ফ্রি খাবার নিতে লজ্জা করবে কেন?

যুক্তরাষ্ট্রে গত একমাস বেতন পাননি ৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা৷ তাঁদের অনেকেরই এখন বিনামূল্যে দেয়া খাবার সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে৷ এ নিয়ে ডয়চে ভেলের করা ছবিঘরটি দেখে পাঠকদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন ফেসবুক পাতায়৷ 

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় ছবির প্রতিবেদনটির মন্তব্যের ঘরে লেখা পাঠকদের প্রতিক্রিয়া দেখে আরেক পাঠক আবদুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন, ‘‘অর্থাভাবে যাঁরা ফ্রি খাবার নিচ্ছেন তাঁদের ছবি দেখে যাঁরা ‘হা হা' রিয়েক্ট দিয়েছে এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছে, তারা আসলে খবরটি পড়ে দেখেনি৷'' মামুন তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে আরো লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশে বিমান এবং নৌবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নাইটগার্ডেরও ঢাকায় বহুতল ভবন থাকে৷ এই ছবিঘরে এটাই প্রমাণিত হয় যে, অ্যামেরিকানরা কতটা সৎ আর আমরা কতটা অসৎ৷ তাঁদের নিজেদের গণতন্ত্র কতটা সুগঠিত আর আমাদের কতটা খারাপ অবস্থা৷''

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

এক মাসের অচলাবস্থা 

গত ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই অচলাবস্থা৷ মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের অর্থ জোগান নিয়ে ডেমোক্র্যাট বনাম ট্রাম্পের বিবাদের জের ধরে চলমান অচলাবস্থার এক মাস পূরণ হলো আজ৷ এই এক মাস নির্দিষ্ট কয়েকটি বিভাগের সরকারি কার্যালয়ে কোনো কাজ ও লেনদেন হয়নি৷

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

কেন এই অচলাবস্থা!

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের এক চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের কথা ছিল৷ তখন ট্রাম্প দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ ছাড়া বাজেট বিলে স্বাক্ষরে আপত্তি জানান৷ দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে বাজেট না হওয়ায় ডিসেম্বরের ২২ তারিখ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এইসব বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়৷

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

বেতনহীন ৮ লাখ কর্মকর্তা

মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ৮ লাখ কর্মকর্তা বেতন পাচ্ছেন না৷ এর মধ্যে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের কর্মীরা অন্যতম৷ এছাড়া রাজস্ব, লজিস্টিকসসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের কর্মকর্তারাও এই তালিকায় আছেন৷ 

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

নিরাপত্তায় বিঘ্ন! 

পরিবহন নিরাপত্তা কর্মীদের একাংশ ইতোমধ্যে কর্মবিরতি পালন করছেন৷এতে করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে৷ বিশেষ করে বিমানবন্দন ও স্থলবন্দরের নিরাপত্তা চরম প্রশ্নের মুখে৷ 

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

খাবারের লাইনে নিরাপত্তাকর্মী 

গত সপ্তাহে অ্যামেরিকার সবচেয়ে বড় দাতব্য খাবার সরবরাহকারী সংস্থা লেকভিউ প্যান্ট্রিতে ভিড় দেখা গেছে সরকারী নিরাপত্তাকর্মীদের৷ এই প্রতিষ্ঠানের শিকাগো অফিস দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিদিনকার খাবার সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে৷ 

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

ব্যক্তি উদ্যোগ

অচলাবস্থার শিকার ফেডারেল কর্মকর্তাদেরকে অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করছেন৷ এর মধ্যে ওয়াশিংটনে শেফ জোসে আন্দ্রেজ তাঁর রেস্তোরাঁয় রীতিমতো ব্যানার টাঙিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের লোকেদের খাবার দিচ্ছেন৷ গত সাতদিন ধরে তিনি খাবার দিয়ে যাচ্ছেন৷ 

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

পরিচয়পত্র জরুরি 

খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে ফ্রি খাবার নিতে হলে ফেডারেল কর্মকর্তার আইডি বা পরিচয়পত্র কিংবা পরিচয় নিশ্চিত করে এমন কাগজ জরুরি৷ তবেই মিলবে খাবার৷ 

ফ্রি খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা!  

শুধু খাবার নয়!

শুধু খাবার নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় গ্রোসারিও দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান৷ গ্রোসারিগুলোতে ফেডারেল কর্মীদের জন্য ফ্রি ব্যাগ রাখা হয়েছে৷ আইডি দেখিয়ে যে-কোনো কর্মী সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন৷ সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে যাঁরা পৌঁছাতে পারছেন না, তাঁরা রেশনের মতো কার্ড তৈরি করে খাবার বণ্টন করছেন৷

আর পাঠক রাজীব বণিকের মন্তব্য,‘‘এই খবরে যাঁরা অট্টহাসির ‘ইমো' দিয়েছেন, তাঁরা বা তাঁদের পরিবার কখনো কি এসব বিপর্যয়ময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন? তাঁদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে৷''

অন্যদিকে এশা খানের মন্তব্য, ‘‘এইসব খবর দিয়ে লজ্জা দিবেন না৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

‘ফ্যান্ট্যাস্টিক’

ভবিষ্যতের সীমান্ত প্রাকারের প্রোটোটাইপগুলো দেখে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ফ্যান্ট্যাস্টিক’৷ তবে প্রাকারের উচ্চতা শুধু তার একমাত্র গুণ হবে না, অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও থাকা দরকার৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

ওপারে কী ঘটছে...

...তা দেখার উপায় থাকা চাই, অন্তত ট্রাম্প তাই চান৷ বেআইনি অভিবাসীরা সীমান্তে প্রাকারের দিকে এগোলেই মার্কিন সীমান্তরক্ষীরা যাতে তাদের দেখতে পান, সে ব্যবস্থা থাকা চাই৷ এ কারণে কয়েকটি ‘ডিজাইনে’ প্রাকারের নিম্নাংশে গরাদ রাখা হয়েছে, যার ফাঁক দিয়ে মানুষ ঢুকতে পারবে না, কিন্তু বর্ডার গার্ডরা তাদের দেখতে পাবেন৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

প্রাকার বা দেয়াল ‘প্রদর্শনী’

ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণে এই ‘ডিজাইন’ প্রাকার প্রদর্শনের পিছনে কি কোনো রাজনৈতিক বার্তা আছে? প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ট্রাম্প এই উদারপন্থি মনোভাবের রাজ্যটিতে এই প্রথম এলেন ট্রাম্প৷ এ রাজ্যে তথাকথিত ‘ড্রিমার’-দের বিশেষ সহানুভূতির চক্ষে দেখা হয়৷ ওদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘রাজ্যের বিশেষ বিশেষ এলাকায় প্রাকার নির্মাণের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া আমাদের অনুরোধ করেছে৷’

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

কংক্রিট বলেই কি তা পাঁশুটে হবে?

কাজেই এই প্রোটোটাইপটির রঙ গাঢ় নীল৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

সীমান্তে প্রাকার আর কাঁটাতার

হবু সীমান্ত প্রাকারের এই নমুনাটির ওপর আবার কাঁটাতার লাগানো রয়েছে৷ তবে প্রাকারটি যেহেতু একেবারে মসৃণ, সেহেতু কাঁটাতার অবধি পৌঁছানোর ক্ষমতা কোনো সম্ভাব্য অভিবাসীর থাকবে কিনা, বলা শক্ত৷ প্রাকারের আটটি নমুনাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি৷ ডানদিকের ধূসর রঙের দেয়ালটি বার্লিন প্রাকারের কথা মনে করিয়ে দেয়৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

দেয়াল তৈরির লবিস্ট...

...ট্রাম্প স্বয়ং৷ পরিদর্শন করতে এসে আবার আউড়েছেন, ‘‘মেক্সিকোর বহু সমস্যা আছে, যেমন ড্রাগ গ্যাং৷’’ সমালোচকদের মতে সীমান্ত প্রাকার নির্মাণে বিপুল খরচ পড়বে৷ ট্রাম্প বলছেন, প্রাকার নির্মাণের ফলে বেআইনি অভিবাসন ও মাদক পাচার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হ্রাস পাবে৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

‘সেতু গড়ো, প্রাচীর নয়’

সীমান্তের দু’পারেই ট্রাম্পের প্রাকার নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে৷ বিক্ষোভকারীরা ‘সেতু গড়ো, প্রাচীর নয়’ ও অপরাপর নিশান তুলে ধরেছেন৷ মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমান্তের দৈর্ঘ ৩,১৪৪ কিলোমিটার৷ তার মধ্যে ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি অংশ বেড়া দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

কেমন হবে মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্পের দেয়াল?

বর্তমানে যে প্রাকার রয়েছে...

...তা খুব বেশি উঁচু নয়৷ ছবিতে মেক্সিকের তিহুয়ানা শহরের সীমান্ত প্রাকারটিকে দেখা যাচ্ছে৷ প্রাকারের অপরপারে অশ্বারোহী মার্কিন সীমান্তরক্ষীরা নিয়মিত টহল দিয়ে থাকেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন