1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

প্রাচীর গড়ার অর্থ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর গড়তে মার্কিন সংসদ প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী ৫৭০ কোটি ডলার মঞ্জুর করছে না৷ পরাজয় কার্যত মেনে নিলেও অন্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প৷

https://p.dw.com/p/3DHVO
USA Donald Trump beim Prayer Breakfast in Washington
ছবি: Reuters/K. Lamarque

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর গড়ে তোলার প্রশ্নে এতকাল অনমনীয় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই লক্ষ্যে সংসদের কাছ থেকে ৫৭০ কোটি ডলার ব্যয়ের ছাড়পত্র চেয়েছিলেন তিনি৷ বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল তা অস্বীকার করায় ডিসেম্বর মাসে প্রশাসনের একাংশ বন্ধ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প৷ ফলে অনেক সরকারি কর্মীর বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ রণে ভঙ্গ দিয়ে আরো আলোচনার স্বার্থে সেই ‘শাটডাউন' সাময়িকভাবে তুলে নিতে কার্যত বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট৷ কিন্তু বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় সাধের প্রাচীর গড়ার পথে বাধা দূর হয়নি৷ রফা হিসেবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দল সীমান্তের কিছু অংশে প্রাচীর নির্মাণ ও সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘মাত্র' ১৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের খসড়া প্রস্তাব সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছেছে৷

এমন পরিস্থিতিতে উভয় সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ প্রাচীর নির্মাণের দাবি থেকে সরে এলে তাঁর অনুগামীরা চরম বিরক্ত হবেন৷ আগামী শুক্রবার থেকে আবার নতুন করে প্রশাসনে ‘শাটডাউন' বা অচলাবস্থা শুরু হলে মার্কিন জনগণ তাঁর ঘাড়েই দায় চাপিয়ে দেবে৷ অন্যদিকে বিরোধীদের সঙ্গে আপোশের প্রস্তাব মেনে নিলেও তাঁর নৈতিক পরাজয় ঘটবে৷

নতুন করে ‘শাটডাউন' যে তাঁর পছন্দ নয়, মঙ্গলবার ট্রাম্প সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ এর আগে এমন হুমকি দিলেও তিনি সেই পথে যেতে চান না৷ বিরোধীদের সঙ্গে রফার বিষয়ে তিনি যে মোটেই সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব মেনে নিলেও প্রাচীর নির্মাণের স্বপ্ন পুরোপুরি ত্যাগ করতে প্রস্তুত নন তিনি৷  মার্কিন কংগ্রেস যে অর্থ বরাদ্দ করতে চলেছে, তার সঙ্গে ‘বাড়তি তহবিল' যোগ করে ট্রাম্প সেই কাজ করার ইঙ্গিত দেন তিনি৷ তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে এবং সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ২,৩০০ কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে৷ তবে কোথা থেকে, কীভাবে সেই অর্থ আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি৷ উল্লেখ্য, জাতীয় স্তরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা অথবা প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে তার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে৷

২০১৬ সালে নিজের নির্বাচনি প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বিল্ড দ্য ওয়াল' স্লোগান কাজে লাগিয়ে সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন৷ সোমবার তিনি ২০২০ সালের পুনর্নির্বাচন প্রচারের জন্য ‘ফিনিশ দ্য ওয়াল' স্লোগান তুলে ধরেন৷ টেক্সাস রাজ্যের এল পাসো-তে এক সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে ট্রাম্প বলেন, প্রাচীর অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচায়৷

মার্কিন কংগ্রেস সম্ভবত বুধবারই এই বোঝাপড়াকে আইনের খসড়া হিসেবে প্রস্তুত করতে চলেছে৷ তারপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে৷ রিপাবলিকান দল তাঁকে এই খসড়ায় স্বাক্ষর করার অনুরোধ জানিয়েছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প বেঁকে বসলে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে প্রশাসনের কাজকর্ম চালু রাখতে নতুন কোনো প্রস্তাব পেশ করতে হবে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)