‌মমতা বোঝালেন, সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের এবং রাজ্য সরকারের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থানকে নিশ্চিত করে দিলেন৷ কট্টরহিন্দু্ত্ববাদী রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানান তিনি৷

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ মূলত শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান৷ ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চালানোয় ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়৷ সেই সময় থেকে, এবং ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করার পর এই দিনটি ‘শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়৷ এই বছর, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয় এবং দ্বিতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরা উপলক্ষে এই দিনটি ‘বিজয় দিবস' হিসেবে পালনেরও ডাক দেওয়া হয়েছিল৷ প্রত্যাশা ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি, কিছু প্রশাসনিক বক্তব্যও রাখবেন৷ বিশেষ করে সম্প্রতি রাজ্যে আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে সিন্ডিকেট চক্র এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে তিনি যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেই নিয়ে আরও সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশ থাকবে৷ সেই সঙ্গে থাকবে রাজনৈতিক বক্তব্যও, যেমনটা থাকে৷

কণকচূড় ধানের খই

জয়নগরের মোয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান কণকচূড় ধানের খই, যা এখনও প্রথাগত পদ্ধতিতেই ঝাড়াই-বাছাই করা হয়৷

খেজুরের রসে মোয়া

মোয়ার দ্বিতীয় উপাদান হলো ‘নলেন গুড়’, যা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে খেজুরের রস জাল দিয়ে তৈরি করতে হয়৷

‘শিউলি’

খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন যাঁরা, তাঁদের চলতি কথায় বলা হয় ‘শিউলি’ - এঁরা গাছ বাইতে ওস্তাদ৷

‘নলেন গুড়’

খেজুর গাছের মাথার দিকে, গুঁড়ির গায়ে চিরে দিয়ে, তার তলায় বাঁধা হয় মাটির হাঁড়ি - সরু নল দিয়ে রস এসে জমা হয় হাঁড়িতে৷ এই নলের কারণেই নাম ‘নলেন গুড়’৷

গাছের গায়ের দাগ

খেজুর গাছের গায়ে কাটার দাগ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায় - যে গাছের গায়ে যত বেশি দাগ, ধরে নিতে হবে, সেই গাছের রস তত বেশি মিষ্টি৷

জ্বালানি কাঠের ঢিমে আঁচের মোয়া

গুড় জাল দেওয়ার জন্য দরকার হয় কাঠের ঢিমে আঁচ - সেই জ্বালানি কাঠ শীতকাল শুরু হওয়ার আগেই মজুত রাখতে হয়৷

মোয়ার মণ্ড

নলেন গুড়ের সঙ্গে কণকচূড় ধানের খই মিশিয়ে, ঘন করে পাক দিয়ে তৈরি হয় জয়নগরের মোয়ার মণ্ড৷

ঘি মেখে তৈরি মোয়া

গাওয়া ঘি দু হাতে মেখে, গোল গোল করে পাকিয়ে তৈরি করা হয় মোয়া৷

ক্ষীরের মোয়া

স্বাদ বাড়ানোর জন্য তার সঙ্গে যুক্ত হয় খোয়া ক্ষীর, কাজুবাদাম, কিশমিশ৷

সর্বত্র পাওয়া যায় এই মোয়া

কখনও হাঁড়িতে, কখনও রঙচঙে প্যাকেটে ভরে জয়নগরের মোয়া চলে যায় রাজ্যের সর্বত্র৷

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কিন্তু কার্যত দলীয় রাজনৈতিক সমাবেশের এই মঞ্চকে তৃণমূল নেত্রী বেছে নিলেন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এক স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য৷ এবারে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী বামফ্রন্ট এবং বিজেপি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, বিশেষ করে বামেরা৷ যাঁকে তারা এবার বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল, গত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সেই সূর্যকান্ত মিশ্র নিজেই এবার জিততে পারেননি৷ ঠিক যে দুর্দশা হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের, ২০১১ সালের পালাবদলের ভোটে৷ রাজনৈতিকভাবে এমন অপ্রাসঙ্গিক এবং বাতিল হয়ে যাওয়া বিরোধী বাম-কং জোট সম্পর্কে মমতা যে বেশি কথা খরচা করবেন না, সেটাও প্রত্যাশিত ছিল৷ বাকি থাকে বিজেপি, যাদের ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বহীন হয়েও হতে পারে না, কারণ কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার৷ সেই বিজেপির মোকাবিলা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু হাতুড়িটা মারলেন একেবারে মাথায়!‌ যে হিন্দুত্ববাদী ভাবনাকে বিজেপি সুকৌশলে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাইছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন৷

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া – এই জেলাগুলো পরিচিত তার লাল মাটির জন্য৷ ল্যাটেরাইট গোত্রের এই লাল মাটি পুড়িয়েই হয় বিষ্ণুপুরের বিশ্ববিখ্যাত টেরাকোটার কাজ৷

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ মূলত শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান৷ ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চালানোয় ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়৷ সেই সময় থেকে, এবং ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করার পর এই দিনটি ‘শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়৷ এই বছর, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয় এবং দ্বিতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরা উপলক্ষে এই দিনটি ‘বিজয় দিবস' হিসেবে পালনেরও ডাক দেওয়া হয়েছিল৷ প্রত্যাশা ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি, কিছু প্রশাসনিক বক্তব্যও রাখবেন৷ বিশেষ করে সম্প্রতি রাজ্যে আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে সিন্ডিকেট চক্র এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে তিনি যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেই নিয়ে আরও সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশ থাকবে৷ সেই সঙ্গে থাকবে রাজনৈতিক বক্তব্যও, যেমনটা থাকে৷

কণকচূড় ধানের খই

জয়নগরের মোয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান কণকচূড় ধানের খই, যা এখনও প্রথাগত পদ্ধতিতেই ঝাড়াই-বাছাই করা হয়৷

খেজুরের রসে মোয়া

মোয়ার দ্বিতীয় উপাদান হলো ‘নলেন গুড়’, যা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে খেজুরের রস জাল দিয়ে তৈরি করতে হয়৷

‘শিউলি’

খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন যাঁরা, তাঁদের চলতি কথায় বলা হয় ‘শিউলি’ - এঁরা গাছ বাইতে ওস্তাদ৷

‘নলেন গুড়’

খেজুর গাছের মাথার দিকে, গুঁড়ির গায়ে চিরে দিয়ে, তার তলায় বাঁধা হয় মাটির হাঁড়ি - সরু নল দিয়ে রস এসে জমা হয় হাঁড়িতে৷ এই নলের কারণেই নাম ‘নলেন গুড়’৷

গাছের গায়ের দাগ

খেজুর গাছের গায়ে কাটার দাগ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায় - যে গাছের গায়ে যত বেশি দাগ, ধরে নিতে হবে, সেই গাছের রস তত বেশি মিষ্টি৷

জ্বালানি কাঠের ঢিমে আঁচের মোয়া

গুড় জাল দেওয়ার জন্য দরকার হয় কাঠের ঢিমে আঁচ - সেই জ্বালানি কাঠ শীতকাল শুরু হওয়ার আগেই মজুত রাখতে হয়৷

মোয়ার মণ্ড

নলেন গুড়ের সঙ্গে কণকচূড় ধানের খই মিশিয়ে, ঘন করে পাক দিয়ে তৈরি হয় জয়নগরের মোয়ার মণ্ড৷

ঘি মেখে তৈরি মোয়া

গাওয়া ঘি দু হাতে মেখে, গোল গোল করে পাকিয়ে তৈরি করা হয় মোয়া৷

ক্ষীরের মোয়া

স্বাদ বাড়ানোর জন্য তার সঙ্গে যুক্ত হয় খোয়া ক্ষীর, কাজুবাদাম, কিশমিশ৷

সর্বত্র পাওয়া যায় এই মোয়া

কখনও হাঁড়িতে, কখনও রঙচঙে প্যাকেটে ভরে জয়নগরের মোয়া চলে যায় রাজ্যের সর্বত্র৷

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কিন্তু কার্যত দলীয় রাজনৈতিক সমাবেশের এই মঞ্চকে তৃণমূল নেত্রী বেছে নিলেন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এক স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য৷ এবারে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী বামফ্রন্ট এবং বিজেপি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, বিশেষ করে বামেরা৷ যাঁকে তারা এবার বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল, গত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সেই সূর্যকান্ত মিশ্র নিজেই এবার জিততে পারেননি৷ ঠিক যে দুর্দশা হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের, ২০১১ সালের পালাবদলের ভোটে৷ রাজনৈতিকভাবে এমন অপ্রাসঙ্গিক এবং বাতিল হয়ে যাওয়া বিরোধী বাম-কং জোট সম্পর্কে মমতা যে বেশি কথা খরচা করবেন না, সেটাও প্রত্যাশিত ছিল৷ বাকি থাকে বিজেপি, যাদের ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বহীন হয়েও হতে পারে না, কারণ কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার৷ সেই বিজেপির মোকাবিলা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু হাতুড়িটা মারলেন একেবারে মাথায়!‌ যে হিন্দুত্ববাদী ভাবনাকে বিজেপি সুকৌশলে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাইছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন৷

কেউ ছাগলের মাংস খায়, কেউ গরুর – তাতে অন্যের কী?

এবং মমতার বিরুদ্ধতা লোকের কাছে পৌঁছাল একেবারে সোজাসাপ্টা ভাষায়, যে ভাষাটা সাধারণ মানুষ, এমনকি নিরক্ষর মানুষও বুঝতে পারে৷ মমতা বললেন, আপনারা সাবধান থাকবেন৷

লাল মাটির সরানে

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া – এই জেলাগুলো পরিচিত তার লাল মাটির জন্য৷ ল্যাটেরাইট গোত্রের এই লাল মাটি পুড়িয়েই হয় বিষ্ণুপুরের বিশ্ববিখ্যাত টেরাকোটার কাজ৷

নিজস্ব স্থাপত্যরীতি

বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দিরের কিছু নিজস্বতা আছে৷ যেমন মূল মন্দিরের সামনে, মন্দিরের আদলেই একটি ছোট আকারের তুলসীমঞ্চ৷ বাংলার স্থাপত্যশেলীর নিদর্শন এগুলিও৷

সময়ের আঁচড়

সব মন্দিরের গায়ের রিলিফের কাজই যে যথাযথভাবে সংরক্ষিত করা গেছে, তা নয়৷ কোনো কোনো মন্দির জীর্ণ হয়েছে সময়ের আঁচড়েও৷

তবু অনন্য

তবু বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যরীতির অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে এইসব টেরাকোটা মন্দির৷ যেমন এই বাংলা চালা, যে নকশা উঠে এসেছে গ্রামবাংলার খড়ের চাল থেকেই৷

ইসলামি প্রভাব

সুলতানি আমলে ইঁটের খিলান আর গম্বুজ তৈরির যে স্থাপত্যরীতি, তার প্রভাবও স্পষ্ট বিষ্ণুপুরের মন্দিরের খিলানের কাজে৷

স্থাপত্য দক্ষতা

১৭ এবং ১৮ শতকে এইসব পোড়ামাটির মন্দির যাঁরা তৈরি করেছিলেন, সেই স্থপতিরা যে কী অসামান্য দক্ষতার অধিকারী ছিলেন, তা বোঝা যায় ক্ষয় ধরা ইটের পাঁজার দিকে তাকালেও৷

পোড়ামাটির শিল্প

শুধু স্থাপত্যরীতিই নয়, বিষ্ণুপুরের মন্দির প্রসিদ্ধ তার গায়ের পোড়ামাটির টালির কারুকাজের জন্যেও৷ পুরাণের কাহিনি থেকে যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস, শিকারের গল্প – সবই বলা হয়েছে তাতে৷

জাতীয় সম্পদ

এমনই চমৎকারিত্ব পোড়ামাটির টালির এই রিলিফের কাজের, ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ সবকটি মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে নিজেদের হাতে৷

কৃষ্ণের জীবন

বিষ্ণুপুরের এসব মন্দির তৈরি করিয়েছিলেন মল্ল রাজারা৷ তাঁরা ছিলেন বৈষ্ণব৷ তাই মন্দিরের কারুকাজে কৃষ্ণজীবনের প্রাধান্য৷

আন্তর্জাতিক পরিচিতি

টেরাকোটার মন্দির আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছে বিষ্ণুপুরকে, বাংলার শিল্পকে৷ বিশ্বের দরবারে বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে এই টেরাকোটা শিল্প৷

বিজেপির মদতে ওদেরই কিছু শাখা সংগঠন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানতে চাইছে, বাড়িতে কটা গরু আছে৷ আপনারা পাল্টা জানতে চাইবেন, আপনি কেন জানতে চাইছেন? আপনাদের কী অধিকার আছে এ সব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার? এর পরই মমতার স্পষ্ট উচ্চারণ, কেউ ধুতি পরবে, কেউ লুঙ্গি৷ যে পরবে, তার ইচ্ছা৷ কেউ ছাগলের মাংস খেতে ভালোবাসে, কেউ গরুর৷ অন্য কেউ কেন বলে দেবে আমি কী পরব, কী খাব! এ রকম যদি চলতে থাকে, তা হলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা পথে নামবে৷ রাজনৈতিকভাবে এই বদমাইশির মোকাবিলা করা হবে৷ এখানে লক্ষ্যণীয় যে মমতা প্রশাসনিক মোকাবিলার কথা‌ কিন্তু একবারও বলেননি৷ বরং বুঝিয়েছেন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করার দরকারও মনে করছেন না তিনি৷ তার আগে মানুষের সচেতন প্রতিরোধেই আটকে যাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর এই অপচেষ্টা৷

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, থাকতে হবে সজাগ

সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা, সুরক্ষার দায়িত্বও মমতা তুলে দিতে চেয়েছেন মানুষের হাতে৷ প্রতিবেশী বাংলাদেশে সম্প্রতি যে হিংসাত্মক জঙ্গিপনা চলছে, তার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, সমস্ত পাড়া, মহল্লাকে সজাগ, সতর্ক থাকতে হবে৷ কোনো সন্দেহজনক লোকজন, কাজকর্ম, গতিবিধি দেখলেই খবর দিতে হবে পুলিশকে৷ অচেনা কাউকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে, তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে স্থানীয় থানাকে যাচাই করার জন্য দিতে হবে৷ সন্ত্রাসবাদ, বা সন্ত্রাসী প্রবণতা রোখার কাজ যে কেবল প্রশাসনের না, সামাজিক স্তরেও তার প্রতিরোধ থাকতে হবে, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর এই উদ্যোগ এই কারণেই অসাধারণত্ব দাবি করছে যে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান এর আগেও নিশ্চিত করতে চেয়েছে সরকার, বা দল৷ কিন্তু এভাবে তার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে, তাদেরকেও সমান দায়িত্বশীল করে তোলার এই সহজিয়া চেষ্টা আগে চোখে পড়েনি৷ কারণ, এ কথা কে না জানে যে প্রতিরোধের ময়দানে দাঁড়িয়ে তত্ত্বকথা নয়, মানুষের সচেতনতাই একমাত্র অস্ত্র৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেই অমোঘ অস্ত্রেই শান দিয়ে রাখছেন৷

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ মূলত শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান৷ ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চালানোয় ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়৷ সেই সময় থেকে, এবং ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করার পর এই দিনটি ‘শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়৷ এই বছর, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয় এবং দ্বিতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরা উপলক্ষে এই দিনটি ‘বিজয় দিবস' হিসেবে পালনেরও ডাক দেওয়া হয়েছিল৷ প্রত্যাশা ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি, কিছু প্রশাসনিক বক্তব্যও রাখবেন৷ বিশেষ করে সম্প্রতি রাজ্যে আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে সিন্ডিকেট চক্র এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে তিনি যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেই নিয়ে আরও সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশ থাকবে৷ সেই সঙ্গে থাকবে রাজনৈতিক বক্তব্যও, যেমনটা থাকে৷

কণকচূড় ধানের খই

জয়নগরের মোয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান কণকচূড় ধানের খই, যা এখনও প্রথাগত পদ্ধতিতেই ঝাড়াই-বাছাই করা হয়৷

খেজুরের রসে মোয়া

মোয়ার দ্বিতীয় উপাদান হলো ‘নলেন গুড়’, যা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে খেজুরের রস জাল দিয়ে তৈরি করতে হয়৷

‘শিউলি’

খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন যাঁরা, তাঁদের চলতি কথায় বলা হয় ‘শিউলি’ - এঁরা গাছ বাইতে ওস্তাদ৷

‘নলেন গুড়’

খেজুর গাছের মাথার দিকে, গুঁড়ির গায়ে চিরে দিয়ে, তার তলায় বাঁধা হয় মাটির হাঁড়ি - সরু নল দিয়ে রস এসে জমা হয় হাঁড়িতে৷ এই নলের কারণেই নাম ‘নলেন গুড়’৷

গাছের গায়ের দাগ

খেজুর গাছের গায়ে কাটার দাগ পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায় - যে গাছের গায়ে যত বেশি দাগ, ধরে নিতে হবে, সেই গাছের রস তত বেশি মিষ্টি৷

জ্বালানি কাঠের ঢিমে আঁচের মোয়া

গুড় জাল দেওয়ার জন্য দরকার হয় কাঠের ঢিমে আঁচ - সেই জ্বালানি কাঠ শীতকাল শুরু হওয়ার আগেই মজুত রাখতে হয়৷

মোয়ার মণ্ড

নলেন গুড়ের সঙ্গে কণকচূড় ধানের খই মিশিয়ে, ঘন করে পাক দিয়ে তৈরি হয় জয়নগরের মোয়ার মণ্ড৷

ঘি মেখে তৈরি মোয়া

গাওয়া ঘি দু হাতে মেখে, গোল গোল করে পাকিয়ে তৈরি করা হয় মোয়া৷

ক্ষীরের মোয়া

স্বাদ বাড়ানোর জন্য তার সঙ্গে যুক্ত হয় খোয়া ক্ষীর, কাজুবাদাম, কিশমিশ৷

সর্বত্র পাওয়া যায় এই মোয়া

কখনও হাঁড়িতে, কখনও রঙচঙে প্যাকেটে ভরে জয়নগরের মোয়া চলে যায় রাজ্যের সর্বত্র৷