বাংলাদেশে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ?

বাংলাদেশে আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটি ব্লক করার অভিযোগ উঠেছে৷ বুধবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাইটটি ব্লক করে দেয়া হয় বলে দাবি করেছে আল জাজিরা৷ 

কাতারভিত্তিক চ্যানেল আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েব সাইটট ব্লক করেছে বাংলাদেশ– এমন শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি৷প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ও সুইডিশ-বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসনিম খলিল৷ তিনজন ব্যক্তির গুম হওয়ার সাথে বাংলাদেশের একজন উর্দ্ধতন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তার যোগসাজশ নিয়ে বুধবার বিকালে অনু্সন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই বেশিরভাগ পাঠক ওয়েবসাইটটিতে ঢুকতে পারছিলেন না বলে শুক্রবারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়৷

ফেইসবুকে ডয়েচে ভেলের পাঠকরা এ নিয়ে দু ধরনের তথ্যই দিয়েছেন৷ কেউ বলেছেন সাইটটিতে প্রবেশ করতে পারছেন, কেউ জানিয়েছেন পারছেন না৷

কী আছে আল জাজিরার সেই প্রতিবেদনে?

প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ সিদ্দিককে নিয়ে৷ এক অভিযোগকারীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ কমপক্ষে তিনজনকে গুম করেছেন৷

এখন লাইভ
01:20 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 22.03.2019

‘এখন সরকারের বিভাগগুলোই ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারে’

অভিযোগকারী যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সাবেক সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল শহীদ উদ্দীন খান৷ তার সাথে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের পারিবারিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগকারী দাবি করেন৷ শহীদ উদ্দীন খান দাবি করেন, গেল জানুয়ারিতে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারীকে নিরাপত্তা বাহিনী অপহরণ করে নিয়ে যায়৷ এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও৷ প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে এই গুমের পেছনে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের হাত ছিল বলে দাবি করা হয়৷

‘ওয়েবসাইট বন্ধে কোনো নির্দেশনা নেই'

এদিকে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি আন্তর্জাতিক গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর বা আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো নির্দেশনা দেয়নি বলে জানা গেছে৷ যদিও এর আগে বিভিন্ন সময়ে ওয়েবসাইট, অ্যাপস বন্ধের জন্য তাদেরকে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করত সরকারের এই সংস্থাটি৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷

তবে এখন সরকার চাইলে কোনো ওয়েবসাইট বিটিআরসির মাধ্যম ছাড়াও ব্লক করে দিতে পারে৷ সম্প্রতি এমন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ বিভাগ৷ এর ফলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করে দিতে পারে বলে জানা গেছে৷

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবি-এর সভাপতি এম এ হাকিম ডয়চে ভেলেকে জানান, ওয়েবসাইট বন্ধে বিটিআরসি বা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি৷ অবশ্য এর কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি৷ তিনি বলেন,‘‘ সম্প্রতি সরকারের টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রত্যেকটি আইআইজি বা ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে লেভেলে কিছু নতুন ডিভাইস বসিয়েছেন৷ এর মাধ্যমে মনিটরিং বা ফিল্টারিং সরকারের তরফ থেকেই সরাসরি করা হচ্ছে৷'' সাইবার নিরাপত্তায় আগে যে নির্দেশনা দেয়া হতো, সেটি এখন না দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেরাই তা বাস্তবায়ন করে বলে জানান তিনি৷ আল জাজিরার ওয়েবসাইটটিও একই পদ্ধতিতে বন্ধ করা সম্ভব বলেও উল্লখ করেন হাকিম৷

এফএস/এসিবি

আমাদের অনুসরণ করুন