1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

লিবিয়া সংকট থামাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

২০ জানুয়ারি ২০২০

জার্মানির বার্লিনে লিবিয়া সংকট কাটাতে বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। প্রস্তাব নেওয়া হল, কোনও ভাবেই উত্তর আফ্রিকার দেশগুলিকে অস্ত্র এবং সামরিক সাহায্য দেওয়া হবে না।

https://p.dw.com/p/3WSIc
ছবি: picture-alliance/dpa/A. Nikolsky

বিশ্ব শান্তির কথা মাথায় রেখে জরুরি সিদ্ধান্তে পৌঁছল পৃথিবীর ১৬টি দেশ এবং কয়েকটি সংস্থা। জার্মানির উদ্যোগে বার্লিনে সংগঠিত হল লিবিয়া সম্মেলন। যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা প্রস্তাব নিলেন, উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে অস্ত্র বা সেনা পাঠানো থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করবে দেশগুলি।

গত কয়েক বছর ধরেই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে জর্জরিত লিবিয়া সহ উত্তর আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ। বার বার অভিযোগ ওঠে, ওই সমস্ত সংঘর্ষ থেকে মুনাফা করার চেষ্টা করে ইউরোপের কোনও দেশ এবং সংস্থা। অভিযোগ রয়েছে অ্যামেরিকার বিরুদ্ধেও। বলা হয় এই সমস্ত দেশ এবং সংস্থা অস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সাহায্য করে যুযুধান পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ জারি রাখে। বার্লিনে লিবিয়া সম্মেলনে এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই দীর্ঘ আলোচনা হল। এবং শেষ পর্যন্ত জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল যে প্রস্তাব পাঠ করলেন, তাতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হল, কোনও ভাবেই যাতে অস্ত্র দিয়ে ওই সমস্ত দেশকে সাহায্য করা না হয়, তার দিকে কড়া নজর রাখা হবে।

অস্ত্র ভারসাম্য নীতি কিংবা অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এর আগেও বহুবার বিভিন্ন সম্মেলনে আলোচিত হয়েছে। জাতি সঙ্ঘ একাধিকবার এ সমস্ত বিষয়ে প্রস্তাব পাশ করেছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন সব সময় ঘটেনি। কারণ অস্ত্র অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। সমীক্ষা বলছে, গত বছরেও বিশ্ব জুড়ে অস্ত্রের বাজার বড় হয়েছে। অ্যামেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অস্ত্র বিক্রি করে লাভ বেড়েছে। কয়েক গুণ বেড়েছে অস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির মুনাফা। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানির সম্মেলনে যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হল, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এমনকী, ওই সম্মেলনেও এই প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরে সম্মেলনে যোগ দেওয়া দেশগুলি দাবি করেছে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যাতে কড়া নজরদারি হয়, সে বিষয়েও আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লিবিয়ার যুযুধান দু'পক্ষকেও ডাকা হয়েছিল সম্মেলনে। তাঁরা এসেওছিলেন। কিন্তু মুখোমুখি আলোচনায় বসতে রাজি হননি। ম্যার্কেল জানিয়েছেন, আলাদা আলাদা করে দু'পক্ষের সঙ্গেই তাঁদের আলোচনা হয়েছে। শান্তি স্থাপনে তাঁরা সহমত পোষণ করেছেন। যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই যে সমাধান সূত্রে পৌঁছতে হবে, সে কথা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে দুই পক্ষকেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতি সঙ্ঘ-- দু'টি সংস্থাই লিবিয়া সম্মেলন ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন টুইট করে বলেছেন, লিবিয়া সংকট মেটানোর জন্য জার্মানি এবং জাতি সঙ্ঘ যে উদ্যোগ নিয়েছে, ইইউ তাকে স্বাগত জানাচ্ছে। সম্মেলনে যে প্রস্তাব পাশ হয়েছে, তা যাতে কার্যকরী হয়, তার সমস্ত ব্যবস্থা করবে ইইউ।

অ্যামেরিকাও এই সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছে।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)