বাংলাদেশের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ৷ মাত্রাতিরিক্ত বন্যা আর খরা এ দেশের কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে৷ তা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন কৃষকরা৷

গ্রীষ্মে গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে চলে বালুঝড়৷ তাই শুষ্ক মৌসুমের পরের প্রথম বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় থাকেন সাধারণ মানুষ৷ পশুপাখির জন্যও তখন পানীয় জলের দরকার হয়৷

উন্নয়ন সংস্থা ‘‘প্র্যাক্টিক্যাল অ্যাকশন''-এর কৃষি বিজ্ঞানী কামাল হোসেন এবং নির্মল ব্যাপারী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গাইবান্ধার স্থানীয় মানুষদের দুর্দশা সম্পর্কে অবগত৷

জলবায়ু পরিবর্তন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ৷ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ ফলে উপকূলের মানুষ বাসস্থান হারাচ্ছেন৷ অসময়ের বন্যা, খরা ফসলের ক্ষতি করছে৷ মোটের উপর লবণাক্ত পানি চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে৷

বাড়ছে পানি, বাড়ছে ভোগান্তি

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে৷ সম্প্রতি সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের পানি পরিমাপ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপকূলে প্রতি বছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে৷

জলবায়ু উদ্বাস্তু

বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন এসিআর-এর মুহাম্মদ আবু মুসা চলতি বছর ডয়চে ভেলেকে জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে৷ আর বাংলাদেশে সংখ্যাটা হবে প্রতি সাতজনে একজন৷ দেশের ১৭ ভাগ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে সমুদ্র গর্ভে৷ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ মূল ভূখণ্ড ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন৷

লবণাক্ত পানি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় লবণাক্ত পানি সমতল ভূমির আরো ভেতরের দিকে চলে আসছে৷ ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে৷ বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে ইতিমধ্যে এ সমস্যা সনাক্ত করা হয়েছে৷ পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

মাছের উৎপাদন কমছে

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাছ উৎপাদনের উপর৷ মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে খাল, বিল, প্লাবনভূমিতে সময় মতো পানি না পৌঁছানোয় দেশীয় মাছের প্রজনন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

ক্ষতির শিকার সুন্দরবন

জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পাঠ শীর্ষক ইউনেস্কোর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ ইতোমধ্যে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প সাগরে হারিয়ে গেছে৷

জার্মানির সহায়তা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো বা ১১২ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা দিতে গত বছর এক চুক্তি স্বাক্ষর করে জার্মানি৷ এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের তিনটি উপকূলীয় জেলায় দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ২০১২-২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে৷ এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে টেকসই রাস্তা-ঘাট, সেতু ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ৷

জলবায়ু তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিতে বিভিন্ন সম্মেলনে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷ তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব সহায়তা পুরোপুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে৷ একইসঙ্গে জলবায়ু তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে আরো সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

কামাল হোসেন বলেন, ‘‘এপ্রিল মাসে আমরা দেখি সবকিছু শুষ্ক হয়ে যায়৷ কোথাও পানি থাকে না৷ বালুঝড় হয়৷ অথচ আমরা যদি জুন-জুলাই মাসে সেখানে যাই তাহলে দেখবো চারদিকে শুধু পানি আর পানি৷ এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে, যখন পানি দরকার তখন পাওয়া যায় না৷ আর যখন পাওয়া যায়, তখন পানির পরিমাণ এত বেশি হয় যে কোনো কাজে আসে না৷''

কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানো

খোকা মিয়ার বয়স ৭০ বছরের বেশি৷ গত কয়েক বছরে অনেক বন্যা দেখেছেন তিনি৷ একসময় তিনি সফল কৃষক ছিলেন৷ নিজের অনেক জমিও ছিল৷ ছয় সন্তান এবং অনেক নাতি-নাতনি রয়েছে খোকা মিয়ার৷ কিন্তু বন্যা তাঁর জীবনে অনেক সমস্যা বয়ে এনেছে৷ এখন পরিবারের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি৷

মাত্রাতিরিক্ত বন্যার কারণে জমিতে বালুর আস্তরণ পড়ে গেছে৷ আশার কথা হচ্ছে, এই বালুর মাঠে চাষের এক নতুন উপায় বের হয়েছে৷ কৃষকরা বালুর মধ্যে গর্ত খোঁড়েন৷

বাকি বিশ্ব থেকে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

খুশি আর্কটিকের দেশগুলোও

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাঁচটি আর্কটিক দেশ – ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – বিভিন্নভাবে সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, আর্কটিকের কতটুকু অংশ কার নিয়ন্ত্রণে সেটা নিয়ে এখনো দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে৷

প্রায় এক চতুর্থাংশ

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

সামরিক উপস্থিতি

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

গ্রিনপিসের বিরোধিতা

আর্কটিকে তেলের ড্রিলিং এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রিনপিসের৷ কারণ ড্রিলিং করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে উত্তর মেরুর পরিবেশের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ কেননা দুর্গম ঐ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বেশ কঠিন হবে৷

উত্তর মেরুতে বিমানযাত্রা

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

চীনের আগমন

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

ভারতের গবেষণা

২০০৮ সালে আর্কটিকের নরওয়ের অংশে এই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু করে ভারত৷ এর বাইরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও আর্কটিক নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে৷

এরপর তারা গর্তের মধ্যে গোবর দিয়ে বীজ রোপণ করেন৷ এভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মিষ্টিকুমড়া, যা হাজার হাজার মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে৷

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

গ্রীষ্মে গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে চলে বালুঝড়৷ তাই শুষ্ক মৌসুমের পরের প্রথম বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় থাকেন সাধারণ মানুষ৷ পশুপাখির জন্যও তখন পানীয় জলের দরকার হয়৷

উন্নয়ন সংস্থা ‘‘প্র্যাক্টিক্যাল অ্যাকশন''-এর কৃষি বিজ্ঞানী কামাল হোসেন এবং নির্মল ব্যাপারী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গাইবান্ধার স্থানীয় মানুষদের দুর্দশা সম্পর্কে অবগত৷

জলবায়ু পরিবর্তন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ৷ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ ফলে উপকূলের মানুষ বাসস্থান হারাচ্ছেন৷ অসময়ের বন্যা, খরা ফসলের ক্ষতি করছে৷ মোটের উপর লবণাক্ত পানি চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে৷

বাড়ছে পানি, বাড়ছে ভোগান্তি

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে৷ সম্প্রতি সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের পানি পরিমাপ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপকূলে প্রতি বছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে৷

জলবায়ু উদ্বাস্তু

বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন এসিআর-এর মুহাম্মদ আবু মুসা চলতি বছর ডয়চে ভেলেকে জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে৷ আর বাংলাদেশে সংখ্যাটা হবে প্রতি সাতজনে একজন৷ দেশের ১৭ ভাগ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে সমুদ্র গর্ভে৷ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ মূল ভূখণ্ড ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন৷

লবণাক্ত পানি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় লবণাক্ত পানি সমতল ভূমির আরো ভেতরের দিকে চলে আসছে৷ ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে৷ বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে ইতিমধ্যে এ সমস্যা সনাক্ত করা হয়েছে৷ পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

মাছের উৎপাদন কমছে

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাছ উৎপাদনের উপর৷ মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে খাল, বিল, প্লাবনভূমিতে সময় মতো পানি না পৌঁছানোয় দেশীয় মাছের প্রজনন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

ক্ষতির শিকার সুন্দরবন

জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পাঠ শীর্ষক ইউনেস্কোর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ ইতোমধ্যে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প সাগরে হারিয়ে গেছে৷

জার্মানির সহায়তা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো বা ১১২ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা দিতে গত বছর এক চুক্তি স্বাক্ষর করে জার্মানি৷ এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের তিনটি উপকূলীয় জেলায় দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ২০১২-২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে৷ এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে টেকসই রাস্তা-ঘাট, সেতু ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ৷

জলবায়ু তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিতে বিভিন্ন সম্মেলনে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷ তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব সহায়তা পুরোপুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে৷ একইসঙ্গে জলবায়ু তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে আরো সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

কামাল হোসেন বলেন, ‘‘এপ্রিল মাসে আমরা দেখি সবকিছু শুষ্ক হয়ে যায়৷ কোথাও পানি থাকে না৷ বালুঝড় হয়৷ অথচ আমরা যদি জুন-জুলাই মাসে সেখানে যাই তাহলে দেখবো চারদিকে শুধু পানি আর পানি৷ এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে, যখন পানি দরকার তখন পাওয়া যায় না৷ আর যখন পাওয়া যায়, তখন পানির পরিমাণ এত বেশি হয় যে কোনো কাজে আসে না৷''

কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানো

খোকা মিয়ার বয়স ৭০ বছরের বেশি৷ গত কয়েক বছরে অনেক বন্যা দেখেছেন তিনি৷ একসময় তিনি সফল কৃষক ছিলেন৷ নিজের অনেক জমিও ছিল৷ ছয় সন্তান এবং অনেক নাতি-নাতনি রয়েছে খোকা মিয়ার৷ কিন্তু বন্যা তাঁর জীবনে অনেক সমস্যা বয়ে এনেছে৷ এখন পরিবারের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি৷

মাত্রাতিরিক্ত বন্যার কারণে জমিতে বালুর আস্তরণ পড়ে গেছে৷ আশার কথা হচ্ছে, এই বালুর মাঠে চাষের এক নতুন উপায় বের হয়েছে৷ কৃষকরা বালুর মধ্যে গর্ত খোঁড়েন৷

বাকি বিশ্ব থেকে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

খুশি আর্কটিকের দেশগুলোও

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাঁচটি আর্কটিক দেশ – ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – বিভিন্নভাবে সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, আর্কটিকের কতটুকু অংশ কার নিয়ন্ত্রণে সেটা নিয়ে এখনো দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে৷

প্রায় এক চতুর্থাংশ

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

সামরিক উপস্থিতি

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

গ্রিনপিসের বিরোধিতা

আর্কটিকে তেলের ড্রিলিং এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রিনপিসের৷ কারণ ড্রিলিং করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে উত্তর মেরুর পরিবেশের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ কেননা দুর্গম ঐ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বেশ কঠিন হবে৷

উত্তর মেরুতে বিমানযাত্রা

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

চীনের আগমন

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

ভারতের গবেষণা

২০০৮ সালে আর্কটিকের নরওয়ের অংশে এই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু করে ভারত৷ এর বাইরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও আর্কটিক নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে৷

এরপর তারা গর্তের মধ্যে গোবর দিয়ে বীজ রোপণ করেন৷ এভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মিষ্টিকুমড়া, যা হাজার হাজার মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে৷

বালুর মাঝে চাষ নিয়ে গবেষণা

নির্মল ব্যাপারী গত কয়েক বছর ধরে চাষের এই পন্থা পরীক্ষা করছেন৷ যে সব কৃষকরা জমি হারিয়েছেন, তাঁরা এ ভাবে চাষেবাদ করছেন এখন৷ তিনি বলেন, ‘‘মিষ্টিকুমড়া বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে, কৃষকরা এটা সহজেই চাষ করতে পারেন৷ তাঁরা এটি চাষের পদ্ধতি জানেন৷ আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, মিষ্টিকুমড়া এমন এক সবজি যা ‘কোল্ড স্টোরেজ' বা বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই কৃষকের বাড়িতে ছয় থেকে আট মাস বা এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷''

বন্যায় সব হারানো খোকা মিয়াও এখন এভাবে কৃষিকাজ করে পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছেন৷ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সুবিধা থাকায় সময় নিয়ে সারা মাস ধরে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেন তিনি৷

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে সেদেশে উদ্ভাবিত বিভিন্ন সমাধান একই সমস্যায় থাকা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আদর্শ হতে পারে৷

গ্রীষ্মে গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে চলে বালুঝড়৷ তাই শুষ্ক মৌসুমের পরের প্রথম বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় থাকেন সাধারণ মানুষ৷ পশুপাখির জন্যও তখন পানীয় জলের দরকার হয়৷