বাংলাদেশের সামনে দুই বিপদ

শততম টেস্টের প্রথম দিনে ভালোই করেছে বাংলাদেশ৷ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৭ উইকেটে ২৩৮৷ দীনেশ চান্ডিমাল এক প্রান্ত আগলে না রাখলে মুস্তাফিজ, মেহেদি, সাকিবদের জন্য দিনটা অবশ্য আরো ভালো হতো৷

মূলত তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে চান্ডিমাল ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করার কারণেই প্রথম দিনে দু'শ পেরোতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা৷ নইলে টস জিতে ব্যাট করতে নামার পর থেকে তাদের ব্যাটসম্যানরা যেমন চাপের মুখে ছিল, যেভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল, তাতে কে জানে হয়ত দু’শ’র আগে ইনিংসই শেষ হয়ে যেত স্বাগতিকদের!

যে পাঁচ কারণে টেস্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ

কম টেস্ট খেলা

বিশ্বের ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত ভারত এবং ইংল্যান্ড যেখানে বছরে ২০টির মতো টেস্ট ম্যাচ খেলে, বাংলাদেশ সেখানে গড়ে ছয়টি টেস্ট খেলার সুযোগ পায়৷ মোটের উপর বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আরো সীমিত৷ গত ১৭ বছরের মধ্যে ভারতের মাটিতে একবারই টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে টাইগাররা, তাও গতমাসে৷ ফলে টেস্ট খেলার সুযোগ কম থাকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে৷

যে পাঁচ কারণে টেস্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

গত জুলাইয়ের ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলার পরও ইংল্যান্ড বাংলাদেশ সফর করেছিল, যা টাইগারদের জন্য এক ইতিবাচক ব্যাপার৷ সেই সফর না হলে বাংলাদেশের অবস্থা পাকিস্তানের মতো হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট টিমের উপর হামলার পর সেদেশ সফর করেনি কোনো বিদেশি ক্রিকেট দল৷ তবে ইংল্যান্ড ঢাকা সফর করলেও নিরাপত্তার শঙ্কায় আগের বছর অস্ট্রেলিয়া সেদেশ সফর করেনি৷ আরো কয়েকটি দল সফর সীমিত করেছে৷

যে পাঁচ কারণে টেস্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ

খেলার মাঠের সংখ্যা কম

৫৫ হাজার বর্গ মাইল দেশের বাসিন্দা ১৬ কোটি মানুষ৷ আর শুধু ঢাকাতেই থাকেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ৷ দেশটিতে খেলার মাঠের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে ঢাকাতে সাধারণ মানুষের খেলার মাঠ পাওয়া মুশকিল৷ ফলে তৈরি হচ্ছে না খেলোয়াড়৷ অবস্থা এমন যে, বর্তমান টেস্ট টিমে ঢাকার খেলোয়াড় শুধু একজন, তাসকিন আহমেদ৷

যে পাঁচ কারণে টেস্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ আয়োজনে দুর্বলতা

যদিও বাংলাদেশে চারদিনের দু’টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, কিন্তু সেগুলো বেশ দুর্বল পর্যায়ের৷ নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক নেই, নেই প্রফেশনালিজমের ছোঁয়া৷ ফলে সেসব প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক মানেরতো হয়ই না, অনেকক্ষেত্রে হয়ে পড়ে একপাক্ষিক৷ দেখা যায়, সেসব টুর্নামেন্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানও পরের সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বোল্ড আউট হন দ্রুত৷ টেস্টের মান বাড়াতে গেলে এসব আয়োজনের মানও বাড়াতে হবে৷

যে পাঁচ কারণে টেস্টে পিছিয়ে বাংলাদেশ

স্পিনার থাকলেও পেসারের অভাব

বাংলাদেশ দলে আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও টেস্ট জিততে ভালো মানের পেসারও প্রয়োজন৷ কিন্তু টিমে পেসারের ঘাটতি রয়ে গেছে৷ যারা সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেমন মাশরাফি বিন মোর্তুজা, তারা ইনজুরির কবলে পড়েছেন৷ বর্তমানে দলে থাকা দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদও ইনজুরির কবলে পড়েছেন একাধিকবার৷ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য টেস্টের জন্য পেসার তৈরিতে চেষ্টা করছে৷ তবে সেই চেষ্টার ফল এখনও পাওয়া যায়নি৷

২১০টি বল খেলে ৪ বাউন্ডারির সহায়তায় ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে ডানহাতি ব্যাটসম্যান দলের স্কোরটাকে শুধু ভদ্রস্থই করেননি, বাংলাদেশের দুশ্চিন্তাও বাড়িয়েছেন৷

প্রথম দিনেই পি সারা ওভালের উইকেটে স্পিন ধরছে৷ মুস্তাফিজ দু’টি এবং শুভাশীষ এক উইকেট নিলেও মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল এবং সাকিবের বোলিং বলতে গেলে সারাদিনই চোখ রাঙিয়েছে ব্যাটসম্যানদের৷ মেহেদি দুটি আর তাইজুল এবং সাকিব নিয়েছেন একটি করে উইকেট৷ দ্বিতীয় দিনে তাড়াতাড়ি শ্রীলঙ্কার বাকি তিন উইকেট তুলে নিতে না পারলে বিপদের আশঙ্কা আছে বাংলাদেশের৷ ক্যারিয়ারের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়ে যেতে পারেন দীনেশ চান্ডিমাল৷ সেঞ্চুরির ইনিংসটাকে আরো টেনে নিতে পারেলে শ্রীলঙ্কার স্কোর অনায়াসে তিনশ ছাড়িয়ে যেতে পারে৷ এই উইকেটে তিনশ কি খারাপ স্কোর? নিশ্চিত করে বলা কঠিন৷ টস হারায় চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশকেই ব্যাট করতে হবে৷ প্রথম ইনিংসে বেশি পিছিয়ে পড়লে মুশফিকদের না আবার ম্যাচ বাঁচানোই কঠিন হয়ে যায়!

এসিবি/জেডএইচ

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্য

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো টেস্ট জেতে টাইগাররা৷ অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ আর সাকিব আল-হাসানের বোলিং নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারায় বাংলাদেশ৷ ২০০০ সালে প্রথম টেস্ট খেলা বাংলাদেশের এটি ছিল অস্টম টেস্ট জয়৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

নতুন তারকা মিরাজ

তরুণ এই ক্রিকেটারের টেস্টে অভিষেক ঘটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে৷ দুই টেস্টে তিনি উইকেট নেন মোট ১৯টি৷ প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট৷ পরের ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে পান ১২ উইকেট৷ ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার মিরাজ৷ তাঁর আরেকটি রেকর্ড: বাংলাদেশের হয়ে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন মিরাজ৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

চার বলে চার ছয় মেরে চ্যাম্পিয়ন

এপ্রিলে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে শেষ ওভারে ১৯ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের৷ ক্রিজে ছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট৷ বেন স্টোকসের করা সেই ওভারের প্রথম চার বল থেকে চারটি ছক্কা মেরে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

দেশের বাইরে সফল দক্ষিণ আফ্রিকা

চলতি বছর বেশিরভাগ শীর্ষ দল তাদের দেশে ভালো ফল করলেও দেশের বাইরে গিয়ে সাফল্য দেখাতে পারেনি৷ তবে ব্যতিক্রম ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তারা ২-১-এ টেস্ট সিরিজ জয় করেছে৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

দিনরাত্রির টেস্ট

ফ্লাডলাইটে একদিনের ম্যাচ প্রথম হয়েছিল ১৯৭৯ সালে৷ তবে প্রথম টেস্টম্যাচ হয় মাত্র গত বছর, অর্থাৎ ২০১৫ সালে৷ এ বছর ফ্লাডলাইটের আলোয় মোট তিনটি টেস্টম্যাচ হয়েছে৷ এর মধ্যে একটি দুবাইতে৷ বাকি দু’টি অ্যাডেলেইড আর ব্রিসবেনে৷ ছবিতে দুবাই টেস্টের দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন৷ ম্যাচটি হয়েছিল পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

ওডিআই ব়্যাংকিংয়ে শীর্ষ অস্ট্রেলিয়া

৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলো হিসেবে ধরে আইসিসি বলছে ব়্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে অসিরা৷ তাদের পয়েন্ট ১২০৷ বাংলাদেশ আছে সাত নম্বরে৷ সংগ্রহ ৯৫ পয়েন্ট৷ তারপর আছে পাকিস্তান (৮৯) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৮৬)৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

টেস্ট ব়্যাংকিংয়ে সবার ওপরে ভারত

বিরাট কোহলির পারফরমেন্সের উপর ভর করে ভারত টেস্ট ব়্যাংকিংয়ে এখন সবার উপরে আছে৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে সিরিজ জয় ও নিজের দেশে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় ভারত এখন শীর্ষে৷ বছরের একটা সময় কিছুদিনের জন্য সেই অবস্থানে ছিল পাকিস্তান৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

একদিনের ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার

অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার চলতি বছর (ডিসেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত) সাতটি সেঞ্চুরি করেছেন৷ ফলে ওডিআইতে ক্রিকেট বিশ্বের আর সবার চেয়ে তাঁর ঝুলিতেই সবচেয়ে বেশি রান ( ২৩ ম্যাচে ১,৩৮৮ রান)৷ তাঁর পরেই আছেন অসি অধিনায়ক স্মিথ (২৬ ম্যাচে ১,১৫৪ রান)৷

২০১৬ সালে যেমন ছিল ক্রিকেট

টেস্টের সর্বোচ্চ স্কোরার

ছবিটি নিশ্চয় সবার মনে আছে৷ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট হেরে হতাশায় ভেঙে পড়া সাব্বিরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন জো রুট৷ তিনিই চলতি বছরে টেস্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক৷ ১৭ টেস্টে তিনি ১,৪৭৭ রান করেছেন৷ অবশ্য বাংলাদেশ সফরে ভালো করতে পারেননি রুট৷ দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৯৮ রান৷

আমাদের অনুসরণ করুন