বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসে ভারতের অবস্থান

প্রতি বছর ৩১ মে পালিত হয় বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস৷ এ বছরের থিম তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রসার ও স্পনসরশিপ নিষিদ্ধকরণ৷ তামাক সেবন ও ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর, তারই একটা চিত্র উঠে এসেছে ভারতের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়৷

তামাক সেবন প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর এক বৃহত্তম কারণ৷ বর্তমানে বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে একজন মারা যায় এই কারণে৷ তামাক সেবন বা চিবানো ধূমপানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক৷ বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস বা ‘ওয়ার্ল্ড নো-টোবাকো ডে’-র ঠিক আগে ভারতের এক সমীক্ষায় যেসব তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাতে দেখা গেছে যে, কলকাতা শহরের অর্ধেকেরও বেশি ক্যানসার রোগী ধূমপায়ীদের তুলনায় গুটখা, খৈনি, পান মসলা সেবনকারী৷ শহরের ৭০ শতাংশ তামাকসেবীদের বয়স ৩৫-এর নীচে৷ সবথেকে উদ্বেগের কথা, নিয়মিত তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য সেবনজনিত কারণে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্তদের গড় বয়স কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ বছর৷

বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের এবারের থিম তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রসার ও স্পনসরশিপ নিষিদ্ধকরণ

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের চেয়ে তামাক সেবনের প্রবণতা বাড়ার কারণ কী? সমাজসেবীদের মতে, তামাক সস্তায় ও সর্বত্র পাওয়া যায়৷ আর এটা খাওয়াতে এমনিতে কোনো বিধিনিষেধ নেই, যে কোনো জায়গায় খাওয়া যায়৷ যেমন সিনেমা হলে, অডিটোরিয়ামে, সফরকালে, কর্মস্থলে, বাসে-ট্রেনে যত্রতত্র৷

তামাক সেবন যদি বন্ধ করা যায়, তাহলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের হার বর্তমানের ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা যায়৷ গুটখা, খৈনি ও পান মসলা বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এর বিক্রি বন্ধ হয়নি মোটেও৷ সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে ধূমপায়ীদের তুলনায় তামাকজাত দ্রব্য সেবনের হার ক্রমশই বাড়ছে৷ পশ্চিমবঙ্গে দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন তামাকসেবী৷ পাঁচজন মহিলার মধ্যে একজন তামাক খান৷ এক দশক আগে মাথায়, গলায় ও ঘাড়ে ক্যানসারের জন্য দায়ী করা হতো ধূমপানকে৷ গত সাত বছর থেকে নেশার এই প্রবণতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে৷

তামাকজাত দ্রব্যের নেশা শুরু হয় ১৮ থেকে ১৯ বছরে৷ এদের মধ্যে অর্ধেক ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টার মধ্যে নেশার টান অনুভব করে৷ যদিও এদের ৮৫ শতাংশ জানেন যে তামাক বা ধূমপানে ক্যানসার হয়৷ তবু তাঁরা নেশা ছাড়তে পারেন না যতদিন তা সহজলভ্য থাকবে৷

সমীক্ষায় দেখা গেছে কলকাতার অর্ধেকেরও বেশি ক্যানসার রোগী ধূমপায়ীদের তুলনায় গুটখা, খৈনি, পান মসলা সেবনকারী

এখানেই আসছে তামাক ও ধূমপানের বিজ্ঞাপন, প্রসার ও স্পনসরশিপের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার প্রয়োজনীয়তা৷ তামাক বা ধূমপানের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হচ্ছে কিনা – সেদিকে কড়া নজরদারি৷ এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তামাক উৎপাদনও৷ এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করার কাজ হাতে নিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কয়েকটি এনজিও৷ ভারতে তামাক ও সিগারেট কোম্পানিগুলি বিজ্ঞাপনের খরচ করে থাকে কোটি কোটি টাকা৷

এই কাজে সফল অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৩ সালের ‘ওয়ার্ল্ড নো-টোবাকো ডে’ পুরস্কার পাচ্ছেন বিহারের ফুড সেফটি কমিশনার তথা স্বাস্থ্য সচিব সঞ্জয় কুমার৷ ফুড সেফটি কমিশনার হিসেবে তিনি বিহার রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছেন গুটখা, খৈনি, পান মসলা মজুত ও বিক্রির ওপর৷ বন্ধ করেছেন তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রসার ও স্পনসরশিপ সংক্ষেপে ট্যাপস-ও৷

আমাদের অনুসরণ করুন