ভারতে সিজারিয়ান অপারেশন বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে 

সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তানপ্রসবের হার বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে৷ এর বিহিত করতে সিজারিয়ান ও স্বাভাবিক ডেলিভারির হার অডিট করে তার তালিকা প্রকাশ্যে দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস) সঙ্গে যুক্ত প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে দেখানোর নিয়ম বাধ্যতামূলক করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডাকে চিঠি দিয়েছেন৷ প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে সন্তান প্রসবে অনাবশ্যকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন রোধে সময়ান্তরে অডিট করারও অনুরোধ করা হয়েছে রাজ্য সরকারগুলিকে৷ সাম্প্রতিককালে সন্তান প্রসবে সিজারিয়ান পদ্ধতি অবলম্বনের হার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে৷ এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যে৷ বারংবার কোনো মহিলার সিজারিয়ান করা হলে তাঁর প্রজনন স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়৷ এর বিহিত করতে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলির তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে সিজারিয়ান অপারেশনের হার তিনগুণ বেশি৷ প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে এই হার যেখানে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ, সরকারি হাসপাতালে সেখানে এই হার মাত্র ১১ দশমিক ৮ শতাংশ৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

অডিও শুনুন 00:50
এখন লাইভ
00:50 মিনিট
বিশ্ব | 21.07.2017

‘খরচ কম করতে হলে কর্পোরেট মালিকদের সঙ্গে সরকারের কথা বলতে হবে’

এই তারতম্যের কারণ কী? কারণটা লুকিয়ে আছে সম্ভবত বাণিজ্যিক স্বার্থে৷ মেডিক্যাল বিল মোটা করতে৷ এর ফলে সবথেকে বেশি মার খায় আর্থিক দিক থেকে অসচ্ছল পরিবারগুলো, বিশেষ করে যাদের মেডিক্যাল ইনসিওরেন্স নেই৷ প্রাইভেট হাসপাতালগুলি যাতে সন্তান প্রসবে অনাবশ্যকভাবে সিজারিয়ান না করে তার জন্য ক্লিনিক্যাল প্রতিষ্ঠান আইনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারগুলিকে বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব সি. কে. মিশ্র৷ প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান প্রকল্পে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সিজারিয়ান অপারেশন করার দরকার না পড়ে৷ কারণ এই অপারেশন বেশ ব্যয়সাপেক্ষ, যার জন্য গরিব মহিলার পরিবারকে অহেতুক আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়৷ ভারতে স্বল্পবিত্ত পরিবারের ৭০ শতাংশেরই মেডিক্যাল বিমা নেই৷

এর প্রেক্ষিতে, দু'টি রাজ্যের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাইভেট হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলিতে সিজারিয়ান সন্তান প্রসবের হার প্রায় ৭৪ শতাংশ৷ সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই হার ১৮ শতাংশের মতো৷ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ছবিটা প্রায় একই৷ প্রাইভেট এবং সরকারি হাসপাতালগুলিতে সিজারিয়ান এবং নর্মাল ডেলিভারির হার যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৮শতাংশ৷ সবথেকে বেশি সিজারিয়ান হয় তেলেঙ্গানা রাজ্যে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ দশনিক ৬ শতাংশ৷ আর সবথেকে কম সিজারিয়ান হয় রাজস্থানে৷

প্রশ্ন হলো, সিজারিয়ান অপারেশন কখন দরকার হয়? যখন দেখা যায় স্বাভাবিক প্রসব করাতে গেলে সন্তান এবং মায়ের জীবনের আশংকা রয়েছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিজারিয়ানেও ঝুঁকি আছে৷ এই যেমন সেই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের উন্নত পরিকাঠামো যদি না থাকে তবে জটিলতা দেখা দিতে পারে৷

স্বাস্থ্য

দু’জনের জন্য খেতে হবে

সবচেয়ে বেশি যে ধারণাটা প্রচলিত তা হলো – তুমি এখন আর একা নও৷ তাই দু’জনের সমান খেতে হবে৷ অথচ বাস্তবতা হলো, শিশু তো একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ না৷ মা যা খায় সেই নির্যাস সে গ্রহণ করে৷ হ্যাঁ গর্ভাবস্থায় ক্ষুধা বেড়ে যায়, সেটা হরমোনের কারণে৷ একজন গর্ভবতী নারীর দিনে ৩০০ ক্যালোরি খাবার খাওয়া যথেষ্ট৷

স্বাস্থ্য

দুধ, দই খেলে বাচ্চা হবে ফর্সা

বাংলাদেশ ও ভারতে মানুষ ভীষণ বর্ণবাদী৷ বাচ্চা কালো না ফর্সা হবে এটা তাদের ভীষণ চিন্তার বিষয়৷ তাই, দুধ, দইয়ের মতো সাদা খাবার বাচ্চার রং ফর্সা করবে – এমনটাই ধারণা করা হয়৷ অথচ বাচ্চা রঙ কেমন হবে তা নির্ভর করে বাবা-মায়ের জিনের উপর৷

স্বাস্থ্য

ঘি খেলে প্রসব সহজ হয়

বিশেষজ্ঞদের মত, আপনি যা খাবেন তা পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাবে, প্রজনন তন্ত্রে প্রবেশ করবে না৷ তাই ঘি যতই খান তা ‘লুব্রিকেন্ট’ বা পিচ্ছিল পদার্থের কাজ করবে না৷

স্বাস্থ্য

যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, গর্ভাবস্থায় একজন নারী যৌন মিলনের ততটাই আনন্দ নিতে পারেন, যতটা গর্ভধারণের আগে নিতে পারতেন৷ যৌন মিলনের ফলে শিশুর শরীরে কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে না৷ বরং প্রসব সহজ করার ক্ষেত্রে যোনির একধরনের ব্যয়াম হয় এর মাধ্যমে৷

স্বাস্থ্য

সুন্দর শিশুর ছবি দেখা

শিশুর বাবা-মায়ের জিনই ঠিক করবে সে কার মতো দেখতে হবে৷ তাই যতই সুন্দর সুন্দর বাচ্চার ছবি টাঙিয়ে রাখুন কোনো লাভ নেই৷

স্বাস্থ্য

সিঁড়ি ভেঙো না

গর্ভধারণ কোনো অসুখ নয় যে সারাদিন আপনাকে শুয়ে বসে কাটাতে হবে৷ তাই আগে যেমন জীবন কাটাতেন তার ছন্দপতন যেন না হয়৷ আপনি যদি নিয়মিত ব্যয়াম করে থাকেন, এক্ষেত্রে সেটা শরীরের জন্য আরও ভালো৷

স্বাস্থ্য

পেটের আকৃতি দেখে বলা ছেলে না মেয়ে

এটারও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই৷ হ্যাঁ আপনার যদি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার এবং সময় কাটানোর ইচ্ছে থাকে, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা!

স্বাস্থ্য

মায়ের চেহারা দেখে বলা

বাংলায় একটা কথা আছে, ছেলের মা সুন্দরী, মেয়ের মা বান্দরী৷ অর্থাৎ পেটে ছেলে থাকলে মায়ের চেহারা খুব সুন্দর হয়ে যায়৷ আর যদি মেয়ে থাকে তাহলে নাকি খুব খারাপ হয় চেহারা৷ এর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই৷ কেননা এটা হরমোনের ওপর নির্ভর করে৷

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যবান শিশুর জন্য প্রচুর খাওয়া

শিশু যাতে স্বাস্থ্যবান হয়, একথা ভেবে প্রচুর ঘি আর চিনি খাচ্ছেন? বাচ্চা হয়ত মোটা সোটা হবে, কিন্তু সেই সাথে ডায়বেটিসের সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে৷

ডাক্তার এবং প্রাইভেট মেডিক্যাল সংস্থাগুলি সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে শিশু ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর নির্দেশিকার সমালোচনা করেছে৷ তাদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানিগুলি অপারেনের খরচ অনেকটাই বহন করে থাকে৷ দ্বিতীয়ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে এত বেশি ভিড় যে সময়মত পরিষেবা পাওয়া যায় না৷ তাই তাঁরা ছুটে আসে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং নার্সিং হোমে৷

সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা এত বাড়ার কারণ জানতে চাইলে নাম করা স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর অঞ্জন দে ডয়চে ভেলেকে যা বললেন, তার সারমর্ম হলো – আজকাল মায়েরা গর্ভযন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি নন৷ তাঁরা তাড়াতাড়ি ডেলিভারি করানোর জন্য ডাক্তারদের চাপ দেন৷ সেজন্য প্রাইভেট হাসপাতালে বেশি টাকা খরচ করতেও পেছপা হন না অবস্থাপন্নরা৷ দ্বিতীয় বড় কারণ, আজকাল মহিলারা বেশি বয়সে বিয়ে করেন৷ ফলে সন্তানধারণ করেনও বেশি বয়সে৷ যদি ৩৫ বছরের লক্ষণরেখা পেরিয়ে যায়, তাহলে সন্তান এবং মায়ের স্বাস্থ্যের জটিলতা বাড়ে৷ প্রাইভেট হাসপাতালে খরচ কম করার বিষয়ে গায়নোকলজিস্ট ডক্টর দে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘প্রাইভেট হাসপাতালে খরচ কম করতে হলে কর্পোরেট মালিকদের সঙ্গে সরকারের কথা বলতে হবে৷ এক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোনো হাত নেই৷'' এছাড়া কর্পোরেট মালিকদের বলতে হবে সস্তায় সরকারি জমিতে যেসব কর্পোরেট-অধীনস্ত প্রাইভেট হাসপাতাল হয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তাদের খরচ কমাতে হবে৷ পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলিতেও বাড়াতে হবে ডাক্তারদের সংখ্যা৷

এ বিষয়ে আপনার কী মতামত? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়