বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যার পথ দেখাচ্ছে ‘ব্লু হোয়েল গেম'

দ্য ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ: সময়সীমা ৫০ দিন৷ খেলার নির্দেশ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীকে ৫০টি ‘টাস্ক' শেষ করতে হয়৷ এর মধ্যে রয়েছে নিজেকে আঘাত করাসহ নানারকম ভয়ানক ‘টাস্ক'৷ শেষ টাস্কটি আত্মহত্যা৷ এখনও পর্যন্ত ১৩০ এর শিকার৷

বেশ কয়েক বছর ধরেই রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে অনলাইন গেম, বিশেষত অভিভাবকদের কাছে৷ তবে শুধু অভিভাবকরাই নন, অনলাইন গেমের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আসক্তি চিন্তা বাড়িয়েছে মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদেরও৷ শিশুদের বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রেও নাকি বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন ধরনের গেম৷ অনলাইন গেম খেলতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, বাড়ছে দুর্ঘটনাও৷ এর সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

২০১৩ সালে রাশিয়ায় শুরু হয় ঐ মারণ খেলা৷ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দু'বছর পরে৷ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে৷ যেন আত্মহত্যার জন্যই৷ সেই থেকেই এই গেমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল' বা নীল তিমি৷

যৌনতার উপস্থিতি

ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কম্পিউটার মেলার৷ সেখানে অংশ নিয়েছিল কম্পিউটার গেম ডেভেলপার ‘ইউবিসফট’৷ তাদের নতুন গেম ‘জাস্ট ড্যান্স ২০১৪’-র প্রচারণা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে এই চার নারী ও পুরুষ মডেল গেমের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলছেন৷

অর্ধেকই নারী

জরিপ বলছে, প্রতি তিন জার্মানের একজন নিয়মিত কম্পিউটার গেম খেলেন এবং গেমারদের অর্ধেকই নারী৷

পছন্দের ভিন্নতা

পুরুষ গেমাররা পছন্দ করেন অ্যাকশন৷ তবে মেয়েদের পছন্দ এমন গেম, যা তাঁদের জন্য আরামদায়ক এবং অনেকটা কমিউনিটি নির্ভর হয়৷ সংশয়, মারামারি আর প্রতিযোগিতায় ভরপুর গেম তাঁদের বিশেষ পছন্দ নয়৷ বরং সামাজিক গেম, যেগুলো ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলা সম্ভব, সেগুলোই খেলে থাকেন মেয়ে গেমাররা৷

নারী ডিজাইনারের সংখ্যা কম

জার্মানিতে নারী ডিজাইনারের সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ৷ সে কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গেম ডেভেলপের ক্ষেত্রে নারীর পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না৷

তাই বিতর্কিত উপস্থাপন

ডিজাইনের ক্ষেত্রে মেয়েদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণে গেমগুলোর নারী চরিত্রগুলোকে হয় বাড়াবাড়ি রকম সেক্সি, না হয় অসহায় মানুষ হিসেবে দেখানো হয়৷ নারী ডিজাইনারের সংখ্যা বাড়লে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা৷

কেন কম?

জার্মানির আরেক গেম ডিজাইনার ক্যারোলিন গেপার্ট৷ তাঁর নিজের একটি গেম তৈরির কোম্পানি রয়েছে, যার নাম ‘ইয়ো মেই’৷ শুরুতে কাজ করতেন একটি কোম্পানিতে৷ সেখানে কাজ শিখে পরে নিজেই নিজের সংস্থাটি খোলেন৷ কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারেন না, কেন গেম শিল্পে মেয়েদের উপস্থিতি এতটা কম৷

ইদানীং ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একাধিক দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ‘ব্লু হোয়েল গেম'-এর৷ হু হু করে বাড়ছে আত্মহননের ঘটনা৷ পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে রাশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১৬ জন তরুণীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে৷ এদের মধ্যে সাইবেরিয়ার দুই স্কুলছাত্রী য়ুলিয়া কনস্তান্তিনোভা (১৫) এবং ভেরোনিকা ভলকোভা (১৪) একটি বহুতলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে৷ তদন্তে নেমে পুলিশের নজরে আসে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম'৷ শুরুর টাস্কগুলি অবশ্য তেমন ভয়ংকর নয়৷ বরং বেশ মজারই৷ আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা৷

প্রথমে সাদা কাগজে তিমি মাছের ছবি এঁকে শুরু হয় খেলা৷ তারপর খেলোয়াড়কে নিজেরই হাতে পিন বা ধারালো কিছু ফুটিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে আকঁতে হয় সেই তিমির ছবি৷ একা ভূতের ছবি দেখতে হয়, আবার ভোর চারটে কুড়ি মিনিটে ঘুম থেকেও উঠতে হয়৷ চ্যালেঞ্জের মধ্যে অতিরিক্ত মাদকসেবনও রয়েছে৷

অডিও শুনুন 02:27
এখন লাইভ
02:27 মিনিট
বিষয় | 21.08.2017

‘বাবা-মায়েদের তাঁদের সন্তানদের আরও বেশি সময় দেওয়াই এই সমস্যার...

এই খেলায় প্রত্যেকেই মারা গিয়েছেন, এমনটা নয়৷ মারাত্মক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জাও লড়ছেন অনেকে৷ গেমের লেভেল যত এগোয়, ততই ভয়ংকর হতে থাকে টাস্কগুলি৷ এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে৷

প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন৷ রাশিয়া পুলিশের আশঙ্কা, সাম্প্রতিককালে গোটা বিশ্বে আত্মঘাতী হওয়া অন্তত ১৩০ জনের আত্মহননের পেছনে রয়েছে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম'৷ এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনোভাবেই ডিলিট করা সম্ভব নয়৷ শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে৷

ভূগোলের শিক্ষক মৌসম মজুমদারের কথায়, ‘‘এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে৷ কেন ছেলে-মেয়েরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলে বেশি সময় দিচ্ছে, অনেক অভিভাবকের সেদিকে তাকানোর সময় নেই৷ ফলে বিপদ তাঁদের নজর এড়িয়ে ঘরে ঢুকছে৷ বাবা-মায়েদের তাঁদের সন্তানদের আরও বেশি সময় দেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান৷''

সম্প্রতি মেদিনীপুরের আনন্দপুর এলাকার দশম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কন দের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ৷ স্নানাগারে মুখে প্লাস্টিক জড়িয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিল অঙ্কন৷ শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় তার৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আরও কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করলে এই গেমের ভয়াবহতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে৷ ক'‌দিন আগে মুম্বইয়ের পূর্ব আন্ধেরির শের-এ-পঞ্জাব এলাকার বহুতলের ছ'তলা থেকে এক কিশোরকে ঝাঁপ দিতে দেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি৷ মৃত কিশোরের মোবাইল আর কম্পিউটার ঘেঁটে ব্লু হোয়েলের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ৷ বছর চোদ্দোর ক্লাস নাইনের ওই ছাত্র ছিল মনপ্রীত সিং৷ কেরলের তিরুবনন্তপুরম শহরের পেরুকুলামের বাসিন্দা মনোজ সি মনু ব্লু হোয়েলের খপ্পরে পড়ে আত্মহত্যা করার আগে নিকট আত্মীয়দের উদ্দেশ্যে লিখেছিল, ‘আমি আত্মহত্যা করলে তোমরা কষ্ট পাবে?'

‘ব্লু হোয়েল'-এর মতো বিপজ্জনক অনলাইন গেমস-এর লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দি‌য়েছে ভারত সরকার৷ গুগল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, মাইক্রোসফ্‌ট এবং ইয়াহু থেকে অবিলম্বে এই লিংক সরাতে হবে৷ কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রে খবর, অনলাইন গেমসের নেশায় মেতে বিশ্ব জুড়েই একাধিক দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে৷ ভারত তার ব্যতিক্রম নয়৷ সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের একাধিক ঘটনার খবর শোনা গিয়েছে৷ তাতে যে ‘ব্লু হোয়েল'-ই জড়িত তেমন অভিযোগও উঠেছে৷

অডিও শুনুন 04:17
এখন লাইভ
04:17 মিনিট
বিষয় | 21.08.2017

‘জলজ্যান্ত মানুষের অবহেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন গেমের দি...

‌সরকার যে নির্দেশ পাঠিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ‘অবিলম্বে ব্লু হোয়েল বা এ ধরনের বিপজ্জনক গেমসের লিঙ্ক সরিয়ে ফেলতে হবে৷' কেন্দ্রীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের নির্দেশের পরই ওই পাঁচ সংস্থাকে ‘ব্লু হোয়েল' সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে৷

‌ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ঋতম গিরি মনে করেন, ‘‘মারণ এই খেলা থেকে তরুণ-‌তরুণীদের রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো বাড়িতে বাবা-‌মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা৷ জলজ্যান্ত মানুষের অবহেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন গেমের দিকে ঝুঁকছে৷''

ফিলিপ বুদেইকিন নামে সাইকোলজির এক প্রাক্তন ছাত্র নিজেকে ওই গেমের আবিষ্কর্তা বলে দাবি করে৷ বছর একুশের ওই রুশ যুবকের দাবি, যাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন, প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তাঁদের আত্মহত্যার জন্য মজাদার পথ বাতলাতেই এই গেমের ভাবনা৷ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে৷ পুলিশকে ফিলিপ বলেছে, ‘‘সমাজকে পরিচ্ছন্ন করাই'' নাকি তাঁর উদ্দেশ্য৷

কিশোর-কিশোরীদের এ ধরনের গেম থেকে দূরে রাখতে কী করা উচিত? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

আজব দর্শক!

সাজগোজে দর্শকরা কিছু কম যাননি, সংখ্যাতেও নয়৷ একা কোলোনের বাণিজ্যমেলা কেন্দ্রেই এসেছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ, বাকি নানা ছোটখাট ইভেন্টে মিলিয়ে আরো লাখ খানেক অথবা তার কিছু বেশি৷

পোকেমন

কসপ্লেয়াররা প্রেরণা পান তাদের ভিডিও গেম হিরোদের কাছ থেকে৷ এই দলটি পোকেমন-এর অনুরাগী৷ ‘পোকেমন গো’ নামধারী অগমেন্টেড রিয়্যালিটি গেমটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে বেরিয়েই দুনিয়া জয় করে ফেলেছে, যার ফলে নিন্টেন্ডোর শেয়ার আকাশে চড়েছে৷

‘ওভারওয়াচ’ স্ট্যান্ড

৯৭টি দেশ থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছিলেন পাঁচ দিনের ইভেন্টটিতে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই এ-বছরের হিট মাল্টিপ্লেয়ার গেম ‘ওভারওয়াচ’ খেলে দেখতে চান৷

স্মার্টফোনের দুনিয়া

জার্মানিতে এ-বছর প্রায় ৩৫ লাখ ইউরো মূল্যের ভিডিও গেমস বিক্রি হবে বলে বাজারে খবর৷ তার একটি বড় অংশ যাবে স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটে খেলার উপযোগী গেমে৷ সাবেক কম্পিউটার বা কনসোলের জন্য ভিডিও গেমের চাহিদা কমেই চলেছে৷

নীলপরী

লিগ অফ লিজেন্ডস গেমের মর্গানা নামধারী চরিত্রটিকেও কোলোনে দেখা গেছে৷ গেমটিকে সংক্ষেপে ‘লল’ (এলওএল) বলা হয়ে থাকে৷ খুবই জনপ্রিয় গেম৷ কাজেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা মোটা নগদ পুরস্কার জেতার আশায় নিয়মিত প্রতিযোগিতায় নেমে থাকেন৷

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি

গেমসকমে নতুন নতুন ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইস (অর্থাৎ যন্ত্রপাতি বা সাজসরঞ্জাম) পরখ করে দেখার সুযোগ পেয়েছেন গেমাররা৷ এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি নাকি গেমিং-এর ভবিষ্যৎ৷ অকুলাস রিফ্ট, এইচটিসি ভাইভ, স্যামসাং-এর গিয়ার ভিআর, এগুলো ধীরে ধীরে গেমারদের হাতে, নাকে, কানে উঠছে৷ ছবিতে এক গেমার সোনি-র ভিআর হেডসেটটি পরীক্ষা করে দেখছেন৷ সেটটি আগামী অক্টোবর বাজারে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

গেমার-এর চেয়ে গেমের বয়স বেশি!

যেমন সুপার মারিও ব্রস. বা ব্রাদার্স, যা চিরকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও গেমসগুলির মধ্যে পড়ে৷ কিশোর গেমাররা নিন্টেন্ডোর ১৯৮৫ সালের এই ক্ল্যাসিক গেমটি খেলে দেখতে পারে, এটা বোঝার চেষ্টায় যে, বাবা-মা আজ অবধি সুপার মারিও খেলে এত মজা পান কেন...৷