বাংলাদেশে অন্তত ৫৭ লাখ মানুষ বাস্তুহারা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ছয় বছরে বাংলাদেশের ৫৭ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন৷ ‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার' ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল'-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য৷

সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে, যেখানে বাস্তুচ্যুতির হিসাব ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, বলা হয়, বাংলাদেশে মূলত ঘূর্ণিঝড় আইলার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়৷ এ কারণে শুধুমাত্র ঐ এলাকাতেই সে সময় ৮ লাখ ৪২ হাজার মানুষ প্রাথমিকভাবে বাস্তুহারা হয়ে পড়েন৷ পরবর্তী সময়ে বেড়িবাঁধ সময়মতো মেরামত না করায় বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে৷

বিশ্ব | 21.07.2015

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছ'টি এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং বাগেরহাটের মংলা উপজেলা৷ এ সব এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে সব হারিয়ে দেশের অন্যত্র চলে যান বা যেতে বাধ্য হন৷ পরবর্তীতে বাস্তুহারা এই মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয় নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলায়৷ তবে অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতেও আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাঁরা অন্যত্র গেছেন, তাঁরা আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থায় রয়েছেন৷ জমি-জমা না থাকায় পরিবারগুলোর মাসিক আয় কমে গেছে৷

Bangladesch illegale Flüchtlingssiedlung

জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে...

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বা বাপা-র সভাপতি ড. আব্দুল মতিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সদ্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা সমর্থন করি৷ তবে বাস্তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশে উপকূলবর্তী এলাকার দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকাসহ বড় বড় শহরে এই লোকজন এখন জীবিকার তাগিদে ভিড় করছেন৷ তাঁরা বস্তিতে থাকছেন৷ তাঁদের অর্থনেতিক অবস্থাও আরো খারাপ হচ্ছে৷ ঢাকায় মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ ভাসমান৷ আর এঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ ভাগ জলবায়ু উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা মানুষ৷''

২৬ এপ্রিলের টর্নেডোতে কার্যত ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়৷ সেসময় অবজারভার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘‘ধ্বংসযজ্ঞ এতই নিঁখুত যে, সেখানে কিছু গাছের চিহ্ন ছাড়া দাঁড়ানো আর কোনো বস্তু নেই৷’’

টর্নেডো ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়েরও নিয়মিত শিকার হয় বাংলাদেশ৷ উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত বাংলাদেশে মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের তালিকায় ১৫৮২ সালের কথা উল্লেখ রয়েছৈ৷ সেসময় বাকেরগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায় দু’লাখ মানুষ৷

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় বিশাল এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে৷

সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে, যেখানে বাস্তুচ্যুতির হিসাব ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, বলা হয়, বাংলাদেশে মূলত ঘূর্ণিঝড় আইলার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়৷ এ কারণে শুধুমাত্র ঐ এলাকাতেই সে সময় ৮ লাখ ৪২ হাজার মানুষ প্রাথমিকভাবে বাস্তুহারা হয়ে পড়েন৷ পরবর্তী সময়ে বেড়িবাঁধ সময়মতো মেরামত না করায় বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে৷

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছ'টি এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং বাগেরহাটের মংলা উপজেলা৷ এ সব এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে সব হারিয়ে দেশের অন্যত্র চলে যান বা যেতে বাধ্য হন৷ পরবর্তীতে বাস্তুহারা এই মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয় নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলায়৷ তবে অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতেও আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাঁরা অন্যত্র গেছেন, তাঁরা আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থায় রয়েছেন৷ জমি-জমা না থাকায় পরিবারগুলোর মাসিক আয় কমে গেছে৷

Bangladesch illegale Flüchtlingssiedlung

জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে...

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বা বাপা-র সভাপতি ড. আব্দুল মতিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সদ্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা সমর্থন করি৷ তবে বাস্তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশে উপকূলবর্তী এলাকার দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকাসহ বড় বড় শহরে এই লোকজন এখন জীবিকার তাগিদে ভিড় করছেন৷ তাঁরা বস্তিতে থাকছেন৷ তাঁদের অর্থনেতিক অবস্থাও আরো খারাপ হচ্ছে৷ ঢাকায় মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ ভাসমান৷ আর এঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ ভাগ জলবায়ু উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা মানুষ৷''

বলা বাহুল্য, এই বাস্তুচ্যুত মানুষের একাংশ চট্টগ্রামে পাহাড়ের ঢালে আশ্রয় নিয়ে আবারো দুর্যোগের কবলে পড়ছেন৷ এই মানুষগুলোর নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই, নেই ঘর৷ তাঁরা বস্তুত রিকশা চালিয়ে বা ঠিকা শ্রমিকের কাজ করে বেঁচে আছেন৷

সবচেয়ে ভয়ংকর টর্নেডো

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টর্নেডোর ঘটনা ঘটে ১৯৮৯ সালে৷ সেবছরের ২৬ এপ্রিল মানিকগঞ্চ জেলার দৌলতপুর এবং সাটুরিয়া এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যায় প্রলয়ংকরী টর্নেডো৷ এতে প্রাণ হারায় ১,৩০০ মানুষ৷

পুরোপুরি ধ্বংস

২৬ এপ্রিলের টর্নেডোতে কার্যত ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়৷ সেসময় অবজারভার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘‘ধ্বংসযজ্ঞ এতই নিঁখুত যে, সেখানে কিছু গাছের চিহ্ন ছাড়া দাঁড়ানো আর কোনো বস্তু নেই৷’’

ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় টর্নেডো

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডার পর অন্যতম টর্নেডোপ্রবণ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ৷ সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারায়৷

পূর্বাভাষের প্রযুক্তি নেই

টর্নেডোর পূর্বাভাষের কোনো প্রযুক্তি নেই বাংলাদেশে৷ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ কে এম মাকসুদ কামাল এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমাদের দেশে না থাকলেও এখন টর্নেডোর পূর্বাভাষ দেয়া সম্ভব৷ অ্যামেরিকা এবং ইউরোপ এক ধরনের রাডার ব্যবহার করে অন্তত ৪৫ মিনিট আগে টর্নেডোর পূর্বাভাষ দিতে পারে৷ আর এ ধরনের পূর্বাভাষ দিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষার নজির আছে৷’’

ঘূর্ণিঝড়ের নিয়মিত শিকার বাংলাদেশ

টর্নেডো ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়েরও নিয়মিত শিকার হয় বাংলাদেশ৷ উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত বাংলাদেশে মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের তালিকায় ১৫৮২ সালের কথা উল্লেখ রয়েছৈ৷ সেসময় বাকেরগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায় দু’লাখ মানুষ৷

স্বাধীনতা পরবর্তী বড় দুর্যোগ

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল৷ সেসময় চট্টগ্রামে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে প্রাণ হারায় কমপক্ষে ১৩৮,০০০ মানুষ৷ প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরছাড়া হয়৷ ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারের মতো৷

আইলার আঘাত

সর্বশেষ ২০০৯ সালে সাইক্লোন আইলায় কয়েকশত মানুষ প্রাণ হারায়৷ সাইক্লোনের পরপরই ডায়েরিয়া ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ হারায় কমপক্ষে চার ব্যক্তি৷ এভাবে নিয়মিতই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ৷

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় বিশাল এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে৷

পরিবেশবিদ ড. আতিক রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ উপকূলীয় মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই৷ তবে এটা আরো বড় আকারে দেখা দেবে৷''

ড. রহমানের মতে, ‘‘বাস্তুহারারা শুধু দেশের মধ্যেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছেন না, তাঁরা পাশের দেশেও যাচ্ছেন৷ এই বাস্তুচ্যুতির কারণে উপকূলীয় বেশ কিছু জনপদের জনসংখ্যার ঘনত্ব কমে গেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এই জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো উদ্যোগও নেই৷ তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন৷''

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ২০১০ সাল থেকে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড' বা বিসিসিটিএফ কাজ শুরু করেছে৷ পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বছরে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ঝুঁকি মোকাবেলায়, যা জিডিপি-র শতকরা ১ ভাগ৷

২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এই খাতে৷ তবে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এই বরাদ্দ কমেছে৷ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা থেকে জানা যায় যে, আসছে অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা হ্রাস পাবে৷

Zyklon Aila wütet in Indien und Bangladesch

কোথায় যাবে এই মানুষগুলো?

এ পর্যন্ত যে ২,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৬৬ ভাগ অর্থ বিভিন্ন প্রকল্প এবং ৩৪ ভাগ অর্থ জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজে লাগানো হয়েছে৷ ২,০০০ কোটি টাকায় ২১৮টি সরকারি এবং ৬৩টি বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে৷ এছাড়া সরকারি ৫৬টি প্রকল্প এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও জানা গেছে৷

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৬,৭৬০টি ঘর, ৭৪০টি গভীর নলকূপ, ১৪২ কিমি. বাধ, ১২,৮৭২টি পরিবারের জন্য সৌর বিদ্যুৎ এবং ১৪৩.৩৫ মিলিয়ন গাছ লাগানো হবে৷

সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বাপা-র ড. মতিন বলেন, ‘‘এখানে অর্থের অপচয় হচ্ছে৷ তেমন কাজ হচ্ছে না৷ তাই সরকারের উচিত হবে সঠিকভাবে অর্থ কাজে লাগানো৷''

‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার' ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল'-এর ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ৷ এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন৷ এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে ভারত, ফিলিপাইনস, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া৷ প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায় যে, ২০১৪ সালে বিশ্বের ১ কোটি ৯৩ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন৷ আর গত ছয় বছরে মোট বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখ৷ প্রতি সেকেন্ডেই একজন করে মানুষ তাঁর বসতভিটা থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে প্রতিবেদনটি৷