বন্ধক রাখো সোনা, যাপন করো জীবন

এই অবস্থা এখন সিঙ্গাপুরের অনেক মানুষের৷ ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এই শহররাষ্ট্রটি৷ এরপরও দিন দিন বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়৷

তাই বিপদে আছেন সেখানকার মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্তরা৷ যেমন নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল রহমান৷ তাঁর মাসিক আয় দেড় হাজার সিঙ্গাপুরীয় ডলার৷ তাই তাঁর স্ত্রী খাদিজাকে সংসার চালাতে এখন নিজের সোনার অলংকারগুলো বন্ধক রাখতে হচ্ছে৷ কারণ বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার নেয়ার চেয়ে বন্ধক রেখে জীবন চালানো ভালো বলে মনে করেন তিনি৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ব্যাগের চেয়ে বেশি কিছু

হারমেসের এই ট্রাভেল ব্যাগটি (ছবিতে সাদা রঙের) গেরেস ক্যালি সারা দুনিয়ায় বিখ্যাত করে তুলেছিলেন৷ অভিনেত্রী এবং মনোকোর এই রাজকুমারী ব্যাগটি এতবার ব্যবহার করেছেন যে, ১৯৫৬ সালে সেটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ক্যালি ব্যাগ’৷ বাভারিয়ার জাতীয় জাদুঘরে হাতব্যাগের পাঁচশো বছরের ইতিহাস এভাবে তুলে ধরা হচ্ছে৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

পকেটভর্তি সোনা

হ্যান্ডব্যাগের ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতকের দিকে৷ সেসময় বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা আলাদা আলাদা করে রাখতে ছোট ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা হতো৷ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কেন না তখন প্রত্যেক ধর্ম এবং বড় শহরের নিজস্ব মুদ্রা ছিল৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

বৈচিত্রময় কাজ

হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে গবেষণা সহজ কাজ নয়, বলেছেন ইয়হানেস পিচ্স, মিউনিখের প্রদর্শনীর কিউরেটর এবং পোশাকের ইতিহাস বিষয়ক একজন গবেষক তিনি৷ কোন ধরনের ব্যাগ কোন সময় ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা জানতে অনেক বিষয় বিচার করতে হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

অলংকৃত এবং বাস্তব

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেইন্টিং এবং ভাস্কর্যও রাখা হয়েছে৷ এসব দেখে বিভিন্ন ব্যাগের ব্যবহার এবং সেগুলো বহনের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে৷ সপ্তদশ শতকের দিকে ব্যাগের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরী পরিবর্তন আসতে শুরু করে৷ সেসময় ডাক ব্যবস্থার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে খামের আকারের অনেক পকেটযুক্ত ওয়ালেটের ব্যবহার শুরু হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ফ্যাশন বিপ্লব

ফরসি বিপ্লবের পর মেয়েদের স্কার্টের ডিজাইনের পরিবর্তন আসে৷ সেসময় অপেক্ষাকৃত অপ্রশস্ত পোশাক পড়তে এবং হাতে ব্যাগ বহন শুরু করেন মেয়েরা৷ অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতকের দিকে হাতে ব্যাগ বহন আধুনিতকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

পুরুষের আনুষঙ্গিক উপকরণ

ফরাসি বিপ্লবের আগ অবধি পুরুষরা মেয়েদের মতোই কাপড়ের ভেতরে ব্যাগ বহন করতো৷ কিন্তু পরবর্তীতে পুরুষের পোশাকে পরিবর্তন আসে এবং বড় ব্যাগ ব্যবহারের চর্চা পুরুষরা এরকম ত্যাগ করে৷ তবে বর্তমান সময়ে ল্যাপটপ এবং ব্যাকপ্যাক ছাড়াও, হাতব্যাগ ব্যবহার পুরুষের ফ্যাশনে ফিরে এসেছে৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

স্টাইলের প্রতীক

ঊনবিংশ শতকে ট্রেন নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটায় মানুষের যোগাযোগ বাহনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে৷ স্যুটকেস আলাদাভাবে লাগেজ ভাগেনে বহন করা হতো বলে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বহন করার একটি বিকল্প ব্যাগের প্রয়োজন সৃষ্টি হয়৷ বিশেষ করে মেয়েরা তাদের ভ্যানিটি ব্যাগ সঙ্গে রাখতেই পছন্দ করতেন৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

সৃজনশীলতা

১৯৭০ দশকে ম্যাগাজিন গোল করে মোড়ানো হলে যেমন দেখায়, সেরকমের ব্যাগ ব্যবহার ফ্যাশনে পরিণত হয়৷ ম্যাগাজিনের ‘ল্যামিনেটেড’ কভারের সঙ্গে হাতল জুড়ে এসব ব্যাগ তৈরি করা হতো৷

সুন্দরীদের হাতব্যাগের গল্প

ভালো দেখাচ্ছে

ব্রিটেনের ডাচেস অব ক্যামব্রিজ যে হাতব্যাগটি ব্যবহার করেন, সেটির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে৷ চিঠিপত্রের প্রসার ঘটার সময়কার ব্যাগের উত্তরসূরি হচ্ছে ছোট্ট এই ব্যাগটি৷ এর কোনো হাতল নেই৷ ফলে এটি হাতের মুঠোয় বা হাতের নীচে চেপে বহন করতে হয়৷ ১৯২০ সালের দিকে এই ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়, যেটি ব্যবহার এখনও স্লিম মেয়েদের ফ্যাশন৷

জার্মানি ইউরোপ | 16.04.2013

খাদিজার মতো অনেকেরই মনের ভাব এক হওয়ায় বন্ধকি দোকানগুলোর ব্যবসা এখন রমরমা৷ সিঙ্গাপুরে এমন দোকান আছে প্রায় দুশো৷ গত বছর তার আগের বছরের তুলনায় এই খাতে লাভ বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ৷

নিয়ম

সোনা ছাড়াও হিরা ও বিভিন্ন দুর্লভ পাথরের গহনা, অতি পুরনো মডেলের ঘড়ি এসব কিছুও বন্ধক রাখা যায়৷ প্রথমে বন্ধকি দোকানের বিশেষজ্ঞরা দাম নির্ধারণ করেন৷ এরপর প্রথম মাসে এক শতাংশ ও পরের মাস থেকে ছয়মাস পর্যন্ত দেড় শতাংশ হারে সুদ নির্ধারণ করে ঋণ দেয়া হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী, ছয়মাসের মধ্যে গহনা ফিরিয়ে নিতে হবে৷ না হলে জরিমানা দিতে হবে৷ তবে জরিমানা এড়াতে হলে ছয়মাস পর আবার নতুন করে আলোচনায় বসতে হবে৷

সমাজ সংস্কৃতি | 21.02.2013

ব্যাংকের বিকল্প

ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে অনেকগুলো ফরম পূরণ করতে হয়৷ এছাড়া আবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পেতে ও ঋণ ছাড় হতে সময়ও লাগে বেশি৷ এ সব কারণে মানুষজন ব্যাংকের চেয়ে বন্ধকি ব্যবস্থার দিকেই ঝুঁকছে বেশি৷

সরকারের দুশ্চিন্তা

ম্যাকাও আর লাস ভেগাসের পর সিঙ্গাপুরেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে৷ তাই সরকারের চিন্তাটা সেখানেই৷ তাদের ভয়, ঋণের এমন অবাধ সুযোগের কারণে আবার জুয়ার প্রসার না বেড়ে যায়৷ তাই বন্ধকি খাতের আইনে কোনো সংশোধনী প্রয়োজন কি না – তা নাগরিকদের কাছে জানতে চেয়েছে সরকার৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি)

আমাদের অনুসরণ করুন