1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ফাঁসির ভয়ে কি কমবে গণপিটুনি?

পায়েল সামন্ত কলকাতা
৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গণপ্রহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ৷ রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছে গণপ্রহার প্রতিরোধ বিল৷ দোষী প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড৷ কিন্তু আইনই কি অপরাধের দাওয়াই, এই প্রশ্ন উঠছে৷

https://p.dw.com/p/3PD8t
প্রতীকী ছবিছবি: picture-alliance/E.Topcu

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত ভাবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে৷ পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে৷ নিছক সন্দেহের বশে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে উন্মত্ত জনতা৷ এতে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের ব্যর্থতা উঠে আসছে, তেমনই এই অমানবিকতা সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে৷ এর বিরুদ্ধে সরকারি স্তরে প্রচার হলেও বিশেষ লাভ হয়নি৷ নিরপরাধ মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছে, এমনকী এক বহুরূপীকেও ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ এর পরই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, কঠোর আইন করা হবে গণপ্রহার রোধে৷

এই বিলের প্রাথমিক খসড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের৷ কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড৷ সেই অনুযায়ী বিলে সংশোধনী আনা হয়৷ গণপিটুনিতে কারো মৃত্যু হলে বা অপরাধ প্রমাণ করা গেলে দোষীকে ফাঁসি দিতে পারে আদালত৷

কেউ গুরুতর আহত হলে অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে৷ আক্রান্ত ব্যক্তি আহত হলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এই আইনে৷ তিন ক্ষেত্রেই দোষীকে জরিমানাও দিতে হবে৷ কার্যত সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভায় বিল পাশ হয়েছে৷ বাম ও কংগ্রেস বিলে সমর্থন জানিয়েছে৷ বিজেপি সমর্থন বা বিরোধিতা করেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ গণপিটুনি রোধে সারা দেশকে পথ দেখাল৷ কেন্দ্র একইরকম কঠোর আইন আনুক৷ গণপ্রহারে মৃতের পরিবারের সদস্যকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ভাবছে রাজ্য সরকার৷

গণপিটুনির একের পর এক ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং লেগেছে৷ তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এ ধরনের ঘটনা সংগঠিত করছে৷ তারা গুজব ছড়াচ্ছে, অস্থিরতা তৈরি করছে৷ সব জায়গায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করাই এর লক্ষ্য৷ এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি৷ তাদের বক্তব্য, এটা একেবারেই একটি সামাজিক সমস্যা৷ তৃণমূল এর সঙ্গে রাজনীতিকে যুক্ত করছে৷ যদিও এর সঙ্গে দুটি বিষয়েরই যোগ আছে বলে মত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী অম্বিকেশ মহাপাত্রের৷ তিনি বলেন, "একটা রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তের মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি৷ প্রতিনিয়ত দলবদল হচ্ছে৷ তাতে কোনো নীতি-আদর্শের বালাই নেই৷ একটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে৷ নানারকম সমীকরণ গড়ে উঠছে৷ এর মধ্যে হঠাৎ একটা আইনে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের সংস্থান রাখা রাজনৈতিক গিমিক ছাড়া কিছু নয়৷”

অম্বিকেশ মহাপাত্র

গণপিটুনি বা যৌথ ভাবে সংগঠিত হিংসার একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে৷ বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সমীরচন্দ্র দাস বলেন, "প্রত্যেকের মধ্যে যে হিংসা থাকে, এটা তারই একটি প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে৷ অনেকে একত্রিত হয়ে সেই হিংসার প্রকাশ ঘটাচ্ছে৷ এটা রুখতে মানসিকতার বদলও জরুরি৷” অধ্যাপক মহাপাত্র জোর দিয়েছেন সচেতনতা বৃদ্ধির উপর৷ তিনি বলেন, "আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না৷ রামমোহন রায়ের উদ্যোগে সতীদাহ নিবারণে আইন হওয়ার পরও কি কেউ সতী হননি? পরে চেতনা বাড়ার ফলে এই প্রথা নির্মূল হয়েছে৷ কিন্তু নির্ভয়া হত্যার পর কি ধর্ষণ বন্ধ হয়েছে? মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে কেউ অপরাধ থেকে পিছু হঠবে, এটা ভাবা ভুল৷ আইন একটা রক্ষাকবচ মাত্র, অপরাধ বন্ধে প্রয়োজন সচেতনতা বাড়ানো৷”

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য