যৌথ জলাধার নির্মাণে রাজি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল

শুকনো মৌসুমে পানি পেতে নেপালে বিশেষ জলাধার নির্মাণে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ভারত এবং নেপাল৷ বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন৷

জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও নেপালের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে বন্যার প্রকোপ নিরসনে এবং পানি সম্পদের বহুমুখি ব্যাবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দু'দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠন করা হয়৷ এই দলটি যৌথ সমীক্ষা পরিচালনার পর '৮৯ এর ডিসেম্বরে বেশ কিছু সুপারিশ সম্বলিত একটি রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এই অঞ্চলের পানি সম্পদের বহুমুখীকরণ ও সর্বোচ্চ ব্যাবহারের লক্ষ্যে গঙ্গার উজানে পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য৷ এই পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের বন্যার গভীরতা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে৷ একই সাথে এই পানি সংরক্ষণাগারের পানি দ্বারা শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রবাহেরও বৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়৷

লেখক: সাগর সরওয়ার, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

বিজ্ঞান পরিবেশ | 17.03.2009

রমেশ চন্দ্র বলেছেন, যৌথ নদী কমিশনের আগামী সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলাপ আলোচনা হবে৷ এর আগেই নেপাল জানিয়েছিল, তারা পানির এই রির্জাভোয়া তৈরি এবং ব্যবহার করতে দিতে রাজি আছে৷ কেবল অপেক্ষা ছিল ভারতের সম্মতির৷

পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, তিন দেশ মিলে এই রিজার্ভোয়া তৈরি করবো৷ নেপালের এই রিজার্ভোয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত উপকৃত হবে৷ তিনি বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, যৌথ নদী কমিশনের সভায় আলোচনার পরই সব প্রকাশ করা হবে৷ তিনি জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাঁর ফলাফল ভাল হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন৷ তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশের শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতেই এই সব পদক্ষেপ৷ এ ছাড়া বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের মধ্যে গঙ্গা ব্যারাজ তৈরির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করবে৷ এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন৷ তিনি আরও জানান, যৌথ নদী কমিশনের সভায় ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে৷

বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগেই ভারত নেপালে অন্যত্র দুটি জলাধার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে৷ এ দুটি জলাধার হচ্ছে-পঞ্চেশ্বরী ও সপ্তকোষিতে৷

বাংলাদেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় সাতটি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশই প্রথম নেপালকে দিয়েছিল৷ বাংলাদেশের এ সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের স্থান ছিল-পঞ্চেশ্বর, সপ্তকোষি, কর্ণালী, কালিগন্ধকী -১, কালিগন্ধকী-২, শ্বেতী ও ত্রিশূর গঙ্গা৷

বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷ আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷

নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও নেপালের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে বন্যার প্রকোপ নিরসনে এবং পানি সম্পদের বহুমুখি ব্যাবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দু'দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠন করা হয়৷ এই দলটি যৌথ সমীক্ষা পরিচালনার পর '৮৯ এর ডিসেম্বরে বেশ কিছু সুপারিশ সম্বলিত একটি রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এই অঞ্চলের পানি সম্পদের বহুমুখীকরণ ও সর্বোচ্চ ব্যাবহারের লক্ষ্যে গঙ্গার উজানে পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য৷ এই পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের বন্যার গভীরতা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে৷ একই সাথে এই পানি সংরক্ষণাগারের পানি দ্বারা শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রবাহেরও বৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়৷

লেখক: সাগর সরওয়ার, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

03:48 মিনিট
DW-RADIO | 17.03.2009

Interview

বাংলাদেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় সাতটি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশই প্রথম নেপালকে দিয়েছিল৷ বাংলাদেশের এ সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের স্থান ছিল-পঞ্চেশ্বর, সপ্তকোষি, কর্ণালী, কালিগন্ধকী -১, কালিগন্ধকী-২, শ্বেতী ও ত্রিশূর গঙ্গা৷

বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷ আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷

নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও নেপালের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে বন্যার প্রকোপ নিরসনে এবং পানি সম্পদের বহুমুখি ব্যাবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দু'দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠন করা হয়৷ এই দলটি যৌথ সমীক্ষা পরিচালনার পর '৮৯ এর ডিসেম্বরে বেশ কিছু সুপারিশ সম্বলিত একটি রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এই অঞ্চলের পানি সম্পদের বহুমুখীকরণ ও সর্বোচ্চ ব্যাবহারের লক্ষ্যে গঙ্গার উজানে পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য৷ এই পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের বন্যার গভীরতা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে৷ একই সাথে এই পানি সংরক্ষণাগারের পানি দ্বারা শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রবাহেরও বৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়৷

লেখক: সাগর সরওয়ার, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

রমেশ চন্দ্র বলেছেন, যৌথ নদী কমিশনের আগামী সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলাপ আলোচনা হবে৷ এর আগেই নেপাল জানিয়েছিল, তারা পানির এই রির্জাভোয়া তৈরি এবং ব্যবহার করতে দিতে রাজি আছে৷ কেবল অপেক্ষা ছিল ভারতের সম্মতির৷

পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, তিন দেশ মিলে এই রিজার্ভোয়া তৈরি করবো৷ নেপালের এই রিজার্ভোয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত উপকৃত হবে৷ তিনি বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, যৌথ নদী কমিশনের সভায় আলোচনার পরই সব প্রকাশ করা হবে৷ তিনি জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাঁর ফলাফল ভাল হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন৷ তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশের শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতেই এই সব পদক্ষেপ৷ এ ছাড়া বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের মধ্যে গঙ্গা ব্যারাজ তৈরির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করবে৷ এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন৷ তিনি আরও জানান, যৌথ নদী কমিশনের সভায় ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে৷

বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগেই ভারত নেপালে অন্যত্র দুটি জলাধার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে৷ এ দুটি জলাধার হচ্ছে-পঞ্চেশ্বরী ও সপ্তকোষিতে৷

বাংলাদেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় সাতটি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশই প্রথম নেপালকে দিয়েছিল৷ বাংলাদেশের এ সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের স্থান ছিল-পঞ্চেশ্বর, সপ্তকোষি, কর্ণালী, কালিগন্ধকী -১, কালিগন্ধকী-২, শ্বেতী ও ত্রিশূর গঙ্গা৷

বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷ আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷

নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও নেপালের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে বন্যার প্রকোপ নিরসনে এবং পানি সম্পদের বহুমুখি ব্যাবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দু'দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠন করা হয়৷ এই দলটি যৌথ সমীক্ষা পরিচালনার পর '৮৯ এর ডিসেম্বরে বেশ কিছু সুপারিশ সম্বলিত একটি রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এই অঞ্চলের পানি সম্পদের বহুমুখীকরণ ও সর্বোচ্চ ব্যাবহারের লক্ষ্যে গঙ্গার উজানে পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য৷ এই পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের বন্যার গভীরতা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে৷ একই সাথে এই পানি সংরক্ষণাগারের পানি দ্বারা শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রবাহেরও বৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়৷

লেখক: সাগর সরওয়ার, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

সংশ্লিষ্ট বিষয়