1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বৃহত্তম ফেস রিকগনিশন ডেটাবেস করছে ভারত

৯ নভেম্বর ২০১৯

সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর নজর রাখা এবং দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করতে দেশজুড়ে ফেস রিকগনিশন সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে ভারত৷

https://p.dw.com/p/3SkeY
ছবি: Imago/J. Tack

অধিকারকর্মী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা গোপনীয়তার ঝুঁকি এবং বাড়তি নজরদারির এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করলেও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় অপরাধ রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) এই সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে৷ এজন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরপত্রও চেয়েছে তারা৷

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অল্প পুলিশের দেশটিতে এই প্রযুক্তিটি বিশেষ প্রয়োজন৷ জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ভারতে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ১৪৪ জন পুলিশ রয়েছেন৷

আর এনসিআরবি বলছে, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং সহজে তথ্য সংগ্রহ, অপরাধ সনাক্ত ও যাচাইকরণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে৷

বাহিনীতে সীমিত জনবল এবং পর্যাপ্ত অর্থের যোগান না পাওয়ায় ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ফৌজদারি মামলা দ্রুত শেষ করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজছিল

এনসিআরবি বলছে, ফেস রিকগনিশন সিস্টেমের মাধ্যমে অপরাধী, হারানো শিশু বা ব্যক্তির খোঁজ করা, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ সনাক্ত ছাড়াও পরিচয়হীন মানুষদের সনাক্ত করা হবে৷ এছাড়া অপরাধীদের ছবির ডাটাবেসও করা হবে৷ আর একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধীদের তালিকার সঙ্গে সন্দেহভাজনদের মিলিয়ে দেখতে পারবেন৷

ডাটাবেসে সোশাল মিডিয়া, সংবাদপত্র, সিসিটিভি ক্যামেরা, পাসপোর্ট, প্রকাশ্যস্থান, অপরাধমূলক রেকর্ড থেকে ছবি যুক্ত করা হবে৷ এছাড়া সন্দেহভাজনদের আঁকা স্কেচগুলোও সেখানে রাখা হবে৷

গত জুলাই মাসে ভারতের কয়েকটি বিমানবন্দরে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছিল৷ এর কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ শিশুদের সনাক্ত করার কথা জানায় দিল্লি পুলিশ৷

তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয় মানবাধিকারকর্মী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তারা বলছেন, এই সিস্টেমটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে এবং এটি বাস্তবায়ন হলে কর্তৃপক্ষের জন্য বর্ধিত নজরদারি চালাতে সহজ হবে৷

ওপেন-ইন্টারনেট অ্যাডভোকেসি গ্রুপের পরিচালক রমন জিত সিং চিমা বলেন, "এ বিষয়টি তারা (এনসিআরবি) কোনো নীতিগত পরামর্শ ছাড়াই করছে এবং এনিয়ে কোনো নীতিমালাও নেই৷ তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই৷''

বাসুদেবান শ্রীধরন/এসআই/কেএম