বিয়ে করতে সমকামী যুগলদের মামলা

আসছে ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করার অধিকার আদায়ে আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে জাপানের সমকামী ১৩ যুগল৷ জাপানে ১৮৮০ সাল থেকেই সমকামে আইনত কোনো বাধা নেই৷

শুধু রাজধানী টোকিওতে নয়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে কমপক্ষে চারটি শহরের আদালতে মামলা হবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইয়োশি ইয়োকোইয়ামা নামের এক আইনজীবী৷

‘‘সংবিধান আপনাকে সুখী থাকবার অধিকার দিয়েছে, সমঅধিকার দিয়েছে,'' থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন ঐ আইনজীবী৷ তিনি আবেদনকারীদের পক্ষে লড়ছেন৷ ‘‘সমকামীদের বিয়ের অধিকার না দিয়ে আপনি তা লঙ্ঘন করছেন৷''

জাপান এলজিবিটি'দের ব্যাপারে এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে তুলনামূলক বেশি সহনশীল৷ তবে খোলামেলাভাবে সমকামী দাবি করার ব্যাপারে এখনো সমাজে ট্যাবু রয়ে গেছে৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

নেদারল্যান্ডস

২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়৷ ছবিতে সমকামী দম্পতিকে বিয়ের পর কেক কাটতে দেখা যাচ্ছে৷ ২০১১ সালে দেশটিতে সমকামী বিয়ে বৈধ হওয়ার ১০ বছর পূর্তিতে তাঁরা বিয়ে করেন৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

ইংল্যান্ড

২০১৩ সালের জুলাইতে সমকামী বিয়ে বৈধ করে আইন পাস হয়৷ এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এলটন জন তাঁর সঙ্গীকে বিয়ে করেন৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

ফ্রান্স

দেখছেন দেশটির প্রথম সমকামী জুটির বিয়ের ছবি৷ ২০১৩ সালের মে মাসে ফ্রান্সে এই বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

লুক্সেমবুর্গ

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়৷ এর চার মাস পর সঙ্গীকে বিয়ে করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাভিয়ের বেটেল (ডানে)৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

আয়ারল্যান্ড

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ডে ২০১৫ সালের মে মাসে গণভোটের মাধ্যমে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

ইউরোপের অন্যান্য দেশ

২০০৩ সালে বেলজিয়াম, ২০০৫ সালে স্পেন, ২০০৯ সালে নরওয়ে, একই বছর সুইডেন, ২০১০ সালে পর্তুগাল, একই সময়ে আইসল্যান্ড, ২০১২ সালে ডেনমার্ক, ২০১৪ সালে ফিনল্যান্ড এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রিসে সমকামী বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

দক্ষিণ আফ্রিকা

আফ্রিকার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৬ সালে থেকে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ একই সময় থেকেই তাঁরা সন্তানেরও অভিভাবক হওয়ার অনুমতি পায়৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

আর্জেন্টিনা

ল্যাটিন অ্যামেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ২০১০ সালে এরকম বিয়ের বৈধতা দেয় আর্জেন্টিনা৷ এরপর ঐ মহাদেশের ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ায় সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়েছে৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

ব্রাজিল

ল্যাটিন অ্যামেরিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ব্রাজিলে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ ছবিটি ঐ বছরের ৮ ডিসেম্বর তোলা৷ সেদিন প্রায় ১৩০ সমকামী জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৷ এক অনুষ্ঠানে এতজন সমকামীর বিয়ে করার ওটিই ছিল তখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

যুক্তরাষ্ট্র

দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করে৷ উত্তর অ্যামেরিকার ক্যানাডা ও মেক্সিকোর পাঁচটি রাজ্যেও এখন এই বিয়ে বৈধ৷

যেসব দেশে সমকামী বিয়ে বৈধ

নিউজিল্যান্ড

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের একমাত্র দেশ যেখানে ২০১৩ সালের এপ্রিলে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷ ছবিতে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউন থেকে অকল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে এমন একটি বিয়ে পড়ানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে৷

এই মনোভাবে পরিবর্তন আনতে এক যুগল ২৫টি দেশে যেখানে সমকামী বিয়ে বৈধ সেখানে তাদের বিয়ের ছবি প্রদর্শনী করার কথা ভাবছেন৷ তবে বিয়ে অবৈধ হলেও দেশটির অনেক শহরে যুগলরা এমন সনদ তুলতে পারেন, যা তাদের যে কোনো বিবাহিত যুগলের সমস্ত সুবিধা পেতে সাহায্য করে, যেমন, বাসা ভাড়া করা কিংবা হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ইত্যাদি৷

যে ১৩ যুগল মামলা করতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে আই নাকাজিমা-ক্রিস্টিনা বাউমান যুগলও আছেন৷ বাউমান জার্মান নাগরিক৷ তিনি জাপানে পড়াশোনা করছেন৷ নাকাজিমা ভয় পাচ্ছেন যে, পড়া শেষ হলে বাউমানকে জার্মানি চলে যেতে হতে পারে৷ একমাত্র বিয়ে হলেই তিনি সঙ্গীর জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন৷

‘‘অনেক জাপানি-বিদেশি যুগল আছেন৷ যেহেতু তাদের সম্পর্কের আইনগত সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই চাইলেও জাপানে থাকতে পারছেন না তারা'' বলেন নাকাজিমা৷

আউটরাইট অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি এলজিবিটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের আঞ্চলিক প্রকল্প সমন্বয়ক জিং ক্রিস্টোবাল মনে করেন, জাপান এশিয়ায় উদাহরণ তৈরি করতে পারে৷

‘‘থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানের মতো জাপানেরও সুযোগ রয়েছে, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা এশিয়ার প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি হওয়ার,''  ইমেইলে রয়টার্সের কাছে মন্তব্য করেন তিনি৷

জেডএ/এসিবি (রয়টার্স)