1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

যে সংগঠন নেই তাকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বললেন ট্রাম্প

৪ জুন ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘আন্টিফা’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন৷ তবে বাস্তবে আন্টিফার কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই৷ এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ মাত্র৷

https://p.dw.com/p/3dF0L
ডনাল্ড ট্রাম্প ‘আন্টিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন
ছবি: picture-alliance/NurPhoto/E. Molli

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ চলছে যুক্তরাষ্ট্রে৷ বিক্ষোভের মধ্য়েই সহিংসতা, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে৷ এসবের পেছনে আন্টিফারও হাত রয়েছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন৷ তাই আন্টিফাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর তালিকায় ফেলতে চান ট্রাম্প৷

কিন্তু আন্টিফা কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন নয়, এর কোনো সদরদপ্তর কিংবা দলের প্রধান বলে কেউ নেই, বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক মার্ক ব্রে৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা একধরনের রাজনীতি৷ এভাবে বলা যেতে পারে যে, অনেকগুলো আন্টিফা গোষ্ঠী রয়েছে, কিন্তু আন্টিফা নিজে কোনো সংগঠন নয়৷''

আন্টিফা যেভাবে এসেছে

স্ট্যালিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি অফ জার্মানি (কেপিডি) প্রথম ‘আন্টিফা’ শব্দের ব্যবহার করেছিল৷ জার্মান শব্দ ‘আন্টিফাসিস্টিস'-এর ছোট রূপ হলো আন্টিফা৷ আন্টিফাসিস্টিস এর ইংরেজি হচ্ছে অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট, বাংলায় যাকে ফ্যাসিবাদবিরোধী বলা হয়৷

১৯৩২ সালে ভাইমার জার্মানিতে অনুষ্ঠিত যে নির্বাচনের মাধ্য়মে আডল্ফ হিটলারের এনএসডিএপি দল ক্ষমতায় এসেছিলেন তাতে অংশ নিয়েছিল কেপিডি৷ তারা সহ সামাজিক গণতন্ত্রী ও অন্যান্য গণতন্ত্রপন্থি দলের সম্মিলিত ভোট হিটলারের দলের চেয়ে বেশি ছিল৷ ফলে তারা সবাই একমত হয়ে সরকার গঠন করলে হিটলার ক্ষমতায় যেতে পারতেন না৷

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা আন্টিফা মুভমেন্টকে বিভিন্ন বামপন্থি গ্রুপের ‘সহিংস হওয়ার অনুপ্রেরক' হিসেবে দেখে থাকে৷

জার্মানিতে সবশেষ ২০১৭ সালে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনের সময় আন্টিফার বিক্ষোভকারীদের দেখা গিয়েছিল৷

চরম বামপন্থিসহ বিভিন্ন স্বশাসিত (অটোনোমাস) গ্রুপ, ইসরায়েল রাস্ট্রের বিরোধিতা করা অ্যান্টি-জিওনিস্ট গ্রুপ- এদের আন্টিফা হিসেবে ধরা হয়৷ কিন্তু এসব গ্রুপের মধ্যেই এত বিভাজন যে তারা এখনও আন্টিফার একটি নির্দিষ্ট লোগোতে স্থির হতে পারেনি৷


জার্মানিতে আলোচনা

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্টিফার উৎপত্তিস্থল জার্মানির রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ জোট সরকারে অংশীদার দল সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডির অন্যতম প্রধান সাসকিয়া এসকেন আন্টিফার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি টুইট করেছেন৷ তিনি তাঁর বয়স উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘‘৫৮ এবং আন্টিফা৷ অবশ্যই৷''

এরপর তাঁর দলের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দলের বয়স উল্লেখ করা লেখা হয়, ‘‘১৫৭ এবং আন্টিফা৷ অবশ্যই৷’’


তবে এসপিডি অন্যতম এক প্রধানের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে চ্য়ান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল সিডিইউর মহাসচিব পাউল সিমিয়াক আন্টিফার সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে৷ সহিংসতা ছাড়া৷অবশ্যই আমার জন্য৷ এটা দুঃখের বিষয় যে এসপিডির প্রধানের এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা নেই৷''

তবে এসপিডি প্রধানের টুইট নিয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিডিইউর যুব দল জেইউ৷ তারা দলের বয়স উল্লেখ করে লিখেছে, ‘‘৭৩ এবং হতভম্ব’’৷


এসপিডি প্রধান অবশ্য পরে বলেছেন, ‘‘আন্টিফা কোনো সংগঠন নয়৷ ফ্যাসিবাদবিরোধিতা এমন এক বিষয় যাকে সব গণতন্ত্রপন্থিদের সমর্থন করা উচিত৷’’

মার্ক হালাম/জেডএইচ

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান