1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মানসিক অসুস্থতার জীবন

৪ নভেম্বর ২০১৫

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান৷ ২০১২ সালে হঠাত্‍ করেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ ক্লাস-পরীক্ষা সবই বন্ধ হয়ে যায়৷ পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তার সমস্যাটা বুঝতে পারেনি৷

https://p.dw.com/p/1GywB
Teenager mit Kopfschmerzen Illustration
ছবি: Colourbox

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের পরামর্শে তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান রতনের কাছে যান৷ দীর্ঘ চিকিত্‍সার পর এখন তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন৷ ক্লাস-পরীক্ষায়ও অংশ নিচ্ছেন৷

ডয়চে ভেলেকে সাক্ষাত্‍কার দিলে কে কী বলে - এমন সংশয় থেকে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি৷ তাই সাইদুর রহমান তাঁর ছদ্মনাম৷ সাক্ষাত্‍কারে তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়া, চিকিত্‍সা, কারা-কীভাবে তাকে সহযোগিতা করেছে সবকিছুই উঠে এসেছে৷

ডয়চে ভেলে: হঠাত্‍ করেই কি আপনার মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়ে?

সাইদুর রহমান: হ্যাঁ৷

যখন বুঝতে পারলেন, আপনি কি করলেন?

আসলে আমরা সমস্যাটা ছিল অ্যাংজাইটি অর্থাৎ দুশ্চিন্তা৷ এ কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে পারছিলাম না৷ আমার একজন শিক্ষকের পরামর্শে মানসিক চিকিত্‍সকের কাছে যাই৷

কার কাছে গেলেন?

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান রতনের কাছে যাই৷

এটা কতদিন আগে?

২০১২ সালে৷

চিকিত্‍সার প্রক্রিয়া কেমন ছিল?

দুই ধরনের৷ একটা ওষুধ ও অন্যটি সিভিক জীবন৷ সিভিক জীবনটা হল, যেখানে আপনার সমস্যা হচ্ছে, সেটা বার বার করা৷ যেমন, আপনি পরীক্ষা দিতে ভয় পাচ্ছেন, তারপরও আপনাকে বার বার পরীক্ষার হলে বসতে হবে৷ যাতে ভয়টা কেটে যায়৷ এক সময় মনে হবে হ্যাঁ আমি তো পারছি৷

সেখানে আপনি কতদিন চিকিত্‍সা নিয়েছেন?

২০১২ সাল থেকে৷ এখনো চলছে৷

চিকিত্‍সাতে কি আপনি অস্বস্তিকর কিছু উপলব্ধি করেছেন?

না, সেরকম অস্বস্তিকর কিছু মনে হয়নি৷ তবে ভয়টা ফেস করা সবসময় অস্বস্তিকর৷ এটা চিকিত্‍সার জন্য না৷ রোগের জন্য৷ বিশেষ করে যাদের অ্যাংজাইটি থাকে, তাদের অ্যাংজাইটি ফেস করে দিন পার করা আসলেই অস্বস্তিকর৷

এখানে চিকিত্‍সা করতে আপনাকে কি হাসপাতালে থাকতে হয়েছে?

না, বাসাতে থেকেই চিকিত্‍সা করাতে পেরেছি৷

আপনার এই সমস্যাটা কি আপনার পরিবারের সদস্যরা জানেন?

হ্যাঁ জানেন৷

[No title]

প্রথম যখন রোগটি ধরা পড়ে তখন পরিবারের সদস্যদের আচরণ কেমন ছিল?

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারেনি৷ তারা আমার উপর কিছুটা রাগ করেছিল৷ তারা মনে করেছে, আমি মনে হয় ইচ্ছে করে এমন করছি, পড়াশোনা করতে চাচ্ছি না৷ এটা একেবারে প্রথম দিকে অল্প কিছুদিনের জন্য৷ পরে যখন মানসিক চিকিত্‍সক তাদের বোঝালো তখন তারা বুঝতে পারেন৷ তখন তাদের ভূমিকা ছিল সহযোগিতামূলক৷

এখন তো ক্লাস করতে বা পরীক্ষা দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না?

না, কোন সমস্যা হচ্ছে না৷

আপনার সহপাঠীরা কি কখনও বুঝতে পেরেছে যে আপনার মানসিক রোগ আছে?

যারা খুবই ক্লোজ তারা বুঝতে পেরেছে৷ তবে সবাই না৷

তখন তাদের আচরণ কেমন ছিল?

ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ভূমিকা ছিল সহযোগিতামূলক৷ তবে অন্যরা যারা আমাকে চেনেন, কিন্তু অতটা ক্লোজ না তারা আমার সমস্যাটা বুঝতে পারতো না৷ তারা মনে করত, আমি মনে হয় সিরিয়াস হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷ তবে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুযায়ী আমাকে সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেছে৷

একজন শিক্ষকের পরামর্শে তো আপনি চিকিত্‍সকের কাছে গেলেন, অন্য শিক্ষকদের ভূমিকা কেমন ছিল?

শিক্ষকরা যখন জেনেছেন এমন সমস্যা হচ্ছে তখন কোনো কোনো শিক্ষক আমাকে বলেছেন, ঠিকমতো ক্লাসে আসো৷ আবার অনেক শিক্ষক বিষয়টা বুঝতে পারেনি৷ আসলে কোনো কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে ভালো সহযোগিতা পেয়েছি৷ আবার কোনো কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলেও যেটা আমার দরকার ছিল ততটা পাইনি৷

আপনার আত্মীয়-স্বজন কি আপনার সমস্যার কথা জানেন?

হ্যাঁ, অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনই জানেন৷

তাঁদের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল?

অধিকাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক৷ তবে অনেকে সমস্যার লেভেলটা বুঝতে পারেন না৷ ফলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করেন না৷

যারা অ্যাংজাইটিতে ভুগছে, তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

একজন মানুষ যখন বুঝতে পারবেন দুশ্চিন্তা তার নিয়ন্ত্রণে আসছে না, দুশ্চিন্তা তো জীবনের একটা পার্ট৷ এই পার্টটাকে ক্যারি করতে যাদের সমস্যা হচ্ছে তাদের উচিত দ্রুততার সঙ্গে মানসিক চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেয়া৷

এই রোগটা নিজে থেকেই বোঝা যায়?

মানসিক রোগ হল দুই ধরনের৷ একটা নিউরোসিস ও অন্যটি সাইক্রোসিস৷ নিউরোসিস হল মৃদু মানসিক রোগ৷ এক্ষেত্রে রোগী নিজেই বুঝতে পারেন৷ আর সাইক্রোসিস হল রোগী গায়েবি নির্দেশ শুনতে পান৷ সে বাস্তব জগতে নেই৷ এটা হলো জটিল মানসিক রোগ৷ যেমন ধরেন গায়েবি নির্দেশে তিনি নিজের সন্তানকে হত্যা করে ফেললেন৷ এক্ষেত্রে রোগী নিজে কিছু বুঝতে পারেন না৷ তার আশপাশের লোকের দায়িত্ব তাঁকে চিকিত্‍সকের কাছে নিয়ে যাওয়া৷

সাক্ষাৎকার: সমীর কুমার দে, ঢাকা

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

আপনার পরিচিত এমন কারও কথা জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান