ম্যার্কেলের দলের খারাপ না করাই হতো আশ্চর্যের

জার্মানির তিনটি রাজ্য নির্বাচনের দু'টিতেই জিতেছে ডানপন্থিরা৷ ম্যার্কেলের দুঃসময় তাতে আরো স্পষ্ট৷ ডয়চে ভেলের মার্সেল ফ্যুরস্টেনাউ মনে করেন, যা হওয়ার তা-ই হয়েছে, ফলাফল অন্যরকম হলে সেটাই হতো আশ্চর্যের৷

ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দল বাডেন ভ্যুরটেমবার্গ, রাইনলান্ড-পালাটিনেট এবং স্যাক্সনি-আনহাল্টে আংশিক হার হয়েছে৷

তা সত্ত্বেও আঙ্গেলা ম্যার্কেল অবশ্য জার্মানির চ্যান্সেলর থাকবেন৷ নিজের দলের নেতৃত্বেও থাকবেন তিনি৷

যাঁকে ম্যার্কেলের উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে, সেই ইউলিয়া ক্ল্যোকনারের জন্য বার্লিনের পথটা শুধু দীর্ঘ নয়, সম্ভবত এখনো খুবই দীর্ঘ৷ নির্বাচনে এমন ফলাফলের পরও যদি তেমন উচ্চাকাঙ্খা থাকে, রাইনলান্ড-পালাটিনেটের এই শীর্ষ প্রার্থীকে তাহলে ধৈর্য ধরতেই হবে৷

সিডিইউ যদি অনেকাংশে নাটকীয় এই পরাজয় এড়াতে পারত তাহলে সেটা অলৌকিকের মতোই মনে হতো৷ শরণার্থী সংকট নিরসনে ম্যার্কেল সরকারের গ্রহণ করা নীতির প্রতি জার্মান জনগণের মোহ কেটে গেছে৷ সংকটের জন্য তারা এখন ম্যার্কেল এবং এসপিডিকেও দায়ী মনে করেন৷

এ কারণেই জোটে ম্যার্কেলের অন্যতম অংশীদার দলের স্থানীয় নির্বাচনে দ্বিতীয়-বৃহত্তম পরাজয় বরণ করতে হলো৷

অভিবাসন ইস্যুতে বার্লিনের ক্ষমতাসীন জোট যা যা করেছে আর বা যা যা করতে দ্বিধা করেছে, সব কিছুরই প্রভাব ১৬টি রাজ্যে দেখা যাবে৷ আর ভোটাররা তাঁদের মতামত জানানোর প্রথম সুযোগটা পেয়েছিলেন এই নির্বাচনে৷ আর অংশগ্রহণমূলক এই লিটমাস টেস্ট থেকে প্রত্যাশিত ফলাফলই বেরিয়ে এসেছে৷

মার্সেল ফ্যুরস্টেনাউ, ডয়চে ভেলে

শরণার্থী সংকটের সুবিধা পাচ্ছে এএফডি

শরণার্থী সংকটে একমাত্র উপকৃত দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)৷ এই সংকট দেখা না দিলে এএফডি ৫ শতাংশ ভোটও পেতো কিনা সন্দেহ৷ কিন্তু এখন তারা ভোট প্রাপ্তিতে দু'অঙ্কের ঘর ছুঁয়ে আরো তিনটি রাজ্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ অর্জন করল৷ তাদের জন্য নিশ্চয়ই এটা বড় ধরনের জয়, তবে এতে কোনো গঠনমূলক কর্মসূচি বা রাজনৈতিক নেতৃত্বগুণের কৃতিত্ব নেই৷

এএফডির ভেতরের চিত্রটা কিন্তু এক বছর আগেও উল্টো ছিল৷ দলের ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বী শাখাগুলো প্রকাশ্যেই পরস্পরকে আক্রমণ করছিল৷ বেশি উগ্র অংশটিই শেষ পর্যন্ত টিকেছে৷ তারা শুধু ‘ইউরোস্কেপটিক' (ইউরোর সাফল্য নিয়ে সন্দিহান)-ই থাকেনি, ইসলাম-বিরোধী পেগিডা আন্দোলনের বিরোধীতা করার উপায় খুঁজেছে এবং সে উপায় পেয়েও গেছে৷

এএফডি-র সাফল্য আসলে অনিবার্যই হয়ে উঠেছিল৷ তবে তাদের এ সাফল্য গণতন্ত্রের জন্য ভালোই৷ নির্বাচনে ভোটারদের মতামতকে এখন অন্য দলগুলো গুরুত্ব দেবে কিনা এটা তাদের ব্যাপার৷

শরণার্থী সংকট ইস্যুতে তো দলের ভেতরেও ম্যার্কেলের সমালোচক আছে৷ রাইনলান্ড-পালাটিনেটে আছেন ক্ল্যোকনার আর বাডেন-ভ্যুরটেমবার্গে আছেন গিডো ভল্ফ৷ এই নির্বাচনে তাঁদেরও মূল্য চুকাতে হয়েছে৷

প্রতিবাদী দল যায় আসে

ক্ষোভ এবং প্রত্যাখ্যান রাজনীতিতে সবসময় খুব পছন্দের বিষয় নিশ্চয়ই নয়, তবে এগুলো বৈধ৷ এমন মানুষ সবসময়ই থাকে যারা সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য বা প্রতিবাদ জানাতেই ভোট দেন৷ ডান অথবা উগ্র ডানপন্থি দলগুলো এই পরিস্থিতির সুবিধা পায়৷

এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সংসদে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি৷ তবে সিডিইউ, সিএসইউ, এসপিডি এবং এফডিপির কখনোই এই নির্বাচনে উঠে আসা দলটির দুর্বলতার ওপর ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না৷ তাদের এখন নিজেদের শক্তির ওপর অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আস্থা রাখতে হবে৷ বাডেন-ভ্যুরটেমবার্গ, রাইনলান্ড-পালাটিনেট এবং স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এই আস্থার প্রকাশ ঘটতে পারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্যকর কোনো জোট গঠনের মাধ্যমে৷ সময়টা এখন এত ভয়াবহ যে সংকীর্ণ দলীয় চিন্তার ঊর্ধে সবাইকে উঠতেই হবে৷

আপনারা কি মার্সেল ফ্যুরস্টেনাউ-এর সঙ্গে একমত? জানান নীচের ঘরে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন