যে মাছ প্লাস্টিক খায়, সেই মাছ খাওয়া যায়?

প্লাস্টিক পরিবেশের ক্ষতি করে জেনেও অনেকেই এখনো নানাভাবে প্লাস্টিক ব্যবহার করেন৷ অনেকে সমুদ্রেও ফেলেন প্লাস্টিকের সামগ্রী৷ সেই প্লাস্টিক আবার অনেক মাছের পেটে যায়৷ এমন মাছ খেলে কি খুব ক্ষতি হবে?

এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কষ্টসাধ্য এক গবেষণা করেছেন জার্মানির ‘আলফ্রেড ভাগনার ইন্সটিটিউট'-এর ‘হেল্মহল্টজ সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ'-এর জীববিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের কাজ ছিল মূলত যেসব মাছ প্লাস্টিকের কণা খায়, সেগুলোকে খুঁজে বের করে সেই মাছগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা৷

প্লাস্টিক মাছের স্বাভাবিক খাবার নয়৷ তবু অনেক মাছ প্লাস্টিককেই খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে৷

এমনিতে ব্যাগ, স্যান্ডেল, খেলনা বা অন্য কোনো প্লাস্টিকের আস্ত জিনিস হলে মাছ স্বাভাবিক অবস্থায় তা খায় না৷ তবে জিনিসগুলো তো সমুদ্রের স্রোতের আঘাতে ভেঙে বা ছিঁড়ে টুকরো, সেই টুকরোগুলো আরো ছোট ছোট হতে হতে এক সময় কণার মতো হয়ে যায়৷ সেই কণাগুলো আবার পানির চেয়ে অনেক হাল্কা বলে ওপরেই ভাসে৷ অনেক মাছ প্লাস্টিকের কণাগুলোই খেয়ে ফেলে৷

জার্মান বিজ্ঞানীরা দেখেছেন সব মাছ কাছে পেলেও কখনো প্লাস্টিকের কণা খায় না৷ ২৯০ টি মাছের পাকস্থলী ও নাড়িভুড়ি পরীক্ষা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তাঁরা৷

মাংসের বদলে মাছ

আজকাল প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় অনেক জার্মানই মাংসের পরিবর্তে নানা ধরণের মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ বিশেষকরে যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন তাঁরা তো অবশ্যই৷ মাছে তেমন কোনো চর্বি নেই, রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ফিট রাখতে সহায়তা করে৷

খাবারের মুকুট

জার্মানিতে মাছকে বলা হয় ‘খাবারের মুকুট’৷ মাছ মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে৷ জার্মান খাদ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ, প্রতিটি মানুষেরই সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মাছ খাওয়া প্রয়োজন৷ মাছ হৃদরোগ ও ক্যানসার থেকেও দূরে থাকতে সাহায্য করে৷ মাছ বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে৷

নানা জাতের মাছ

জার্মানিতে নানা রকম মাছ পাওয়া যায়৷ ছোট বড়, নদীর মাছ, সামুদ্রিক মাছ, লোনা পানির মাছ, হ্রদের মাছ, তাজা মাছ, হিমায়িত, ধূমায়িত এবং টিনজাত মাছ৷

মাছ ভাজি

জার্মানরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাছ ভাজি খায়, আমাদের বাঙালিদের মতো রান্না করে খুবই কম খেয়ে থাকেন তাঁরা৷ ডয়চে ভেলের ক্যান্টিনে সপ্তাহে প্রায় দু’দিন মাছ দেওয়া হয়৷ ক্যান্টিনে এরকম একটি ট্রাউট মাছের ভাজির দাম ৭ ইউরো, বাইরে যার দাম প্রায় দ্বিগুণ৷

কাটা মাছ

বাজারে পাঠানোর আগে এভাবেই মাছ ‘প্রসেস’ করা হয়৷ মাছ কেটে পরিষ্কার করে, কাঁটা বেছে ‘স্লাইস’ করে তবেই সেটা বাজারে যায়৷ তবে কিছুটা ছোট আকারের মাছ কার্প, ট্রাউট, হেরিং, সি ব্রাস ইত্যাদি মাছ আস্তই পাওয়া যায় বাজারে৷

সখের জেলে

জার্মানিতে অনেকেই সখ করে মাছ ধরেন, তবে তাঁদের অবশ্যই মাছ ধরার লাইসেন্স থাকতে হবে৷ তাছাড়া যে কোনো জায়াগায় মাছ ধরা যায় না, শুধু যেসব জায়গায় অনুমতি রয়েছে সেখানেই মাছ ধরা সম্ভব৷

তাজা মাছের বাজার

এভাবেই সুন্দর করে সাজানো থাকে মাছের বাজারে মাছগুলো৷ দেখে মনে হয়, মাছগুলো যেন মাছ-প্রেমীদের ডাকছে৷ মাছ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, তাই ডাক্তাররা মাছ খেতে সবসময়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন, বিশেষকরে ছাত্র-ছাত্রী এবং বয়স্কদের৷ তবে সবার জন্যই মাছ খুব উপাদেয়৷

ধূমায়িত মাছ

ধূমায়িত বা ‘স্মোক্ড’ মাছ জার্মানদের কাছে বেশ প্রিয়, বিশেষ করে রুটির সাথে তাঁরা এ ধরনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্না করা মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ ম্যাকরেল নামের এক মাছ যার মধ্যে খুব সামান্য হলেও আমাদের ইলিশের স্বাদ খুঁজে পাওয়া যায়৷ তবে সেই মাছ ‘স্মোক্ড’ অবস্থায়ই বেশি পাওয়া যায়৷

বরফ দেওয়া মাছ

এভাবেই মাছকে যত্ন করে বরফের ওপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়৷ শুধুমাত্র মাছের জন্য রয়েছে আলাদা বাজার, সেখানে এ ধরনের মাছ পাওয়া যায়৷

মাছ খান, সুন্দর আর স্লিম থাকুন

মাছ খাওয়ার পরামর্শ আজকাল চারিদিকে শোনা যায়৷ ডাক্তার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন যে কেউ এই পরমার্শ দেন৷ তবে ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও পূরণ করে থাকে বেশ কিছু মাছ৷

জার্মানিতে নানা রকম মাছ পাওয়া যায়৷ ছোট বড়, নদীর মাছ, সামুদ্রিক মাছ, লোনা পানির মাছ, হ্রদের মাছ, তাজা মাছ, হিমায়িত, ধূমায়িত এবং টিনজাত মাছ৷

জার্মানিতে অনেকেই সখ করে মাছ ধরেন, তবে তাঁদের অবশ্যই মাছ ধরার লাইসেন্স থাকতে হবে৷ তাছাড়া যে কোনো জায়াগায় মাছ ধরা যায় না, শুধু যেসব জায়গায় অনুমতি রয়েছে সেখানেই মাছ ধরা সম্ভব৷

এভাবেই মাছকে যত্ন করে বরফের ওপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়৷ শুধুমাত্র মাছের জন্য রয়েছে আলাদা বাজার, সেখানে এ ধরনের মাছ পাওয়া যায়৷

বিজ্ঞান পরিবেশ | 30.09.2014

এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কষ্টসাধ্য এক গবেষণা করেছেন জার্মানির ‘আলফ্রেড ভাগনার ইন্সটিটিউট'-এর ‘হেল্মহল্টজ সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ'-এর জীববিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের কাজ ছিল মূলত যেসব মাছ প্লাস্টিকের কণা খায়, সেগুলোকে খুঁজে বের করে সেই মাছগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা৷

প্লাস্টিক মাছের স্বাভাবিক খাবার নয়৷ তবু অনেক মাছ প্লাস্টিককেই খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে৷

এমনিতে ব্যাগ, স্যান্ডেল, খেলনা বা অন্য কোনো প্লাস্টিকের আস্ত জিনিস হলে মাছ স্বাভাবিক অবস্থায় তা খায় না৷ তবে জিনিসগুলো তো সমুদ্রের স্রোতের আঘাতে ভেঙে বা ছিঁড়ে টুকরো, সেই টুকরোগুলো আরো ছোট ছোট হতে হতে এক সময় কণার মতো হয়ে যায়৷ সেই কণাগুলো আবার পানির চেয়ে অনেক হাল্কা বলে ওপরেই ভাসে৷ অনেক মাছ প্লাস্টিকের কণাগুলোই খেয়ে ফেলে৷

জার্মান বিজ্ঞানীরা দেখেছেন সব মাছ কাছে পেলেও কখনো প্লাস্টিকের কণা খায় না৷ ২৯০ টি মাছের পাকস্থলী ও নাড়িভুড়ি পরীক্ষা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তাঁরা৷

মাংসের বদলে মাছ

আজকাল প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় অনেক জার্মানই মাংসের পরিবর্তে নানা ধরণের মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ বিশেষকরে যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন তাঁরা তো অবশ্যই৷ মাছে তেমন কোনো চর্বি নেই, রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ফিট রাখতে সহায়তা করে৷

খাবারের মুকুট

জার্মানিতে মাছকে বলা হয় ‘খাবারের মুকুট’৷ মাছ মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে৷ জার্মান খাদ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ, প্রতিটি মানুষেরই সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মাছ খাওয়া প্রয়োজন৷ মাছ হৃদরোগ ও ক্যানসার থেকেও দূরে থাকতে সাহায্য করে৷ মাছ বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে৷

নানা জাতের মাছ

জার্মানিতে নানা রকম মাছ পাওয়া যায়৷ ছোট বড়, নদীর মাছ, সামুদ্রিক মাছ, লোনা পানির মাছ, হ্রদের মাছ, তাজা মাছ, হিমায়িত, ধূমায়িত এবং টিনজাত মাছ৷

মাছ ভাজি

জার্মানরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাছ ভাজি খায়, আমাদের বাঙালিদের মতো রান্না করে খুবই কম খেয়ে থাকেন তাঁরা৷ ডয়চে ভেলের ক্যান্টিনে সপ্তাহে প্রায় দু’দিন মাছ দেওয়া হয়৷ ক্যান্টিনে এরকম একটি ট্রাউট মাছের ভাজির দাম ৭ ইউরো, বাইরে যার দাম প্রায় দ্বিগুণ৷

কাটা মাছ

বাজারে পাঠানোর আগে এভাবেই মাছ ‘প্রসেস’ করা হয়৷ মাছ কেটে পরিষ্কার করে, কাঁটা বেছে ‘স্লাইস’ করে তবেই সেটা বাজারে যায়৷ তবে কিছুটা ছোট আকারের মাছ কার্প, ট্রাউট, হেরিং, সি ব্রাস ইত্যাদি মাছ আস্তই পাওয়া যায় বাজারে৷

সখের জেলে

জার্মানিতে অনেকেই সখ করে মাছ ধরেন, তবে তাঁদের অবশ্যই মাছ ধরার লাইসেন্স থাকতে হবে৷ তাছাড়া যে কোনো জায়াগায় মাছ ধরা যায় না, শুধু যেসব জায়গায় অনুমতি রয়েছে সেখানেই মাছ ধরা সম্ভব৷

তাজা মাছের বাজার

এভাবেই সুন্দর করে সাজানো থাকে মাছের বাজারে মাছগুলো৷ দেখে মনে হয়, মাছগুলো যেন মাছ-প্রেমীদের ডাকছে৷ মাছ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, তাই ডাক্তাররা মাছ খেতে সবসময়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন, বিশেষকরে ছাত্র-ছাত্রী এবং বয়স্কদের৷ তবে সবার জন্যই মাছ খুব উপাদেয়৷

ধূমায়িত মাছ

ধূমায়িত বা ‘স্মোক্ড’ মাছ জার্মানদের কাছে বেশ প্রিয়, বিশেষ করে রুটির সাথে তাঁরা এ ধরনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্না করা মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ ম্যাকরেল নামের এক মাছ যার মধ্যে খুব সামান্য হলেও আমাদের ইলিশের স্বাদ খুঁজে পাওয়া যায়৷ তবে সেই মাছ ‘স্মোক্ড’ অবস্থায়ই বেশি পাওয়া যায়৷

বরফ দেওয়া মাছ

এভাবেই মাছকে যত্ন করে বরফের ওপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়৷ শুধুমাত্র মাছের জন্য রয়েছে আলাদা বাজার, সেখানে এ ধরনের মাছ পাওয়া যায়৷

মাছ খান, সুন্দর আর স্লিম থাকুন

মাছ খাওয়ার পরামর্শ আজকাল চারিদিকে শোনা যায়৷ ডাক্তার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন যে কেউ এই পরমার্শ দেন৷ তবে ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও পূরণ করে থাকে বেশ কিছু মাছ৷

সেই ২৯০টি মাছের মধ্যে ম্যাকারেল, হেরিং, কড এবং হলুদ পাখার এক ধরনের মাছও ছিল৷ এ সব মাছ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীদের মনে হয়েছে, মাছ প্লাস্টিক খাবে কিনা তা নির্ভর করে মূলত সেই মাছের ওপর৷ অর্থাৎ কোনো মাছ কতটা বুদ্ধমান তার ওপরই নির্ভর করে সে প্লাস্টিক খাবে কিনা৷

সেই কারণেই ‘হেল্মহল্টজ সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ'-এর জীববিজ্ঞানীরা দেখেছেন, হেরিং বা হেরিংয়ের মতো কয়েকটি মাছ পেলেও কখনো প্লাস্টিকের কণা খায় না৷ কিন্তু ম্যাকারেল পানির ওপরে প্লাস্টিকের কণা দেখলেই খেয়ে ফেলে৷

শামূকের বাচ্চা ম্যাকারেলের খুব প্রিয় খাবার৷ সাগরের পানিতে প্লাস্টিকের কণার স্তর ভাসতে দেখে মাকারেল মনে করে শামূকের বাচ্চা ভাসছে৷ দেরি না করে দ্রুত সেগুলো খেয়েও ফেলে৷

প্রশ্ন হলো, এই প্লাস্টিকের কণা খাওয়া মাছ খেলে কি মানুষের খুব ক্ষতি হয়? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্লাস্টিক খেয়ে কোনো মাছ অসুস্থ হয়েছে এমন প্রমাণ এখনো তাঁরা পাননি৷ সেই মাছ খেয়ে অসুস্থ হওয়া মানুষের সন্ধানও নাকি তাঁরা এখনো পাননি৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ)

পরিবেশের হুমকি প্লাস্টিক বোতল

ঢাকার একটি দোকানে প্লাস্টিক বোতলগুলোয় বিভিন্ন রকম পানীয়৷ গত কয়েক বছরে প্লাস্টিক বোতলজাত পানীয় বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায়, তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ব্যবহৃত বোতল যেখানে সেখানে ফেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে৷ তবে এবার বেশ কয়েকটা প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারাখানা গড়ে ওঠায় এ সমস্যা দূর হতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন অনেকেই৷

কামরাঙ্গীর চরের কারখানা

ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ করে এনে বিক্রির জন্য পরিমাপ করা হচ্ছে কামরাঙ্গীর চরের একটি কারখানায়৷ এখানে ধরণ অনুযায়ী প্রতি কেজি বোতলের জন্য দেয়া হয়ে থাকে ছয় টাকা থেকে পনেরো টাকা৷

শ্রমিকদের বেশিরভাগই নারী

পরিমাপের পর বাছাই করার জন্য বোতল নামাচ্ছেন এক মহিলা কর্মীরা৷ ঢাকার বিভিন্ন বোতল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী৷ কামরাঙ্গীরচরের এ সব কারখানায় মহিলা শ্রমিকেরা পুরুষের চেয়ে কম বেতন পান৷ এক সপ্তাহ কাজ করে একজন পুরুষ শ্রমিকের বেতন কমপক্ষে ২০০০ টাকা৷ অথচ সমান কিংবা তারও বেশি কাজ করে একজন নারী শ্রমিক পান মাত্র ১৪০০ টাকা৷

কারখানার জন্য স্বতন্ত্র জায়গা

বিভিন্ন রঙের বোতলগুলো বাছাই করে আলাদা করা হয়৷ এ সব প্লাস্টিকের বোতল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে আসে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা৷ রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকও এ সব রপ্তানীকারকদের দশ ভাগ ‘ইনসেনটিভ’ দিয়ে থাকে৷ এছাড়া এ ধরণের কারখানার জন্য স্বতন্ত্র একটি জায়গার কথাও ভাবছে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এফবিসিসিআই৷

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াকরণ কারখানার শ্রমিকরা কাজ করেন মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে৷ ছবিটা দেখেই যেটা একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আপনার কাছে – তাই না?

ধোয়া ও শুকানো

বোতলগুলো চূর্ণ করে ভাঙার পরে সেগুলো ফেলা হয় ছোট এই চৌবাচ্চায়৷ এরপর সেখান থেকে ধুয়ে সেগুলো শুকানোর জন্য দেয়া হয়৷

রপ্তানির জন্য প্রস্তুত

পানিতে ধোয়া প্লাস্টিকের টুকরা শুকানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে৷ বলা বাহুল্য, এগুলোকে সম্পূর্ণ পানিমুক্ত করে তবেই রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়৷

চূড়ান্ত বাছাই

সবশেষে চূড়ান্ত বাছাই করা হয় টুকরাগুলো৷ এ সব প্লাস্টিকের টুকরাগুলো মূলত চীনে রপ্তানি করা হয়৷ তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে, যেখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এ সব বর্জ্য প্লাস্টিক৷ এই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় মূলত বিভিন্নরকম ফাইবার৷

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

বোতলগুলোকে এ পর্যায়ে মেশিনে দিয়ে ভাঙা হয়৷ এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি মহিলা ও পুরুষেরা সমানভাবেই করে থাকেন৷

বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্য তৈরি

এ সব কারখানা ঢাকা থেকে বর্জ্য অপসারণে ভূমিকা রাখলেও, নিজেরাই আবার ভূমিকা রাখে বর্জ্য তৈরিতে৷ প্লাস্টিক বোতলের যেসব অংশের বাণিজ্যিক মূল্য নেই, সেসব সরাসরি ফেলা হয় পাশের বুড়িগঙ্গার শাখা নদীতে৷ ফলে এ নদীটির জলপ্রবাহ প্রায় বন্ধের উপক্রম৷

আরো প্রতিবেদন...