রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার: হাসিনা

জার্মানির মিউনিখে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতার অভাবসহ নানা কারণে সংস্থাটি প্রায়ই সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে না৷

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবার আগে স্বাস্থ্য বিষয়ক এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়৷ সেখানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সংকটের ব্যাপকতা, সম্পদ ও ক্ষমতার অভাবের কারণে ডাব্লিউএইচও প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়৷ তবে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিয়োজিত আমাদের এই মুখ্য মানবিক সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন প্রাপ্য৷’’

তিনি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন৷ সেইসঙ্গে বলেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা রক্ষায় আরো বেশি অর্থায়নের প্রয়োজন৷

৫৫তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রথম দিনে ছিল এই ‘হেলথ ইন ক্রাইসেস-ডাব্লিউএইচও কেয়ার্স’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা৷ সেখানে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকরী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করার ওপর জোর দেন৷ তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানুষের মৌলিক চাহিদা, তা পূরণ করতে হবে৷

‘‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা মানুষের জন্য প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছি না, যেখানে এসডিজি-৩-এ একে মৌলিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,’’ বলেন তিনি৷

সমাজ সংস্কৃতি | 21.04.2012

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

লিঙ্গ সমতা মাপা

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, ডাব্লিউইএফ ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর ‘বিশ্ব লিঙ্গবৈষম্য সূচক’ প্রকাশ করে আসছে৷ মূলত চারটি বিষয় – অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষায় অর্জন, স্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন – বিবেচনা করে এ সূচক প্রকাশ করা হয়৷ ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে সবশেষ সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে৷ প্রতিবেদনটি পড়তে উপরে ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম

সবশেষ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৬৮ নম্বরে৷ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অবস্থান এরও পরে৷ ভারত ১০৮-এ আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৪ নম্বরে৷ আরও জানতে উপরে ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

শীর্ষে স্বাস্থ্য খাত

যে চারটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সূচক প্রকাশ করা হয় তার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে৷ ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে এই খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২২তম৷ ২০১৫ সালে সেটা ২৭ ধাপ এগিয়ে ৯৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

শিক্ষা

২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শিক্ষা খাতের ব়্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ১০৯ নম্বরে আছে বাংলাদেশ৷ সবচেয়ে বেশি সাফল্য দেখা গেছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশের ব়্যাংকিং এক৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান ১১৯ নম্বরে৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন

এক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে দুই ধাপ এগিয়েছে৷ ফলে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান আট৷ সংসদে নারী সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৭৬৷ আর মন্ত্রিসভায় নারী সদস্য সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ আছে ১২৬ নম্বরে৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

যেখানে পিছিয়েছে

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গতবারের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে ১৩০তম অবস্থানে এসেছে৷ শ্রমখাতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ বিবেচনায় বাংলাদেশে অবস্থান ৯৭, আর একই কাজে নারী-পুরুষের বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে অবস্থান ১২৬ নম্বরে৷

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে বাংলাদেশ

সমতা আসতে লাগবে ১১৮ বছর!

ডাব্লিউইএফ বলছে, বেতনের পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা পুরোপুরি আসবে ২১৩৩ সালে, অর্থাৎ ১১৮ বছর পর৷ অবশ্য ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও আগেই এই সমতা আসতে পারে বলে জানিয়েছিল৷ কিন্তু গত এক বছরে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সমতা আসার সময়সীমাও বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷

তিনি উন্নয়নশীল ও এলডিসি দেশগুলোর জন্য জরুরি অর্থায়ন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন৷

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ ‘‘আমাদের উদ্যোগের কারণে আজ আমরা ‘কম খরচে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা’ দেয়ার রোল মডেলে পরিণত হয়েছি৷’’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার লাখ প্রতি ১৭২ জন, শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৪ জন ও পাঁচ বছরের নীচে শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ৩১ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে৷

দেশে সবার জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিতে গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি৷ মাতৃমৃত্যু হার, শিশু মৃত্যুহার কমানোসহ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার জন্য ডাব্লিউএইচও’র কর্মসূচিগুলোর প্রশংসা করেন তিনি৷ আরো বলেন যে, বাংলাদেশে মিয়ানমারের নাগরিক যাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের স্বাস্থ্য সেবায় ডাব্লিউএইচও কাজ করে যাচ্ছে, যা প্রশংসনীয়৷

শনিবার জলবায়ু বিষয়ক একটি আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা৷ এরপর রাতেই চলে যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে৷ সেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী (আইডিইএক্স-২০১৯)-এ যোগ দেবেন৷ চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবার পর এই প্রথম বিদেশ সফরে এলেন শেখ হাসিনা৷

জেডএ/এসিবি (বাসস)

আমাদের অনুসরণ করুন