয়চে ভেলে: এই বিপন্ন দেশগুলির তালিকায় নিশ্চয় বাংলাদেশ রয়েছে...?

প্রমা পারমিতা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই৷ বিপন্ন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম৷ বাংলাদেশের আগে রয়েছে ভানুয়াতু, টোঙ্গা, ফিলিপাইন্স এবং গুয়াতেমালা৷ আমরা মোটামুটি বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিপন্ন প্রথম দশটি দেশকে ‘হাইলাইট' করছি৷

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

জার্মানির নর্থ রাইন ভেস্টফেলিয়া রাজ্যে যেসব উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে, তাদের ‘আম্ব্রেলা সংগঠন' বা মাতৃসংস্থা হলো এই ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ তাই প্রমার কাছে আমাদের প্রথম প্রশ্ন, এই মুহূর্তে ঠিক কী ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আপনি?

প্রমা পারমিতা: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানারকম কাজ করছে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ এর মধ্যে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷ আমি এ মুহূর্তে সেটাই করছি৷ বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সব বিপন্ন দেশ রয়েছে, সেই দেশগুলি সম্পর্কে, তাদের অবস্থা এবং সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রথমে পড়াশোনা করি আমি৷ তারপর তার থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের জন্য কিছু ‘পোস্ট' তৈরি করি৷ পরে সেগুলোকেই ওরা ওদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় দেয়, যাতে মানুষ জানতে পারে অন্যান্য দেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কী কী করছে৷

ডয়চে ভেলে: এই বিপন্ন দেশগুলির তালিকায় নিশ্চয় বাংলাদেশ রয়েছে...?

প্রমা পারমিতা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই৷ বিপন্ন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম৷ বাংলাদেশের আগে রয়েছে ভানুয়াতু, টোঙ্গা, ফিলিপাইন্স এবং গুয়াতেমালা৷ আমরা মোটামুটি বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিপন্ন প্রথম দশটি দেশকে ‘হাইলাইট' করছি৷

এছাড়াও কি কোনো প্রশিক্ষণ আপনাকে দেয়া হচ্ছে এখানে?

না, এখানে ঐ অর্থে কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না৷ এখানে একটা সংস্থায় কীভাবে কাজ হয় – শুধু সেটা আপনি দেখতে পারবেন, শিখতে পারবেন৷ এই ‘ফেলোশিপ'-এর জন্য আবেদন করার সময় আমার ইচ্ছে ছিল এটা জানা যে, একটা উন্নত দেশের ‘ডেভেলপমেন্ট সেক্টর' কেমনভাবে কাজ করে৷ বাংলাদেশে আমি একটা কনসালটেন্সি ফার্মে কাজ করি৷ আমি দেখেছি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একরকমভাবে কাজ হয়, কিন্তু একটি উন্নত দেশ উন্নয়নখাতে কী ধরনের কাজ করে – সেটা জানার একটা আগ্রহ ছিল আমার৷ তারা কি শুধু দাতা দেশ হিসেবেই কাজ করে থাকে নাকি তাদের অন্য কোনো কাজ আছে? এখানে এসে দেখলাম, এদের মূল কাজ হলো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা – সেটা সামাজিক কোনো বিষয় হতে পারে অথবা অর্থনৈতিক কোনো ইস্যু৷

বাকি বিশ্ব থেকে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

খুশি আর্কটিকের দেশগুলোও

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাঁচটি আর্কটিক দেশ – ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – বিভিন্নভাবে সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, আর্কটিকের কতটুকু অংশ কার নিয়ন্ত্রণে সেটা নিয়ে এখনো দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে৷

প্রায় এক চতুর্থাংশ

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

সামরিক উপস্থিতি

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

গ্রিনপিসের বিরোধিতা

আর্কটিকে তেলের ড্রিলিং এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রিনপিসের৷ কারণ ড্রিলিং করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে উত্তর মেরুর পরিবেশের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ কেননা দুর্গম ঐ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বেশ কঠিন হবে৷

উত্তর মেরুতে বিমানযাত্রা

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

চীনের আগমন

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

ভারতের গবেষণা

২০০৮ সালে আর্কটিকের নরওয়ের অংশে এই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু করে ভারত৷ এর বাইরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও আর্কটিক নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে৷

আপনি এই অভিজ্ঞতা থেকে কী নিয়ে ফিরবেন?

ওরা আগে শুধু এটুকু জানতো যে, জলবায়ু পরিবর্তনের একটা বিরাট প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশের ওপর৷ জানতো যে, এর ফলে বাংলাদেশ সমুদ্রে তলিয়েও যেতে পারে৷ কিন্তু বাংলাদেশেও যে এই প্রভাব মোকাবিলায় কাজ হচ্ছে, আমরাও যে সেখানে কিছু কাজ করছি, সে সম্পর্কে ওদের তেমন ধারণা ছিল না৷ তাই আমি বললাম যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী যে সব কাজ করছে, সেটা অন্যদের জানানো উচিত৷ এছাড়া জার্মানি নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন না হলেও, নানারকম কাজ হচ্ছে এখানে৷ সেগুলো আমি বাংলাদেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা যাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জানাতে পারবো৷ এই যেমন, ভানুয়াতু-তে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে একটি অ্যানিমেশন ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে, যাতে একটা টিয়াপাখি ঘুরে ঘুরে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে যা যা হচ্ছে, মানে জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ দিকগুলো মানুষকে জানায়৷ সত্যি, এরকম একটা টিয়াপাখি যদি বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী মানুষদের জন্য সৃষ্টি করা যেত, যে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষকে বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর দিকগুলো এবং কোনো বিপর্যয়ের আগে কী করা উচিত – সে সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতে পারে!

সাধারণত মুসলিম দেশগুলো থেকে এই আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রশিক্ষণ নিতে ছেলে-মেয়েরা জার্মানিতে আসছে৷ আপনিই বললেন যে এটা হাতে-কলমে শিক্ষা নয়৷ অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে, জার্মানির মানুষদের সঙ্গে চেনা-পরিচয়, আলাপচারিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ তা জার্মানি বা জার্মানদের সঙ্গে এ ক'দিনে আপনি কতটা সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন?

জার্মানিতে আসার আগে শুনেছিলাম বিদেশিদের ব্যাপারে জার্মানরা খানিকটা রক্ষণশীল৷ কিন্তু এখানে এসে আমার যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যেমন শুরুতে আমার ‘গাইড' ছিল বারবারা, সে আমার জন্য যতটুকু করা উচিত তার থেকে অনেক বেশি সাহায্য করেছে৷ এমনকি ও আমায় তাদের বাড়িও নিয়ে গেছে, যেটা ড্যুসেলডর্ফ শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে, একটা ছোট্ট গ্রামে৷ সেখানে ওর বাবা-মার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে৷ এমনকি আমার অফিসে যারা আছে – আমি ছাড়া এখানে সবাই জার্মান, ওরাও খুব ‘ফ্রেন্ডলি'৷ আমি যাতে বিভিন্ন জায়গা দেখতে পারি, বেড়াতে পারি, তার জন্য টিকিট কাটতে সাহায্য করে ওরা, অন্যান্য শহরে কী ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে, সে সব বিষয়ে আমাকে তথ্য, ইন্টারনেট লিংকও দেয়৷ এছাড়া আমার যিনি ‘সুপারভাইজার', মনিকা, তাঁর দারুণ ‘নেটওয়ার্ক'৷ তিনি আমায় কোলন, বন, স্টুটগার্ট, বার্লিন, এমনকি ব্রাসেলস-এও নানা ধরনের ওয়ার্কশপে পাঠিয়েছেন৷

সেক্সি বার্লিন

২০১৩ সালে এগারো মিলিয়ন পর্যটক জার্মানির রাজধানীর বার্লিন ভ্রমণ করেছেন৷ এই সংখ্যা বছর ভেদে বেড়ে চলেছে৷ এদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ এবং পার্টিপ্রেমী৷

‘বিয়ার পাগল’ জাতি

অনেক মনে করেন, জার্মানদের চেয়ে বেশি বিয়ার সম্ভবত আর কোনো জাতি পান করতে পারে না৷ তবে এটা সত্য নয়৷ গড়পড়তা হিসেবে অস্ট্রিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের বাসিন্দারা এক্ষেত্রে আরো এগিয়ে আছেন৷ তবে বিয়ারের মানের প্রশ্নে জার্মান বিয়ার প্রস্তুতকারীরা অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে৷

শুধুই ‘সাওয়ারক্রাউট’ নয়!

এক হাজার ক্যালোরি দেখতে এরকম৷ জার্মানরা এরকম স্থানীয় ডিশ খেতে ভালোবাসেন৷ সেটা ‘আইসবইন’ হোক কিংবা ‘পিঙ্কেল’৷ তবে তাঁরা অন্য খাবারও পছন্দ করেন৷ বিশেষ করে ভেগান খাবারের চাহিদা এখন বাড়ছে এ দেশে৷ জার্মানির প্রথম ভেগান সুপারমার্কেটের অবস্থান বার্লিনে৷

পৌরাণিক জঙ্গল

জঙ্গলের সঙ্গে জার্মানদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে৷ জার্মানির এক তৃতীয়াংশই জঙ্গল৷ ইউরোপের মধ্যে এক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান প্রথম৷ জঙ্গলের মধ্যে হাঁটাচলা করলে মনে প্রশান্তি আসতে পারে আর পরিবেশের পরিবর্তনটাও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায় জঙ্গলে৷

‘ফুটবল আমাদের জীবন’

যাঁরা মনে করেন জার্মানদের মধ্যে আবেগ, অনুভূতি কম, তাঁদের উচিত হবে কোনো এক শনিবার জার্মানির কোনো ফুটবল স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা কিংবা ‘স্পোর্ট বারে’ কিছুটা সময় কাটানো৷ বলা বাহুল্য, এবারের বিশ্বকাপের সময়টা জার্মানরা কাটিয়েছেন ব্যাপক উৎসব, আনন্দ করে৷

বেটোফেন থেকে ব্যার্গহাইন

বাখ এবং বেটোফেনের কারণে জার্মানিকে সাধারণত ‘ক্লাসিকাল’ বা ধ্রুপদী সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়৷ তবে এটা কিন্তু ‘টেকনো’ মিউজিকেরও আবাস ভূমি, যা নব্বইয়ের দশকে দারুণ জনপ্রিয় ছিল৷

রোম্যান্টিক সব ক্যাসেল...

জার্মানিতে সহস্রাধিক ক্যাসেল রয়েছে৷ তবে বাভারিয়ার নয়শোয়ানস্টাইন এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত৷ প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ক্যাসেলটি দেখতে যান৷

জার্মান ‘আউটোবান’

সবাইকে পেছনে ফেলে নিজের গাড়িটিকে সর্বোচ্চ গতিতে চালানোর স্বপ্ন কে দেখে না বলুন? জার্মানির মহাসড়কে এটা সম্ভব৷ জার্মানির অনেক রাস্তায় এখন সর্বোচ্চ গতিসীমা ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ঠিক করে দেয়া হলেও, অনেককেই সেটা খুব একটা মানতে দেখা যায় না৷

জার্মান অন্তরঙ্গতা

জার্মানরা অত্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশা পছন্দ করেন৷ বিশেষ করে বিয়ার গার্ডেনে তাঁদের চরিত্রের এই দিকটির প্রমাণ মেলে৷ হাত এক গ্লাস বিয়ার নিয়ে গল্প জুড়ে দেন তাঁরা৷

ক্রিসমাস মার্কেট

জার্মানির ক্রিসমাস মার্কেট বা বড়দিনের বাজারের আদলে মার্কেট এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়৷ বড়দিনের সময় জার্মানির প্রায় প্রতিটি শহরে বসে ক্রিসমাস মার্কেট৷ শীতের অন্ধকার দিনগুলোতে এই বাজার যেন আলোর বন্যায় ভাসিয়ে দেয় এক-একটা শহরকে৷

এখানকার জীবনযাপনের সঙ্গে নিজেকে কতটা মানাতে পেরেছেন?

এখানে আমার বাড়ি ঠিক দিয়েছে ওরা, চলাফেরার জন্য ট্রেন-বাস-ট্রামের ‘মান্থলি'-ও কিনে দিয়েছে৷ এমনকি আমার কোনো অসুবিধা হলে ২৪ ঘণ্টার জন্য রয়েছে একজন ‘গাইড', তাঁকে ফোন করলেই মুশকিল আসান৷ ভাষাটা যদিও একটা সমস্যা, বিশেষ করে দোকান-পাট করার সময়৷ সাধারণত এখানে কেউ আগ বাড়িয়ে ইংলিশ বলে না৷ তবে জিজ্ঞাসা করলে বলে৷ আর জিনিস-পত্র দেখিয়ে, হাত-পা নেড়ে দিব্যি চলে যায়৷ তবে এর আগে পরিবার ছাড়া কখনও একা থাকিনি আমি৷ তাই তাদের ‘মিস' করি৷ অবশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে বেশ নিয়মিতই যোগাযোগ আছে৷ তাছাড়া এখানে নিজের একটা ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট' আছে৷ সবকিছুই সেখানে নিজে করতে হচ্ছে৷ এটা আমার জন্য নতুন, বিশেষ করে রান্নাটা আমি একেবারেই পারি না, তবে খুবই মজা লাগছে৷ একদিকে এখানে কারুর ওপর আমি নির্ভর করে নেই, এটা একটা ভালো দিক৷ আবার অন্য ভালো দিকটা হলো, এখানে স্বাধীনতাও আছে৷ আমরা যারা মুসলিম দেশে থাকি, তাদের জন্য এটা একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তো বটেই৷

জার্মানির কোন জিনিসটা দেখে আপনার মনে হয়েছে, ‘আহা, এমনটা যদি বাংলাদেশে হতো'?

জার্মানির থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে৷ এখানে সবকিছু কেমন সময়মতো হচ্ছে, সব কেমন ‘সিস্টেম্যাটিক'৷ এই যেমন পরিবহণ ব্যবস্থা – বাস, ট্রাম সব সময়মতো আসছে, যানজট নেই৷ এমনকি আমি যখন লুক্সেমবুর্গে যাচ্ছিলাম, তখন আমার ট্রেনটা ‘মিস' হয়ে যায়৷ কিন্তু টিকিট কাউন্টারে যেতই ওরা টিকিট কেটে দিল, কোন ট্রেনটা নেব, সেটা কত নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসবে, কখন আসবে – সবকিছুর একটা চার্ট হাতে ধরিয়ে দিল, কোনো অসুবিধাই হয়নি৷ তাছাড়া যা বলছিলাম, এখানে আমার কারুর কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না৷ আমি নিজের সময়মতো বের হচ্ছি, নিজের মতো কাজ করছি৷ এরপর কাজ যখন শেষ হচ্ছে, তখন ফিরছি৷ নির্দিষ্ট সময়ে বাসায় ফেরার তাড়া না থাকায়, কোনোরকম পিছুটান ছাড়াই আমি পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছি৷ নিজের ওপর ভরসা বাড়ছে৷ প্রথমদিকে ভয় লাগলেও, জানি যে এই ‘কনফিডেন্স', এই স্বনির্ভরতাটা দরকার, পরবর্তীতে কাজে লাগবে৷