মুসলিম তরুণদের সিরিয়া ও ইরাকের পথে জার্মানি ছাড়ার হিড়িক

সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এ যোগ দিতে জার্মানি ছেড়েছে আটশ'রও বেশি মুসলিম যুবক৷ তাদের শতকরা ৬০ ভাগই জার্মান নাগরিক৷ জার্মানির একটি দৈনিক জানিয়েছে এ খবর৷

সম্প্রতি জার্মান দৈনিক ‘ডি ভেল্ট' এক খবরে জানিয়েছে, এ বছর জার্মানি থেকে মুসলিম তরুণদের তথাকথিত জিহাদে যোগ দিতে সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে৷ জার্মানির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর বিকেএ-এর মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে ‘ডি ভেল্ট'৷ খবরে আরো বলা হয়, তথাকথিত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দিতে যাওয়া এ সব তরুণ সিরিয়া এবং ইরাক থেকে ফিরেও আসছে৷ এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন তরুণ জার্মানি থেকে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে বলেও জানা গেছে৷ তাদের মধ্যে কয়েকজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে গিয়ে প্রাণ হারায়৷

‘ডি ভেল্ট'-এর প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ইরাক ও সিরিয়ায় যাওয়া ৬৭৭ জন মুসলিম তরুণের অতীত বিশ্লেষণ করেছে জার্মানির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর বিকেএ৷ যুদ্ধে যোগ দিতে যাওয়া তরুণদের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে৷ তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই জার্মান নাগরিক৷ তথাকথিত জিহাদি হতে সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়া তরুণদের এক তৃতীয়াংশ খ্রিষ্টান বা অন্য কোনো ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছেন বলেও বিশ্লেষণে দেখা গেছে৷

চিকিৎসক থেকে শরণার্থী

সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্কে চিকিৎসক হিসেবে ভালোই ছিলেন হামবার আল-ইসা৷ কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর জন্মভূমির সব সুখ ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে হয় তাঁকে৷

অনেক পথ পেরিয়ে...

মেসিডোনিয়ায় পৌঁছানোর পর সার্বিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে হামবারকে৷ হেঁটে কোনো শহরে পৌঁছালেই শুরু হতো ইন্টারনেট ক্যাফে খুঁজে বের করার চেষ্টা৷ পেলে প্রথম কাজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো৷ একা এসেছেন, তাই স্বজনদের তাঁর জন্য খুব চিন্তা৷ তাঁদের চিন্তা দূর করা ও তাঁদের সম্পর্কে জেনে নিজেকে নিশ্চিন্ত রাখতেই পছন্দ করেন হামবার৷

অবশেষে জার্মানিতে...

অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে জার্মানিতে পৌঁছেছেন হামবার৷ সিরিয়াতে সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন দেশে চাইলেই তো আর চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করা যায় না৷ জার্মান ভাষা শিখে নিজেকে তৈরি করতে হবে সবার আগে৷ সেই চেষ্টা চলছে৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুবাদকের কাজও করছেন৷ তাঁর স্বপ্ন অবশ্য জার্মানিতে বসবাস করা নয়৷ সুসময় ফিরে এলে নিজের দেশেই ফিরতে চান হামবার৷

দেশান্তরী এক আফগান কিশোরী

তোবার বয়স এখন ১৬ বছর৷ আফগানিস্তানের হেরাত থেকে জার্মানিতে এসেছে সে৷ হেরাতে নিয়মিত স্কুলে যেত সে৷ লেখাপড়া করেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নও দেখতো৷ কিন্তু তালেবান বেছে বেছে মেয়েদের স্কুলে হামলা শুরু করায় তোবার পক্ষেও আর দেশে থাকা সম্ভব হয়নি৷

সপরিবারে জার্মানিতে

আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে অবশ্য একা আসেনি তোবা৷ দুই বোন এবং তাঁদের স্বামীও এসেছেন সঙ্গে৷ কাছের এই মানুষগুলো সঙ্গে থাকার কারণেই ইরান, তুরস্ক, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে পেরেছে তোবা৷

দুঃস্বপ্নে পোড়া স্কুল, স্বপ্নে সুন্দর আগামী

তালেবান হামলা থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছেড়ে এলেও স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু ছাড়েনি তোবা৷ নিজেকে নতুন করে তৈরি করছে সে৷ জার্মান ভাষা শিখছে৷ স্বাবলম্বী হতে হলে জার্মানিতে ভাষা শেখাটা তো সবার জন্যই জরুরি৷

এক সাংবাদিকের পরিবার

ওপরের ছবির তিনজন জার্মানিতে এসেছেন সিরিয়ার ইদলিব থেকে৷ আহমেদ (মাঝখানে)-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী হেবা এবং বন্ধু সালেহ৷ সিরিয়ায় সাংবাদিক হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন আহমেদ৷

শৈশবেই প্রবাসী

আহমেদ-হেবা দম্পতির এই মেয়েটিও এসেছে জার্মানিতে৷ মাত্র এক বছর বয়সেই শুরু হয়েছে তার প্রবাসজীবন৷ ওর বাবা অবশ্য যুদ্ধ থামলেই ফিরে যেতে চায় সিরিয়ায়৷

গত কিছুদিনে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানায় বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছে জার্মান পুলিশ৷ সেসব অভিযানে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে৷ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে৷

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে দু'জনকে মোট সাত বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে জার্মানির আদালত৷ গত জানুয়ারিতেও একজনকে ‘মানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ'-এর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

এসিবি/ডিজি (কেএনএ, এএফপি)

সম্প্রতি জার্মান দৈনিক ‘ডি ভেল্ট' এক খবরে জানিয়েছে, এ বছর জার্মানি থেকে মুসলিম তরুণদের তথাকথিত জিহাদে যোগ দিতে সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে৷ জার্মানির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর বিকেএ-এর মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে ‘ডি ভেল্ট'৷ খবরে আরো বলা হয়, তথাকথিত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দিতে যাওয়া এ সব তরুণ সিরিয়া এবং ইরাক থেকে ফিরেও আসছে৷ এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন তরুণ জার্মানি থেকে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে বলেও জানা গেছে৷ তাদের মধ্যে কয়েকজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে গিয়ে প্রাণ হারায়৷