বাংলাদেশে জলবায়ু উদ্বাস্তু

বাংলাদেশে জলবায়ু উদ্বাস্তু বাড়ছে৷ এরা শুধু দেশের ভেতরে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নয়, বিদেশেও পাড়ি জমাচ্ছেন৷ বিদেশে যাঁরা কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রথম গন্তব্য ভারত৷ মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতারিত হয়েও ফিরছেন কেউ কেউ৷

যাঁরা আবাস্থল ছেড়ে অন্যস্থানে চলে যেতে বাধ্য হন, তাঁরাই উদ্বাস্তু৷ এর নানা হিসেব ও সংজ্ঞা আছে৷ এই উদ্বাস্তু অবস্থা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গেলেই যে হবে, তা নয়৷ দেশের ভেতরে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে গেলেও তিনি উদ্বাস্তু৷ মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হচ্ছেন জাতিগত নিপীড়ণের কারনে৷ কিন্তু প্রকৃতিও মানুষকে উদ্বাস্ত করে, করছেও৷ এ সময় তাই সবচেয়ে আলোচিত জলবায়ু উদ্বাস্তু৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলকায় একটি বস্তির নাম ভোলাপাড়া৷ বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা ভোলার বিভিন্ন এলায় যাঁরা নদী ভাঙনের শিকার, তাঁরা এখানে এসে আশ্রয় নেন৷ এই বস্তিতে ভোলা থেকে জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে আসা কয়েকশ' পরিবার আশ্রয় নিয়েছে৷ তাই এই বস্তিরই নাম হয়ে গেছে ভোলাপাড়া৷ তাঁরা গত কয়েক বছর ধরে আসছেন৷ কেউ  আবার ঢাকার অন্যান্য বস্তিতেও চলে গেছেন৷ তবে ঐ এলাকা থেকে যাঁরা নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ঢাকায় আসেন, ঢাকায় তাঁদের প্রথম ঠিকানা ভোলাপাড়া বস্তি৷

রাজনীতি

রোহিঙ্গা শরণার্থী

১৯৯১-৯২ সালে আড়াই লক্ষাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী সামরিক জান্তার নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়৷ ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ৭৪ হাজার নতুন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে৷

রাজনীতি

জলবায়ু উদ্বাস্তু: প্রতি সাতজনে একজন

বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্লাইমেট রিফিউজি’ বা এসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে৷ আর বাংলাদেশে সংখ্যাটা হবে প্রতি সাতজনে একজন৷ পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামীতে বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে৷

রাজনীতি

জলবায়ু উদ্বাস্তু: প্রতি বছর ২,০০০ মানুষ আসছে ঢাকায়

আগে কেবল দারিদ্র্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসত মানুষ৷ আর এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকায় আশ্রয় নিচ্ছে অনেকে৷ প্রতি বছর নতুন করে দুই হাজার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকায় ঠাঁই নিচ্ছে৷

রাজনীতি

আন্তর্জাতিক উদ্বাস্তু সংস্থা আইওএম-এর রিপোর্ট

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতি বছর ঢাকার বাইরে থেকে কমপক্ষে ৪ লাখ মানুষ এই শহরে আসছে৷ আর আইওএম বলছে, ঢাকার বস্তিতে যেসব মানুষ থাকে, তার মধ্যে ৭০ ভাগই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘর-বাড়ি হারিয়ে এই শহরে আশ্রয় নিয়েছে৷

রাজনীতি

ইউরোপে শরণার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে

গত বছরের প্রথম তিন মাসে ইটালিতে গিয়েছিল মাত্র একজন বাংলাদেশি শরণার্থী৷ কিন্তু ২০১৭ সালে সেটা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে৷ প্রথম তিন মাসে ইটালিতে বাংলাদেশি শরণার্থী এসেছে ২ হাজার ৮শ’ জন৷ নৌকায় ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে পৌঁছেছেন তাঁরা৷

রাজনীতি

১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে

দালালদের ১০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে থাকেন এই শরণার্থীরা৷ প্রথমে যান দুবাই বা তুরস্ক, সেখান থেকে লিবিয়া হয়ে ইটালিতে পৌঁছান তাঁরা৷ এই দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিতে তাঁদের অনেকের কয়েক বছর লেগে যায়, প্রাণ হারান কেউ কেউ৷

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত জানান,‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে৷ এঁদের মধ্যে কিছু মানুষ দেশের বাইরেও যাচ্ছেন৷ মোহাম্মদপুরের ভোলাপাড়া বস্তি তার প্রমাণ৷''

এর পিছনে কাজ করছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণআক্ততা ও নদী ভাঙন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের পনির উচ্চতা বাড়ায় সাগরের লবণাক্ত পানি ক্রমেই দেশের মধ্যভাগের দিকে ঢুকে পড়ছে বলে জানান ড. আইনুন নিশাত৷

ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার-এর হিসাব অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত ছ'বছরে বাংলাদেশের ৫৭ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন৷ ঢাকার বস্তি এলাকায় বসবাসকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে স্থানান্তরিত বলে জানিয়েছে অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমও৷

লবণপানি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ধীরে ধীরে গ্রাস করায় সেখানকার মানুষ শুধু কাজ হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে না৷ তাঁরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও পড়ছেন৷ বিশেষ করে নারীদের এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি৷ বাংলাদেশের দক্ষিণে খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা, বাগেরহাটের মংলা ও শরণখোলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২ লাখ নারী ও কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷

ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘‘সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে এখন লবণপানি উপকূলীয় এলাকা ছপিয়ে গোপলাগঞ্জ পর্যন্ত এসে পড়েছে৷ এর আগেই খুলনা বাগের হাট, সাতক্ষীরাসহ, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণের অনেক জেলা লবণ পানির গ্রাসে পড়েছে৷ কৃষি নষ্ট হচ্ছে, ফসলি জমি উর্বরাতা হারাচ্ছে৷ তাই যাঁরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল তাঁরা পেশা হারাচ্ছেন৷''

এরইমধ্যে দেখা গেছে জলবায়ু পবির্তনের শিকার হয়ে যাঁরা ঢাকায় এসেছেন তাঁরা নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না৷ তাঁরা আগে প্রধানত কৃষক ছিলেন৷ কিন্তু এখন তাঁরা বলতে গেলে পেশা উদ্বাস্তু৷ নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই৷ ২০১২ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ পরিচালিত গবেষণায় পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে অভিবাসী হওয়া প্রায় দেড় হাজার পরিবারকে শণাক্ত করা হয়৷ প্রায় সবগুলো পরিবার জানায়, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে তাঁরা স্থানান্তরিত হয়েছেন৷

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক জনপদ৷ এছাড়া একই উপজেলার পদ্মপুকুর এবং আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরও জলাবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজাজামান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘২০০৯ সালে আইলার পর পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে টিকতে না পেরে গাবুরার আট হাজার পরিবারের মধ্যে তিন হাজার পরিবারই তাদের আবাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন৷ এদের মধ্যে ২০টি পরিবার গেছে ভারতে৷ তাঁরা খাদ্য, পানীয় জল এবং কাজের সংকটের কারণে নিজেদের পিতৃপুরুষের ভিটে ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন৷''

ওই এলাকায় কাজ করে স্থানীয় এনজিও লিডার্স৷ তাঁর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুধু গরিব মানুষই নয়, এই এলাকার বিত্তশালীরাও এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন৷ যাঁরা বিত্তবান, তাঁরা এই এলাকা বসবাসের উপযোগী নয় বলে শহরে গিয়ে থাকছেন৷ গরিব যাঁরা, তাঁদের বড় একটি অংশ খুলনা ও ঢাকাসহ দশের বিভিন্ন শহরে কাজের আশায় গেছেন৷ এছাড়া কিছু গেছেন ভারতে এবং যাঁরা একটু স্বচ্ছল, তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন৷ মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতারিত হয়ে, নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার কেউ কেউ ফিরে এসেছেন৷''

তিনি জানান, ‘‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উদ্বাস্তু হওয়া এই এলাকার ৮০টি পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি৷ তাতে তাঁরা বলেছেন, খাবার পনির সংকট, কাজের অভাব এবং পেশা হারানোর কারণে তাঁরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন৷ তাঁদের ঘরবাড়ি বানাবার টাকাও নেই৷ তাই ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গেছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘লবণপানির কারণে কৃষকরা পেশা হরিয়েছেন৷ বাঁধের ওপর ও বসবাসের সুযোগ নেই৷ কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার বাধ ভেঙে যায়৷ যাঁরা চলে গেছেন, তাঁরা এখন কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ মাটি কাটার কাজ করেন আবার কেউ কেউ শহরে রিকশা চালান৷ যাঁরা ভারতে গেছেন, তাঁরাও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন৷''

ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘‘জলবায়ু উদ্বাস্তুদের একটি অংশকে আমরা হিসেবে আনতে পরছি না৷ তাঁরা সাময়িক উদ্বাস্তু৷ কারণ তাঁরা ছ'মাস পর আবার এলাকায় ফিরে আসেন৷ এবার বন্যায় সিলেট, সুনামঞ্জসহ ঐ এলকার ফসলের হানি হয়েছে৷ ফলে আগামী অন্তত ছ'মাস তাঁদের খাবার নেই, তাই কাজও নেই৷ সে কারণেই তাঁরা শহরে চলে এসেছেন৷ ছ'মাস পর হয়ত তাঁরা ফিরে যাবেন৷ আবার কেউ হয়ত ফিরবেন না৷''

প্রতিবছর বাংলাদেশে সমুদ্রের পানির উচ্চতা আট মিলিমিটার করে বাড়ছে, যা বিশ্বের গড় বৃদ্ধির দ্বিগুণ৷ ২০৮০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলে পানির উচ্চতা ২ ফুট বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ তাই যদি হয়, তাহলে বাংলাদেশের ৪০ ভাগ এলাকা লবণ পানিতে তলিয়ে যাবে৷ এই ৪০ ভাগ এলাকায় প্রায় ৫ কোটি মানুষের বসবাস৷ এর ফলে ফসলি জমি নষ্ট হবে, কৃষক-জেলে তাঁদের পেশা হারাবেন৷ তাঁরা হারাবেন তাঁদের আশ্রয় বা আবাস৷

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত চার লাখ মানুষ ঢাকায় চলে আসেন৷  দিনের হিসাব করলে প্রতিদিন কম করে হলেও দু'হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসেন আশ্রয়ের সন্ধানে৷ এঁদের ঠাঁই হয় বস্তিতে৷ এঁদের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগই জলবায়ু উদ্বাস্তু৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের  ঘরে৷

নিহত ২১ না ৪২?

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিয়েছে৷ মধ্য জুলাই থেকে বন্যায় দেশের ১৬ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যাতে এ পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে মৃতের সংখ্যা ৪২ জন৷

নদীগর্ভে বিলীন আট হাজার বাড়ি

সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত বন্যায় ১৬ জেলার ৭২ উপজেলার ৩৭৮ ইউনিয়নের ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ আর নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে ৮ হাজার ১৪০টি ঘরবাড়ি৷

কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি

ভয়েস অব অ্যামেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে, যাদের পুনর্বাসনে তৎপরতা বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না৷ বানভাসি মানুষের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল, পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে৷

কুড়িগ্রাম প্লাবিত

কুড়িগ্রাম জেলায় শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ে নয়টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে৷ সেখানকার একজন বাসিন্দা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, চুরানব্বই সালের পর এমন বন্যা আর দেখেনননি তিনি৷ স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কুড়িগ্রামের ছয় লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি৷

স্কুল বন্ধ

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় দুইশ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১১৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যেটা ১৯৮৮ সালের বন্যায় ছিল ১২৫ সে.মি.৷

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায়, সেখানকার বন্যার পানি নামতে শুরু করলে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন৷