মিউনিখ ও ডর্টমুন্ডের স্টেডিয়ামে অভিনব প্রযুক্তি

জার্মানিতে আধুনিক স্টেডিয়ামগুলির চমকের শেষ নেই৷ মিউনিখের স্টেডিয়ামে চোখ-ধাঁধানো আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে ডর্টমুন্ড স্টেডিয়ামে কৃত্রিম সূর্যালোক ও ঘাস গরম রাখার ব্যবস্থা সত্যি অবাক করার মতো৷

জার্মানির সবচেয়ে দামি স্টেডিয়াম তৈরি করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে৷ প্রায় ৩৪ কোটি ইউরো ব্যয় হয়েছে৷ স্টেডিয়ামের হীরার মতো দেখতে খোলসের মধ্যে রয়েছে অভিনব এক আলোকসজ্জা৷ সাদা, লাল ও নীল রঙের আলোর খেলা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী টিমের ফ্যানরাও মুগ্ধ না হয়ে পারেন না৷ এক হাজারেরও বেশি বাতাস ভরা বালিশের সাহায্যে এই চোখ-ধাঁধানো আলোকসজ্জা ফুটিয়ে তোলা হয়৷

গোটা স্টেডিয়াম ঘিরে এমন বালিশের স্তরের পেছনে প্রায় ২৫ হাজার ফ্লুরোসেন্ট টিউব রয়েছে৷ পাশাপাশি রাখা কাচের পাতের ভিতর দিয়ে সাদা, লাল ও নীল রঙের আলো ছড়িয়ে পড়ে৷ এই আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ এক সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে৷ এর মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে স্টেডিয়ামের রং বদলে দেওয়া যায়৷

স্টেডিয়ামের বিল্ডিং বিভাগের প্রধানের একটা বিশেষ সুবিধা রয়েছে৷ তিনি যে কোনো জায়গা থেকে এই সফটওয়্যার চালাতে পারেন৷ মোবাইল ফোনের এক অ্যাপের মাধ্যমে তিনি একটি ক্লিক করেই গোটা স্টেডিয়ামে আদর্শ আলো জ্বালিয়ে দিতে পারেন৷ বাতাসের বালিশগুলি পাশাপাশি রাখলে আড়াইখানা ফুটবল মাঠ ভরে যাবে৷ আকাশ পরিষ্কার থাকলে মিউনিখের এই স্টেডিয়ামের আলোকসজ্জা ১০০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

এটা পুরনো মারাকানা – ১৯৭৩

এই স্টেডিয়ামটি দেখলেই ব্রাজিলিয়ানদের পুরনো মারাকনার কথা মনে পড়ে যায়, ৯০-এর দশকে যা কিনা সব সামাজিক কর্মকাণ্ডের মিলনস্থল ছিল৷ ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের জন্য এটা নতুন করে নির্মাণ করা হয়৷ এতে খরচ হয় ৪০০ মিলিয়ন, যা অনেক ব্রাজিলিয়ানের কাছেই জনগণের সম্পদ নষ্ট করার প্রতীক৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

সাঁও পাওলো – অ্যারেনা দে সাঁও পাওলো ‘ইটাকুয়েরাও’

এটা ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম, যেখানে ২০তম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার উদ্বোধন হয়েছে ১২ই জুন৷ ইটাকুয়েরাও নামটি কিন্তু শ্রমিকদের বসবাস এলাকার নামেই নামকরণ হয়েছে৷ স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজের সময় দু-দু’টি দুর্ঘটায় তিনজন শ্রমিক মারা গেছেন৷ স্টেডিয়ামটি নতুন করে নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ৩১০ মিলিয়ন ইউরো৷ এখানে খেলা দেখতে পারেন মোট ৬৫,৮০৭ জন ফুটবলপ্রেমী৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

সালভাদোর দা বাইয়া – অ্যারেনা ফন্টে নোভা

১৩ই জুনের প্রথম শীর্ষ খেলাটি হয়েছে এই স্টেডিয়ামে৷ বিশ্বকাপ ফুটবলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং রানার্স আপ হল্যান্ডের মধ্যে ৷ সোমবারে এখানেই খেলা হবে জার্মানির সাথে পর্তুগালের৷ বিশ্বকাপের পরেও এই স্টেডিয়ামে খেলা হবে প্রথম বিভাগের একটি স্থানীয় দলের, যারা আন্তর্জাতিক খেলাতেও অংশগ্রহণ করে৷ স্টেডিয়ামটি তৈরি করতে খরচ পড়েছে ২৩০ মিলিয়ন ইউরো৷ স্টেডিয়ামটিতে মোট ৪৮,৭৪৭ জন ফুটবলভক্তের জন্য জায়গা রয়েছে৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

ফর্টালেজা – এস্টাডিও কাস্তেলাঁও

২,৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই মেট্রোপলিটান শহরে দুটো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব রয়েছে৷ এই ক্লাবগুলো সেরকম সফল না হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওদের খেলা দেখতে বিশাল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়৷ এবারের বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে জার্মানির গ্রুপ পর্যায়ের দ্বিতীয় খেলাটি হবে এখানে৷ স্টেডিয়ামটির নতুন করে নির্মাণ কাজ করতে মোট খরচ পড়েছে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো৷ এর ধারণ ক্ষমতা ৬৪,৮৪৬৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

কুইয়াবা – অ্যারেনা পান্টানাল

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিযোগিতা যেসব শহরে হবে, সেগুলোর মধ্যে কুইয়াবাই হচ্ছে সবচেয়ে ছোট, যার জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ৷ এটা জলাভূমি পান্টাল এলাকার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত আর এ কারণেই এই নামকরণ৷ এখানে সেরকম কোনো শীর্ষস্থানীয় ক্লাব নেই৷ তবে ২০১৬ সালে রিও ডি জানেরোতে যে অলিম্পিকের আসর বসবে, তার কিছু অনুশীলন অনুষ্ঠিত হবে এখানে৷ স্টেডিয়ামটির জন্য খরচ পড়েছে মোট ১৯০ মিলিয়ন ইউরো আর এর ধারণ ক্ষমতা ৪২,৯৬৮৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

রেসিফে – অ্যারেনা প্যারনামবুকো

এই স্টেডিয়ামের নামকরণ এ রাজ্যের নামের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে৷ শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম, যার নির্মাণ খরচ আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ইউরো৷ এখানে মোট ৪২,৮৪৯ জন ফুটবলপ্রেমী এক সাথে খেলা উপভোগ করতে পারেন৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

মানাউস – অ্যারেনা দা আমাজনিয়া

বিশ্বকাপের শুরুতেই ইংল্যান্ড ও ইটালি – এই দুটি শক্তিশালী দলের মধ্যে খেলা হবে এই স্টেডিয়ামে৷ এখানে অনেকদিন হয়ত আর কোনো খেলাই হবে না, কারণ মানাউস-এর কোনো ক্লাবই জাতীয় লীগে খেলে না৷ ক্লাবটির নির্মাণ কাজের সময় চারজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল৷ স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ৪২,৩৭৪৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

ব্রাজিলিয়া – এস্টাডিও ন্যাশনাল

এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য সবচেয়ে ব্যায়বহুল ও মর্যাদাপূর্ণ স্টেডিয়াম, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়৷ তাছাড়া এখানে তেমন কোনো ফুটবল ক্লাবও নেই৷ ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাজিলিয়ার এই স্টেডিয়ামটি শহর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত, যার নির্মাণ কাজে খরচ পড়েছে মোট ৬৩০ মিলিয়ন ইউরো৷ এখানে মোট ৬৮,০০৯ জন মানুষ এক সাথে খেলা দেখতে পারেন৷

ফুটবল ভক্তদের নতুন উপাসনালয়

রিও ডি জানেরো – এস্টাডিও ডো মারাকানা

সাবেক জাতীয় মনুমেন্টটি এখন অনেক ভক্তের চোখে অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়৷ ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা হয়েছিল এখানে, যে খেলায় দর্শকের সংখ্যা ছিল ১৭০,০০০৷ তবে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে হয়ত এর অর্ধেক দর্শকও হবে না৷ তা সত্ত্বেও এটাই বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম, যার নির্মাণ কাজে খরচ হয়েছে ৪,০০০ মিলিয়ন ইউরো৷ এখানে ৭৩,৫৩১ দর্শকের এক সঙ্গে খেলা উপভোগ করার জন্য জায়গা রয়েছে৷

জার্মানির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম ডর্টমুন্ড শহরে অবস্থিত৷ খাড়া গ্যালারিতে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ বসতে পারেন৷ কিন্তু চারিদিকে এত দীর্ঘ গ্যালারি থাকায় মাঠের ঘাস যথেষ্ট সূর্যের আলো পায় না৷ তাই কৃত্রিম পদ্ধতিতে তার উপর রোদ ফেলা হয়৷ প্রায় ৮ হাজার বর্গমিটার ঘাস রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রাউন্ডকিপার ভিলি ড্রস্টে৷ তিনি বলেন, ‘‘আজকের মতো মেঘলা দিনে অথবা শীতকালে কম অথবা একেবারেই রোদ না পেলে এই সুর্যালোক সৃষ্টির প্লান্ট কাজে লাগানো হয়৷ এভাবে ঘাসগুলির রোদের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে৷ ফলে সারা বছর ধারাবাহিকভাবে ঘাস গজায়৷''

প্রায় ৪০ বছর আগে ডর্টমুন্ড স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল৷ গত কয়েক দশকে ক্রমাগত সম্প্রসারণ করা হয়েছে৷ তবে এই কর্মকাণ্ডের ফলে আলো অনেক কমে গেছে৷ কৃত্রিম রোদের প্লান্ট শুধু ঘাস নয়, গোটা স্টেডিয়ামে প্রয়োজনীয় আলোর জোগান দেয়৷

প্রায় আড়াই টন ওজনের এই আলোভরা খাঁচা দিনে বেশ কয়েকবার খেলার মাঠের উপর দিয়ে চালানো হয়৷ এভাবে সবুজ ঘাসের ক্ষেত্রের প্রতিটি কোণে কৃত্রিম সূর্যালোক পৌঁছে যায়৷ ফলে নতুন করে পাতা গজায়, যা সুস্থ ঘাসের জন্য অত্যন্ত জরুরি৷ ভিলি ড্রস্টে গোটা স্টেডিয়ামের উপর কড়া নজর রাখেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এখান থেকে সব কিছু ভালোভাবে দেখা যায়, অনুভব করা যায়৷ এই আলো, এখানকার তাপমাত্রা গাছেদের জন্য কতটা ভালো, তা টের পাওয়া যায়৷ শীতকালে পারদ নেমে মাইনাস ছুঁলে আমি বিশাল হিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২ ডিগ্রি উত্তাপ রাখতে পারি এবং উপর থেকেও ঘাসেদের ১২ ডিগ্রি উত্তাপ দিতে পারি৷ শীতেও ঘাসের জন্য এটা আদর্শ পরিবেশ৷''

ঘাসের এই হিটিং ব্যবস্থার ফলে শীতেও খেলোয়াড়দের পা ঠান্ডা হয়ে যায় না৷ শুধু দর্শকদের হিমশীতল পরিবেশে বসে থাকতে হয়৷ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আসন গরম রাখার কোনো ব্যবস্থা এখনো নেই৷ তবে আসল ফুটবল অনুরাগীরা তাতে দমে যাবার পাত্র নন৷

ফুটবলের শিল্প

একটু অন্যরকম

ফুটবলের ছবি মানেই বল, ফুটবলারদের লড়াই আর গ্যালারিতে সমর্থকদের আনন্দ-বেদনার আলোকচিত্র৷ কিন্তু ফুটবলের ব্যাপ্তি তো শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়! তাই কিছু অন্যরকম ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে একটি প্রদর্শনীর৷ নাম ‘দ্য গেম ইজ নট ওভার আনটিল ইটস ওভার’৷

ফুটবলের শিল্প

সব বাধা পেরিয়ে

ছবিটি ভালো করে দেখুন৷ রেললাইনের দুই পাশে গোলপোস্ট দেখতে পাচ্ছেন? বেলজিয়ামে তোলা এই ছবিতে অভিবাসীরা ফুটবল খেলছেন৷ স্বভাবতই খেলতে গিয়ে বারবার লাইনের ফাঁকে বল আটকে যায়৷ কিন্তু তারপরও তো ফুটবল খেলা!

ফুটবলের শিল্প

ঘরের মধ্যে ম্যাচ

দিন যত যাচ্ছে বড় শহরগুলো থেকে মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে৷ তাই তো চীনের সাংহাই শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা তাঁদের ঘরকেই মাঠ বানিয়েছে৷ আর দুই গোলপোস্টের অবস্থান রান্নাঘর আর বাথরুমে!

ফুটবলের শিল্প

ফুটবলের চেয়েও জরুরি

চিলির এই ছেলেটির কাছে ফুটবল খেলার চেয়েও জরুরি কাঠ কাটতে যাওয়া৷ কারণ খাবার যোগাড়৷ অবশ্য কাজে যাওয়ার আগে সে কিছুক্ষণের জন্য ফুটবল খেলে নিয়েছে৷ পেছনে বলটি পড়ে রয়েছে৷

ফুটবলের শিল্প

আফগানিস্তানের নারী ফুটবলার

যেখানে মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগই অনেক কম, সেখানে যে তাঁরা ফুটবল খেলছেন সেটাই তো একটা বড় খবর – তাই নয় কি? ছবির এই নারীরা আফগানিস্তানের৷ পোশাকই বলে দিচ্ছে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাঁরা চিন্তিত৷

ফুটবলের শিল্প

সহিংসতার রূপ সুন্দর?

বিমূর্ত এই ছবিটা ম্যাচে সংঘটিত ফাউলের কয়েকটি আলোকচিত্রে পরিবর্তন এনে তৈরি৷ দেখে মনে হচ্ছে যেন ফুলের কিংবা কোনো মেলার ছবি৷ তাহলে মনে প্রশ্ন জাগে, এই ছবির মধ্য দিয়ে কি আলোকচিত্রী ফাউলের সৌন্দর্য্যের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন?

আমাদের অনুসরণ করুন