বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের গ্রিড?

স্ট্যানফোর্ড থেকে জার্মানি হয়ে ঢাকায় এসেছেন সেবাস্টিয়ান গ্রো সলশেয়ার নামের একটি স্টার্টআপ শুরু করার জন্য৷ উদ্দেশ্য: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপারীদের একক সোলার প্যানেলগুলোকে জুড়ে সৌরবিদ্যুতের গ্রিড সৃষ্টি করা৷

দক্ষিণ বাংলাদেশের রাঙ্গাবালী দ্বীপ৷ এখানে বিদ্যুতের তারের চাহিদা খুব বেশি, কেননা সরকারি বিদ্যুৎ এখনও এখানে এসে পৌঁছয়নি৷ অপরদিকে বাজারের বহু ব্যাপারী দোকানের মাথায় সোলার প্যানেল বসিয়েছেন৷ সলশেয়ার কোম্পানি সেই একক প্যানেলগুলোকে জুড়ে গোটা মোল্লার বাজার এলাকার জন্য একটি গ্রিড সৃষ্টি করতে চায়৷

সলশেয়ার-এর হেড অফ অপারেশনস আজিজা সুলতানা বলেন, ‘‘আমাদের দেখতে হবে, কোথায় সোলার হোম সিস্টেমগুলির সংখ্যা বেশি৷ শুধুমাত্র সেখানেই গ্রিড সৃষ্টি করা সম্ভব৷ প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি জানার পরেই আমরা অগ্রণী হতে পারবো৷’’

ভিডিও দেখুন 04:40
এখন লাইভ
04:40 মিনিট
মাল্টিমিডিয়া | 05.12.2017

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে সৌরবিদ্যুৎ

একটি স্থানীয় গ্রিড থেকে ব্যাপারীদের অনেক সুবিধা হবে৷ তারা তাদের সোলার প্যানেলগুলো একসঙ্গে চালু করে বিদ্যুৎ কেনাবেচা করতে পারবেন, প্রতিবেশীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবেন ও সেই বিদ্যুৎ দিয়ে আরো বেশি যন্ত্র চালাতে পারবেন৷ সলশেয়ার কোম্পানি সেজন্য একটি বিশেষ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউটর বার করেছে, যা বিদ্যুৎ দেওয়া বা নেওয়ার বিশদ হিসেব রাখতে পারে৷ এই ডিস্ট্রিবিউটরগুলোর নাম রাখা হয়েছে সলবক্স৷

বাজারের ব্যাপারী ও সৌরশক্তি

মোল্লার বাজারের ১৫০ জন ব্যাপারী শিগগিরই একটি গ্রিডে একত্রিত হবেন৷ গোটা বাংলাদেশে এ ধরনের গ্রিডের ব্যাপক সুযোগ আছে, কেননা সারা বিশ্বে এদেশেই বেসরকারি মালিকানার একক সোলার প্ল্যান্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি: সব মিলিয়ে ৪০ লাখের বেশি৷

সলবক্স বাংলাদেশেই তৈরি করা হয়৷ স্টার্টআপটি এখনও মুনাফা করতে পারছে না বটে, কিন্তু তাদের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কিংবা জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর মতো পৃষ্ঠপোষক আছে৷ সলবক্সের প্রধান এককালে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ছিলেন৷

সমাজ

১. তেল

লন্ডন ভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি কাউন্সিল’ এর ‘বিশ্ব জ্বালানি সম্পদ ২০১৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানি হচ্ছে তেল৷ মোট ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৩২.৯ শতাংশই হচ্ছে তেল৷ আর তেল উৎপাদনে শীর্ষ তিন দেশ হচ্ছে সৌদি আরব (বছরে ৫৬৯ মিলিয়ন টন), যুক্তরাষ্ট্র (বছরে ৫৬৭ মিলিয়ন টন) ও রাশিয়া (বছরে ৫৪১ মিলিয়ন টন)৷

সমাজ

২. কয়লা

২৯ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানির তালিকায় তেলের পরেই আছে কয়লা৷ তবে নব্বই দশকের পর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো কয়লা উৎপাদন কমেছে৷ বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ ভাগ কাজে কয়লা ব্যবহৃত হয়৷ শীর্ষ তিন উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে চীন (বছরে ২ দশমিক ৬২ হাজার এমটিওই), যুক্তরাষ্ট্র (৫৬৯ এমটিওই) ও ভারত (৪৭৪ এমটিওই)৷ উল্লেখ্য, এমটিওই মানে হচ্ছে এক মিলিয়ন মেট্রিক টন অফ ওয়েল ইকুইভ্যালেন্ট৷

সমাজ

৩. গ্যাস

তিন নম্বরে আছে গ্যাস (প্রায় ২৪ শতাংশ)৷ আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির তালিকায় কয়লার (৪০ শতাংশ) পরে আছে গ্যাস (২২ শতাংশ)৷ শীর্য তিন গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র (বছরে ৬৯১ এমটিওই), রাশিয়া (বছরে ৫১৬ এমটিওই) ও ইরান (বছরে ১৭৩ এমটিওই)৷

সমাজ

৪. পানিবিদ্যুৎ

নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎসের মধ্যে পানি বা জলবিদ্যুতের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি৷ ২০১৫ সালে উৎপাদিত মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রায় ৭১ শতাংশই এসেছে জলবিদ্যুৎ থেকে৷ আর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানির তালিকায় তেল (৩৩ শতাংশ), কয়লা (২৯ শতাংশ) ও গ্যাসের (২৪ শতাংশ) পরেই আছে পানিবিদ্যুৎ (প্রায় ৭ শতাংশ)৷ শীর্ষ তিন উৎপাদনকারী চীন (বছরে ৯৬.৯ এমটিওই), ব্রাজিল (৩২.৯ এমটিওই) ও ক্যানাডা (৩২.৩ এমটিওই)৷

সমাজ

৫. পরমাণুশক্তি

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানির তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছে এটি (৪ দশমিক ৪ শতাংশ)৷ অর্থাৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি উৎস পানিবিদ্যুতের (প্রায় ৭ শতাংশ) চেয়েও এর ব্যবহার কম৷ ইউরেনিয়াম উৎপাদনে শীর্ষ তিন দেশ হচ্ছে কাজাখস্তান (বছরে ২২ দশমিক ৮ হাজার টন), ক্যানাডা (৯ দশমিক ১৪ হাজার টন) ও অস্ট্রেলিয়া (৪ দশমিক ৯৮ হাজার টন)৷

সমাজ

৬. বায়ুশক্তি

বিশ্বের মোট বিদ্যুতের ৭ শতাংশ আসে বায়ুবিদ্যুৎ থেকে৷ ২০১৫ সালে ৪৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল৷ এর মধ্যে ৪২০ গিগাওয়াট অনশোর (ভূমি) ও ১২ গিগাওয়াট অফশোর, অর্থাৎ সাগরে বসানো টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়৷ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া জ্বালানির তালিকায় ছয়ে আছে এটি (১.৪৪ শতাংশ)৷ শীর্ষ তিন বায়ুশক্তি উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র (বছরে ১৫.৮ এমটিওই), চীন (১৩.৬ এমটিওই) এবং জার্মানি (৪.৯৩ এমটিওই)৷

সমাজ

৭. সৌরশক্তি

২০১৫ সালে সারা বিশ্বে মোট সৌরশক্তি উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২২৭ গিগাওয়াটে৷ ফলে মোট বিদ্যুতের এক শতাংশ এসেছিল সৌরশক্তি থেকে৷ সৌরশক্তি উৎপাদনে শীর্ষ তিন দেশ চীন (৪৩ দশমিক ১ গিগাওয়াট), জার্মানি (৩৯ দশমিক ৬ গিগাওয়াট) ও জাপান (৩৩ দশমিক ৩ গিগাওয়াট)৷

সমাজ

৮. অন্যান্য উৎস

জিওথার্মাল, ই-স্টোরেজ, মেরিন এনার্জি, বর্জ্য থেকে শক্তি, বায়োএনার্জি (যেমন বায়োমাস) ইত্যাদি সহ আরও অনেক উৎস দিয়েও জ্বালানি উৎপাদন করা হয়ে থাকে৷ ছবিতে আইসল্যান্ডের একটি জিওথার্মাল পাওয়ার স্টেশন দেখা যাচ্ছে৷ ডাব্লিউইসি-র প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন উপরের ‘+’ চিহ্নে৷

সলশেয়ার-এর  সিইও সেবাস্টিয়ান গ্রো জানালেন, ‘‘আমরা চিরকাল এখানে উৎপাদন করিনি৷ গোড়ায় আমরা স্ট্যানফোর্ড থেকেই আমাদের পণ্যটির বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেছি, পরে সে কাজে বার্লিনে বাসা গেড়েছি৷ কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি৷ আমরা প্রথম সাফল্য পেয়েছি এখানে উৎপাদন শুরু করার পর৷ এখানে তৈরি করে তারপর দেখা, পণ্যটা কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো হচ্ছে – সত্যিই দারুণ৷’’

তাঁর কোম্পানির জন্য গ্রো জার্মানি থেকে বাস উঠিয়ে ঢাকায় এসেছেন, এদেশে ব্যবসা করার ধরণ-ধারণ শিখেছেন ও কাজ চালানোর মতো বাংলাও শিখেছেন৷

‘বাংলাদেশ ই-মোবিলিটির পক্ষে আদর্শ’

গ্রো-র সমস্যা হল, সরকারি গ্রিডে বিদ্যুৎ দিয়ে কোনো দাম পাওয়া যায় না৷ আগামী বছরের শেষে নির্বাচন, কাজেই তার আগে এক্ষেত্রে কিছু বদলাবে বলেও মনে হয় না৷ ওদিকে সরকার আণবিক চুল্লি তৈরির সপক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে সচেষ্ট৷ অথচ গ্রো দেখছেন, বাংলাদেশে ‘‘অবিশ্বাস্য রকমের ঘন জনবসতি৷ আবার দূরত্বগুলোও খুব বেশি নয়৷ ইলেক্ট্রোমোবিলিটি বা ব্যাটারি-চালিত গাড়ির জন্য এর চাইতে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে না৷’’

পরিবহণের ক্ষেত্রে সারা দেশে ইতিমধ্যেই প্রায় আট লাখ ইলেক্ট্রো রিকশা চলেছে, যেগুলো চার্জ করার কাজে সলশেয়ার সংশ্লিষ্ট হতে চায়৷ সলশেয়ার পরীক্ষা করে দেখছে, স্থানীয় সৌরশক্তির গ্রিড থেকে এই রিকশাগুলির ব্যাটারি রি-চার্জ করা যায় কিনা৷ গ্রো জানালেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হল যে, গ্রামগুলির বিকাশ ঘটবে৷ বর্তমানে ওরা সৌরশক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুতের আদানপ্রদান করছেন, ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার আরো কার্যকর হচ্ছে৷ কিন্তু গ্রামের আমদানি বাড়ানোর জন্য বাইরে থেকে টাকা আসা প্রয়োজন৷ রিকশা চালকরা যদি ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বাইরে থেকে গ্রামে আসেন, তাহলে উন্নয়নের আরো একটা রাস্তা খুলে যাবে৷’’

মারিয়ন হ্যুটার/এসি

পরিবেশ

বাঁধ নির্মাণ

সাগরের পানি বৃদ্ধি ও অতিবৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যার কারণে মোজাম্বিকের উপকূলীয় শহর বাইরার জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে৷ এ থেকে পরিত্রাণ পেতে শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া নতুন খাল তৈরি ও বনায়ন করেও সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে৷

পরিবেশ

বনায়ন

সাহারা মরুভূমির বালু দিন দিন সাব-সাহারা আফ্রিকার আবাদি জমিতে ঢুকে পড়ছে৷ এতে অত্র অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে৷ এই অবস্থায় আফ্রিকার ১১টি দেশ প্রচুর গাছ লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে৷

পরিবেশ

মাটির ক্ষয়রোধ

নাইজারের সুন্না মুসা শতাব্দী পুরনো সেচ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে ফসল উৎপাদন করেন৷ এর ফলে মাটির ক্ষয়রোধ সম্ভব হচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরাও ফসল উৎপাদনের প্রাচীন পদ্ধতি প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন৷

পরিবেশ

সবুজ জ্বালানি

২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার সবার জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন মহাদেশটির ৫৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান৷ এই লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎসের প্রসার ঘটানো হচ্ছে৷ প্রতিবছর ৩০০ গিগাওয়াট সবুজ জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে৷

পরিবেশ

সৌরশক্তি ব্যবহার

খরচ কমে যাওয়ায় আফ্রিকার মানুষেরা সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ ফলে ব্যক্তিগত বাড়ি ছাড়াও হাসপাতাল, স্কুল এসব জায়গায় সৌরশক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে৷

পরিবেশ

ইটের বদলে প্লাস্টিক

নাইজেরিয়ায় বাড়ি নির্মাণে ইটের বদলে পুরনো প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছেন অনেকে৷ এতে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে৷ সারা বিশ্বে মিনিটে প্রায় ১০ লাখ প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয় বলে জানা গেছে৷