বার্লিনে শরণার্থীর মৃত্যুর খবরটি ‘বানানো গল্প'?

প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শরণার্থীর মৃত্যুর খবরটিকে ‘বানানো' বলে দাবি করছে পুলিশ৷ তাদের দাবি, সম্ভাব্য সব স্থানে অনুসন্ধান করেও এমন মৃত্যুর হদিস পাওয়া যায়নি৷ তাছাড়া খবরের প্রচারকও স্বীকার করেছেন খবরটি বানানো ছিল৷

বার্লিনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর এক স্বেচ্ছাসেবী প্রথমে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই জানিয়েছিলেন শরণার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করানোর কার্যালয় ‘লাগেসো'-র সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ধকল সইতে না পেরে এক শরণার্থীর করুণ মৃত্যুবরণের কথা৷ স্বেচ্ছাসেবীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিয়া থেকে আসা ওই শরণার্থী ‘লাগেসো'-র সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শীতে কাবু হয়ে পড়েন৷ প্রচণ্ড সর্দি-কাশি শুরু হয়ে যায়৷ অবস্থার প্রচণ্ড অবনতি হওয়ায় ওই স্বেচ্ছাসেবীই নাকি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে অসুস্থ শরণার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পথেই ২৪ বছর বয়সি ওই শরণার্থী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ঘটনার সকরুণ বর্ণনা শেষে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাই ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর স্বেচ্ছাসেবী প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘‘ওর কি এভাবে মারা যাওয়ার কথা ছিল? কেন এভাবে মৃত্যু হলো তাঁর? হয়ত আগে থেকে আমরা ওর জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিইনি বলেই...৷''

স্বেচ্ছাসেবীর এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমেও এসেছে৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরুর পরই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে ফেলেছেন ওই স্বেচ্ছাসেবী৷

এদিকে বার্লিনের পুলিশ শুরুতে খবরটি সত্য ধরে নিয়ে টুইট করলেও পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, খবরটি পুরোপুরি বানানো৷ তাদের দাবি, শহরের সব হাসপাতাল এবং অন্য সব সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চালানোর পরও এমন কোনো মৃত্যুর খবরের সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়নি৷ পুলিশের পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়, শরণার্থীর মৃত্যুর খবরটি যিনি প্রচার করেছিলেন ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তিনিও স্বীকার করেছেন খবরটি মনগড়া ছিল৷

হামবুর্গ শহরের ভিলহেল্মসবুর্গ এলাকায় শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রটি ভরে যাওয়ায় আগন্তুকদের তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়৷ মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) সেখানে আফগানিস্তান ও আলবেনিয়া থেকে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে ব্যাপক দাঙ্গা বাঁধে৷ লোয়ার স্যাক্সনি-র ব্রাউনশোয়াইগ-এও অনুরূপভাবে আলজিরীয় ও সিরীয় উদ্বাস্তুদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধে একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে৷

টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সালফেল্ড-এ অবস্থিত একটি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আবাসে সোমবার একটি অগ্নিকাণ্ডের পর ২৯ বছর বয়সি এক ইরিট্রিয়ান উদ্বাস্তুর লাশ পাওয়া যায়৷ কিভাবে এই শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও অজ্ঞাত৷ তবে আবাসটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের কোনো হদিশ পুলিশ এখনও পায়নি৷

বাভারিয়ার অর্থমন্ত্রী মার্কুস জ্যোডার ইতিপূর্বেও বলেছেন: ‘‘আমরা (অর্থাৎ জার্মানি) বিশ্বকে বাঁচাতে পারি না৷’’ এমনকি তিনি অস্ট্রিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছেন৷ তবে জ্যোডার যখন সম্প্রতি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার কথা বলেন, তখন জেহোফার স্বয়ং সাথে সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷

বার্লিনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর এক স্বেচ্ছাসেবী প্রথমে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই জানিয়েছিলেন শরণার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করানোর কার্যালয় ‘লাগেসো'-র সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ধকল সইতে না পেরে এক শরণার্থীর করুণ মৃত্যুবরণের কথা৷ স্বেচ্ছাসেবীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিয়া থেকে আসা ওই শরণার্থী ‘লাগেসো'-র সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শীতে কাবু হয়ে পড়েন৷ প্রচণ্ড সর্দি-কাশি শুরু হয়ে যায়৷ অবস্থার প্রচণ্ড অবনতি হওয়ায় ওই স্বেচ্ছাসেবীই নাকি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে অসুস্থ শরণার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পথেই ২৪ বছর বয়সি ওই শরণার্থী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান৷

ঘটনার সকরুণ বর্ণনা শেষে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাই ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর স্বেচ্ছাসেবী প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘‘ওর কি এভাবে মারা যাওয়ার কথা ছিল? কেন এভাবে মৃত্যু হলো তাঁর? হয়ত আগে থেকে আমরা ওর জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিইনি বলেই...৷''

স্বেচ্ছাসেবীর এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমেও এসেছে৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরুর পরই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে ফেলেছেন ওই স্বেচ্ছাসেবী৷

এদিকে বার্লিনের পুলিশ শুরুতে খবরটি সত্য ধরে নিয়ে টুইট করলেও পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, খবরটি পুরোপুরি বানানো৷ তাদের দাবি, শহরের সব হাসপাতাল এবং অন্য সব সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চালানোর পরও এমন কোনো মৃত্যুর খবরের সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়নি৷ পুলিশের পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়, শরণার্থীর মৃত্যুর খবরটি যিনি প্রচার করেছিলেন ‘মোয়াবিট হিল্ফট'-এর বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তিনিও স্বীকার করেছেন খবরটি মনগড়া ছিল৷

এদিকে শরণার্থীদের বিষয়ে খুব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সুইডেন৷ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্ডার্স উ্যগেমান জানিয়েছেন, সে দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে ৬০ থেকে ৮০ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানো হবে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, অভিবাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণেই তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে৷

উদ্বাস্তু শিবিরে দাঙ্গা

হামবুর্গ শহরের ভিলহেল্মসবুর্গ এলাকায় শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রটি ভরে যাওয়ায় আগন্তুকদের তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়৷ মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) সেখানে আফগানিস্তান ও আলবেনিয়া থেকে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে ব্যাপক দাঙ্গা বাঁধে৷ লোয়ার স্যাক্সনি-র ব্রাউনশোয়াইগ-এও অনুরূপভাবে আলজিরীয় ও সিরীয় উদ্বাস্তুদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধে একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে৷

ইসলাম বিরোধীরা আবার মাথা চাড়া দিয়েছে

ড্রেসডেনে ইসলাম বিরোধী পেগিডা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ সমাবেশে গত সোমবার প্রায় ন’হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন৷ বিক্ষোভকারীরা মূলত চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-কেই বর্তমান উদ্বাস্তু সংকটের জন্য দায়ী করছেন৷

ম্যার্কেল লাগাম টানলেন

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দৃশ্যত তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের-এর গুরুত্ব কিছুটা খর্ব করে চ্যান্সেলরের দপ্তরের প্রধান পেটার আল্টমায়ার-কে শরণার্থী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন৷

উদ্বাস্তুর লাশ

টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সালফেল্ড-এ অবস্থিত একটি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আবাসে সোমবার একটি অগ্নিকাণ্ডের পর ২৯ বছর বয়সি এক ইরিট্রিয়ান উদ্বাস্তুর লাশ পাওয়া যায়৷ কিভাবে এই শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও অজ্ঞাত৷ তবে আবাসটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের কোনো হদিশ পুলিশ এখনও পায়নি৷

যে কোনো পন্থায়

টুরিঙ্গিয়ায় এর আগেও উদ্বাস্তু আবাস হিসেবে চিহ্নিত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে শরণার্থীদের আসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ যেমন বিশহাগেন-এর এই বাড়িটির ছাদ পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে৷ গত সোমবার এখানে প্রথম উদ্বাস্তুদের আসার কথা ছিল৷

ঘরে বাইরে

শরণার্থী সংকট এখন জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও টান ধরাচ্ছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের জোড়োয়া দল বাভারিয়ার সিএসইউ৷ তাদের প্রধান হর্স্ট জেহোফার সেপ্টেম্বর মাসের শেষে একটি দলীয় সম্মেলনে বক্তা হিসেব আমন্ত্রণ জানান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান-কে, যিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে উদ্বাস্তুর স্রোত আটকানোর চেষ্টা করেছেন৷

হাওয়া যদি বদলায়

বাভারিয়ার অর্থমন্ত্রী মার্কুস জ্যোডার ইতিপূর্বেও বলেছেন: ‘‘আমরা (অর্থাৎ জার্মানি) বিশ্বকে বাঁচাতে পারি না৷’’ এমনকি তিনি অস্ট্রিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছেন৷ তবে জ্যোডার যখন সম্প্রতি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার কথা বলেন, তখন জেহোফার স্বয়ং সাথে সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

পুলিশ বলছে শরণার্থীর মৃত্যুর খবর বানানো৷ আপনিও কি তাই মনে করেন? জানান মন্তব্যের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়