‘লজ্জাজনক’ দেশের তালিকায় ভারত ও মিয়ানমার

মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘকে সহায়তাকারী অধিকারকর্মীদের ওপর প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩৮টি দেশকে তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি৷ ‘লজ্জাজনক’ দেশগুলোর এই তালিকায় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারও রয়েছে৷

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বুধবার নবম বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন, যাতে এসব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তি এবং অধিকারকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নজরদারি, তাঁদের অপরাধী বানানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে প্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে৷

গুতেরেস লিখেছেন, ‘‘মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো এই সাহসী মানুষগুলোর কাছে বিশ্ব ঋণী, যাঁরা তথ্য দেওয়ার অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করেছেন৷

‘‘জাতিসংঘকে সহযোগিতা করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়াটা লজ্জাজনক কাজ, যা রোধে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে৷’’ 

এই ৩৮টি দেশের মধ্যে এ ধরনের নতুন ঘটনা ঘটেছে এমন ২৯টি দেশ রয়েছে৷ আর বাকি ১৯টি দেশের ঘটনাগুলো নিয়ে আগে থেকেই কাজ চলছিল৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

তথ্য গ্রহণ ও প্রেরণ

বিভিন্ন দেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা মানবাধিকার সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া গুম সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে পাঠিয়ে থাকে জাতিসংঘের সংস্থা ডাব্লিউজিইআইডি৷ এসব ঘটনা নিয়ে সরকারগুলোকে তদন্ত করারও অনুরোধ জানিয়ে থাকে তারা৷ একটি নির্দিষ্ট সময় পর সেসব ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে থাকে ডাব্লিউজিইআইডি৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

বার্ষিক প্রতিবেদন

ডাব্লিউজিইআইডি-র কাছে ১৯৮০ সাল থেকে তথ্য আছে৷ প্রতিবছর হালনাগাদ তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি৷ ২০১৬ সালের সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮০ সাল থেকে গত বছরের ১৮ মে পর্যন্ত ১০৭টি দেশের সরকারের কাছে ৫৫,২৭৩টি গুম সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে৷ এখনও ৪৪ হাজার ১৫৯টি গুমের ঘটনা নিয়ে কাজ করছে তারা৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

শীর্ষে ইরাক

জাতিসংঘের সংস্থাটি ইরাক সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৫৬০টি গুম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে৷ এর মধ্যে ১৯৮৮ সালেই মোট ১১ হাজার ৫৪৬টি গুমের তথ্য পেয়েছে ডাব্লিউজিইআইডি৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

এরপরে শ্রীলংকা

১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে যথাক্রমে ৪,৭০০ ও ৪,৬২৪ জনের ব্যাপারে শ্রীলংকার সরকারের কাছে তথ্য জানতে চায় ডাব্লিউজিইআইডি৷ সব মিলিয়ে সংস্থাটির কাছে সে দেশ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৩৪৯টি গুমের খবর পৌঁছেছে৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

অন্যান্য দেশ

সংখ্যার বিচারে ইরাক আর শ্রীলংকার পরের কয়েকটি দেশ হচ্ছে আর্জেন্টিনা (৩,৪৪৬), আলজেরিয়া (৩,১৬৮), গুয়াতেমালা (৩,১৫৪) ও পেরু (৩,০০৬)৷

সারা বিশ্বের গুম পরিস্থিতি

বাংলাদেশ

২০০৯ সাল থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ‘গুম’ হয়েছেন ৪৩২ জন৷ ফিরে আসা ব্যক্তিরা অপহরণকারীদের ব্যাপারে মুখ খোলেননি৷ অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে চিকিৎসাধীন৷

নতুন ঘটনাগুলো ঘটেছে ভারত, মিয়ানমার, বাহরাইন, ক্যামেরুন, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, জিবুতি, মিশর, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, কিরগিজস্তান, মালদ্বীপ, মালি, মরক্কো, ফিলিপাইন্স, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সৌদি আরব, দক্ষিণ সুদান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা৷

আর আগে থেকেই এ ধরনের ঘটনা চলে আসা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, মিয়ানমার, চীন, বাহরাইন, বুরুন্ডি, আলজেরিয়া, মিশর, ইরান, ইরাক, জাপান, মেক্সিকো, মরক্কো, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ভেনেজুয়েলা৷

এসব দেশের সরকার প্রায়ই মানবাধিকার কর্মীদের সন্ত্রাসবাদ অথবা বিদেশি ব্যক্তি-গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনে অথবা তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷

এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং৷ তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, এতে ‘প্রকৃত ঘটনার’ প্রতিফলন ঘটেনি৷

চীন ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার’ সঙ্গে জাতিসংঘের মূল্যবোধ ধারণ করছে বলে দাবি করেন তিনি৷

গেং বলেন, ‘‘চীন এমন একটি দেশ যেখানে আইনের শাসন রয়েছে৷ মানবাধিকারের নামে কেউ আমাদের দেশকে বিভক্ত করতে চাইলে, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করলে বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’

এএইচ/এসিবি (রয়টার্স)

আমাদের অনুসরণ করুন