মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ৷ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর হামলার জন্য গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এ আহ্বান৷

মিশনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে  মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সরকার এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি৷ রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নির্যাতনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন তারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়৷

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বিষয়ক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারসুকি ডারুসমান মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ১০ দিনের এক সফর শেষে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল৷ কিন্তু দুঃখজনক হলো, তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি৷'' তিনি আরো বলৈন, এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে৷

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই৷ তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত, যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে৷ পশ্চিমা দেশগুলো যদি এ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, তবে তা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে চাপের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷   

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

হাসিমুখ

৫১১ দিন পর কারাগারের বাইরে মুক্ত মানুষ হিসেবে হাঁটা৷ রোহিঙ্গা হত্যা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আটক হয়েছিলেন তাঁরা৷ এরপর তাঁদের সাত বছরের জেলও হয়েছিল৷ অবশেষে প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমতার আওতায় তাঁরা মঙ্গলবার মুক্তি পান৷

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

যে অভিযোগ আনা হয়েছিল

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ১০ মুসলিম রোহিঙ্গা পুরুষ ও ছেলেকে হত্যা করা হয়৷ সেই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হিয়ে ঐ বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সের হয়ে কাজ করা মিয়ানমারের ঐ সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল৷ তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

সমালোচনা

দুই সাংবাদিক আটকের ঘটনায় নোবেলজয়ী অং সান সুচির আমলের মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন দেশ সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেই সময় বলেছিল, রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের ঘটনা যাতে কেউ জানতে না পারে সে জন্য এই সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে৷

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

নির্ভীক সাংবাদিক

পুলিশি প্রহরাতেও সাংবাদিক ওয়া লনের মুখে হাসি ছিল অবিরাম৷ মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় সেই সময় জানিয়েছিল, বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য তাঁরা অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন৷

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

সহচর

ছবিতে দুই সাংবাদিকের একজন কিঁয় সোয়েকে দেখতে পাচ্ছেন৷ গতবছরের এপ্রিলে আদালতে শুনানির পর পুলিশি ভ্যানে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর সময় এই ছবিটি তোলা৷

রোহিঙ্গাদের খবরের কারণে কারাগারে, অতঃপর মুক্তি

পাশে ছিলেন স্ত্রী

গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে তোলা এই ছবিতে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে কিঁয় সোয়েকে দেখতে পাচ্ছেন৷ আদালতে শুনানির পর চোখের জল ফেলেছিলেন সোয়ের স্ত্রী৷

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ঘটনার পর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে৷ ঘটনার এক বছর পর প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে৷ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নসহ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে৷

পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার মানুষগুলোকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া, মিয়ানমারের উপর অস্ত্র নিষেধজ্ঞা আরোপ, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সমূহের সাথে মিয়ানমারের সম্ভাব্য সম্পর্কসহ ১৪ টি বিষয়ে সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন৷ এছাড়া এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷ 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার৷

রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে৷

আরআর/এসিবি (এএফপি, এপি) 

আমাদের অনুসরণ করুন