লস এঞ্জেলেসের গ্যাংদের বদলে দিয়েছে সৌর বিদ্যুত

সৌর বিদ্যুত প্রকল্প বদলে দিয়েছে সাবেক এক কয়েদির জীবন৷ একসময় গ্যাং দলের সদস্য ছিলেন ডেভিড আনদ্রেদ৷ পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বছরের কারাজীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় তিনি কাটিয়েছেন অন্ধকারে৷ পেয়েছেন নানা ধরনের শাস্তি৷

কারাগারে দাঙ্গা ছড়ানো, অন্য কয়েদিদের মারধর, এমনকি কয়েদিদের সংশোধন করতেন যে অফিসার, তাঁকে ঘুসি মারার মতো অপরাধও ছিল আনদ্রেদের৷ একবার তো ২৪ ঘণ্টার জন্য লকডাউনও থাকতে হয়েছিল তাঁকে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

কিন্তু সূর্যের আলো যাঁদের জীবন বদলে দিয়েছে, এমন শত শত গ্যাং সদস্যদের আজ তিনিও একজন৷ অথচ তাঁর জীবনের শুরুতে মেলেনি আলোর দেখা৷ 

‘‘আমার জীবনটা ছিল ঘৃণায় ঠাসা'', বলেন ৩২ বছর বয়সি আনদ্রেদ৷

বাবা তাঁকে ঘৃণা করত৷ তাই তো মাত্র দু'বছর বয়সে তাঁকে ফেলে চলে যান তিনি৷ আর মা? মায়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁকে মদ্যপ, মাদকাসক্ত আর গ্যাং দলের সদস্য হিসাবে উল্লেখ করেন আনদ্রেদ৷ এরপর ১৩ বছর বয়সে পূর্ব লস এঞ্জেলেসের এক রাস্তার গ্যাং দলের সাথে ভিড়ে যান তিনি৷ সেখানেই পরিবারের স্বস্তি খুঁজে পান৷ তবে বয়স ১৫ হতে না হতেই পুরোদস্তুর মদ্যপ হয়ে পড়েছিলেন৷ তিন বছর পরে জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতেও৷  সে সময় কয়েক মাস জেলও খাটকতে হয় তাঁকে৷

Global Ideas Gruppe auf Dach

অনেক কয়েদির জীবন পালটে দিয়েছে সৌর বিদ্যুত

২০১৩ সালে একবার জেল থেকে ফেরার পথে কে যেন ‘সোজা' এগানোর বুদ্ধি দেয় তাঁকে৷

হোমবাও ইন্ডাস্ট্রিজ নামে বিশ্বের অন্যতম বড় যে গ্যাং পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাছ থেকে সহায়তা পান আনদ্রেদ৷ এই প্রতিষ্ঠানটিই লস এঞ্জেলেসের ১০ হাজারেরও বেশি সাবেক গ্যাংকে দ্বিতীয় জীবনের সন্ধান দিয়েছিল৷

লস এঞ্জেলেসের অপরাধপ্রবণতা ব্যবস্থার অ্যাডভান্সমেন্ট প্রজেক্টের দু'বছর আগে প্রকাশিত এক গবেষণা অবশ্য বলছে, মুক্তি পাওয়া কিশোরদের এক-তৃতীয়াংশ আবারও গ্রেপ্তার হয়৷ 

আলোর দেখা

জেলের বাইরে এসে যে এলাকায় থাকা শুরু করেন, তার আশেপাশের ছাদে সৌর মডিউলগুলি দেখে বিস্মিত হন আনদ্রেদ৷ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সৌর প্যানেল ইনস্টলেশন প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে ফেলেন৷

Global Ideas David Andrade

অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা গ্যাং সদস্য আনদ্রেদ

‘‘আমি সবখানে এটি দেখতে চাই'', বলেন আনদ্রেদ৷ এর বড় উপকার সম্পর্কে তখন নিশ্চিত না হলেও, স্নাতক ক্লাসের শীর্ষে ছিলেন তিনি৷ স্নাতকোত্তরের পর শিক্ষক হন তিনি৷ এক সময় হোমবাও ইন্ডাস্ট্রিতে সৌর প্রকল্প তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও দেয়া হয় তাঁকে৷ এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার গ্যাং সদস্য চার মাসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন৷ স্নাতকও হয়েছেন অনেকে৷ তার ওপর প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ স্নাতক তিন মাসের মধ্যে চাকরি খুঁজে পেয়েছেন৷ আনদ্রেদের কাছে এর থেকে বেশি খুশির খবর আর কী হতে পারে?

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

সৌর শক্তি ব্যবহার করে শিল্পোপাদন এখন ক্রমবর্ধমান শিল্প৷ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, কয়লা, গ্যাস ও তেলের জ্বালানির চেয়ে বেশি মানুষ ওখন সৌরবিদ্যুতে চাকরি করছে৷

‘‘আমি যা করতাম সত্যি কথা বলতে তার কোনো ভবিষ্যত নেই৷ তাছাড়া সৌর শক্তি নবায়নযোগ্য৷ সূর্য ব্যবহার করলে কেউ পয়সাও চায় না৷ তাই চলুন ইতিবাচক উপায়ে একে ব্যবহার করি৷'' জানান আনদ্রেদ৷

তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অলাভজনক সৌর ইনস্টলার গ্রিডে নতুন চাকরি পেতে যাচ্ছেন৷

লেনা নোসিজওয়ে/এএম

খোলা জায়গায় থাকা

গারদে যাদের জায়গা হয় না, তাদের খোলা জায়গায় রাত কাটাতে হয়, যেখানে কোনো ছাদ নেই৷ এখন ফিলিপাইন্সে বর্ষাকাল৷ প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, আর এ সময় এমন খোলা জায়গায় রাত কাটানো কতটা কষ্টকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

গারদে কয়েক ধাপ

একটি গারদে অনেকগুলো হ্যামক ঝোলানো আছে৷ একটি হ্যামকেও যদি জায়গা পাওয়া যায়, তাহলে তার ভাগ্য ভালো৷ ৬০ বছর আগে কারাগারটি নির্মিত হয়েছে, যেখানে থাকতে পারে ৮০০ বন্দি৷ অথচ বর্তমানে সেখানে আছে ৩,৮০০ বন্দি৷

শান্তিতে শ্বাস নেয়ার জায়গার অভাব

কারাগারের প্রতিটি ইঞ্চি পরিপূর্ণ-এক ফোটাও জায়গা যে নেই ছবি দেখলেই তা বোঝা যায়৷ বন্দিদের বেশিরভাগই পাতলা কাপড়ের উপর বা কেবল খালি মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকে৷

স্বাস্থ্যের দিকে নজর

ব্যায়ামাগারে এক বন্দি শরীর চর্চা করছে৷

কঠিন নিয়ম

পেছনের সাইনবোর্ডে বন্দিদের কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে কারাগারের নিয়ম সম্পর্কে৷ এখানে কয়েকজন বন্দিকে দেখা যাচ্ছে হাতকড়া পড়া অবস্থায়, যারা বিচারের অপেক্ষায় আছে৷

পরিচ্ছন্নতা কাজ

অন্যরা যখন এমনি বসে সময় নষ্ট করছে, তখন একজন বন্দি কারাগারের টয়লেট পরিষ্কার করছে৷

কাপড় ধোয়া এবং গোসল

কখনো কখনো বন্দিরা নিজেদের পরিষ্কার করার এবং কাপড় ধোয়ার সুযোগ পায়৷

রাতের বন্দিশালা

সন্ধ্যায় কারাগারের বাইরে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে এক নিরাপত্তারক্ষী, যেখানে কয়েদিরা আর একটি দুঃসহ রাত পার করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷

ভয়াবহ পরিস্থিতি

কারাগারের এই অমানবিক পরিস্থিতির জন্য নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডুতের্তেকে দায়ী করছেন অনেকে৷ মাদকের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা এতটাই কড়া যে, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হয় না৷ তিনি মাদকাসক্তদের মেরে ফেলার জন্য মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল৷ এ পর্যন্ত ৬ লাখ মাদক পাচারকারী ও মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷

বন্ধু, প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷