বিশ্বজুড়ে প্রশ্নবিদ্ধ মানবাধিকার কর্মীরা!

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা জনবিচ্ছিন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছেন৷ সাংবাদিকদের সহিংসতার শিকার হওয়া নিয়ে স্টেট অফ সিভিল সোসাইটির করা প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে৷ এনজিও ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে৷

চার হাজার সদস্যের স্টেট অব  সিভিল সোসাইটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিরঘিস্তানের সরকারপন্থি সমালোচকদের বর্ণনায় ভূমধ্য সাগরে শরণার্থী উদ্ধারকারী মানবাধিকারকর্মীরা ‘পাচারকারী’ হিসেবে উঠে আসছেন৷ অন্যদিকে মেক্সিকোতে প্রতি ১৬ ঘণ্টায় একজন করে সাংবাদিক হামলার শিকার হচ্ছে৷

জোহানেসবার্গভিত্তিক স্টেট অব সিভিল সোসাইটি, অর্থাৎ সিভিকাস ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্সের এক সম্মেলনে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়৷ তবে প্রতিবেদনটির বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন এনজিও কর্মীরা৷

প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের জন্য বৈশ্বিক সমাজকে পাঁচভাগে ভাগ করা হয়েছে৷ এগুলো হচ্ছে উন্মুক্ত, দমন, বাধাগ্রস্ত, সংকীর্ণ এবং বন্ধ৷

জার্মানি ও ক্যানাডাসহ ৪৫টি দেশে উন্মুক্ত সমাজ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এসব স্থানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে৷ আর ৫৩টি দেশে দমনভিত্তিক সমাজ পরিচালিত হয়, এর মধ্যে হাঙ্গেরি, বলিভিয়া ও ব্রাজিল উল্লেখযোগ্য৷ এসব সমাজে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা তাঁদের মত প্রকাশ করতে পারেন না৷ নিপীড়নভিত্তিক সমাজ হিসেবে ৩৫টি দেশ চিহ্নিত হয়েছে৷ এর মধ্যে আফগানিস্তান, রাশিয়া উল্লেখযোগ্য৷ আর সিরিয়া, কিউবা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকার দেশগুলোর সমাজকে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে৷

এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ব্রাজিলের মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন কনেকটাস-এর কর্মী ক্যামিলা আসানো বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে আমাদের প্রতি আচরণ ও বিশ্লেষণ চোখে পড়বার মতো করে বদলেছে৷’’ তিনি জানান, ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা অসংখ্যবার প্রকাশ্যে অপদস্থ হয়েছেন৷

একই কথা বলেন, জার্মান প্রটেস্ট্যান্ট চার্চভিত্তিক ত্রাণ সংস্থা ‘ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মুখপাত্র অ্যানি ড্রেয়ার৷ তিনি বলেন, সামাজিক সংস্থা ও সমাজের সুযোগ কর্তনের যে প্রবণতা চালু হয়েছে, সেটি ইউরোপেও কড়া নাড়ছে৷

আস্ত্রিদ প্রাঞ্জে/এফএ

গতবছর এপ্রিলের ছবিঘরটি দেখুন...

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় ‘জেলখানা’ তুরস্ক

কোন দেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন বা পরাধীন, তা মূল্যায়ন করে প্রকাশিত এ বার্ষিক প্রতিবেদনে তুরস্ককে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় জেল’ হিসেবে৷ ২০১৬ সালের কথিত ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে সে দেশে অনেক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে এর্দোয়ান সরকার৷ প্রতিবেদনে তুরস্ক আছে ১৫৭ নম্বরে৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

গণমাধ্যমের ‘শত্রু’ ট্রাম্প

ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স৷ ট্রাম্পকে প্রায়ই মিডিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলতে শোনা যায়৷ গণমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে বিষোদগার করতেও দেখা গেছে তাঁকে৷ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৪৫তম স্থানে৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

রাশিয়া এবং চীনে গণমাধ্যমের দুরবস্থা

রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ারও সমালোচনা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, পুটিন ক্রেমলিনে ফেরার পর থেকে নানাভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে৷ সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন৷ সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করার কথা উল্লেখ করে চীনেরও সমালোচনা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স৷ তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান ১৪৮, চীন তার অনেক নীচে ১৭৬তম স্থানে৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

সেরা দশে এখনো ইউরোপের প্রাধান্য

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ইউরোপ সবসময়ই প্রশংসিত৷ এবারও সেরা দশে ইউরোপেরই প্রাধান্য৷ তাই প্রথম থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড৷ তারপর সপ্তম ও নবম স্থানেও ইউরোপের দুই দেশ বেলজিয়াম ও ডেনমার্ক৷ সবাইকে অবাক করে সেরা দশের ষষ্ঠ স্থানে ঢুকে পড়েছে ক্যারিবীয় দেশ জ্যামাইকা৷ নবম স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

ইউরোপের কলঙ্ক?

ইউরোপের কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভয়ানকভাবে খর্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স৷ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে সাংবাদিক, ব্লগার ডাফনে কারুয়ানা গালিজিয়া নিহত হওয়ার পর ১৮ ধাপ পিছিয়ে ৬৫ নম্বরে নেমে গেছে মাল্টা৷ স্লোভাকিয়াতেও এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৷ তাই সেই দেশ ১০ ধাপ পিছিয়ে ২৭-এ৷ সাংবাদিকদের ‘স্লোভাকবিরোধী নোংরা বেশ্যা’ বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

সবচেয়ে খারাপ কারা?

১৮০টি দেশকে নিয়ে তৈরি করা তালিকার শেষ দশে ইউরোপের কোনো দেশ নেই৷ সেখানে ১৭১তম দেশ ইকোয়েটোরিয়াল গিনি৷ তারপর থেকে ১৮০তম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে রয়েছে কিউবা, জিবুতি, সুদান, ভিয়েতনাম, চীন, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরিত্রিয়া এবং উত্তর কোরিয়া৷

ইউরোপেও প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

এবং বাংলাদেশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিক ও কয়েকশ’ ব্লগার এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে৷ দেশে সংবিধান এবং ইসলামের সমালোচনা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায়ই স্পষ্টবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং ব্লগারদের অনলাইনে হত্যার আহ্বান জানায় ইসলামী জঙ্গিরা৷ সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের মতোই আছে, ১৪৬৷

আমাদের অনুসরণ করুন