মানুষের জন্যই মানুষকে জীববৈচিত্রে বিনিয়োগ করতে হবে

প্রজাতি, প্রকৃতি বা পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কস্টা রিকার কথা প্রথমে কারো মনে পড়বে না, অথচ সেখানে বেশ কয়েক দশক ধরে চলেছে পুনর্বনানীকরণ৷ ইতিমধ্যে দেশের পঞ্চাশ ভাগ বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় বনানীতে ঢেকেও গেছে৷

বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পয়জন ডার্ট ফ্রগ-এর সুরক্ষার প্রয়োজন৷ জীববিজ্ঞানী ও পশুপ্রেমী হুয়ান কার্লোস ক্রুস বলেন, ‘‘এটা একটি এন্ডেমিক প্রজাতি, মানে এই ব্যাং শুধু কস্টা রিকায় পাওয়া যায়৷ শুধুমাত্র এখানে, আর ওসা উপদ্বীপে৷''

কাছেই সেই ব্যাঙের ডিমও খুঁজে পাওয়া গেল৷ বাঁদররা এগুলো খেতে খুব ভালোবাসে – তারা কাছাকাছি আছে নিশ্চয়৷ হুয়ান কার্লোস আর তার সতীর্থদের জন্য প্রমাণ যে, প্রজাতি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করার উপযোগিতা আছে৷ কার্লোস জানালেন, ‘‘জঙ্গল বাঁচানোর জন্য আমরা মাঝেমধ্যে জমি কিনে নিই৷ গবেষণার কাজও বেশ খরচার৷ এই সব জীবজন্তুর উপর নজর রাখার সরঞ্জামও খুব দামি৷ ক্যামেরা ট্র্যাপ, রাডার, এ সবের খরচ খুব বেশি৷ কাজেই সংরক্ষণের কাজে আমাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়ে৷''

Regenwald Costa Rica

কস্টা রিকার অপরূপ বনানী...

ক্যাম্প থেকে রাজধানীতে

একটানা বৃষ্টির ফলে ঝর্ণাগুলো খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে৷ বনের পথে যেতে প্রায়ই এই সব বাধার সম্মুখীন হতে হয়৷ তার চেয়ে ক্যাম্পে ফেরাই ভালো৷ ক্যাম্পে ফিরে হুয়ান কার্লোস গত সপ্তাহে তোলা সব ছবি দেখাচ্ছেন৷ জঙ্গলের মধ্যে কয়েকটা জায়গায় অটোম্যাটিক ক্যামেরা ট্র্যাপ লাগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ ক্যামেরার রেঞ্জের মধ্যে কেউ বা কোনো জীবজন্তু নড়াচড়া করলেই ছবি ওঠে – যেমন খাবারের খোঁজে পেকারির দল; অথবা একটা জাগুয়ার৷

সম্প্রতি দ্য ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) বিশ্বের ৪১ ভাগ উভচর এবং ২৬ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীই এখন চিরবিলুপ্তির ঝুঁকির সামনে৷ ছবির এই টিটিকাকা নামের বিশাল ব্যাঙগুলো এক সময় পেরু এবং বলিভিয়ার হৃদগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যেত৷ এখন খুব কম দেখা যায় এদের৷ কয়েক বছর পর হয়ত এই ধরণের ব্যাঙ শুধু ছবিতেই থাকবে৷

যৌথভাবে রচিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তির হাত থেকে কিছু গাছপালা, প্রাণী এবং সর্বোপরি মানুষকেও বাঁচাতে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ তাঁরা মনে করেন, এখন থেকে সতর্ক এবং সজাগ হলে বিলুপ্তি অনেকটাই বিলম্বিত করা সম্ভব৷

বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পয়জন ডার্ট ফ্রগ-এর সুরক্ষার প্রয়োজন৷ জীববিজ্ঞানী ও পশুপ্রেমী হুয়ান কার্লোস ক্রুস বলেন, ‘‘এটা একটি এন্ডেমিক প্রজাতি, মানে এই ব্যাং শুধু কস্টা রিকায় পাওয়া যায়৷ শুধুমাত্র এখানে, আর ওসা উপদ্বীপে৷''

কাছেই সেই ব্যাঙের ডিমও খুঁজে পাওয়া গেল৷ বাঁদররা এগুলো খেতে খুব ভালোবাসে – তারা কাছাকাছি আছে নিশ্চয়৷ হুয়ান কার্লোস আর তার সতীর্থদের জন্য প্রমাণ যে, প্রজাতি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করার উপযোগিতা আছে৷ কার্লোস জানালেন, ‘‘জঙ্গল বাঁচানোর জন্য আমরা মাঝেমধ্যে জমি কিনে নিই৷ গবেষণার কাজও বেশ খরচার৷ এই সব জীবজন্তুর উপর নজর রাখার সরঞ্জামও খুব দামি৷ ক্যামেরা ট্র্যাপ, রাডার, এ সবের খরচ খুব বেশি৷ কাজেই সংরক্ষণের কাজে আমাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়ে৷''

Regenwald Costa Rica

কস্টা রিকার অপরূপ বনানী...

ক্যাম্প থেকে রাজধানীতে

একটানা বৃষ্টির ফলে ঝর্ণাগুলো খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে৷ বনের পথে যেতে প্রায়ই এই সব বাধার সম্মুখীন হতে হয়৷ তার চেয়ে ক্যাম্পে ফেরাই ভালো৷ ক্যাম্পে ফিরে হুয়ান কার্লোস গত সপ্তাহে তোলা সব ছবি দেখাচ্ছেন৷ জঙ্গলের মধ্যে কয়েকটা জায়গায় অটোম্যাটিক ক্যামেরা ট্র্যাপ লাগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ ক্যামেরার রেঞ্জের মধ্যে কেউ বা কোনো জীবজন্তু নড়াচড়া করলেই ছবি ওঠে – যেমন খাবারের খোঁজে পেকারির দল; অথবা একটা জাগুয়ার৷

রাজধানী সান হোসেতে পৌঁছে আরেক দৃশ্য৷ কস্টা রিকা বহু দশক ধরে পুনর্বনানীকরণ চালাচ্ছে৷ ইতিমধ্যে দেশের ৫০ ভাগ রেন ফরেস্টে ঢাকা৷ পুনর্বনানীকরণের জন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের সন্ধানে আছেন সরকার৷ সরকারি কর্মকর্তারা বোঝালেন, তারা কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রজাতি সংরক্ষণ প্রকল্পে আগ্রহী করতে চান৷ কেননা প্রজাতি সংরক্ষণ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থা আর সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেও বটে৷

বিলুপ্তির মাত্রা ১০০ গুণ বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের এই কালো ভালুক আর কতদিন দেখা যাবে কে জানে? এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতকে জীববৈচিত্র কমেছে আগের চেয়ে প্রায় একশ’ গুণ বেশি হারে৷ বৃদ্ধির কারণ মানুষ৷ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে বলেছে, বণাঞ্চলে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ার কারণেই উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিলুপ্তি দ্রুততর হচ্ছে৷

তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

সম্প্রতি দ্য ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) বিশ্বের ৪১ ভাগ উভচর এবং ২৬ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীই এখন চিরবিলুপ্তির ঝুঁকির সামনে৷ ছবির এই টিটিকাকা নামের বিশাল ব্যাঙগুলো এক সময় পেরু এবং বলিভিয়ার হৃদগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যেত৷ এখন খুব কম দেখা যায় এদের৷ কয়েক বছর পর হয়ত এই ধরণের ব্যাঙ শুধু ছবিতেই থাকবে৷

মানুষই দায়ী

গত ৪০ বছর ধরে মানুষ প্রতি মিনিটে গড়ে অন্তত ২ হাজার করে গাছ কাটছে৷ তাহলে প্রতিদিন বিশ্বের বনাঞ্চল থেকে কী হারে গাছ কমছে ভেবে দেখুন! এর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ এবং উষ্ণায়নও নানাভাবে বাড়াচ্ছে মানুষ৷ এ সব বিষয় উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিলুপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে৷

বিপন্ন মানবজাতি

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জেরার্ডো সেবালোস মনে করেন, সতর্ক না হলে অনুমানের চেয়ে বেশ আগে মানুষও বিলুপ্ত হতে পারে৷ কিছু প্রাণীর সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব নির্ভরশীল – এ কথা বলে মৌমাছির উদাহরণ দিয়েছেন তিনি৷ মৌমাছি হারিয়ে গেলে অনেক রকমের খাবা তৈরি করা সম্ভব হবে না৷ ফলে একসময় দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে৷ দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গিয়ে মানবজাতির বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করতে পারে৷

‘দ্বিগুণ চেষ্টা করুন’

যৌথভাবে রচিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তির হাত থেকে কিছু গাছপালা, প্রাণী এবং সর্বোপরি মানুষকেও বাঁচাতে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ তাঁরা মনে করেন, এখন থেকে সতর্ক এবং সজাগ হলে বিলুপ্তি অনেকটাই বিলম্বিত করা সম্ভব৷

সহকারী পরিবেশমন্ত্রী পাত্রিসিয়া মাদ্রিগাল বললেন, ‘‘আজই কাগজে একটা লেখা বেরিয়েছে, ন্যাশনাল পার্কগুলো কীভাবে পার্কের চারপাশের মানুষদের উপকার করছে৷ কাজেই আমরা দেখছি যে, সংরক্ষণ দারিদ্র্য উপশমের একটা পন্থাও বটে৷ আমরা এখন বুঝতে পারছি যে, সংরক্ষণ আর উন্নয়ন একই ফর্মুলার দু'টি দিক৷ কথাটা বলা খুব সোজা, কিন্তু করাটা ততো সোজা নয়৷''

বায়োফিন প্রকল্প

সেই জন্যেই কস্টা রিকা আন্তর্জাতিক বায়োফিন প্রকল্পে শামিল৷ বিশেষজ্ঞরা সরকার ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একত্রে ভেবে দেখছেন, কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ প্রকল্পগুলির জন্য অর্থসংস্থান করা যায়৷ প্রকল্পের নানা দিক আছে৷ খামারচাষি উগো কামাচো প্রতিবছর কয়েক’শ ইউরো পরিমাণ টাকা পান, যাতে তিনি তাঁর অংশের চারণভূমিতে নতুন করে গাছ লাগান৷ বায়োফিন কস্টা রিকার সমন্বয়কারক গিয়ের্মো সুনিয়েগা নিয়মিত অতিথিদের নিয়ে আসেন প্রকল্প দেখাতে৷

চিলির আগ্নেয়গিরির অসাধারণ এই ছবিটি তুলেছেন ফ্রান্সিস্কো নেগ্রোনি৷ বিশ্বের পরিবেশ ত্যাটাগরিতে এটি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন৷

বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পয়জন ডার্ট ফ্রগ-এর সুরক্ষার প্রয়োজন৷ জীববিজ্ঞানী ও পশুপ্রেমী হুয়ান কার্লোস ক্রুস বলেন, ‘‘এটা একটি এন্ডেমিক প্রজাতি, মানে এই ব্যাং শুধু কস্টা রিকায় পাওয়া যায়৷ শুধুমাত্র এখানে, আর ওসা উপদ্বীপে৷''

কাছেই সেই ব্যাঙের ডিমও খুঁজে পাওয়া গেল৷ বাঁদররা এগুলো খেতে খুব ভালোবাসে – তারা কাছাকাছি আছে নিশ্চয়৷ হুয়ান কার্লোস আর তার সতীর্থদের জন্য প্রমাণ যে, প্রজাতি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করার উপযোগিতা আছে৷ কার্লোস জানালেন, ‘‘জঙ্গল বাঁচানোর জন্য আমরা মাঝেমধ্যে জমি কিনে নিই৷ গবেষণার কাজও বেশ খরচার৷ এই সব জীবজন্তুর উপর নজর রাখার সরঞ্জামও খুব দামি৷ ক্যামেরা ট্র্যাপ, রাডার, এ সবের খরচ খুব বেশি৷ কাজেই সংরক্ষণের কাজে আমাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়ে৷''

Regenwald Costa Rica

কস্টা রিকার অপরূপ বনানী...

ক্যাম্প থেকে রাজধানীতে

একটানা বৃষ্টির ফলে ঝর্ণাগুলো খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে৷ বনের পথে যেতে প্রায়ই এই সব বাধার সম্মুখীন হতে হয়৷ তার চেয়ে ক্যাম্পে ফেরাই ভালো৷ ক্যাম্পে ফিরে হুয়ান কার্লোস গত সপ্তাহে তোলা সব ছবি দেখাচ্ছেন৷ জঙ্গলের মধ্যে কয়েকটা জায়গায় অটোম্যাটিক ক্যামেরা ট্র্যাপ লাগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ ক্যামেরার রেঞ্জের মধ্যে কেউ বা কোনো জীবজন্তু নড়াচড়া করলেই ছবি ওঠে – যেমন খাবারের খোঁজে পেকারির দল; অথবা একটা জাগুয়ার৷

রাজধানী সান হোসেতে পৌঁছে আরেক দৃশ্য৷ কস্টা রিকা বহু দশক ধরে পুনর্বনানীকরণ চালাচ্ছে৷ ইতিমধ্যে দেশের ৫০ ভাগ রেন ফরেস্টে ঢাকা৷ পুনর্বনানীকরণের জন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের সন্ধানে আছেন সরকার৷ সরকারি কর্মকর্তারা বোঝালেন, তারা কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রজাতি সংরক্ষণ প্রকল্পে আগ্রহী করতে চান৷ কেননা প্রজাতি সংরক্ষণ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থা আর সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেও বটে৷

বিলুপ্তির মাত্রা ১০০ গুণ বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের এই কালো ভালুক আর কতদিন দেখা যাবে কে জানে? এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতকে জীববৈচিত্র কমেছে আগের চেয়ে প্রায় একশ’ গুণ বেশি হারে৷ বৃদ্ধির কারণ মানুষ৷ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে বলেছে, বণাঞ্চলে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ার কারণেই উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিলুপ্তি দ্রুততর হচ্ছে৷

তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

সম্প্রতি দ্য ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) বিশ্বের ৪১ ভাগ উভচর এবং ২৬ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীই এখন চিরবিলুপ্তির ঝুঁকির সামনে৷ ছবির এই টিটিকাকা নামের বিশাল ব্যাঙগুলো এক সময় পেরু এবং বলিভিয়ার হৃদগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যেত৷ এখন খুব কম দেখা যায় এদের৷ কয়েক বছর পর হয়ত এই ধরণের ব্যাঙ শুধু ছবিতেই থাকবে৷

মানুষই দায়ী

গত ৪০ বছর ধরে মানুষ প্রতি মিনিটে গড়ে অন্তত ২ হাজার করে গাছ কাটছে৷ তাহলে প্রতিদিন বিশ্বের বনাঞ্চল থেকে কী হারে গাছ কমছে ভেবে দেখুন! এর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ এবং উষ্ণায়নও নানাভাবে বাড়াচ্ছে মানুষ৷ এ সব বিষয় উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিলুপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে৷

বিপন্ন মানবজাতি

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জেরার্ডো সেবালোস মনে করেন, সতর্ক না হলে অনুমানের চেয়ে বেশ আগে মানুষও বিলুপ্ত হতে পারে৷ কিছু প্রাণীর সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব নির্ভরশীল – এ কথা বলে মৌমাছির উদাহরণ দিয়েছেন তিনি৷ মৌমাছি হারিয়ে গেলে অনেক রকমের খাবা তৈরি করা সম্ভব হবে না৷ ফলে একসময় দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে৷ দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গিয়ে মানবজাতির বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করতে পারে৷

‘দ্বিগুণ চেষ্টা করুন’

যৌথভাবে রচিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তির হাত থেকে কিছু গাছপালা, প্রাণী এবং সর্বোপরি মানুষকেও বাঁচাতে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ তাঁরা মনে করেন, এখন থেকে সতর্ক এবং সজাগ হলে বিলুপ্তি অনেকটাই বিলম্বিত করা সম্ভব৷

সহকারী পরিবেশমন্ত্রী পাত্রিসিয়া মাদ্রিগাল বললেন, ‘‘আজই কাগজে একটা লেখা বেরিয়েছে, ন্যাশনাল পার্কগুলো কীভাবে পার্কের চারপাশের মানুষদের উপকার করছে৷ কাজেই আমরা দেখছি যে, সংরক্ষণ দারিদ্র্য উপশমের একটা পন্থাও বটে৷ আমরা এখন বুঝতে পারছি যে, সংরক্ষণ আর উন্নয়ন একই ফর্মুলার দু'টি দিক৷ কথাটা বলা খুব সোজা, কিন্তু করাটা ততো সোজা নয়৷''

বায়োফিন প্রকল্প

সেই জন্যেই কস্টা রিকা আন্তর্জাতিক বায়োফিন প্রকল্পে শামিল৷ বিশেষজ্ঞরা সরকার ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একত্রে ভেবে দেখছেন, কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ প্রকল্পগুলির জন্য অর্থসংস্থান করা যায়৷ প্রকল্পের নানা দিক আছে৷ খামারচাষি উগো কামাচো প্রতিবছর কয়েক’শ ইউরো পরিমাণ টাকা পান, যাতে তিনি তাঁর অংশের চারণভূমিতে নতুন করে গাছ লাগান৷ বায়োফিন কস্টা রিকার সমন্বয়কারক গিয়ের্মো সুনিয়েগা নিয়মিত অতিথিদের নিয়ে আসেন প্রকল্প দেখাতে৷

খামারচাষি উগো কামাচো জানালেন, ‘‘এটা তো আমার আসল কাজ নয়৷ আমার গরুর পাল আছে, কাঠের জন্য গাছ আছে, আর সরকারের কাছ থেকে একটা ছোট পেনশন আছে৷'' বায়োফিন প্রকল্প না থাকলে উগো তাঁর গাছগুলো অনেক আগেই কাছের কোনো করাতকলকে বিক্রি করে দিতেন৷ এই তো কিছুদিন আগে কে যেন তাঁকে গাছ কাটার জন্য অনেক টাকা দিতে চেয়েছিল৷ কিন্তু উগো গাছ বেচতে পারেন না – এই হলো বায়োফিন-এর সঙ্গে তাঁর চুক্তি৷ সুনিয়েগা জানেন যে, উগোর মতো খামারচাষিদের পক্ষে পরিস্থিতি খুব সহজ নয়৷ তিনি উগোকে আরো বেশি টাকা জোগাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷

বরফ এবং পাখি

১৫ থেকে ১৭ বছর ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এই ছবিটি৷ ছবিটি তুলতে সুইডিশ ফটোগ্রাফারকে বরফের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে পাখিটির জন্য খাবার রাখতে হয়েছিল৷ আর তার ফলেই অসাধারণ এই ছবিটির জন্ম৷

প্রাকৃতিক বিশেষ ‘এফেক্ট’

চিলির আগ্নেয়গিরির অসাধারণ এই ছবিটি তুলেছেন ফ্রান্সিস্কো নেগ্রোনি৷ বিশ্বের পরিবেশ ত্যাটাগরিতে এটি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন৷

ইয়াং ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার

বাংলাদেশ হলে এই আলোকে বলা হতো ‘কনে দেখা আলো’৷ সেই আলোতে উত্তর পূর্ব স্পেনে কাকড়া বিছার এই ছবিটি তুলেছেন কার্লোস পেরেজ নাভাল৷ পাঁচ বছর বয়স থেকে ছবি তোলা শুরু করেন তিনি৷ এ বছর পেয়েছেন ইয়াং ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ারের পুরস্কার৷

হাঙরের ছবি

মেক্সিকোর এই হাঙরের ছবিটি তুলেছেন রডরিগো ফ্রিস্কিওনে৷ ওয়ার্ল্ড ইন আওয়ার হ্যান্ডস ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এটি৷

স্কুইডের ডিস্কো

মাত্র তিন সেন্টিমিটার লম্বা এই স্কুইডটির ছবিটি তুলেছেন ফরাসি আলোকচিত্রী ফাবিয়েন মিশেনেট৷

হামিং বার্ড

এই ছবিটি থেকেই আপনি মোটামুটি একটি ধারণা নিতে পারবেন কত অসাধারণ ছবি এবারের প্রতিযোগিতায় এসেছিল৷ ছবিটি দুটি হামিং বার্ডের৷ এই ছবিটি বার্ডস ক্যাটাগরিতে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে৷

বাদুড়

জার্মান একটি বাংকারে বাদুড়ের এই ছবিটি তুলেছেন লুকাস বোজিকি৷ ম্যামালস ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এটি৷

রোম্যান্টিক

ব্যাঙদের রোম্যান্টিক এই ছবিটি একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে৷

অসাধারণ ‘স্ন্যাপশট’

ফটোগ্রাফারের ভাগ্য ভালো এটি কোনো বিষধর সাপ নয়৷ মার্ক মন্টেস অসাধারণ এই ছবিটি তুলেছেন স্পেনে৷ ক্যাটাগরি ১১ থেকে ১৪ বছর৷

ইগুয়ানা

এই ইগুয়ানাটাকে দেখে মনে হচ্ছে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে তার মধ্যে৷ কোস্টারিকায় এই ছবিটি তুলে পুরস্কার জিতেছেন উইল জেনকিনস৷

সেরাদের সেরা

তানজানিয়ার জাতীয় পার্কের এই ছবিটিতে সিংহদের দেখা যাচ্ছে৷ এই ছবিটি দেখে মনে হতে পারে অনেক বছর আগে তোলা, যেখানে আশেপাশে কোনো মানুষের চিহ্ন নেই৷ ছবিটি তোলার জন্য ছয় মাস এই সিংহদের পর্যবেক্ষণ করেছেন ফটোগ্রাফার মাইকেল নিকল্স৷ আর তাই ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০১৪ জিতেছেন তিনি৷

এই ধরনের জমি বাঁচানোর জন্য কস্টা রিকার বছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে সরকারের ধারণা – যা কিনা দেশের জিডিপি-র প্রায় এক শতাংশ৷ বায়োফিন কস্টা রিকার সমন্বয়ক গিয়ের্মো সুনিয়েগা বললেন, ‘‘ওটা খুব বেশি নয়৷ আর আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই টাকার অধিকাংশ আসবে খোলা অর্থবাজার থেকে, লোকে যখন বুঝবে, জীববৈচিত্র্যে বিনিয়োগ করা কতটা জরুরি৷'' সুনিয়েগা অশ্য মেনে নিচ্ছেন, যে তারা তাদের টাকা ফেরত পেতে চাইবে, কেননা এটা তো একটা বিনিয়োগ৷

স্কুইরেল মাঙ্কি নামধারী ছোট বাঁদরগুলোর জন্যই এই বিনিয়োগ করা চলে৷ কস্টা রিকার ওসা উপদ্বীপ ওদের আর একটা বাসস্থান কিনা৷