বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিদের বিজেপি বর্জনের ডাক

ভারতের প্রায় ৬০০ কবি, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী বিজেপি বর্জনের ডাক দিয়েছেন৷ তাঁদের মতে, বিজেপির মতো এক ধর্মান্ধ দল ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় ভেদাভেদ বাড়বে, গণতন্ত্র ও স্বাধিকার বিপন্ন হবে আর দেশের ভবিষ্যত হবে অন্ধকার৷

তবে সাংস্কৃতিক সমাজের অপরপক্ষ মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে সেটা যে হবে না, তার কী গ্যারান্টি?

ভারতে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবার মুখে গোটা দেশের বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী এবং সংস্কৃতিমনস্ক প্রায় ৬০০ ব্যক্তিত্ব তোপ দেগেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে৷ তাঁরা মনে করেন, বিজেপির মতো এক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক অবস্থা চূড়ান্ত অবক্ষয়ের মুখে পড়বে৷ ঘৃণা, বিদ্বেষ, ধর্মীয় ভেদাভেদ বাড়বে৷ তাই বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি যাতে মাথা তুলতে না পারে, ক্ষমতায় আসতে না পারে তারজন্য ভেবেচিন্তে ভোট দেবার আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছে৷ বিজেপি এবং তার শরিক দলগুলিকে ভোট না দেবার কথা বলেছেন৷

কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা যেভাবে আহ্বান জানিয়েছেন সাম্প্রতিক ইতিহাসে তা নজীরবিহীন৷ এঁদের মধ্যে আছেন, কবি শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেন, বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, কঙ্কনা সেনশর্মা, অমল পালেকার, বলিউড ফিল্ম পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ প্রমুখ৷

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে অন্যান্যদের সঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষ মনে করেন, বিজেপির মতো এক সাম্প্রদায়িক দল ক্ষমতাসীন হলে দেশের পরিস্থিতি এক সার্বিক সংকটের মুখে পড়বে৷ ধর্মীয় হানাহানি, জাতিগত বিদ্বেষ বাড়বে৷ বাড়বে বেরোজগারি, কৃষক মৃত্যু৷ মাথা চাড়া দেবে এক ফ্যাসিস্ট শক্তি৷ তাই ফ্যাসিবাদী বিজেপিকে পরাজিত করতে এগিয়ে আসার ডাক দেওয়া হয়েছে সর্বস্তরের মানুষের কাছে৷ ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিশিষ্টজনেরা ১২ই এপ্রিল কোলকাতায় যে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে যোগ দিচ্ছেন না কবি শঙ্খ ঘোষ৷ যে সংগঠন এই পদযাত্রার ডাক দিয়েছে তাদের তরফে বলা হয়, শঙ্খবাবু পদযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন৷ তবে বিবৃতির বয়ানের সঙ্গে তিনি একমত৷

এখন লাইভ
01:55 মিনিট
বিষয় | 09.04.2019

বিজেপির থেকেও খারাপ দল আছে, তাদের সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু নেই:...

এই প্রসঙ্গে জনপ্রিয় সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্ত্তীর অভিমত জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‘আমরা তো চিরদিনই দেখে আসছি ইলেকশনের আগে এমনটা হয়৷ তবে একসঙ্গে ৬০০ সাংস্কৃতিক ব্যক্তি আগে কখনো এই ধরণের বিবৃতি দিয়েছেন কিনা, আমার জানা নেই৷ তবে এরা সবাই ওয়ার্কশপ করে বা কনভেনশন করে কিংবা কনফারেন্স করে এটা করেননি৷ মাঝখানে দু-একজন যোগাযোগ করে এদের প্রত্যেকের সম্মতি নিয়েছেন৷ তবে আমার সমর্থন এতে আছে কিনা, মানে আমি সমর্থন করি কিনা, জানতে চাইলে আমি বলতাম আমি ঠিক এইসব অ্যাজেন্ডার মধ্যে পড়িনা৷ আমাকে বলা হলে আরো কিছু পরিবর্তনের কথা আমার বলার ছিল৷ এইভাবে তো শুধু হয়না৷ তবে এইসব যাঁরা করেছেন তাঁদের সমর্থন যেমন করছি না, আবার প্রতিবাদও করছি না৷ সামনে লোকসভা নির্বাচন৷ সবাই যাঁরা   বিজেপিকে দোষ দিচ্ছে, সমালোচনা করছে, আমার মতে শুধু বিজেপিকে কেন? বিজেপির থেকেও তো খারাপ দল আছে৷ কিংবা একই রকম খারাপও তো আছে৷ তাদের সম্পর্কে তো বিবৃতিতে কিছু বলা নেই৷ এরমধ্যে শুধু সাম্প্রদায়িকতার কথাই বলা হয়েছে৷ কিন্তু যারা দুর্নীতিগ্রস্ত বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের কথা বলা নেই৷ একটা ইস্যুর কথা বলা হয়েছে মাত্র৷ অন্য আরো ইস্যুও আছে যার কথা বলা নেই৷''

অন্যদিকে, দেড়শ বিজ্ঞানীও একই সুরে ভোটারদের কাছে আবেদন রেখেছেন, তাঁরা যেন বিজেপিকে ভোট দেবার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখেন৷ যে রাজনৈতিক দল গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি, ভীতিপ্রদর্শন, জাতপাত এবং বিভেদমূলক নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই দল ক্ষমতায় আসলে দেশের ভবিষ্যতের হাল কী হবে৷ বিজেপি কোনোমতেই যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, তারজন্য ভোটদাতাদের উচিত বিজেপিকে বর্জন করা৷ এরমধ্যে আছেন ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জীববিজ্ঞানের জাতীয় কেন্দ্র, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা৷ তাঁরা মনে করেন, সব ভোটারদের উচিত সংবিধানসম্মত যুক্তি মাথায় রাখা৷

এখন লাইভ
03:40 মিনিট
বিষয় | 09.04.2019

দুই বা চারশো বিজ্ঞানী বা সংস্কৃতিবান লোক কী বললেন তাতে কিছু এ...

এর প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংগঠনের সেক্রেটারি ধীরাজ সেনগুপ্ত ডয়েচে ভেলেকে বললেন, শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার পরিবর্তন করলেই কি বাস্তব অবস্থা শুধরে যাবে? ‘‘এবিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার সন্দেহ আছে৷ যেসব অভিযোগ তুলে বিজেপিকে হারানোর ডাক দেওয়া হয়, বিজেপি ক্ষমতা হারালে সেইসব অভিযোগ আর উঠবে না, তা কি বলা যায়? দরকার একটি নিরপেক্ষ নীতি৷ এখন একটা নীতি যার পক্ষে যাবে সে বলবে এককথা৷ যারপক্ষে যাবে না সে বলবে অন্যকথা৷ পক্ষে গেলে সমর্থন করবে৷ বিপক্ষে গেলে প্রতিবাদ করবে৷ যেমন মানবাধিকার৷ যেটা রক্ষা করলে সরকারের মান মর্যাদা বজায় থাকে৷ কিন্তু তা হচ্ছে কৈ? শুধু ভারতেই নয়, কার্যত গোটা দুনিয়াতেই তা চলছে৷ উগ্র দক্ষিণপন্থিরা রয়েছে অনেক দেশে৷ যেমন, জার্মানিতে নব্য নাৎসিরা বেশ শক্তিশালী৷ এখন উগ্রপন্থা মাথা চাড়া দিচ্ছে, আর উদারপন্থিরা পিছু হটছে৷ সাধারণ মানুষের যেসব চাহিদা পূরণের কথা ছিল তা দিতে তারা ব্যর্থ৷ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেসব আঞ্চলিক দল ক্ষমতাসীন ছিল, তারাও জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে পারেনি৷''

ডয়চে ভেলে জানতে চায় তাহলে বিজেপিকেই শুধু টার্গেট করা কেন? উত্তরে ধীরাজ সেনগুপ্ত বললেন, ‘‘বিজেপি সরে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয়না৷ অতীতে কংগ্রেস জমানায় ইন্দিরা গান্ধী সরকারকে ভোটে হারানো হয়েছিল, একই কারণে৷ মোটকথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মানুষের হাতছাড়া৷ সরকার, সাংসদ, মন্ত্রী, প্রশাসন সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন৷ তারই রাজনৈতিক প্রতিফলন আজ বিজেপি হটাও৷ কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় আসে দুদিন পরে দেখবো কংগ্রেস হটাও৷ একটা অশুভ চক্র যেন৷ কাজেই দুশো বা চারশো বিজ্ঞানী বা সংস্কৃতিবান লোক কী বললেন তাতে কিচ্ছু এসে যায় না৷ সমাজ তাঁদের হাতে নেই৷ তাঁরা নিজেরাই আক্রান্ত৷ দ্বিতীয় কথা, টাকা লুটছে বলে যে আম্বানিকে কংগ্রেস আজ দুষছে, ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে আম্বানির প্রাণ পুরুষ ধীরুভাই আম্বানি ইন্দিরা গান্ধীকে ক্ষমতায় আনার জন্য কাজ করেছিলেন৷ এখন তাঁরা অন্যদিকে, সেটা আলাদা কথা৷'' 

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

আসনসংখ্যা

সাধারণ নির্বাচন মানে ভারতের লোকসভা সদস্যদের নির্বাচন করার পদ্ধতি৷ লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫ হলেও নির্বাচন হয় ৫৪৩টি আসনে৷ বাকি দুটি আসন ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত৷ তাদের দুই প্রতিনিধি কে হবেন, তা ঠিক করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটার সংখ্যা

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৮৩ কোটিরও বেশি, যা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বাড়বে এই সংখ্যা৷ নতুন ভোটারের সংখ্যা এবছর প্রায় সাড়ে চার কোটি হতে চলেছে৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কয়টি দল?

গত নির্বাচনে মোট ৮,২৫১ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়েছিলেন৷ সেবার মোট ৪৬০টি রাজনৈতিক দল ভোটের ময়দানে নেমেছিল৷ ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনই জানাচ্ছে এই তথ্য৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

মোট প্রার্থী

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জন প্রার্থী থাকে ভারতে৷ এখন পর্যন্ত একটি আসনে সর্বোচ্চ ৪২ জন প্রার্থী হয়েছেন!

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটকেন্দ্র কতগুলি?

২০১৪ সালের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৯,২৭,৫৫৩টি৷ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে গড়ে ৯০০ জন ভোটার ভোট দেন৷ উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচনি আইন বলে, যে-কোনো ভোটারের বাসস্থানের দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র থাকতে হবে৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

নির্বাচনি দায়িত্ব পালন

ভারতের সাধারণ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার দায়িত্ব পড়ে সরকারী কর্মচারীদের ওপর৷ গত নির্বাচনে এই দায়িত্ব পান প্রায় ৫০ লক্ষ আধিকারিক ও নিরাপত্তাকর্মী৷ শুধু তাই নয়, এই কর্মীরা পায়ে হেঁটে, বাসে-ট্রামে-ট্রেনে-নৌকায়, এমনকি হাতির পিঠে চড়েও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছেছেন বলে জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

একজন ভোটারের জন্যও রয়েছে বুথ!

২০০৯ সালের নির্বাচনের সময় গুজরাটের গির অঞ্চলের জঙ্গলেও ছিল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র৷ এই ভোটকেন্দ্রের আওতায় যদিও ছিলেন মাত্র একজন ভোটার৷ তবুও বুথ চালু রাখা হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে৷ (প্রতীকী ছবি)

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটের পর...

২০১৯ সালের নির্বাচন মোট সাতটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে৷ এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লেগে যাবে একমাসেরও বেশি৷ ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত৷ আগে যদিও ব্যালট পেপারে ভোট হবার ফলে ফলপ্রকাশ হতে কয়েকদিন লেগে যেত, আজকাল ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম আসার ফলে ফলাফল বেরোতে সময় লাগে মাত্র একদিন৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কত খরচ?

ভারতের মতো বিশালাকারের দেশের নির্বাচন যে খরচসাপেক্ষ হবে, তা বলাই বাহুল্য৷ নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার সমান অর্থ, ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ৩,৮৭০ কোটি রুপির কাছাকাছি৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কতগুলি ইভিএম?

২০১৪ সালের নির্বাচনে আনুমানিক ১৮ লক্ষ ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল৷ ইভিএম আসায় নির্বাচনের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলেও অনেক রাজনৈতিক দল মনে করে যে এখানেও কারচুপি সম্ভব৷ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি থাকলেও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তা হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাদের অনুসরণ করুন