1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বিদায় ব্রিটেন, আবার দেখা হবে?

৩১ জানুয়ারি ২০২০

শুক্রবার রাতে ব্রেক্সিট কার্যকর হবে৷ এগারো মাসের অন্তর্বর্তিকালীন পর্যায়ের পর ২০২১ সালে ব্রিটেনের পুরোপুরি ইইউ ত্যাগ করার কথা৷ ব্রাসেলস ও লন্ডনে এই ঐতিহাসিক ঘটনা নানাভাবে পালন করা হচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/3X4fi
ব্রাসেলসে ব্রেক্সিট উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ ও ইইউ পতাকা
ছবি: Reuters/F. Lenoir

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে নানা চাপান উতোরের পর ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে সেই সন্ধিক্ষণ এসে গেল৷ শুক্রবার মাঝরাতে ইইউ ত্যাগ করতে চলেছে ব্রিটেন৷ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের সম্ভবত এগারো মাস পর আক্ষরিক অর্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে সে দেশ৷

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ব্রেক্সিটের পথে শেষ আইনি বাধা দূর হলো৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পর বিনা আড়ম্বরে বাকি ২৭টি সদস্য দেশগুলির সরকারও ব্রেক্সিট চুক্তিতে স্বাক্ষর করলো৷ ব্রিটেনকে বিদায় জানাতে ব্রাসেলসের কেন্দ্রস্থলে বিশেষ আলোকসজ্জা ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল৷ তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে সেই উদ্যোগকে ঘিরেও তেমন উৎসাহ দেখা যায় নি৷ শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার সময় ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পরিষদ ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে আনা হবে৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ব্রিটিশ পতাকাটি মিউজিয়ামে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে৷

শনিবার ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে৷ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে সে দেশে ইইউ-র আইনকানুন ও বিধিনিয়ম প্রযোজ্য হলেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্রিটেনের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না৷ এই সময়কালে নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷ ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকরা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন৷

শুক্রবার লন্ডনে পার্লামেন্ট স্কোয়্যারে ব্রেক্সিটের সমর্থকরা তাদের জয়ের উৎসব পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ ব্রেক্সিট পার্টির প্রধান নাইজেল ফারাজ সেখানে মধ্যমণি হবেন৷ অন্যদিকে ব্রেক্সিট-বিরোধীরা চরম হতাশায় ভুগছেন৷ উল্লেখ্য, গণভোটে ৪৮ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাবার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন৷ সমাজে এমন বিভাজনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব৷ তবে তাঁর মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে কিছুই শেষ হচ্ছে না, বরং শুরু হচ্ছে৷  

শুক্রবার জনসন ইংল্যান্ডের উত্তর পূর্বে সান্ডারল্যান্ড শহরে মন্ত্রিসভার বিশেষ এক বৈঠক ডেকেছেন৷ ২০১৬ সালের গণভোটে সেখানেই প্রথম ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় জানা গিয়েছিল৷ সকাল দশটায় জনসন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন৷

বৃহস্পতিবার লন্ডন সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন,  ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনের সামনে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷ সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে অ্যামেরিকা ও ব্রিটেন – দুই দেশেরই উপকার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, এএফপি)