বাংলাদেশের কি সত্যিই ভয়াবহ লোকসান হয়ে গেল?

অডিও শুনুন 02:25
এখন লাইভ
02:25 মিনিট
14.12.2015

প্যারিসে সই হওয়া জলবায়ু চুক্তিকে কেউ বলেছেন ইতিবাচক৷ আবার কেউ বলছেন, এটা হতাশার৷ অনেকে একে ‘ঐতিহাসিক অর্জন' বলে বর্ণনা করছেন৷ আর অনেকে বলছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হবে না, এটা লোক দেখানো৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির বা বেলা-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি মনে করি চুক্তি হওয়াটাই ইতিবাচক৷ এই চুক্তির মধ্যে এমন অনেক কিছুই আছে, যা আমরা অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছি৷ তবে চুক্তি হলেই তো আর হবে না, এর সঠিক বাস্তবায়ন হয় কিনা – সেটাই এবার দেখার বিষয়৷ এখান থেকে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, সেটা বাস্তুহারা মানুষ আদৌ পান কিনা – তাও কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই৷''

চুক্তির পরপরই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে টেলিফোনে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান যে, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে খুশি৷ তবে চুক্তির বিস্তারিত নথিপত্র বাংলাদেশ আরো বিস্তারিত খুঁটিয়ে দেখবে এবং শীঘ্রই এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানাবে৷

চীন

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের প্রশাসন ২০৩০ সাল নাগাদ ‘কার্বন ইনটেনসিটি’ ২০০৫ সালের তুলনায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে চায়৷ সেইসঙ্গে জীবাশ্মভিত্তিক নয়, এমন জ্বালানির অনুপাত বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করতে চায় চীন৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) কার্বন নির্গমনের মাত্রা ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ২০৩০ সালের মধ্যে সে দেশের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি কার্বন ডাই-অক্সাইড দূষণের মাত্রা ৩২ শতাংশ কমাতে চায়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

২৮ সদস্যের এই রাষ্ট্রজোট ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের মাত্রা ১৯৯০ সালের তুলনায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ কমাতে চায়৷ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২৭ শতাংশ বাড়ানোরও লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ইইউ৷

ভারত

২০৩০ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) ‘কার্বন ইনটেনসিটি’ ৩৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের৷ সেইসঙ্গে জ্বালানির চাহিদার ৪০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি দিয়ে মেটাতে চায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল এই দেশ৷

রাশিয়া

২০৩০ সালের মধ্যে (১৯৯০ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে চায় আয়তনের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া৷ অবশ্য অন্যান্য বড় দূষণকারী দেশের অঙ্গীকারের উপর এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে৷

জাপান

২০৩০ সালের মধ্যে (২০১৩ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ২৬ শতাংশ কমানোর অঙ্গীকার করেছে জাপান৷ তবে ফুকুশিমা বিপর্যয় সত্ত্বেও আবার ২০ থেকে ২২ শতাংশ পরমাণু বিদ্যুতের উপর নির্ভর করছে সে দেশ৷ বিকল্প জ্বালানির অনুপাত বাড়িয়ে ২২ থেকে ২৪ শতাংশে আনতে চায় জাপান৷

ব্রাজিল

প্রথম ধাপে ২০২৫ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ৩৭ শতাংশ কমাতে চায় ব্রাজিল৷ ২০৩০ সালের মধ্যে সেই মাত্রা বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সে দেশ৷

ইরান

২০৩০ সালের মধ্যে ইরান নির্গমনের মাত্রা ৪ শতাংশ কমানোর শর্তহীন অঙ্গীকার করেছে৷ সেইসঙ্গে ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নিলে এবং আর্থিক সাহায্য ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দিলে সে দেশ বাড়তি ৮ শতাংশ নির্গমন কমাতে প্রস্তুত৷

তবে বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে কাজ করছেন এমন অনেকেই বলছেন যে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তেমন লাভ হবে না৷ উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন কোস্ট-এর সহকারী পরিচালক মুজিবল হক বলেন, ‘‘বরং বাংলাদেশের ভয়াবহ লোকসান হয়ে গেল৷''

তিনি বলেন, ‘‘চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লেখা আছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না৷ এটা বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি৷ কিন্তু যারা ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ এটা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অধিকার৷ কিন্তু এই চুক্তির ফলে তা ভেস্তে গেল৷''

কয়লা, তেল ও গ্যাসের কম ব্যবহার

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কল-কারখানা ও পরিবহণ ক্ষেত্রই মূলত কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী৷ শীতের দেশে ঘরবাড়ি গরম রাখতে প্রায় ৬ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করা হয়৷ তাই পরিবেশ সংরক্ষণ করতে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আরও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত৷

‘ক্লিন এনার্জি’ নিজেই উৎপাদন করুন

বিদ্যুতের জন্য আর কয়লা, তেল বা গ্যাস-ভিত্তিক জ্বালানি কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না৷ বিকল্প জ্বালানি ইতোমধ্যে আরও সস্তা হয়ে উঠেছে৷ নিজস্ব উদ্যোগে জ্বালানি উৎপাদন করে চাহিদা মিটিয়ে প্রায়ই কিছু উদ্বৃত্ত থেকে যায়৷ ছাদের উপর সৌর প্যানেলের জন্য যথেষ্ট জায়গা আছে৷ এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিরও যথেষ্ট উন্নতি ঘটছে৷

ভালো আইডিয়ার প্রতি সমর্থন চাই

পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানি পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে ও ‘ক্লিন এনার্জি’ বিক্রি করছে৷ যেমন জার্মানির সাবেক শহরের সোলার পার্ক৷ জনসংখ্যা মাত্র ৭,২০০৷ চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আদর্শ হয়ে উঠেছে এই ছোট্ট শহরটি৷ এক মার্কিন প্রতিনিধিদল সেই সাফল্যের রহস্য বুঝতে এসেছে৷

জলবায়ুর ক্ষতি করলে কোম্পানির লোকসান

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিমা কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়, পৌর কর্তৃপক্ষ – সবাই জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি থেকে বিনিয়োগের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছে৷ জার্মানির ম্যুনস্টার শহর কর্তৃপক্ষ সবার আগে এই ‘ডাইভেস্টমেন্ট’ আন্দোলনে শামিল হয়েছে৷ গোটা বিশ্বে মোট ৫৭টি পৌর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত একই পথ বেছে নিয়েছে৷

গাড়ি ছেড়ে সাইকেল, ট্রাম-বাস, ট্রেন

সাইকেল, ট্রাম-বাস ও ট্রেন ব্যবহার করলে অনেক কার্বন সাশ্রয় করা যায়৷ গাড়ির তুলনায় বাস ৫ গুণ বেশি পরিবেশবান্ধব – ইলেকট্রিক ট্রেন ১৫ গুণ বেশি৷ আমস্টারডাম শহরের বেশিরভাগ মানুষই সাইকেল চালান৷ শহর কর্তৃপক্ষ সাইকেলের জন্য চওড়া পথ তৈরি করেছে৷

বিমানযাত্রা এড়িয়ে চলুন

বিমানযাত্রা পরিবেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে৷ হিসেব অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে বছরে গড়ে ৫.৯ টনের বেশি কার্বন নির্গমন করলে চলবে না৷ অথচ বিমানে চেপে বার্লিন ও নিউ ইয়র্ক করলেই যাত্রী প্রতি ৬.৫ টন কার্বন নির্গমন করা হয়৷

কম মাংস খান

পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কৃষিক্ষেত্রও সমস্যা সৃষ্টি করে৷ ধানচাষের ফলে এবং গরু, ভেড়া ও ছাগলের পেটের মধ্যে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর মিথেন সৃষ্টি হয়৷ একদিকে সারা বিশ্বে মাংস খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে৷ অন্যদিকে গবাদি পশুপালনের কারণে পশুখাদ্য হিসেবে সয়াবিনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে৷

অরগ্যানিক খাদ্য কিনুন

লাফিং গ্যাস জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ গ্রিনহাউস এফেক্টের প্রায় ৬ শতাংশ এই গ্যাসের কারণে ঘটে৷ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ইঞ্জিনের পাশাপাশি বিশাল মাত্রার কৃষিকাজে কৃত্রিম সারের কারণে এই গ্যাস সৃষ্টি হয়৷ অরগ্যানিক খামারে এই বস্তুটি নিষিদ্ধ৷

টেকসই নির্মাণ ও ভোগ

ইস্পাত ও সিমেন্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রচুর কার্বন নির্গমন ঘটে৷ অন্যদিকে কাঠ ও বাঁশের ক্ষেত্রে সেই ক্ষতির আশঙ্কা নেই৷ নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক উপকরণ বাছাই করে পরিবেশের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব৷ ভোক্তা হিসেবেও সবার মনে রাখা উচিত, যে প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করলে পরিবেশের কত ক্ষতি হয়৷

দায়িত্বশীল হবার পালা

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে গ্রিনহাউস গ্যাস পরিহার করতে হবে৷ স্কুলের এই ছাত্রছাত্রীরা ‘ক্লিন এনার্জি’ সম্পর্কে অত্যন্ত উৎসাহী৷ ভবিষ্যতের জন্য তারা এটাকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে৷ তাদের এই স্বপ্ন পূরণ করতে সবাই সাহায্য করতে পারে৷

অন্যদিকে জলবায়ু সম্মেলনে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র প্রধানদের একমত হওয়ায় অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূস৷ ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান৷ এতে বলা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত! আমাদের গ্রহটিকে রক্ষা করার জন্য প্যারিস সম্মেলনে পৃথিবীর সব জাতি একযোগে পদক্ষেপ নিতে একমত হয়েছে৷ এই বৈশ্বিক মতৈক্য পৃথিবীকে শক্তি যোগাবে৷ এই গ্রহের অধিবাসী হিসেবে এই উদ্যোগকে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবে রূপায়িত করা এখন আমাদের উপর নির্ভর করছে৷ সেই সঙ্গে পৃথিবীর সকল মানুষকে অভিনন্দনও জানান ইউনূস৷

ওদিকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ-এর নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান বলেন, ‘‘এই অর্থ কিভাবে আসবে তা মোটেও পরিষ্কার নয়৷ বরং শব্দের মারপ্যাঁচে অনেক কিছুই চাপা পড়ে যাচ্ছে৷''

দুই মাস আগে, পরে

জলবায়ু যে পরিবর্তন হচ্ছে তা বোঝার অন্যতম উপায় প্রবালের দিকে খেয়াল করা৷ উপরে যে ছবিটি দেখছেন তার বাম পাশেরটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তোলা, আর ডানেরটি দুই মাস পর, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের৷ এবার নীচে কোরালগুলোর দিকে তাকান৷ বামেরগুলো এক রংয়ের আর ডানেরগুলো সাদা হয়ে গেছে৷ হ্যাঁ, এটা জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে৷ ছবিটি অ্যামেরিকান সামোয়া এলাকার৷

সাদা হয়ে যাওয়া

এই ছবিটি হাওয়াই এলাকার৷ এখানেও সাদা হয়ে যাওয়া কোরাল দেখা যাচ্ছে৷ কোরাল তার গায়ে থাকা জলজ উদ্ভিদ, অ্যালজির কারণে বেঁচে থাকে৷ কিন্তু তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কোরাল থেকে ঐ উদ্ভিদ ঝরে পড়ে৷ ফলে কোরালেরও আয়ু শেষ হতে থাকে৷

একেবারে স্পষ্ট

এতক্ষণ দূর থেকে সাদা অংশ দেখেছেন৷ এখন দেখুন একেবারে কাছ থেকে তোলা ও বর্ধিত করা একটি ছবি৷ এটি কোরালের একটি অংশ৷ দেখুন, গায়ে থাকা জলজ উদ্ভিদ আর না থাকায় কীরকম সাদা হয়ে গেছে কোরালটি৷

চারদিক কেমন যেন খাঁ-খাঁ করছে

মন খারাপ করা একটি ছবি৷ অ্যালজি না থাকায় মরে গেছে কোরাল৷ পড়ে আছে শুধু কঙ্কাল৷

কয়েক দশক সময় প্রয়োজন

এবার আরেকটি ছবি৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি থেকে কোরাল রিফের বেঁচে উঠতে (আদৌ যদি বেঁচে ওঠে) কয়েক দশক সময় লাগতে পারে৷

প্রমাণ সংগ্রহ

বিশ্বের কোরাল রিফগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণে ২০১২ সালে ক্যাটলিন গ্রুপের সহায়তায় ‘এক্সএল ক্যাটলিন সিভিউ সার্ভে’ নামে একটি সমীক্ষা শুরু হয়৷ এর মাধ্যমে উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা ও রোবট ব্যবহার করে কোরালের বর্তমান অবস্থা তুলে আনা হচ্ছে৷ অনেক ছবি গুগল স্ট্রিট ভিউ-তে আপলোড করা হয়েছে৷

হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে তাপমাত্রা বাড়ছে তার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি অংশ শুষে নেয় সাগর৷ ফলে জলবায়ু যে পরিবর্তন হচ্ছে তা বোঝার একটি ভালো উপায় হচ্ছে কোরাল৷ সমুদ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রজাতির বেঁচে থাকার পেছনে রয়েছে কোরাল রিফ৷ তাই কোরাল না থাকে মানে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়া৷

প্রাণিকুলের খাবার

দেখছেন অ্যামেরিকান সামোয়ার ‘এয়ারপোর্ট রিফ’৷ স্বাস্থ্যবান এ সব কোরালের মধ্যে যে গাছপালা থাকে সেখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করে পানির নীচে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী৷

খাবার পাবে কোথায়?

লম্বা নাকের সুন্দর এই মাছটি কোরাল থেকে খাবার সংগ্রহ করে থাকে৷ কিন্তু কোরালই যদি না থাকে তাহলে তার কী হবে?

তাঁর কথায়, ‘‘এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কে দেবে, কবে দেবে, কিভাবে দেবে আর কাদের দেয়া হবে – সে সব বিস্তারিত এই চুক্তিতে নেই৷ এ সব কারণেই আমাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে৷''

চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার কথা বলা হচ্ছে৷ তবে কোস্ট-এর মুজিবল হক বলছেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ছাড় দিতে কতটা সচেষ্ট হবে সেটি নিয়ে তিনি সন্দিহান৷ এবারের চুক্তিতে ২ ডিগ্রির মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে৷ এরপর তারা চেষ্টা করবে ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার৷ এই চেষ্টা কতটা হবে, তা নিয়েই সন্দিহান তিনি৷

আপনার কি মনে হয়, প্যারিসের জলবায়ু চুক্তি কি বাংলাদেশের জন্য সত্যিই নেচিবাচক হয়েছে? জানান আপনার মতামত, নীচের ঘরে৷

প্রযুক্তি

কৃষকের কৌশল

বছর জুড়েই জলাবদ্ধতা, সাথে কচুরিপানার মিছিল৷ ফলে পিরোজপুরের নাজিরপুর এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক উপায়ে কৃষিকাজ কার্যত অসম্ভব৷ তবে বৈরী এই পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে নাজিরপুরের কৃষকরা নিজেদের কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষিকাজ৷

প্রযুক্তি

ভাসমান কৃষিক্ষেত্র

নাজিরপুরের মুগাঝোর এলাকার জলাভূমিতে ভাসমান কৃষিক্ষিত্র৷ নিজেদের উদ্ভাবিত ‘ধাপ’ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন এ সব এলাকার মানুষরা৷ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘কৃষি ঐতিহ্য অঞ্চল’ হিসেবেও স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে নাজিরপুরে উদ্ভাবিত ভাসমান পদ্ধতির এ চাষাবাদ৷

প্রযুক্তি

যেভাবে তৈরি হয় ধাপ

নাজিরপুরের পানিতে ডোবা নিম্নাঞ্চল কচুরিপানা, দুলালীলতা, শ্যাওলা ও বিভিন্ন জল সহিষ্ণু ঘাসসহ নানান জলজ উদ্ভিদে ভরপুর৷ এ সব জলজ উদ্ভিদকে স্তূপ করে পচিয়ে তারা তৈরি করেন ভাসমান এক ধরণের ধাপ৷ এই ভাসমান ধাপের উপরেই চাষাবাদের এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন তাঁরা৷

প্রযুক্তি

পুরনো ধারা

কৃষি জমির বিকল্প হিসেবে জলাশয়ে ভাসমান চাষাবাদ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে এ অঞ্চলে৷ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদ্ধতিতে কৃষির উৎপাদনশীলতা জমির চেয়ে ১০ গুণ বেশি৷

প্রযুক্তি

জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ

ধাপ পদ্ধতির এ চাষাবাদ হয় সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে৷ রাসায়নিক সারের ব্যবহার নেই বললেই চলে৷ ফলে উৎপাদন খরচও কম এবং স্বাস্থ্যকর৷

প্রযুক্তি

ভাসমান বীজতলা

জলাভূমিতে প্রথমে কচুরিপানা, শ্যাওলা ও বিভিন্ন জলজ ঘাস স্তরে স্তরে সাজিয়ে দুই ফুট পুরু ধাপ বা ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়৷ এগুলো কয়েকদিন ধরে পচানো হয়৷ একেকটি ভাসমান ধাপ ৫০-৬০ মিটার লম্বা ও দেড় মিটার চওড়া হয়৷

প্রযুক্তি

চাষ করা যায় অনেককিছু

ভাসমান এ সব ধাপে সাধারণত লাউ, সিম, বেগুন, বরবটি, করলা, পেঁপে, টমেটো, শশা, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, মরিচ ইত্যাদি শাকসবজি ও মশলার চারা উৎপাদন করে থাকেন কৃষকরা৷ অনেক কৃষক আবার লাল শাক, ঢেঁড়স, হলুদ ইত্যাদিও চাষ করে থাকেন৷

প্রযুক্তি

নেই কোনো কৃষিঋণের ব্যবস্থা

মুগারঝোরের চাষীদের জন্য কৃষি ঋণের কোনো ব্যবস্থা নেই৷ স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চরা হারে সুদ নিয়ে গরিব এ চাষীরা তাঁদের কৃষি কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন৷ স্থানীয় কৃষক আশুতোষ জানান, সরকার সহজশর্তে ঋণ দিলে তাঁরা ভাসমান এ চাষাবাদের আরও বিস্তৃতি ঘটাতে পারবেন৷

প্রযুক্তি

বিক্রি হয় কচুরিপানা

নাজিরপুরের মুগারঝোরে নৌকা বোঝাই কচুরিপানা নিয়ে ক্রেতার খোঁজে এক বিক্রেতা৷ এক নৌকা কচুরিপানা সাধারণত বিক্রি হয় ২-৩ হাজার টাকায়৷ এছাড়া নাজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এসব কচুরিপানার হাটও বসে৷

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির বা বেলা-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি মনে করি চুক্তি হওয়াটাই ইতিবাচক৷ এই চুক্তির মধ্যে এমন অনেক কিছুই আছে, যা আমরা অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছি৷ তবে চুক্তি হলেই তো আর হবে না, এর সঠিক বাস্তবায়ন হয় কিনা – সেটাই এবার দেখার বিষয়৷ এখান থেকে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, সেটা বাস্তুহারা মানুষ আদৌ পান কিনা – তাও কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই৷''