মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সৈন্য বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সৈন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ এর মধ্যেও নিজেদের জেদ দেখিয়ে চলেছে ইরান৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি বলছে, নতুন করে ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েনের চাহিদা দেখাচ্ছে পেন্টাগন৷ তবে রয়টার্স বলছে, এই সংখ্যা পাঁচ হাজার৷

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের জন্য ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ বিরাজ করছে বলে আলোচনা হয় ওয়াশিংটনের এক বৈঠকে৷ ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য বাড়ানোর কথা বলেন কর্মকর্তারা৷

বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সৈন্য মোতায়েনের ওই পরিকল্পনা পেশ করতে পারে৷ তবে সৈন্য মোতায়েনের বিস্তারিত এখন পর্যন্ত জানা যায়নি৷

মার্কিন কর্মকর্তারা এটুকু বলেছেন, অতিরিক্ত ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি’ এবং যুদ্ধজাহাজ থাকছে নতুন সৈন্যবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনায়৷

এর আগে রোববার এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধ করতে চায়, তাহলে সেটা হবে দেশটির ‘আনু্ষ্ঠানিক শেষযাত্রা’

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

উত্তর কোরিয়া

জরিপের মাধ্যমে অ্যামেরিকার শত্রুদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে গ্যালাপ৷ প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের জরিপে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো এবারও অ্যামেরিকার শত্রু তালিকার শীর্ষ দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার নাম আছে৷ ২০১৬ সালে ১৬ ভাগ মানুষ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে হুমকি হিসাবে বিবেচনায় নিয়েছিলেন৷ ২০১৮ সালে এসে হুমকি বিশ্বাসকারীদের সংখ্যা ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

রাশিয়া

অ্যামেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার শত্রুতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের৷ এর মধ্যে উত্থান-পতনও দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে৷ ২০১৬ সালে ১৫ শতাংশ অ্যামেরিকান বলেছেন, রাশিয়া তাঁদের সবচেয়ে বড় শত্রু৷ ২০১৮ সালে গিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ শতাংশে৷

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

চীন

চীনের সঙ্গে অ্যামেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকেও৷ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে চীন৷ দুই দেশের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত উভয়ের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে৷ ২০১৬ সালে অ্যামেরিকার ১২ শতাংশ মানুষের বিবেচনায় চীন ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় শত্রু৷ তবে, ২০১৮ সালে দেশটিকে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ১১ শতাংশ অ্যামেরিকান৷

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

ইরান

২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অ্যামেরিকানদের কাছে তাঁদের শত্রু তালিকায় শীর্ষে ছিল ইরান৷ পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি ভালো হয় কিছুটা৷ তবে, ২০১৫ সালে ইরানকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ৯ শতাংশ অ্যামেরিকান৷ ২০১৮ সালে এমন চিন্তার মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ শতাংশে৷

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

সিরিয়া

গ্যালাপের পাশাপাশি অ্যামেরিকার শত্রুদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে ক্যানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন গ্লোবালাইজেশন বা সিআরজি৷ তাদের বিবেচনায় ইরান, রাশিয়া ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে সিরিয়ায় ক্ষমতাসীনদের সখ্যের কারণে সিরিয়ার সঙ্গে অ্যামেরিকার বিরোধ হয়েছে৷ আবার অ্যামেরিকা-ইসরায়েল মৈত্রীর ক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থানে আছে সিরিয়া৷ ভূ-রাজনৈতিক কারণে সিরিয়ার উপর আধিপত্য রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র৷

অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?

ভেনেজুয়েলা

সিআরজি বলছে, ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ ও সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে অ্যামেরিকার সঙ্গে তাঁদের বিরোধ দীর্ঘদিনের৷ যদিও বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা, তবুও সেই বিরোধ কমেনি মোটেও৷ দেশটির ক্ষমতাসীন মাদুরো সরকারকে হটাতে তৎপর অ্যামেরিকা৷ সম্প্রতি অ্যামেরিকার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশটি৷

উত্তেজনার বাড়ার মাধ্যমেও নিজেদের স্পর্ধার প্রকাশ ঘটিয়েছে ইরান৷ দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার বলেছেন, ইরানে আক্রমণের সাহস অ্যামেরিকা দেখাবে না৷

‘‘পাপী অ্যামেরিকা এবং তাদের পশ্চিমা ও আঞ্চলিক সহযোগীরা কখনোই সম্মুখসমরে ইরানে আক্রমণ চালানোর সাহস করবে না৷ কারণ, আমাদের জনগণ ও তরুণদের মধ্যে আছে প্রতিরোধ আর আত্মত্যাগের উদ্দীপনা,’’ ইরানের মেজর জেনারেল গোলামালি রাশিদকে উদ্ধৃত করে লিখেছে দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স৷

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইরানি যুবকরা জীবদ্দশাতেই ইসরায়েলি ও অ্যামেরিকান সভ্যতার পতন দেখে যাবে৷

‘‘তোমরা তরুণরা নিশ্চিত থাকো, মানবতার শত্রু, অর্থাৎ অধঃপতিত অ্যামেরিকান সভ্যতা এবং ইসরায়েলের পতন তোমরা দেখে যাবে,'' বুধবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য এক বক্তৃতায় বলেন তিনি৷

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সরে আসার পর থেকে উত্তেজনা চলছে দুই দেশের মধ্যে৷ ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রকাশ্যে যুদ্ধ না চাইলেও উত্তেজনা বেড়েই চলেছে

সর্বশেষ গত সপ্তাহে সৌদি আরবে দুটি পেট্রোলিয়াম স্থাপনার উপর ড্রোন হামলার পর রবিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন'-এ মার্কিন দূতাবাসের কাছে এক রকেট হামলা হয়েছে৷ দুটি ঘটনার জন্যই ইরানকে সন্দেহ করা হলেও বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে৷ মার্কিন সৈন্য বা স্থাপনার উপর ইরান বা ইরান-সমর্থিত কোনো গোষ্ঠী হামলা চালালে তার উচিত জবাব দেওয়া হবে বলে অ্যামেরিকা সতর্ক করে দিয়েছে৷

এমবি/এসিবি (এপি, রয়টার্স)

আমাদের অনুসরণ করুন