ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকটে বিস্ময়করভাবে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে৷ দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন ট্রাম্প৷ তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সেনা প্রস্তুতের কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ইন্সটিটিউটের উপর ভেনেজুয়েলা সরকারের দমনপীড়ন বন্ধে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছেন তিনি৷ নিউ জার্সিতে নিজের গল্ফ কোর্সে ছুটির কাটানোর সময় একথা বলেন ট্রাম্প৷ তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে, এমনকি অনেক দূরের দেশেও আমাদের সেনা রয়েছে৷ ভেনেজেয়ুলা অনেক দূরের কোনো জায়গা নয় এবং সেখানে মানুষ ভুগছে ও মারা যাচ্ছে৷''

‘‘ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেয়াসহ আরো অনেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে আমাদের", যোগ করেন ট্রাম্প৷ 

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

বুধবার দুই প্রতিবাদকারীর মৃত্যু

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বুধবার গুলিতে নিহত হন এক ১৭ বছর বয়সি তরুণ এবং ২৩ বছর বয়সি নারী প্রতিবাদকারী৷ কারাকাসের বাইরে এক সৈনিকের মৃত্যু ঘটেছে বলেও জানিয়েছে গণমাধ্যম৷ সবমিলিয়ে সেদেশে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন৷

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

খাদ্য, নির্বাচনের দাবি

খাদ্য স্বল্পতা এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নামা কয়েকহাজার মানুষকে শক্তহাতে প্রতিরোধ করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরো বিশৃঙ্খল করে তুলছে নিরাপত্তা বাহিনী৷ দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমনে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে৷ প্রতিবাদকারীরাও অবশ্য পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়েছে৷ কারাকাস এবং অন্যান্য শহরেও সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে৷

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

লুটপাট

এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে রাতের বেলা কারাকাসের পশ্চিমে বেকারি, সুপারমার্কেট এবং খাদ্য জমা রাখার সেন্টারে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন যে মাদুরো ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র গুণ্ডাদের লেলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে৷

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রাণহানির পরও মোটেই দমে যাননি প্রতিবাদকারীরা৷ বরং বৃহস্পতিবার আরো বড় পরিসরে আন্দোলনের ঘোষণা দেন তাঁরা৷ লক্ষ্য মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা৷ সেদেশের ঊধ্বর্তন বিরোধী নেতা হেনরিক কাপরিল্স বুধবার রাতে বলেন, ‘‘আজ আমাদের মতো কয়েক লাখ লোক রাজপথে ছিল৷ কাল আমাদের মতো আরো অনেকের বের হতে হবে৷’’

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

মাদুরোর উপর চাপ

বলাবাহুল্য, ২০১৪ সাল ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মাদুরোর উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে৷ আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেলের দাম কমে যাওয়ায় সেদেশে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়েছে৷ সম্প্রতি আবার নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় আরো সমালোচনার মুখে পড়েন মাদুরো৷

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

জরিপে নেতিবাচক ফল

এদিকে, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে প্রতি দশজন ভেনেজুয়েলানের মধ্যে সাতজনই মাদুরোর উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন৷ অথচ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরোর ক্ষমতায় থাকার কথা ২০১৯ সাল অবধি৷

ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে

সমর্থকরাও মাঠে

বিরোধীদের পাশাপাশি মাদুরোর সমর্থকরাও তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে৷ আর তাঁর সবচেয়ে বড় সমর্থক, সেদেশের সামরিক বাহিনীও মাদুরোর প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে৷ যদিও বিরোধী দল বর্তমান পরিস্থিতির অবসানে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে৷

প্রসঙ্গত, এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘একনায়ক' আখ্যা দিয়ে তাঁর সামলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ তবে শুক্রবার ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন যে, দেশটির বিরুদ্ধে এখনই সামরিক উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন না তিনি, শুধুমাত্র সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন৷

পেন্টাগন অবশ্য জানাচ্ছে যে, ভেনেজুয়েলার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা হোয়াইট হাউস থেকে তাদের কাছে পৌঁছায়নি৷ ওদিকে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পেডরিনো ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'একধরনের পাগলামি' আখ্যা দিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘একজন উগ্রপন্থি অভিজাত ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করছেন৷ সত্যিকার অর্থে বলতে গেছে আমি জানি না কী হচ্ছে, বিশ্বের কী হতে যাচ্ছে৷''

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর মাদুরো তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চেয়েছেন৷ তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরো ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার পরই তিনি তাঁর ফোন কল গ্রহণ করবেন, না বলে নয়৷

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় গত চার মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইতোমধ্যে ১২০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক হাজার প্রতিবাদকারী৷ প্রেসিডেন্ট মাদুরো এই প্রতিবাদের পরেও ক্ষমতা ছাড়েননি৷ বরং তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বেধে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে৷ অন্যদিকে ক্রমাগত আন্দোলন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে এখন চলছে চরম খাদ্য ও ওষুধ সংকট৷

এআই/ডিজি (এএফপি, এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন