1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সময় চাইলেন টেরেসা

১৪ জুলাই ২০১৬

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে জার্মান ও ফরাসি নেতাদের বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে নিতে খুব তাড়াহুড়ো নেই তাঁর৷ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর আগে তাঁর সময়ের প্রয়োজন৷

https://p.dw.com/p/1JOes
Großbritannien Theresa May Downing Street 10
ছবি: Reuters/P. Nicholls

বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মে৷ ব্রেক্সিট আলোচনা শুরুর আগে এ বিষয়ে তাঁর সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ মে'র মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, ফোনে ঐ দুই নেতাকে মে জানিয়েছেন ব্রিটেনের জনগণের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করবেন তিনি৷ তবে এর জন্য সময় লাগবে৷

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

ম্যার্কেল নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ তাঁর মুখপাত্র স্টেফেন জাইবার্ট জানিয়েছেন, ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরও দুই নেত্রী দু'দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন৷

বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ম্যার্কেল টেরেসা মে'র অন্যতম পছন্দের ব্যক্তি৷ তাই ম্যার্কেলের কাছে মে'র প্রস্তাব, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেন ব্রিটেনকে আরো কিছুটা সময় দেয়৷

অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ চান ইইউ থেকে ব্রিটেন যেন যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে যায়৷ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্স একসাথে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

ব্রাসেলসের মত

কেবল ফ্রান্স নয়, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য খুব শিগগিরই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শ্লুজ এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুঙ্কার নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দেবেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো৷ তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর আগে হয়ত মে লিসবন চুক্তির আওতায় ৫০ ধারা তুলে ধরতে পারেন, যেখানে বলা হয়েছে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে কোনো দেশ অন্তত ২ বছর সময় নিতে পারে৷

দুই নেত্রীর মধ্যে মিল

যাজকের সন্তান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরিশ্রমী, সন্তানহীন- জার্মান ও ব্রিটিশ দুই নেত্রীর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে৷ কেবল তাই নয়, দুই দলই রক্ষণশীল দলের প্রতিনিধিত্ব করছে৷ রাজনৈতিক মতাদর্শেও দুজনের ভীষণ মিল রয়েছে৷ তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোসেফ ইয়ানিং৷ তিনি মনে করেন, ১০ বছর পর দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, দুজনের পরিকল্পনায় এমন কিছুর আভাস পাননি তিনি৷ রক্ষণশীল হওয়া সত্ত্বেও দু'জনের দৃষ্টিভঙ্গি নারীবাদী৷ দুজনেই ঐতিহ্য রক্ষায় বিশ্বাসী৷ তাই ব্রেক্সিট আলোচনায় এই দুই শক্তিশালী নারী কীভাবে আলোচনা করবেন তা দেখতে আগ্রহী অনেকেই৷

৫৯ বছর বয়সী মে ফ্যাশন সচেতন, কনজারভেটিভদের মধ্যে আধুনিকতাপন্থি৷ তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ‘লৌহমানবী' মার্গারেট থ্যাচারের ছায়া খুঁজে পান অনেকে৷

মে সরকারের দায়িত্ব নিলেন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ইতিহাসের কঠিন এক সময়ে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া তাঁকেই তদারক করতে হবে, যদিও তিনি নিজে এর সঙ্গে একমত ছিলেন না৷ ছয় বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা এই রাজনীতিবিদ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না৷

এপিবি/এসিবি (ডি ডব্লিউ, এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য