রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে তোপের মুখে রাশিয়া

সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে রাশিয়া৷ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সিরিয়া প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান বদলে গেছে৷ সব কিছুর পরও অবশ্য রাশিয়া অনড়৷

মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের ইডলিব প্রদেশে বিমান থেকে রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়৷ হামলায় এ পর্যন্ত ৮৬ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তির আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর জানিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস৷

হামলায় ‘সারিন’ নামের মারাত্মক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ এবং এমন হামলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীই যে চালিয়েছে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব একরকম নিশ্চিত৷ তবে আসাদ সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ আসাদের মিত্র দেশ রাশিয়া বুধবারই বলেছে, তাদের ধারণা হামলায় সিরীয় বিদ্রোহীরাই জড়িত৷

এ অবস্থানের জন্য বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভায় তোপের মুখে পড়ে রাশিয়া৷ সভায় মঙ্গলবারের হামলার জন্য বাশার আল আসাদ সরকারকে দায়ী করে নিন্দা প্রস্তাব পাশের অনুরোধ জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স৷ ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাশিয়া সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে৷ ফলে এ নিয়ে কোনো ভোটাভুটিও হতে পারেনি৷

তবে এভাবে দামেস্কের বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব রুখে দিলেও সমালোচনার তোপ এড়াতে পারেনি রাশিয়া৷ জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি কথিত রাসায়নিক হামলায় নিহতদের ছবি দেখিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়া এবং ইরান সিরিয়ায় ‘শান্তি স্থাপনে আগ্রহী নয়’ বলেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে৷ এ সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদেরও কঠোর সমালোচনা করে হ্যালি বলেন, আসাদ সরকার জোটবদ্ধ কঠোর ব্যবস্থার ঝুঁকি নিচ্ছে৷

জাতিসংঘে ফ্রান্সের দূত মঙ্গলবারের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসাদ সরকার এবং রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন৷

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাসায়নিক অস্ত্র হামলার অভিযোগ সিরিয়া প্রসঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে৷ বুধবার জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনা সিরিয়া এবং আসাদের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলে দিয়েছে৷’’

গত সপ্তাহেই ট্রাম্প বলেছিলেন, অতীতে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রাধিকার পেলেও এখন সে অবস্থানে পরিবর্তন আসতেই পারে৷

সংস্কৃতি

উমায়াদ মসজিদ, তখন

৭১৫ সালে নির্মিত উমায়াদ মসজিদকে সিরিয়ার ‘মর্যাদাপূর্ণ স্থাপনা’ বলা হতো৷ এমনকি জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও এর নাম রয়েছে৷

সংস্কৃতি

উমায়াদ মসজিদ, এখন

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৩ সালে হামলায় এই মসজিদও রেহাই পায়নি৷ প্রার্থনায় জায়গায়ও গোলাগুলি হয়৷ ২০১৬ সালের মার্চে একটি মিনার ধসে পড়ে৷ এখন জায়গাটি দেখলে একটা ধ্বংসস্তূপ মনে হয়৷

সংস্কৃতি

নহাসিন হাম্মাম, তখন

পুরানো আলেপ্পোর এই হাম্মাম পর্যটকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় স্থান বলে পরিচিত ছিল৷

সংস্কৃতি

নহাসিন হাম্মাম, এখন

গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এই জায়গাটির চেহারা দেখে বোঝাই যায় না কতটা আরামের জায়গা ছিল এটি৷ এখানে এখন পানি আর গোসল করার জিনিসের বদলে যুদ্ধের ভয়ংকর ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়৷

সংস্কৃতি

কেল্লা, তখন

আলেপ্পোর কেল্লা বিশ্বের অন্যতম বড় ও পুরানো কেল্লার তালিকায় স্থান পেয়েছে৷ ১২শ’ শতাব্দীতে দুর্গটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়৷

সংস্কৃতি

কেল্লা, এখন

সময়ের সাথে লড়াই করে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা দুর্গটি নিজের অধিবাসীদের ঝগড়া-বিবাদ সহ্য করতে পারেনি৷ যুদ্ধের প্রভাবে দুর্গটি তার পুরোনো জৌলুস হারিয়েছে৷

সংস্কৃতি

পুরানো শহর, তখন

২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে তোলা এই ছবিটি৷ পুরানো শহর তার চাকচিক্যে ঐতিহ্যে ঝলমল করছে৷

সংস্কৃতি

পুরানো শহর, এখন

এই ছবিটি ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বরের৷ পুরানো শহরের চাকচিক্যের ছিটেফোটাও এখন আর নেই৷ যেন এক ভুতূরে নগরী৷

সংস্কৃতি

শাহাবা মল, তখন

২০০৯ সালের ডিসেম্বর, এই মল ক্রিসমাসের জন্য সাজানো হয়েছিল৷ ২০০৮ সালে নির্মিত এই শপিং মলের সাজ সজ্জা দেখতেই অনেক লোক এখানে যেতো৷

সংস্কৃতি

শাহাবা মল, এখন

গুগলে যদি এখন এই নামটি সার্চ করেন, তবে লেখা দেখবেন ‘চিরকালের জন্য বন্ধ’ ৷ ২০১৪ সালে হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মলটি৷

সংস্কৃতি

আল-জারাব বাজার, তখন

আল-জারাব বাজার এর প্রধান দরজা৷ পুরোনো আমলের এই বাজারে ছবিটি ২০০৮ সালে তোলা৷

সংস্কৃতি

আল-জারাব বাজার, এখন

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাজারের এই ছবিটি তোলা হয়েছে৷ বাজারের বেশিরভাগ অংশই বিধ্বস্ত হয়েছে হামলায়৷