ফুটবলে জাতিবাদ রুখতে ‘অ্যাপ’

ইংলিশ ফুটবলের মুখ্য জাতিবাদ বিরোধী সংগঠন ‘কিক ইট আউট’ স্টেডিয়ামে জাতিবাদী মন্তব্য, আচরণ ইত্যাদি রোখার জন্য মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চলেছে৷ আগস্ট মাসে যখন নতুন মরশুম শুরু হতে যাচ্ছে, তখনই আসছে এমনই একটি ‘অ্যাপ’৷

স্টেডিয়ামে জাতিবাদ রুখতে অ্যাপ? হ্যাঁ, এই অ্যাপের মাধ্যমে ফ্যানরা তাদের মোবাইল থেকে সরাসরি খেলার মাঠে জাতিবাদী গালিগালাজ, ইঙ্গিত-আচরণ সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে পারবেন৷ ইতিপূর্বে ‘কিক ইট আউট' সংগঠন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ফ্যানদের নিয়ে একটি জরিপ করে এবং সেই জরিপে ফ্যানদের ৭৫ শতাংশ বলেন যে, ব্রিটেনে ফুটবল ম্যাচে বৈষম্যমূলক ভাষা ও ব্যবহার আজও একটি সমস্যা হয়ে রয়েছে৷

‘কিক ইট আউট' পেশাদারি ফুটবলার সমিতির সঙ্গে প্লেয়ারদের জন্যে এই ধরনের একটি অ্যাপ বার করার ব্যাপারেও কথাবার্তা বলছে৷ তবে সেই অ্যাপকে আরো নিরাপদ, আরো সুরক্ষিত করতে হবে৷ শুধু খেলোয়াড়রাই সেই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন৷

চেলসির ক্যাপটেন জন টেরি জাতিবাদী আচরণের জন্য শাস্তি পেয়েছেন

সাম্প্রতিক কালে ইংল্যান্ডে প্লেয়ারদের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন জাতিবাদী আচরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে৷ একটি হাই-প্রোফাইল ঘটনার ফলশ্রুতি হিসেবে চেলসির ক্যাপটেন জন টেরি ও লিভারপুলের স্ট্রাইকার লুইজ সুয়ারেজের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে৷

মাঠেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে গ্যালারিতে কি ঘটছে, তা সহজেই কল্পনীয়৷ জরিপে ফ্যানরা নিজেরাই জানিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে অর্ধেকের কানে এসেছে, কিভাবে প্লেয়ার অথবা রেফারি-লাইনসম্যানদের বিরুদ্ধে জাতিবাদী মন্তব্য, কিংবা সমকামীদের প্রতি বৈষম্যবাদী মন্তব্য করা হচ্ছে৷ জরিপে সংশ্লিষ্ট ফ্যানদের ৭৩ শতাংশ ম্যাচে ও স্টেডিয়ামে জাতিবাদ রোখার জন্য আরো বেশি নজরদারি কামনা করেন৷

ফ্যানরা এবার এই নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে তাদের ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে জাতিবাদের ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার সুযোগ পাবেন৷ অপরদিকে মাঠে দু'পক্ষের ফ্যানদের মধ্যে সুস্থ ও সোচ্চার প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে তা কোনো বাধা হয়ে উঠবে না৷

অ্যাপটি আই-ফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলিতে বিনি খরচায় পাওয়া যাবে৷ ফ্যান ও প্লেয়ারদের করা রিপোর্টগুলি যাবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলি ছাড়া ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে৷ যে সব ফ্যানরা অভিযোগ করছেন, তারা সেটা বেনামায় করতে পারেন; আবার নিজের নাম দিয়ে পরে তদন্তের প্রগতি সম্পর্কে জানতেও পারবেন৷

সর্ষের মধ্যে ভূত, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা – অনেক কিছুই তো মনে পড়ছে৷ শুধু নজরদারি দিয়ে মানসিকতা পাল্টানো যায় না৷ আবার মানসিকতা পাল্টালে নজরদারির দরকার পড়ে না৷ এই দুই-এর মাঝেই হয়ত সত্যটা কোথাও লুকিয়ে আছে৷

এসি/ডিজি (এপি)

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন