রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: হারিয়ে যাবে বাঘ ও ডলফিন

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে৷ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিষাক্ত গ্যাস দূষিত করবে পানি, মাটি ও বায়ু৷ আর তার ফলে হারিয়ে যেতে পারে বাঘ আর ডলফিনও৷

ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত সুন্দরবন গবেষক জেসিকা লরেঞ্জ তাঁর এক ব্লগে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশে সুন্দরবন রক্ষা কমিটির মহাসচিব ড. আবদুল মতিন ডয়চে ফেলেকে বলেন, ‘‘এরইমধ্যে এর প্রাথমিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷''

জেসিকা লরেঞ্চ তাঁর ব্লগে বলেন, ‘বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং নদীতে ইরাবতী ডলফিনের বসবাস হাজার বছর বছর ধরে৷ পাশাপাশি বাঘ আর ডলফিনের বাস পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য ঘটনা৷ কিন্তু লোভের কারণে তাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে৷' আর এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে৷

অডিও শুনুন 12:35
এখন লাইভ
12:35 মিনিট
বিষয় | 11.03.2016

আব্দুল মতিন

তিনি জানান, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পৃথিবীর গড় বৃদ্ধির তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ পরবর্তী ৮০ বছরে এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৩ ফুট বাড়বে৷ এর সঙ্গে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলবে৷''

সুন্দরবন রক্ষা কমিটির মহাসচিব ড. আবদুল মতিনের কথায়, ‘‘কয়লা পুড়ে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে তখন কয়লা থেকে যে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হবে, সেই গ্যাস এই এলাকার মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করবে৷ কয়লার পারদ, সালফার, কার্বন পরিবেশ, জীবন এবং জীববৈচিত্র্যকে শেষ করে দেবে৷''

সারা বিশ্বেই বাঘের সংখ্যা খুব দ্রুত কমছে৷ এক শতক আগে যেখানে এক লাখের মতো বাঘ ছিল, সেখানে এখন আছে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার বাঘ! আটটি উপ-প্রজাতির মধ্যে তিনটি একেবারে উধাও৷ তাছাড়া শুধুমাত্র সুমাত্রা, সাইবেরিয়া, রয়েল বেঙ্গল, মালয়, ইন্দোচীন এবং দক্ষিণ চীনের বাঘই টিকে আছে৷ ছবির এই বাঘটাও এখন আর জঙ্গলে নেই, শুধু চিড়িয়াখানাতেই আছে এরা৷

শিকারের সময় বাঘ একা থাকতে পছন্দ করে৷ সাধারণত রাতেই খাদ্যের খোঁজে শিকারে বের হয় বাঘ৷ অন্ধকারে শিকার তাকে দেখবে না, চুপি চুপি সামনে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাড়টা কামড়ে ধরা যাবে – এ সব আবার বাঘমামা খুব ভালো বোঝে!

যেসব অঞ্চলে আবহাওয়া একটু গরম, সেখানে নভেম্বর থেকে এপ্রিল – এই সময়টাই বাঘের প্রজননের জন্য আদর্শ সময়৷ শীতপ্রধান দেশে শীতেই বাচ্চা নেয় বাঘ৷ বাচ্চা সাধারণত ১০৩ দিন মায়ের পেটে থাকে৷ বাঘিনী একসঙ্গে তিন থেকে চারটি বাচ্চা দেয়৷ বয়স আট সপ্তাহের মতো হলেই বাঘের ছানারা মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে৷ দেড় বছরের মাথায় ছানা বাঘ একা একা শিকার শুরু করে৷

ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত সুন্দরবন গবেষক জেসিকা লরেঞ্জ তাঁর এক ব্লগে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশে সুন্দরবন রক্ষা কমিটির মহাসচিব ড. আবদুল মতিন ডয়চে ফেলেকে বলেন, ‘‘এরইমধ্যে এর প্রাথমিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷''

জেসিকা লরেঞ্চ তাঁর ব্লগে বলেন, ‘বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং নদীতে ইরাবতী ডলফিনের বসবাস হাজার বছর বছর ধরে৷ পাশাপাশি বাঘ আর ডলফিনের বাস পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য ঘটনা৷ কিন্তু লোভের কারণে তাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে৷' আর এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে৷

অডিও শুনুন 12:35
এখন লাইভ
12:35 মিনিট
বিষয় | 11.03.2016

আব্দুল মতিন

তিনি জানান, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পৃথিবীর গড় বৃদ্ধির তুলনায় ১০ গুণ বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ পরবর্তী ৮০ বছরে এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৩ ফুট বাড়বে৷ এর সঙ্গে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলবে৷''

সুন্দরবন রক্ষা কমিটির মহাসচিব ড. আবদুল মতিনের কথায়, ‘‘কয়লা পুড়ে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে তখন কয়লা থেকে যে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হবে, সেই গ্যাস এই এলাকার মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করবে৷ কয়লার পারদ, সালফার, কার্বন পরিবেশ, জীবন এবং জীববৈচিত্র্যকে শেষ করে দেবে৷''

তিনি জানান, ‘‘এর প্রভাবে প্রথমে সুন্দরবনের গাছপালা ধ্বংস হবে৷ তারপর ধ্বংস হবে মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো পতঙ্গ৷ আর বনের গাছপালা ধ্বংস হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য প্রাণীও বিলুপ্ত হবে৷''

আবদুল মতিন বলেনন, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এরমধ্যেই সুন্দরবনের নদীতে জাহাজ চলাচল বেড়ে গেছে৷ এ কারণে এরইমধ্যে জলজ প্রাণী হুমকির মুখে রয়েছে৷ কয়লা পোড়ানো শুরু হলে তার ছাই ও বিষাক্ত বর্জ্য নদীর পানিকে দূষিত করবে৷ ফলে ডলফিনসহ জলজ প্রাণী বাঁচবে না৷''

বাঘ হারিয়ে যাচ্ছে

সারা বিশ্বেই বাঘের সংখ্যা খুব দ্রুত কমছে৷ এক শতক আগে যেখানে এক লাখের মতো বাঘ ছিল, সেখানে এখন আছে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার বাঘ! আটটি উপ-প্রজাতির মধ্যে তিনটি একেবারে উধাও৷ তাছাড়া শুধুমাত্র সুমাত্রা, সাইবেরিয়া, রয়েল বেঙ্গল, মালয়, ইন্দোচীন এবং দক্ষিণ চীনের বাঘই টিকে আছে৷ ছবির এই বাঘটাও এখন আর জঙ্গলে নেই, শুধু চিড়িয়াখানাতেই আছে এরা৷

বাঘ থাকবে কোথায়?

বাঘের বিচরণ ছিল এমন জঙ্গলের প্রায় ৯৩ শতাংশই এখন মানুষের দখলে৷ কোথাও শুরু হয়েছে চাষবাস৷ কোথাও গড়ে উঠেছে জনবসতি৷ এ অবস্থা চলতে থাকলে বসবাসের জায়গার অভাবেই হয়ত বাঘ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে৷ ছবির এই সাদা রঙের বিরল বেঙ্গল টাইগারের হয়ত আর চিহ্নই থাকবে না৷

রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও মহাবিপদ

জলবায়ু পরিবর্তন বাঘের জন্যও বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বাংলাদেশ ও ভারতের অংশের সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের তো বিপদ দিন দিন বাড়ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যত বাড়ছে, ততই ছোট হয়ে আসছে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ঘর’ সুন্দরবন৷ বাংলাদেশের সুন্দরবনে যেমন আর মাত্র ১০০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার অবশিষ্ট আছে৷

শিকারের সময়...

শিকারের সময় বাঘ একা থাকতে পছন্দ করে৷ সাধারণত রাতেই খাদ্যের খোঁজে শিকারে বের হয় বাঘ৷ অন্ধকারে শিকার তাকে দেখবে না, চুপি চুপি সামনে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাড়টা কামড়ে ধরা যাবে – এ সব আবার বাঘমামা খুব ভালো বোঝে!

সাঁতারু বাঘ

বাঘের হাত থেকে বাঁচতে পানিতে ঝাঁপ দেয়া রীতিমতো আহাম্মকি৷ বাঘের পানি খুব পছন্দ৷ সাঁতারেও খুব পটু সে৷ সুতরাং পানিতে ঝাঁপ দেয়া শিকারকে ধরা বাঘের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়৷

বাঘের প্রিয় খাবারের তালিকায় মানুষ নেই...

বাঘ কিন্তু মানুষের মাংস খেতে পছন্দ করে না৷ বাঘের প্রিয় খাবারের তালিকায় হরিণ, মহিষ, ভালুক, কুকুর, চিতা, কুমির, এমনকি অজগর সাপও আছে, কিন্তু মানুষ নেই৷ তারপরও কেন বাঘ মানুষ শিকার করে? ভয়ে৷ যখন মনে হয়, মানুষ তাকে আক্রমণ করতে পারে তখন নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে উল্টো নিজেই আক্রমণ করে বসে বাঘ৷

বংশবৃদ্ধির সময়

যেসব অঞ্চলে আবহাওয়া একটু গরম, সেখানে নভেম্বর থেকে এপ্রিল – এই সময়টাই বাঘের প্রজননের জন্য আদর্শ সময়৷ শীতপ্রধান দেশে শীতেই বাচ্চা নেয় বাঘ৷ বাচ্চা সাধারণত ১০৩ দিন মায়ের পেটে থাকে৷ বাঘিনী একসঙ্গে তিন থেকে চারটি বাচ্চা দেয়৷ বয়স আট সপ্তাহের মতো হলেই বাঘের ছানারা মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে৷ দেড় বছরের মাথায় ছানা বাঘ একা একা শিকার শুরু করে৷

বাঘের সবচেয়ে বড় শত্রু

বাঘের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কিন্তু মানুষ৷ মানুষই তাদের চক্ষুশূল৷ হবে না কেন! জঙ্গল দখল করে করে বাঘের বসবাসের জায়গা ছোট করছে মানুষ৷ নানা ছুতোয় বন্দুক নিয়ে বাঘ শিকারও করে মানুষ৷ বাঘের সবচেয়ে বড় শত্রুও তাই মানুষ৷

মানুষ কেন বাঘ শিকার করে?

প্রতি বছর অনেক বাঘ হত্যা করা হয়৷ অবৈধ বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয় বাঘ৷ তথাকথিত অভিজাতরা ড্রয়িং রুমের দেয়ালে ঝোলায় বাঘের চামড়া৷ চীনে এক ধরনের ওষুধ তৈরিতেও কাজে লাগে বাঘ৷

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের মাত্র চার কিমি. এলাকার মধ্যে এই বিনদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে৷ অথচ ভারত কিন্তু ভারতীয় সুন্দরবন এলাকায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পানেনি৷ কারণ সেখানে কোনো বনের ২৫ কিমি.-এর মধ্যে কয়লা ভিত্তিক এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বেআইনি৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়