‘মনে হতে পারে আমি পিছু হটেছি'

পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষক আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যে মামলা করেন, তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷

মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদকে রাজি করাতে ড. ফাহমিদুল হককে অবশ্য আরেকটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দুঃখপ্রকাশ করতে হয়েছে৷ অধ্যাপক ফাহমিদের বিরুদ্ধে অধ্যাপক মনসুর মামলাটি করেন ১৩ জুলাই৷ ফাহমিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এই মামলা দুঃখজনক৷ আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব৷''

এরপর ১৭ জুলাই দুঃখপ্রকাশ করেন ড. ফাহমিদুল হক৷ তাঁর এই বর্তমান অবস্থান পিছু হটা কিনা জানতে চাইলে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার যে বর্তমান অবস্থান তাতে এক অর্থে এটাকে পিছু হটা মনেও হতে পারে৷''

দুঃখপ্রকাশের পর এখন বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে অধ্যাপক ফাহমিদ বলেন, ‘‘যিনি অভিযোগকারী তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন৷ তিনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন৷ এতে একটু সময় লাগবে৷ তবে আশা করি ধীরে ধীরে সমাধানে পৌঁছে যাব৷''

পোস্টটির জন্য দুঃখপ্রকাশের কথা আবারো নিশ্চিত করে ড. ফাহমিদুল হক বলেন, ‘‘আমি পোস্টটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি৷ দুঃখপ্রকাশের পরই তিনি মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন৷ আমরা দু'জনই একসঙ্গে কাজ শুরু করি৷ আমি দুঃখপ্রকাশ করি এবং তিনি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন৷ এই সাজেশনটি এসেছিল আমাদের বিভাগ থেকে, অ্যাকাডেমিক কমিটি থেকে৷''

অডিও শুনুন 02:28
এখন লাইভ
02:28 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 20.07.2017

‘আমি যেভাবে লিখেছি সেটা হয়ত সঠিক নয়’

ড. ফাহমিদ এর আগে ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট এবং ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন৷ সেই ৫৭ ধারার মামলা প্রত্যাহারের জন্য সহকর্মীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করা নিয়ে তাঁর এখনকার অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘৫৭ ধারার বিরুদ্ধে আমার যে অবস্থান, সেটা এখনো আছে৷ তবে আমার যে বর্তমান অবস্থান তাতে এক অর্থে এটাকে পিছু হটা মনেও হতে পারে৷ তবে নানা দিক ভেবে আমি এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি৷ সেটা আমি এখন ব্যাখ্যা করতে পারছি না৷''

দুঃখপ্রকাশ করার মধ্য দিয়ে পোস্টটির যথার্থতা প্রমাণে আপনি ব্যর্থ হলেন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ফাহমিদ বলেন, ‘‘সেটা বলা একটু মুশকিল৷ হয়ত এটা ভিন্নভাবে লেখা যেত৷ তাতে কোনো ঝামেলাও হতো না হয়ত৷ আরেকটু ভেবে চিন্তে লেখা যেতে পারত৷ আমি যেভাবে লিখেছি সেটা হয়ত সঠিক নয়৷ অন্যান্য বিবেচনায় হয়ত সঠিক৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি বেশ কয়েকটি বিষয় ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি (দুঃখপ্রকাশের)৷ এটা সবকিছু এখন পরিষ্কার করে বলা সম্ভব নয়৷ যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া চলছে আমার পক্ষে এখন আর কিছু বলা সম্ভব নয়৷''

এ নিয়ে অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদের বক্তব্য জানতে বার বার তাঁকে ফোন ও টেক্সট মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি৷ তবে তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘‘আমার সহকর্মী ড. ফাহমিদুল হক তাঁর ফেসবুক পোস্টে আমার সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করায় আমি মামলা করেছিলাম৷ পরবর্তীতে ড. ফাহমিদ তাঁর সেই ফেসবুক পোস্টটি সঠিক ছিল না বলে স্বীকার করে এবং এর জন্যে আমার নিকট দুঃখপ্রকাশ করেছেন৷ যেহেতু তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তাই আমি মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি৷''

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷