ফ্যাশন সচেতনদের প্রিয় কুশিকাঁটার ব্রেসলেট

কুশিকাঁটা....কি, নামটা পরিচিত মনে হচ্ছে! আমাদের মা, খালারা কিন্তু বহু আগে থেকেই কুশিকাঁটা দিয়ে তৈরি করছেন ব্যাগ, কাপড়, শাল৷ এবার কুশিকাঁটার তৈরি ব্রেসলেট সাড়া ফেলেছে ইটালিতে৷ বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ ব্রেসলেট৷

মিলানের ফ্যাশন স্ট্রিটের ছোট একটি বুটিকের খদ্দেররা নকশা করা ডিজাইনার গহনা চান৷ পাঁচ থেকে পনেরো ইউরোর মধ্যে দাম হওয়া চাই৷ তাদের এই চাহিদা মেটাচ্ছে কুশিকাঁটা দিয়ে তৈরি রঙিন ব্রেসলেট৷ চমৎকার নটিংয়ের ব্রেসলেটগুলো ফ্যাশন সচেতনদের কাছে আদর্শ৷ বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের খদ্দেররা এগুলো পছন্দ করেন৷ প্রায় একশো রং এবং অসংখ্য ডিজাইনের ব্রেসলেট দোকানটিতে পাওয়া যায়৷

সমাজ সংস্কৃতি | 13.08.2013

খদ্দেরদের ভিড়ের শুরুটা হয়েছিল ২০১১ সালের গ্রীষ্মে, যখন কাশ্মীরি পশম প্রস্তুতকারক লুকা কাপরাই কুশিকাঁটা ব্রেসলেট বাজারে আনেন৷ তাঁর দোকান ক্রুচিয়ানির সামনে লম্বা লাইন লেগে যায়৷ এমনকি তারকারাও এই ব্রেসলেট ব্যবহার শুরু করেন৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি এত বিক্রি হবে৷ আমাদের ধারণা ছিল সুবিবেচক, সাধারণ মানুষ এগুলো পরবে৷ কিন্তু তারপর হঠাৎ একদিন একটি ছবিতে দেখলাম প্যারিস হিল্টন আমাদের তৈরি প্রজাপতি ব্রেসলেট পরেছেন৷ আসলে ভাইরাসে সবাই আক্রান্ত হন৷ তারকা থেকে রাস্তার মানুষ সবাই৷''

কাশ্মীরি পশম বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ক্রুচিয়ানির অবস্থান মিলানে৷ সূক্ষ্ম নিটওয়্যার বিক্রির এই পারিবারিক ব্যবসা বিশ বছর আগে আম্ব্রিয়ায় শুরু হয়েছিল৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ব্যাগের চেয়ে বেশি কিছু

হারমেসের এই ট্রাভেল ব্যাগটি (ছবিতে সাদা রঙের) গেরেস ক্যালি সারা দুনিয়ায় বিখ্যাত করে তুলেছিলেন৷ অভিনেত্রী এবং মনোকোর এই রাজকুমারী ব্যাগটি এতবার ব্যবহার করেছেন যে, ১৯৫৬ সালে সেটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ক্যালি ব্যাগ’৷ বাভারিয়ার জাতীয় জাদুঘরে হাতব্যাগের পাঁচশো বছরের ইতিহাস এভাবে তুলে ধরা হচ্ছে৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

পকেটভর্তি সোনা

হ্যান্ডব্যাগের ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতকের দিকে৷ সেসময় বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা আলাদা আলাদা করে রাখতে ছোট ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা হতো৷ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কেন না তখন প্রত্যেক ধর্ম এবং বড় শহরের নিজস্ব মুদ্রা ছিল৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

বৈচিত্রময় কাজ

হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে গবেষণা সহজ কাজ নয়, বলেছেন ইয়হানেস পিচ্স, মিউনিখের প্রদর্শনীর কিউরেটর এবং পোশাকের ইতিহাস বিষয়ক একজন গবেষক তিনি৷ কোন ধরনের ব্যাগ কোন সময় ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা জানতে অনেক বিষয় বিচার করতে হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

অলংকৃত এবং বাস্তব

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেইন্টিং এবং ভাস্কর্যও রাখা হয়েছে৷ এসব দেখে বিভিন্ন ব্যাগের ব্যবহার এবং সেগুলো বহনের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে৷ সপ্তদশ শতকের দিকে ব্যাগের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরী পরিবর্তন আসতে শুরু করে৷ সেসময় ডাক ব্যবস্থার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে খামের আকারের অনেক পকেটযুক্ত ওয়ালেটের ব্যবহার শুরু হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ফ্যাশন বিপ্লব

ফরসি বিপ্লবের পর মেয়েদের স্কার্টের ডিজাইনের পরিবর্তন আসে৷ সেসময় অপেক্ষাকৃত অপ্রশস্ত পোশাক পড়তে এবং হাতে ব্যাগ বহন শুরু করেন মেয়েরা৷ অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতকের দিকে হাতে ব্যাগ বহন আধুনিতকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

পুরুষের আনুষঙ্গিক উপকরণ

ফরাসি বিপ্লবের আগ অবধি পুরুষরা মেয়েদের মতোই কাপড়ের ভেতরে ব্যাগ বহন করতো৷ কিন্তু পরবর্তীতে পুরুষের পোশাকে পরিবর্তন আসে এবং বড় ব্যাগ ব্যবহারের চর্চা পুরুষরা এরকম ত্যাগ করে৷ তবে বর্তমান সময়ে ল্যাপটপ এবং ব্যাকপ্যাক ছাড়াও, হাতব্যাগ ব্যবহার পুরুষের ফ্যাশনে ফিরে এসেছে৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

স্টাইলের প্রতীক

ঊনবিংশ শতকে ট্রেন নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটায় মানুষের যোগাযোগ বাহনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে৷ স্যুটকেস আলাদাভাবে লাগেজ ভাগেনে বহন করা হতো বলে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বহন করার একটি বিকল্প ব্যাগের প্রয়োজন সৃষ্টি হয়৷ বিশেষ করে মেয়েরা তাদের ভ্যানিটি ব্যাগ সঙ্গে রাখতেই পছন্দ করতেন৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

সৃজনশীলতা

১৯৭০ দশকে ম্যাগাজিন গোল করে মোড়ানো হলে যেমন দেখায়, সেরকমের ব্যাগ ব্যবহার ফ্যাশনে পরিণত হয়৷ ম্যাগাজিনের ‘ল্যামিনেটেড’ কভারের সঙ্গে হাতল জুড়ে এসব ব্যাগ তৈরি করা হতো৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ভালো দেখাচ্ছে

ব্রিটেনের ডাচেস অব ক্যামব্রিজ যে হাতব্যাগটি ব্যবহার করেন, সেটির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে৷ চিঠিপত্রের প্রসার ঘটার সময়কার ব্যাগের উত্তরসূরি হচ্ছে ছোট্ট এই ব্যাগটি৷ এর কোনো হাতল নেই৷ ফলে এটি হাতের মুঠোয় বা হাতের নীচে চেপে বহন করতে হয়৷ ১৯২০ সালের দিকে এই ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়, যেটি ব্যবহার এখনও স্লিম মেয়েদের ফ্যাশন৷

প্রতিষ্ঠানটি যে মেশিনে কাশ্মিরী উলের তৈরি পাশমিনা শাল তৈরি করে, সেই একই মেশিনে নটিং ব্রেসলেটও তৈরি করছে৷

ব্রেসলেটগুলো তৈরিতে পলিয়েস্টার ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে এগুলো পরে স্নানও করা যাবে৷ আর এগুলো পরার ‘ক্রেজ' কমার কোনো লক্ষণ নেই৷ পরিস্থিতি এমন যে শুধু ব্রেসলেট বিক্রির জন্য গত বছর নতুন একটি দোকান খুলেছে ক্রুচিয়ানি৷ এখন পর্যন্ত দশ মিলিয়নের বেশি ব্রেসলেট বিক্রি হয়েছে৷

অন্বেষণ | 02.08.2013

ফ্যাশন সাংবাদিক পাওলা বুলবারেলি শুরু থেকেই এই ট্রেন্ডের দিকে নজর রাখছেন৷ তিনি বিশ্বাস করেন, সৌভাগ্যের প্রতীক সাতটি ক্লোভারপাতা আঁকা ব্রেসলেটগুলো চাহিদার আসল কারণ৷ পাওলা বুলবারালি বলেন, ‘‘আসলে বর্তমান সময়ে মানুষ ভাগ্যের দিকেও খানিকটা নজর দিচ্ছে৷ মোটের উপর এটা কব্জিতেও পরা যায়৷ সম্ভবত শুরু থেকেই সবাই এদিকে গুরুত্ব দিয়েছে৷ খানিকটা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনে৷''

আর ব্রেসলেটের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও ক্রুচিয়ানি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে৷ এজন্য তারা মিলানের আলোকচিত্রী জোভানি গাস্টেলের ছবি ব্যবহার করেছে৷ প্রতিষ্ঠানটি ব্রেসলেটের বিশেষ সংস্করণও প্রকাশ করেছে৷ তবে সবচেয়ে সফল ক্লোভারপাতা খচিত ব্রেসলেট৷ এই ডিজাইনের ব্রেসলেট এখন পর্যন্ত চার মিলিয়ন বিক্রি হয়েছে৷

ক্রুচিয়ানির আয়ের একটি বড় উৎস এখন কুশিকাঁটা ব্রেসলেট৷ এখন অবশ্য এই পণ্য নকলও করছে অনেকে, যা লুকা কাপরাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে৷ তবে তিনি জানেন, তাঁর সৌভাগ্য কেউ কেড়ে নিতে পারবে না৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাদের অনুসরণ করুন