বাংলাদেশে চ্যানেল অনেক, তবে শিশুদের জন্য নয়

বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে৷ অবস্থা এমন যে, ঠিক ক’টি বাংলা চ্যানেল আছে সেটা হঠাৎ বলা কঠিন৷ কিছু চ্যানেল সংবাদভিত্তিক, কিছু বিনোদনের৷ তবে বিষয়ভিত্তিক চ্যানেলের অভাব প্রকট, বিশেষ করে শিশুদের চ্যানেল একটাও নেই৷

জার্মানিতে সন্তানের বাবা হওয়ার সুবাদে মাঝেমাঝে ঘুম থেকে উঠে বাচ্চাদের একটি চ্যানেল দেখতে হয়৷ কিকা৷ শুধুমাত্র শিশুদের তৈরি চ্যানেলটিকে আগে তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি৷ কিন্তু এখন যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি৷ চ্যানেলটিতে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়৷ যেমন কোন সময়ে কোন বয়সের শিশুরা চ্যানেলটি দেখছে সেটা তাদের হিসেবে থাকে৷ ফলে সকালের দিকে দেখা যায়, কিন্ডারগার্টেনগামী শিশুদের জন্য উপযোগী অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে, আবার সন্ধ্যা সাতটার কিশোর, কিশোরীদের উপযোগী অনুষ্ঠান৷ সপ্তাহান্তের অনুষ্ঠানের তালিকায় থাকে শিক্ষামূলক ডকুমেন্টারি, যা সব বয়সি শিশুদের জন্যই প্রযোজ্য৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

কিকা-র অনুষ্ঠানের ধরনটা ইনফোএন্টারটেইনমেন্ট টাইপের৷ একবার উড়োজাহাজ বিষয়ক এক অনুষ্ঠান দেখানো হলো যেখানে একটু ফানি টাইপের এক মডারেটর উড়োজাহাজ তৈরির পেছনের ইতিহাস থেকে শুরু করে, প্রযুক্তির উন্নতি এবং কীভাবে বর্তমানে বিমান চালানো হয় সবই নিজে করে করে দেখালেন অত্যন্ত সহজ ভাষায়৷ এমনকি বিমানের পাইলটের সঙ্গে বসে দিব্যি আকাশে কয়েক দফা চক্করও দিলেন তিনি৷ বলাবাহুল্য, শুধু শিশু নয়, শিশুর অভিভাবকরাও এ সব থেকে জানতে পারে অনেককিছু৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

আবার কার্টুনের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাবলম্বী করে তোলার একটা উদ্যোগ থাকে কিকা-র মধ্যে৷ অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কীভাবে মিশতে হবে বিশেষ করে বহুসংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়া আর পরের উপকার করার মতো বিষয়াদি সুন্দর করে শেখানো হয় কার্টুনে৷ আর নাচগানের অনুষ্ঠানতো আছেই৷

কিকা-র আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে শিশুদের ভাষার উপর দখল পোক্ত করতে সহায়তা করা৷ বিশুদ্ধ, সঠিক উচ্চারণে শিশুদের ভাষা শেখানোর প্রাথমিক ধাপটা কিকাই অনেকটা করে দেয়৷ বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারের শিশুদের জন্য এটা এক বড় সুবিধা৷ জার্মান ভাষার যেসব শব্দ ‘স্ল্যাং' হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে সযতনে এড়িয়ে যাওয়া হয় এই চ্যানেলে৷

কিকা শিশুদের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল৷ এটির পাশাপাশি আরো একটি শিশুদের চ্যানেল রয়েছে যেটি বেসরকারি৷ দু'টো চ্যানেলই শিশুদের ডিজিটাল বিনোদনের অন্যতম উৎস৷ এই চ্যানেল দু'টো দেখলে বাংলাদেশের জন্য আফসোস হয়৷ এত চ্যানেলের কথা সেদেশে শোনা যায়, অথচ শিশুদের জন্য বিশেষায়িত কোনো চ্যানেল নেই৷

আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সরকারের উচিত এই দিকটাতে বিশেষ খেয়াল দেয়া৷ ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে উপরের দিকে ওঠা একটি দেশের শিশুদের জন্য একটি চ্যানেল তৈরি অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়৷ প্রয়োজন আসলে সদিচ্ছা৷ উপযুক্ত চ্যানেল তৈরি করা গেলে শিশুদের হিন্দি চ্যানেল বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী নয় এমন কার্টুন দেখার প্রয়োজন পড়বে না৷ বরং ‘ইনফোএন্টারটেইনমেন্টের' মাধ্যমে শিশুদের অনেক শিক্ষা দেয়া যাবে যা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ার পথে সহায়ক হবে৷

আপনার কী মনে হয়? শুধু শিশুদের জন্য কি একটি টেলিভিশন চ্যানেল দরকার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যে৷

সংস্কৃতি

সেসেমি স্ট্রিট

শিশুদের অন্যতম প্রিয় এই শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়েও অনেক কিছু শেখানো হয়ে থাকে৷ যেমন পানি অপচয় করা ঠিক নয় কিংবা সবকিছু রিসাইকেল করা উচিত ইত্যাদি৷ মার্কিন জনপ্রিয় এই সিরিজটির বাংলা সংস্করণ ‘সিসিমপুর’ বাংলাদেশের শিশুদেরও বিনোদন দিচ্ছে৷ টুকটুকি, ইকরি, হালুম শিশুদের বেশ প্রিয়৷

সংস্কৃতি

ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেটিয়ার্স

মার্কিন এই টেলিভিশন সিরিজের মূল বিষয় ছিল পরিবেশ রক্ষা৷ সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলা, সাগর ও সেখানকার প্রাণীদের দূষণ থেকে রক্ষা করা, পাখিদের দেখাশোনা করা ইত্যাদি নানান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে অনুষ্ঠানটিতে৷

সংস্কৃতি

দ্যা অক্টোনাটস

ব্রিটিশ এই অ্যানিমেটেড সিরিজের মাধ্যমে শিশুদের সাগর ও সেখানকার বাসিন্দাদের সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে৷ একটি পোলার বেয়ারের নেতৃত্বে আটজনের একটি দলের সাগরের অন্যান্য প্রাণীদের হাত থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম দেখানো হয়েছে এতে৷ দু’জন বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী এটি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন যেন তথ্য সব ঠিক থাকে৷ আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

সংস্কৃতি

দ্যা ওম্বলস

ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন ‘ওম্বলস’ হচ্ছে একটি কল্পিত প্রাণী৷ ষাটের দশকে বিভিন্ন উপন্যাসে প্রথম এই প্রাণীদের কথা উল্লেখ করা হয়৷ পরবর্তীতে ব্রিটেনে তাদের নিয়ে একটি টেলিভিশন সিরিজ নির্মিত হয়৷ ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ঐ সিরিজে দেখানো হয়, লন্ডনে থাকা ওম্বলসরা পরিবেশ রক্ষায় আবর্জনা সংগ্রহ করে রিসাইকেল করছে৷

সংস্কৃতি

দ্যা অ্যানিমেলস অফ ফার্দিং উড

মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে বনজঙ্গল উজাড় করায় সেখানে বসবাসরত পশুপাখিদের কী সমস্যা হয় তা দেখানো হয়েছে এই অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজে৷ আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

সংস্কৃতি

বিল নাই দ্যা সায়েন্স গায়

বিজ্ঞানের জটিল বিষয়কে শিশুদের সামনে তুলে ধরতেন বিল গায়৷ এর মধ্যে ইকোলজি, পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়ও থাকতো৷ তাঁর অনুষ্ঠানটি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে৷ বর্তমানে বিভিন্ন সায়েন্স ভিডিওতে তাঁকে দেখা যায়, সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় নিয়েও তিনি আলোচনা করেন৷ আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

সংস্কৃতি

দ্যা ম্যাজিক স্কুল বাস

এই টিভি সিরিজে ফ্রিজল নামের একজন বিজ্ঞান শিক্ষককে দেখানো হয়েছে, যিনি সরীসৃপ, জলবায়ু পরিবর্তন সহ প্রকৃতির নানান বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে শিক্ষাসফরে নিয়ে যান৷ আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়