বার্লিনেও দলের খারাপ ফলে চাপে ম্যার্কেল

রবিবার বার্লিনে রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল৷ আগেরবারের চেয়ে এবার চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল ৫.৭ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে৷ এদিকে রাজ্য সংসদে এবার ঢুকছে ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দল এএফডি৷

কাগজে-কলমে চরম দক্ষিণপন্থি না হলেও কথাবার্তা ও কাজেকর্মে এএফডি বিদেশি ও ইসলাম বিদ্বেষের নানা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আসছে৷ রবিবারের নির্বাচনে তারা ১৪.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷ ফলে সংসদের ১৬০ আসনের মধ্যে এএফডির সাংসদ থাকবেন ২৫ জন৷ আর ম্যার্কেলের দল সিডিইউ (খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী) ১৭.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে হয়েছে দ্বিতীয়৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বার্লিন রাজ্যে এটিই সিডিইউ দলের সবচেয়ে খারাপ ফল৷ এদিকে, প্রথম অবস্থানে আছে সিডিইউ (সামাজিক গণতন্ত্রী)৷ তারা ভোট পেয়েছে ২১.৬ শতাংশ৷ তবে আগের নির্বাচনের চেয়ে তাদের ভোট কমেছে ৬.৭ শতাংশ৷

এই নিয়ে টানা পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনে হারলো সিডিইউ৷ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির চেয়েও কম ভোট পেয়েছিল ম্যার্কেলের দল৷

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ম্যার্কেলের উদার শরণার্থী নীতির কারণেই সিডিইউর ভোট কমছে৷ ফলে আগামী বছর যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেখানেও সিডিইউ ভাল নাও করতে পারে৷ কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সিডিইউ-র সহযোগী দল সিএসইউ-র রাজনীতিবিদ মার্কুস স্যোডার রবিবারের নির্বাচনকে ম্যার্কেলের জন্য ‘ম্যাসিভ ওয়েকআপ কল' বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ তবে ডয়চে ভেলের উডো বাওয়ার মনে করছেন, ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতি তাঁর দলের খারাপ ফলের জন্য দায়ী নয়৷ বরং রাজ্য নির্বাচনে রাজ্য পর্যায়ের সমস্যাগুলোই ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর ধারণা৷

জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘স্পিগেল অনলাইন'-ও মনে করছে, ‘‘সিডিইউ হারলেও এবার সেটি চ্যান্সেলরের পরাজয় নয়৷'' বার্লিন নির্বাচনে এএফডি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্বিতীয় অবস্থান না পেলেও (পঞ্চম হয়েছে) জার্মানির রাজনীতিতে এএফডির মতো চরম ডানপন্থি দলের উপস্থিতি এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে৷ এই অবস্থা ‘দুঃখজনক হলেও সত্য' বলে মন্তব্য করেছে সংবাদমাধ্যমটি৷ স্পিগেলের এমন মন্তব্যের কারণ, একের পর এক রাজ্যের সংসদে ঢুকছে এএফডি৷ এখন পর্যন্ত ১৬টি রাজ্যের মধ্যে ১০টি রাজ্যের সংসদে প্রবেশ করেছে মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দলটি৷ এ সব ফলের উপর ভিত্তি করে এএফডির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ বেয়াট্রিক্স ফন স্টোর্শ মনে করছেন, আগামী বছরের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে তাঁর দল জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন