রোহিঙ্গাদের কি ভাসান চরে পাঠানো সম্ভব হবে?

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসান চরে স্থানান্তরের ব্যাপারে শর্ত সাপেক্ষে সম্মতি দিয়েছে জাতিসংঘ৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শর্ত মেনে রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে পাঠানো সম্ভব কিনা?

ডাব্লিউএফপি যেসব শর্তের কথা বলছে, তার মধ্যে প্রথম শর্ত হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাসান চরে স্থানান্তর করা যাবেনা৷ অর্থাৎ তাদের এই স্থানান্তর হতে হবে স্বপ্রণোদিত৷ তাদের জোর করে বা কোনো চাপের মুখে সেখানে পাঠানো যাবেনা৷

এছাড়া স্থানান্তর হতে হবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি মেনে৷ কক্সবাজারে ডাব্লিউএফপি'র পক্ষে কক্সবাজারে কমিউনিকেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত জেমা স্নোডন রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তরের এই রূপরেখা সরকারের (বাংলাদেশ) সঙ্গে তাদের চলমান আলোচনার অংশ৷ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ভাসান চরে স্থানান্তরের জন্য পরিকল্পনার গভীর মূল্যায়ন, প্রয়োজনী অর্থ সংস্থান, খাদ্য ও টেলিযোগাযোগের মতো অন্যান্য আরো কিছু বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে৷’’

ডাব্লিউএফপি বলছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দাতাদের কাছে প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৯০ লাখ ডলারের অনুদান চাওয়া উচিত৷

‘কনসেপ্ট অব অপারেশন' শিরোনামে ডাব্লিউএফপি'র ওই রূপরেখার শর্ত বাংলাদেশ কতটা মানতে পারবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে এক ধরণের উভয় সংকটে পড়েছে৷ কারণ রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নেই৷ তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি কবে নিশ্চিত হবে, তা কেউই বলতে পারছেনা৷ এরইমধ্যে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারে আশ্রয় দেয়া হয়েছে৷ স্থানীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলার সংকট ছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে৷ আর স্থানীয় জনগোষ্ঠী এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে৷

এছাড়া শর্ত মেনে রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তর কতটুকু সম্ভব, খরচের অর্থ কোথা থেকে আসবে, শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা সেখানে স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হবে কিনা, কারণ এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের কেউ ভাসান চরে যেতে চায় বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, বরং তারা সেখানে যেতে চায়না বলে বিক্ষোভও করেছে - এসব প্রশ্নেরও উত্তর জানার চেষ্টা চলছে৷

এখন লাইভ
02:36 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 25.03.2019

‘১০ লাখ লোক আমাদের জন্য অনেক বড় বোঝা’

‘রাজি হবে বলে মনে হয় না'

সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ডাব্লিউএফপি'র এই পুরো প্রজেক্টটা আমরা জানলাম হঠাৎ করেই৷ ফলে এর পুরো তথ্য আমরা জানিনা৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যা জানতে পেরেছি ততটুকুই৷ এটা ঠিক যে কক্সবাজারে এখন যে সিকিউরিটি ও ড্রাগ থ্রেট সেদিক থেকে রিফিউজিদের যদি একটু আইসোলেটেড রাখা যায় তাহলে ভালো৷ এখানে আমাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির বিষয়ও আছে৷ কিন্তু ভাসান চরে স্থানান্তরে তাদের খাদ্য নিয়ে সমস্যা হবেনা৷ এটা ম্যানেজ করা যাবে৷ কিন্তু তাদের শিশুদের শিক্ষার বড় একটি বিষয় আছে৷ একটা লস্ট জেনারেশন ম্যানেজের বিষয় আছে৷ আর ভাসান চরে যাওয়ার বিষয়টি রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়ার অপশন আছে৷ অনেক ধরণের নেগেটিভ ক্যাম্পেইন আছে৷ রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে শেষ পর্যন্ত রাজি হবে বলে আমার মনে হয়না৷’’

তিনি বলেন, ‘‘চরটি নাকি পানির নীচে চলে যায়৷ ২০ বছর আগেও নাকি ওই চরটি ছিলনা৷ তারপরও সেখানে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে৷ কনস্ট্রাকশনের কাজ প্রায় শেষ৷ ১০ লাখ লোক আমাদের জন্য অনেক বড় বোঝা৷ প্রজেক্টটি সফল হলে ভালো হতো৷ কিন্তু নানা প্রশ্ন আছে৷’’

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য এরইমধ্যে ২৮ কোটি ডলার ব্যয় করছে বাংলাদেশ৷ চরটিতে যেতে মূল ভূখণ্ড থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় দেড় থেকে দু'ঘণ্টা লাগে৷

গত বছর জানুয়ারিতে সই হওয়া ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি৷ জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, রাখাইন এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ নয়৷ আর কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গাদের একাংশকে ভাসান চরে স্থানান্তরে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷

আরেক সমস্যা?

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের ভাসান চরে স্থানান্তর করা যাবেনা৷ আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি৷ আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের সব দায়দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপর বর্তায়৷ এটা আইন এবং মানবাধিকারের সহজ কথা এবং বাংলাদেশ সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে৷ কিন্তু যখন এধরণের বড় বিপর্যয় ঘটে তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও দায় এড়াতে পারেনা৷ তাদেরও দায়দায়িত্ব আছে৷’’

এখন লাইভ
04:27 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 25.03.2019

‘রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের ভাসান চরে স্থানান্তর করা য...

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কূটকচাল তৈরি হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একদিকে বলছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার৷ তারা সেখানে হত্যা নির্যাতনের শিকার৷ তাই তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে৷ আর বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে বড় মানবাধিকারের কাজ করছে৷ কিন্তু যে মিয়ানমার এই জাতিগত নিধন চালাচ্ছে, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা তেমন আগ্রহী হতে দেখছিনা৷ মিয়ানমারকে যে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে সেই কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তরিক বলে আমার মনে হয়না৷’’

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তর করা হলে বাংলাদেশ আরেকটি সমস্যায় পড়তে পারে৷ কারণ তখন ধরেই নেয়া হবে রোহিঙ্গারা দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে থাকবে৷ ফলে এটা মিয়ানমারের ওপর চাপ আরো কমাবে৷ অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাসান চরে নেয়া হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷ তারা যেতে তখনই ইচ্ছুক হবে যখন ভাসান চরকে তারা বেটার অপশন মনে করবে৷ এটা কিন্তু শুধু রেশন কার্ড দিয়ে হবেনা৷ তাদের শিশুদের পড়াশুনা, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন, সেখানে কাজের ব্যবস্থা করা এগুলোর প্রয়োজন পড়বে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘তারা যেসব শর্ত দিচ্ছেন তার অনেকগুলাই হয়ত পূরণ সম্ভব৷ কিন্তু এর জন্য বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে৷ এখন বাংলাদেশ সেই বিনিয়োগ করবে কিনা বা চাপ নেবে কিনা৷ এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব আছে৷ এই বিনিয়োগের দায়িত্ব তাদের নিতে হবে৷ বাংলাদেশকে এইসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে৷ কোনো চাপের মুখে কেনো অসহনীয় শর্ত যেন বাংলাদেশ মেনে না নেয়৷’’

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

স্বামীর খবর জানেন না তিনি

রামিদা বেগমের স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷ এরপর তাঁদের বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ তার সপ্তাহখানেক পর পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান তিনি৷ ফলে স্বামীর খবর এখন জানেন না রামিদা৷ ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে যখন ছবিটি তোলা হয় তখন তাঁর কন্যার বয়স ছিল ১০ দিন৷ তখনও মেয়ের কোনো নাম দেয়া হয়নি রামিদার৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

এই শিশুর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে

স্বামীকে মিয়ানমারের সেনারা হত্যা করায় বাবামা-র সঙ্গে বাংলাদেশে চলে যান ১৮ বছরের নূর কায়েস৷ কোলে তাঁর ২৬ দিনের সন্তান, যার এখনও কোনো নাম দেননি তিনি৷ ছবিটি ৯ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

সাত দিনের মেয়ে

ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে যখন ছবিটি তোলা হয় তখন আসমত আরার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র সাত দিন৷ মাসখানেক আগে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান৷ বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার আগে তাঁর শ্বশুরকেও হত্যা করা হয়৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

সন্তানদের বাঁচাতে বাংলাদেশে

একমাস বয়সি ছেলে সন্তানের সঙ্গে রাজুমা বেগম৷ যখন বাংলাদেশে আসছিলেন তখন গর্ভবতী ছিলেন তিনি৷ সঙ্গে ১১ মাসের আরেকটি সন্তানও ছিল৷ ‘‘আমি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি কারণ মিয়ানমারের ভয়ের মধ্যে ছিলাম৷ আমার সন্তানদের বাঁচাতে চেয়েছি আমি’’, রয়টার্সকে বলেন বেগম৷ ছবিটি ১২ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

দেশে ফিরতে আগ্রহী সানোয়ারা

৯ ফেব্রুয়ারি তোলা এই ছবিতে ২৫ দিনের কন্যা কোলে ২০ বছর বয়সি মা সানোয়ারা বেগমকে দেখা যাচ্ছে৷ প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন তিনি৷ এখন আছেন কক্সবাজারের কুতুপালাং আশ্রয়কেন্দ্রে৷ মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভাল হলে নিজ ঘরে আবারও ফিরে যেতে চান সানোয়ারা৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে তোলা এই ছবিতে মারিজানকে তাঁর ২৫ দিন বয়সি কন্যা সন্তান সহ দেখা যাচ্ছে৷ পাশে তাঁর ছেলে৷ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ঘর পুড়িয়ে দেয়ায় মাসখানেক আগে তাঁরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

কন্যার জ্বর

দু’মাস বয়সি মেয়ের জ্বর কিন্তু মা আরাফা বেগম জানেন না ক্লিনিক কোথায়৷ আড়াই মাস আগে স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেনি তিনি৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

বাচ্চা পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না

মিনারা বেগমের এক মাস বয়সি সন্তান পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না, কারণ তার মা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে পান না৷ ফলে স্বাস্থ্যকর না হলেও স্থানীয় বাজার থেকে গুঁড়া দুধ কিনে খাওয়াতে হচ্ছে তাকে৷ ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

এলোপাথাড়ি গুলি

১৬ দিনের সন্তান কোলে মা আমিনা৷ ‘‘মাস দেড়েক আগে মিয়ামারের সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে৷ আমি কোনোরকমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে বেঁচেছি৷ তারা আমার চাচা আর ছোটভাইকে ধরে নিয়ে গেছে৷ তারা বেঁচে আছে কিনা জানিনা’’, ৮ ফেব্রুয়ারি রয়টার্সকে কথাগুলো বলেন তিনি৷

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা

বয়স মাত্র একদিন

ফাতেমার সন্তানের বয়স মাত্র একদিন৷ ছবিটি ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে তোলা৷ মিয়ানমারে তাদের ঘর পুড়িয়ে দেয়ায় মাস দুয়েক আগে স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন৷ এখন তাঁর স্বামী দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন