বাংলাদেশের মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যের মতো উগ্র নয়: অজয় রায়

নিহত ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেন, বাংলাদেশ যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি রাষ্ট্র তবুও বাংলাদেশের মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের মতো উগ্র নয়৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় অজয় রায় বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার পেছনে রয়েছে সশস্ত্র মৌলবাদীরা৷ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে মৌলবাদী গোষ্ঠীর সমূলে উৎপাটন সম্ভব৷'' কিন্তু জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে কী করতে হবে জানতে চাইলে অজয় রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটার জন্য জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে৷ আমাদের বাংলাদেশ যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, তবুও বাংলাদেশের মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের মতো উগ্র নয়৷ বাংলাদেশের মুসলিমরা সুফি প্রভাবিত মুসলিম৷ সুফিরা পরমতসহিষ্ণু ও শান্তিপ্রিয় হয়৷ সুফিরাই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে৷ বাংলাদেশে ইসলাম ‘এক হাতে তরবারি, আরেক হাতে কোরান' এই পদ্ধতিতে প্রচারিত হয় নাই৷''

জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সরকারের তৎপরতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী অজয় রায়৷ তিনি বলেন, ‘‘সরকার সত্যিকার অর্থে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতে চাচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে কেননা সরকার এমন কিছু করতে চায় না যেটার দ্বারা তাদের বিব্রত হতে হয়৷'' ভোটের রাজনীতির কারণে সরকার মৌলবাদীদের সেভাবে দমন করতে আগ্রহী নয় বলে মনে করেন তিনি৷ তবে আওয়ামী লীগ নিরর্থক ভয় পায় বলে মন্তব্য করেন অজয় রায়৷ ‘‘আওয়ামী লীগের ভয়, মৌলবাদীদের যদি শাসন করা হয় তাহলে সাধারণ মুসলমানরা হয়ত তাদের উপর বিরূপ মনোভাব পোষণ করবে৷ কিন্তু আমি এটা মনে করি না, কেননা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ভালোভাবেই জানে যে তারা মৌলবাদীদের এক শতাংশ ভোটও পাবে না৷ আওয়ামী লীগের নিজস্ব যে ভোটব্যাংক আছে সেটা কমার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি৷ সুতরাং আওয়ামী লীগ নিরর্থক ভয় পায়৷''

‘‘জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতাকে ‘না’ বলুন’’

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতার কারণে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ৷ তাই এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ৷ আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘‘ধর্মীয় সন্ত্রাসকে আপনার মুখ বন্ধ করতে দেবেন না৷’’

‘‘আল্লাহ’র নামে কোনো হত্যাকাণ্ড নয়’’

এই বার্তাটাও পরিষ্কার৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় মৌলবাদীদের হামলার শিকার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী (টুটুল) বলেছিলেন, ‘‘আল্লাহু আকবর’’ বলে তাঁকে কোপানো হয়েছিল৷ বার্লিনে মানববন্ধনে আরেকটি প্ল্যাকার্ডে আল্লাহ’র জায়গায় সৃষ্টিকর্তার কথা উল্লেখ করা হয়৷

‘‘ধর্মভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ কর’’

ধর্মভিত্তিক সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশ নেয়া এক প্রবাসী বাঙালি৷ ধর্মভিত্তিক রাজনীতিরও বিপক্ষে অবস্থান তাঁর৷

‘‘ধর্মীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হোন’’

ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্দে সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে৷

বাংলা প্ল্যাকার্ড

বাংলা ভাষায় লেখা প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়েছে মানববন্ধনে৷

‘‘নাস্তিকতার জন্য মৃত্যু নয়’’

নাস্তিকতা কারো মৃত্যু বা কারাভোগের কারণ হতে পারে না, এমন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছেন একাধিক ব্যক্তি৷ মানবন্ধনে অংশ নেয়াদের সবাই নাস্তিক নন, তবে তাঁরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী৷

‘‘শব্দ হত্যা করে না, মানুষ করে’’

গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় খুন হওয়া ব্লগার, লেখক অভিজিৎ রায়ের ছবির সঙ্গে এই বাক্যটি লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে৷ চলতি বছর বাংলাদেশে খুন হয়েছেন চারজন ব্লগার এবং একজন প্রকাশক৷

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে পরপর কয়েকজন ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা হতাশ অজয় রায়৷ সাম্প্রতিক সময়ে বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায়ও উদ্বিগ্ন তিনি৷ ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে মুক্তবুদ্ধি চর্চার স্থান বা আয়তন ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে৷ এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটা ইসলামিক স্টেট-এ পরিণত হবে'', বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়৷

অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখনও প্রকৃত হত্যাকারীদের ধরতে পারেনি বলে জানান তিনি৷ পুলিশ নিজেও এই কথা স্বীকার করে৷ ‘‘সন্দেহভাজন হিসাবে যে ৮-১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে পুলিশ নিজেরাই বলেছে, এদের মধ্যে অভিজিতের প্রকৃত হত্যাকারীরা নেই৷ কিন্তু ওদের (পুলিশ) উদ্দেশ্যে ওদেরকে (সন্দেহভাজনদের) রিমান্ডে রাখা হচ্ছে, যদি চাপে পড়ে কিছু স্বীকারোক্তি দেয়৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনোরকম জবানবন্দি দেয় নাই৷''

অবশ্য অভিজিৎ হত্যায় সুবিচার পাবার আশা করছেন তিনি৷ ‘‘এফবিআই এর কাছ থেকে প্রতিবেদন (ডিএনএ সংশ্লিষ্ট) আসার পর আমি মনে করি আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ অভিজিৎ হত্যার ব্যাপারটায় আরেকটু মনোযোগ দিতে পারবে৷''

প্রিয় পাঠক, অজয় রায়ের বক্তব্যের সঙ্গে কি আপনি একমত? জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় অজয় রায় বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার পেছনে রয়েছে সশস্ত্র মৌলবাদীরা৷ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে মৌলবাদী গোষ্ঠীর সমূলে উৎপাটন সম্ভব৷'' কিন্তু জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে কী করতে হবে জানতে চাইলে অজয় রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটার জন্য জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে৷ আমাদের বাংলাদেশ যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, তবুও বাংলাদেশের মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের মতো উগ্র নয়৷ বাংলাদেশের মুসলিমরা সুফি প্রভাবিত মুসলিম৷ সুফিরা পরমতসহিষ্ণু ও শান্তিপ্রিয় হয়৷ সুফিরাই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে৷ বাংলাদেশে ইসলাম ‘এক হাতে তরবারি, আরেক হাতে কোরান' এই পদ্ধতিতে প্রচারিত হয় নাই৷''